২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে মোট ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন জেলে সোহরাফ গাজী।
পরে নিলামে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্রে মাছটি জেলের জালে ধরা পড়ে।
জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে ইলিশ মাছ শিকার করি। জাল তুলতেই অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই বড় ইলিশটি উঠে আসে। নিলামে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা হিসেবে মাছটি বিক্রি হয়েছে। সাধারণত এত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এত বড় একটি মাছ পেয়েছি।
মাছটি কিনে নেওয়া কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, এত বড় ইলিশ এখন এই বাজারে খুব কমই দেখা যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনেছি। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাসায় পাঠানো হবে। এ ধরনের বড় মাছ পাওয়া গেলে আড়তদার ও জেলেসহ সবাই লাভবান হতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামি বলেন, ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আগে বছরে অন্তত একবার ঘরে ইলিশ উঠত। এখন সেটি স্বপ্ন হয়ে গেছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির অভাবের কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো খবর। এটিকে নিষেধাজ্ঞার সুফলও বলা যায়। বড় ইলিশে ফ্যাট বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে, যা হৃদ্যন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো হলে এ ধরনের বড় সাইজের ইলিশ আরও বেশি ধরা পড়তে পারে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সুন্দলপুর সাউথ-১ নামে আরেকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কূপটির দুটি জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (২ নভেম্বর) উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপে অগ্নি প্রজ্বালনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উদ্যোগে এবং বাপেক্স পরিচালিত ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কূপটির খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
সংস্থা সূত্রে আরও জানা যায়, বাপেক্সের বিজয়-১০ রিগ ব্যবহার করে গত ৮ জুলাই খননকাজ শুরু করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন শেষে কূপটির দুটি জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির এই দুটি জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭.৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কূপটি থেকে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কূপটিতে তেল বা অন্য কোনও পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা জানতে আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) পরীক্ষা করা হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
এধরনের গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বার বার প্রমাণিত হলেও শিক্ষকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার পক্ষ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহীত করে আসছেন। কিন্তু মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগে অভিভাবকমহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পিতা ও মাতা অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তার মেয়েকে ব্যাড টাচ করে আসছে। বার বার তারা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালেও তিনি কোনই ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয় ইউপি মেম্বারদের সহযোগিতায় এব্যাপারে তিন দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ওই শিক্ষককে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখনও তিনি পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একই অভিযোগ করেছেন। তারা এনিয়ে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেছেন। সবশেষ কমপক্ষে দশজন শিক্ষার্থী মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে তার সাথে দেখা করে এবিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ইউএনও সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন।
সোমবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে হৈ চৈ করলে তাদের গায়ে হাত দিয়ে থামাতেন। এব্যাপারে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে তাকে অন্যত্র বদলী করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ বলেন, পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেয়া থেকে ওই শিক্ষককে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও অন্য দুজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লাস নিতে হয়েছে। তাকে বদলীর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানানো হলে এখন তাকে বদলী করা যাবেনা বলে শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়ে দেন।
বিকেলে বিষয়টি জানতে গেলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এস, এম, আবু রায়হান বলেন, কাগজে কলমে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন। তিনিই এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। তবে রোববার ইউএনওর তদন্তের সময় তাঁর সাথে উত্তরগ্রাম ক্লাস্টারের সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমারও গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে স্বাভাবিক বদলী করা সম্ভব নয় একথা বলেছেন তিনি।
সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বলেন, স্থানীয় অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের মধ্যে আপস হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি আপসনামা তাদেরকে দেয়া হয়েছে।
এসময় শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন। স্বরসতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাপদক বাণী ইসরাইল সাংবাদিকদের জুতা পায়ে ওই কার্যালয়ে প্রবেশে বিরুপ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসারকে লিখিত অভিযোগ না দেয়া ও অভিযোগকারিদের সাথে আপসের পর আর কোন কিছু করা উচিৎ নয়।
জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ বলেন, দু'সপ্তাহ আগে উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তার অফিসে এসে সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ দেন। অফিশিয়াল তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
