সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনাস্থল
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছে সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনাস্থল। আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে নগর ভবনের সংর্বধনাস্থলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। তবে তখনও রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছাননি।
আজ বিকেলে সিলেট নগরভবনে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করছে সিলেট সিটি করপোরেশন। দুপুর ২ টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা সংবর্ধনাস্থলে এসে হাজির হতে শুরু করেন। নগরের নানা শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতারা নগরভবনে হাজির হয়েছেন। বেলা পৌনে ৩ টার কিছু আগে হঠাৎ নগর ভবনের বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকার হয়ে পড়ে মঞ্চ। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। পরে বিদ্যুৎ আসে। তবে এটি কোন লোডশেডিং ছিল না বলে জানিয়ছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে লোডশেডিং করার তো প্রশ্নই আসে না। এটি অন্য কোন গলযোগের কারণে হতে পারে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি আসায় আজ সিলেটে কোন লোডশেডিং নেই। তবে লো ভোল্টেজের কিছু সমস্যা আছে। সেটিও আমরা ঢাকার সাথে কথা বলে সমাধান করেছি।
এরআগে সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর হজরত শাহজালাল (রঃ) ও হজরত শাহ পরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তাঁর প্রথম সিলেট সফর। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম এ সফরে তাঁর সাথে আছেন।সার্কিট হাউজে স্বল্প বিরতির পর দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরের দরগাগেট এলাকায় সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখানে তিনি দেশ ও জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন।
হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি রওনা দেন সিলেটের খাদিম নগরে হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজারের উদ্দেশে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং যোহরের নামাজ আদায় করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে টাকা না দেওয়ায় এক মাকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুকে প্রচারিত একটি পোস্টকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন দাবি করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে নিজের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করার সময় একটি ফেসবুক আইডিতে ওই পোস্টটি দেখতে পান বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।
আরএমও রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ওই পোস্টে দুটি ছবি সংযুক্ত করে লেখা হয়, নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে থেকে একজন মা’কে টাকা না দেওয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পোস্টটি নজরে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালীর হাসপাতাল এলাকার ছবি নয়। প্রকৃত ঘটনা ও স্থান যাচাই না করে ভিন্ন স্থানের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
জিডিতে বলা হয়েছে, ভিন্ন স্থানের ছবি ব্যবহার করে এমন তথ্য প্রচারের ফলে হাসপাতালের সুনাম, ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে এ ধরনের তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়। জিডিতে ওই ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তির পরিচয় এবং পোস্টটির প্রকৃত উৎস শনাক্ত করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন
সিলেটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে মহানগর বিএনপি। বিকেলে নগরভবনে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোন নেতা অংশ নেননি। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। এ রিপোর্ট লেখার সময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, এ সংবর্ধনা অণুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে মহানগর বিএনপিরর কোন নেতার সাথে আলোচনা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে এটি আয়োজন করেছেন। এছাড়া এতে নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তারা জানান, আজকে রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সময় এমন একটি গাড়ি মহানগর বিএনপি নেতাদের জন্য দেওয়া হয়, যেটি মাজার এলাকার ভেতরে প্রবেশের পাস ছিল না। ফলে গাড়িটি মূল সড়কেই আটকে দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সিনিয়র নেতাদের হেঁটেই মাজারে যেতে হয়। এসব কারণে আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, নানা কারণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না। কারণগুলো এখনই বলছি না। তবে সংবর্ধনা ছাড়া রাষ্ট্রপতির বাকীসব অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিয়েছি।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবধর্ণা আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সোমবার তিনি বলেছিলেন, সংবর্ধনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা নাগরিক সমাজসহ নানা স্তরের নাগরিকদের সাথে কথা বলেছি।রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি সিলেটে প্রথম সফর। সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর হজরত শাহজালাল (রঃ) ও হজরত শাহ পরান (রঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
