• প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫১ পিএম

স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে ছোট্ট একটি ঢোপঘরকে অবলম্বন করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন মাতুয়ারা বেওয়া। নিজের বলতে তেমন কিছু নেই। লালপুরের বিলমাড়ীয়া-ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের চকবাদকয়া মোড়ে ছোট্ট সেই ঘরটিতে পথচারীদের কাছে চা-বিস্কুট বিক্রি করেই চলছে তাঁর সংসার।


দোকানটি এতটাই ছোট যে, সেখানে বসে চা খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। ফলে অনেক পথচারী চা-বিস্কুট কিনে দাঁড়িয়েই খেয়ে নেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন মাতুয়ারা।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর এই কষ্টের কথা জানতে পেরে দোকানের পাশে পথচারীদের বসার জায়গা তৈরিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আনেজ উদ্দিন।


বসার স্থান তৈরির জন্য তিনি ঢেউটিন, সিমেন্টের তৈরি খুঁটি এবং নগদ অর্থ সহায়তা করেন। এতে দোকানের পাশে পথচারীদের বসার জন্য একটি ছোট পরিসরের ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন মাতুয়ারা।


সহায়তা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। মাতুয়ারার জীবনের গল্পটি কেবল একটি ছোট চায়ের দোকানের গল্প নয়। স্বামীকে হারানোর পর জীবিকার তাগিদে একা হাতে সংসার সামলানোর সংগ্রামের গল্প এটি। প্রতিদিনের মতো দোকানের সামনে বসে থাকা, চা তৈরি করা, বিস্কুট বিক্রি আর দিন শেষে সামান্য আয় নিয়ে ঘরে ফেরা—এই নিয়েই তাঁর জীবন।


চকবাদকয়া মোড় দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। তাঁদের অনেকের কাছে হয়তো এটি সড়কের পাশে থাকা একটি সাধারণ চায়ের দোকান। কিন্তু মাতুয়ারার কাছে এই ছোট্ট ঢোপঘরই তাঁর জীবিকার অবলম্বন, স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র চেষ্টা।


স্থানীয়দের ভাষ্য, দোকানের পাশে বসার জায়গা তৈরি হলে পথচারীদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি মাতুয়ারার ছোট ব্যবসাটিও কিছুটা গতি পেতে পারে। আর স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়ে পড়া একজন নারীর জীবনে সামান্য এই সহযোগিতাও হয়ে উঠতে পারে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা।


জীবন কখনো কখনো বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য বড় আয়োজনের অপেক্ষা করে না। কারও পাশে দাঁড়ানোর ছোট্ট একটি উদ্যোগও একজন মানুষের কঠিন দিনগুলোকে কিছুটা সহজ করে দিতে পারে। চকবাদকয়া মোড়ের ছোট্ট চায়ের দোকানটি যেন সেই মানবিকতারই একটি নীরব গল্প বলে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৭ পিএম

নাটোরের লালপুরের গোপালপুর পৌরসভা সহ ১০ ইউনিয়নে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পূজা-অর্চনা করেন।


উপজেলার বিলমাড়ীয়া, লালপুর, ঈশ্বরদী, চংধুপইল, আড়বাব, ওয়ালিয়া, কদমচিলান, দুয়ারিয়া, অর্জুনপুর-বরমহাটি ও দুড়দুড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিশ্বকর্মা পূজার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ সাজানো হয় এবং ভক্তরা পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন।


বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে ব্যবসায়ী ও কারিগর শ্রেণির মানুষের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। নিজেদের ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় তারা দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার কাছে প্রার্থনা করেন।


লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় কুমার কর্মকার বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সকলের সহযোগিতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে পূজা উদযাপন করা হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, বিশ্বকর্মা পূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কারিগর ও ব্যবসায়ীদের কর্মজীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত একটি উৎসব।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তভার পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পর মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলটি পিবিআইয়ে স্থানান্তর করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।


এদিকে,এই হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক বয়ান সামনে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে উঠে এসেছে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে গ্রেপ্তার বাবলু মিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা। নিহত দম্পতির পরিবারের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। 


আর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বাবলু বলেছেন, বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার পর তিনি তিনজনকে হত্যা করেন। একই ঘটনায় সামনে আসা এসব ভিন্ন বয়ানের কোনটি সত্য, কিংবা এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না? এখন থেকে সেটিই খুঁজে দেখার দায়িত্ব পিবিআইয়ের হাতে এসে পড়লো। গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর নিকুঞ্জ ভিলার দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে ব্যবসায়ী এম আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সকাল নয়টার দিকে বাসার বাইরে রক্ত দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার দিনই রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে বাবলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বয়স প্রায় ৪০ বছর। তিনি সেখানে বসবাস করতেন এবং রংমিস্ত্রির কাজ করতেন।


হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ জানিয়েছিল, তাহমিনার সঙ্গে বাবলুর আগে থেকে পরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তিনি ওই বাসায় যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। বিষয়টি দেখে ফেলায় সাত্তার ও সুরাইয়াও হামলার শিকার হন বলে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে বলা হয়। পরে বাবলুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট একটি ছুরি উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। তবে তদন্তের সেই প্রাথমিক বয়ানই একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে থাকছে না। ১৪ আগস্ট নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় বাবলুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। 


অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাত্তার দম্পতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের চাপ ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল। এমনকি আদালত প্রাঙ্গণেও তাদের চাপ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।মামলার এজাহারে জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গও এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্র এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।


এদিকে, ১৬ আগস্ট বাবলুকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২০ আগস্ট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বাবলু। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 


তখন আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, জবানবন্দিতে বাবলু বলেন, বাড়িভাড়া নিয়ে চাপের কারণে তিনি চুরির সিদ্ধান্ত নেন। এরপর নিকুঞ্জ ভিলায় গিয়ে চুরি করার চেষ্টা করেন। সেখানে তাহমিনা তাকে দেখে ফেললে তিনি তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে সাত্তার ও সুরাইয়াকেও হত্যা করেন।এরই মধ্যে তদন্ত নিয়ে নিহত দম্পতির পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায়। ১ সেপ্টেম্বর সিলেট সফরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন নিহত সাত্তার দম্পতির দুই মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু এবং তাদের স্বজনেরা। তারা মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। মন্ত্রী তাদের যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেন এবং পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান। ওইদিন সিলেট সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত সভাতেও বিষয়টি ওঠে। সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী মন্ত্রীর কাছে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়টি তুলে ধরেন। 


তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছে মামলার অগ্রগতি জানতে চান এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ঢাকায় ফেরার পথে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে কথা বলে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। 


বৃহস্পতিবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ করে এনেছিলাম। এরই মধ্যে মামলাটি পিবিআইয়ে স্থানান্তরের নির্দেশ আসে।


এদিকে,পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানন, মামলাটি গত মঙ্গলবার মহানগর পুলিশের কাছ থেকে পিবিআইয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ পরিদর্শক মো. মোরসালিন (নিরস্ত্র) নামের এক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত মামলাটির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যেই তদন্তভার পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও যোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপি নেতার হুমকি

শখ জাগছে আপনারে জ্যাতা পুড়ম


বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেওয়ার ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথন রেকর্ডের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে হলেও ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন।


আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বিএনপি নেতা তাঁকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন।

গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম ফরিদ উদ্দিন গাজী (৫০)। তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য। তাঁর বাড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা না দিলেও তাঁর পছন্দের প্রার্থী আছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গতকাল সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ছড়িয়ে পড়া কথোপকথন রেকর্ডে ব্যবসায়ীকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে প্রথমে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর ব্যবসায়ীর উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি, এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে? যদিও আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’ জবাবে ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’ এরপর ফরিদকে আবার বলতে শোনা যায়, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’


একপর্যায়ে ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’ এরপর ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’


জানতে চাইলে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, তিনি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছিলেন ফরিদ গাজী। তখন ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবিও করেছিলেন। তখনকার কথা তিনি রেকর্ড করতে পারেননি। তিনি বলেন, ফরিদ একজন সন্ত্রাসী। এ জন্য তিনি শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।


ফরিদ গাজী ঘটনার পরপরই অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। জেলা বিএনপির নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।


জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে তাঁর (ফরিদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে জেলা বিএনপি।

সর্বশেষ সব খবর