রোববার ওই শিক্ষক একটি আপসনামা দাখিল করে। কিন্তু এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের বিষয় আপসযোগ্য না হওয়ায় তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। এবিষয়ে তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পত্র প্রেরণ করবেন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় গ্রাহকদের রক্ষিত কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিত গ্রাহকদের আমানতের সম্পূর্ণ টাকা অবিলম্বে ফেরতের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ব্যাংকটির শ্রীনগর শাখার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে শত শত ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশ নেন। এ সময় তারা তাদের কষ্টার্জিত আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। গ্রাহকদের কান্নাকাটি ও আহাজারিতে ব্যাংকের আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের টাকা আত্মসাৎ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আমরা পাওনা টাকা ফেরত পাইনি। অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখা থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুজনের মতো গ্রাহক স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহক চরম মানসিক আঘাত ও অসুস্থতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ সময় তারা ব্যাংক তুই টাকা দে, না হয় জীবন নে স্লোগানে ফেটে পড়েন।
জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির ক্যাশিয়ার শরীফুজ্জামান সোহাগ ও ব্যাংক ম্যানেজারসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্যাংকটির কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও মামলার পরও গ্রাহকদের আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন শত শত সাধারণ মানুষ।
প্রতিবাদ সভা থেকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি গ্রাহকের গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়ার জোরালো দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।
শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে দক্ষ প্রকাশিতজনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, 'দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে চাকরি আপনার পেছনে দৌড়াবে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এআইসহ (AI) নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর কাজ নিজের আয়ত্ত করতে পারলে শুধু স্বাবলম্বী হওয়াই নয়, সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবেও নিজেকে পরিচয় দেওয়া যাবে।'
তিনি আরও বলেন, 'অনার্স-মাস্টার্স করেও অনেকে সম্মানজনক চাকরি পাচ্ছেন না। নিরুপায় হয়ে একাডেমিক শিক্ষার বাছবিচার না করে যেকোনো চাকরি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সে জন্য একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের জীবনকে গড়ে তুলুন।'
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সিলেট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।‘
দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সিলেটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সিলেট সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (উত্তর) দেবাশীষ দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রউফ শাহ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইনসাফ ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ সোসাইটির সভাপতি জাতীয় যুব পুরস্কার প্রাপ্ত যুব উদ্যোক্তা ও সংগঠক মো. নজরুল ইসলাম, আদর্শ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন রাজু, তাছনিম টেইলারিং হাউজের পরিচালক জেলি বেগম, বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাডেট ফোরামের ইয়ুথ ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম।
উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেস ক্সিরাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো.মুহিবুর রহমান, সিলেট যুব উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আফিকুর রহমান আফিক, আদর্শ যুব সমাজকল্যাণ সংস্থা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল সামায়ুন,সোশ্যাল ইকোনমিক সোসাইটির সভাপতি ফাহিমা আহাদ কুমকুম, মোঃ শাহ আলম, কয়ছর আহমদ কাওছার, মোঃ নিজাম উদ্দিন, শারমিন কবির, আলী আহসান হাবিব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মিসবাউল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন তপন চন্দ্র দাস।
আলোচনা সভার শেষে যুব ঋণের চেক বিতরণ, জেলা পর্যায়ে সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয় এবং বিকেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, আল ইসলাহ উত্তর বালুচরের শায়ান বুটিক হাউসের স্বত্বাধিকারী কাজী লিপা রহমানকে এক লাখ টাকার চেক এবং খাদিমগরের বাহুবল এলাকার ধ্রুব টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মনি দেবনাথকে এক লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
এছাড়া ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় বানিজ্যিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করায় মোছাম্মত রোজিনা বেগমকে পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফল উদ্যোক্তা ও সমাজ কর্মীদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
মো. বিপ্লব
টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১২ ঘণ্টার মাথায় অভিযুক্ত মো. বিপ্লবকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে শহরের কলেজপাড়া পার্ক বাজার মোড়ের গৌর ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বিপ্লব টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পূর্বআদালতপাড়া (চৌধুরী বাজার) এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছিলেন। রোববার বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সোর্স প্রথমে আসামিকে শনাক্ত করে আটক করেন। এ সময় বিপ্লব হাত কামড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সদর থানায় আনা হয়েছে। মামলার পর পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই শিশুটির চিকিৎসা ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর রাখছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনে শিশুটির ওপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, এ সময় শিশুটি বাধা দিলে অভিযুক্ত ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে এক রিকশাচালক তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে শনিবার রাতে অভিযুক্ত বিপ্লবের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬৬।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে রংপুরে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৪৬ যুব’র মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যৌথভাবে আয়োজনে রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ২৬ লাখ ৪ হাজার টাকার ঋণের চেক প্রশিক্ষিত যুবদের হাতে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরিফুল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল ফারুক, মেট্রোপলিটনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু সাঈদসহ অন্যরা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি যুবক। দেশের এই বিশাল যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোত্তম সুফল নিশ্চিত করতে হবে। যুবসমাজকে শুধু বয়সের নির্দিষ্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, আত্মনির্ভরশীল ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্য ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সকালে পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।