সার্কিট হাউজে স্বল্প বিরতির পর দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরের দরগাগেইট এলাকায় হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখানে তিনি দেশ ও জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন। হজরত শাহজালাল (রঃ) -এর মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি রওনা দেন সিলেটের খাদিম নগরে হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজারের উদ্দেশে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহ পরাণ (রঃ)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং যোহরের নামাজ আদায় করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ফটো)
গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা সরকারি ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকে বিরোধী দল আছে, সরকারি দল আছে- আমি মনে করি, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা।’ মঙ্গলবার বিকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার জিয়ারত করেন। আজ সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে যান হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে। দুই মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে ফিরে দুপুরের খাবার খান তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, নাগরিক সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতির সার্কিট হাউসে ফেরার কথা রয়েছে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান মাহমুদুল হাসান বাবুর
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী ইভটিজিং বা হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভালুকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহমুদুল হাসান বাবু বলেন, উপজেলার কোনো স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় ইভটিজিং কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটলে তা যেন সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মাহমুদুল হাসান বাবু বলেন, “ভালুকার কোনো শিক্ষার্থী ইভটিজিং বা হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি আমাদের জানাতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করার অধিকার রয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি পক্ষের দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, প্রশাসন এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইভটিজিং বা শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপদে বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো গেলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
তবে অভিযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি। একই সঙ্গে ইভটিজিং ও হয়রানির বিরুদ্ধে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সিলেটে এসে দুপুরের খাবারে স্থানীয় স্বাদই পেলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর খাবারের তালিকায় ছিল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকরা দিয়ে খাসির মাংস। সঙ্গে ছিল মাছ, মাংস, সবজি ও ভর্তার আরও ছয় পদ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতির জন্য এই খাবারের আয়োজন করা হয়। সাত পদের তালিকায় সাতকরা দিয়ে খাসির মাংস ছাড়াও ছিল পাবদা মাছের তরকারি, কাতলা মাছের তরকারি, চিংড়ি ছাড়া লাউয়ের তরকারি, মুরগির তরকারি, আলু ভর্তা ও টাকি মাছের ভর্তা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রেজা ই রাব্বি।
সিলেটের খাবারের কথা উঠলে সাতকরা দিয়ে খাসির মাংসের নামটি আলাদাভাবে আসে। সাতকরার টক-মিষ্টি স্বাদ আর খাসির মাংসের মিশেলে রান্না করা এই পদটি সিলেটের স্থানীয় খাবারের অন্যতম পরিচিত পদ। রাষ্ট্রপতির দুপুরের খাবারের তালিকায় তাই জায়গা পেয়েছে সিলেটের এই জনপ্রিয় খাবার। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে যান হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে। দুই মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে ফিরে দুপুরের খাবার খান তিনি।
দুপুরের খাবারে স্থানীয় সাতকরা যেমন ছিল, তেমনি ছিল সিলেটের ঘরোয়া রান্নার পরিচিত কয়েকটি পদ, মাছের তরকারি, সবজি ও ভর্তা। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির খাবারের আয়োজনের মধ্যেও সিলেটের স্থানীয় স্বাদের একটি পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা ছিল। খাবার পর বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, নাগরিক সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতির সার্কিট হাউসে ফেরার কথা রয়েছে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মো.এরশাদ (৪৫) নামে এক কৃষকের মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীর তীরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নিহত এরশাদ উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং চার সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. নুর উদ্দিন বলেন, এরশাদ কৃষি কাজ করত। পাশাপাশি মেঘনা নদীতে ঠেলা জাল দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ধরত। গত রোববার এরশাদ মাছ ধরার জন্য ঠেলা জাল নিয়ে স্বন্দ্বীপের জাহাজমারা এলাকার মেঘনা নদীতে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল না। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে স্থানীয় লোকজন নদীর তীরে জালসহ তার মরদেহ ভাসতে দেখেন।
নুর উদ্দিনের ভাষ্য, এরশাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। মাছ ধরার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, নিহতের স্বজনদের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তারা মরদেহ নিয়ে ঘাটে আসছে। সেখানে মরদেহ দেখে শরীরে কোন আঘাতের চিহৃ না থাকলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে।