প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান আজ ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। ছবি: পিআইডি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করেছে সরকার। এই তালিকায় এখন ওষুধের সংখ্যা ২৯৫। এসব ওষুধ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হবে। তবে ওষুধশিল্পের মালিকেরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন।


আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতিরও অনুমোদন দেওয়া হয়।


সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।


অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। এখন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা ২৯৫। এই ওষুধগুলোর মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। তালিকায় থাকা এসব ওষুধ দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চাহিদা মেটাবে এবং এসব ওষুধ দেশের মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।


ব্রিফিংয়ে বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি তৈরির জন্য টাস্কফোর্স ও কমিটি করা হয়েছিল। এই টাস্কফোর্স ও কমিটি ওষুধবিশেষজ্ঞ, ওষুধশিল্প মালিক, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও পরামর্শক, গবেষকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক সভা করেছে ও তাঁদের সুপারিশ নিয়ে তালিকা ও নীতি চূড়ান্ত করেছে। তালিকাভুক্ত ওষুধের মধ্যে ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগের ওষুধও আছে।


সায়েদুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যব্যয়ের দুই–তৃতীয়াংশ চলে যায় ওষুধের পেছনে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও উদ্বেগ ছিল। সরকার মনে করেছে, ওষুধের মূল্য যেন প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। মানুষের কাঁধ থেকে ব্যয়ের বোঝা কমানোর জন্যই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেই করা হয়েছে।


সরকারি এ উদ্যোগ ওষুধশিল্পের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, মূল্য সমন্বয় করার জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলো চার বছর সময় পাবে। যাদের মূল্য কম, তারা বাড়াবে, যাদের বেশি, তারা ক্রমান্বয়ে কমাবে।


এখানেই শেষ নয়, তালিকার বাইরে বাজারে থাকা ওষুধের দামও সরকারের নীতি অনুসারে নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম বা বেশি মূল্যে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে। কোনো কোম্পানি নিজে কোনো ওষুধের দাম ঠিক করে তা বাজারে বিক্রি করতে পারবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে উৎপাদনের ২৫ শতাংশ রাখতে হবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা থেকে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, মন্ত্রণালয়ের কমিটির সঙ্গে তাঁদের এক–দুবার কথা হয়েছে। কিন্তু গঠনমূলক আলোচনা হয়নি। মূল্য নির্ধারণ কমিটি সমিতিকে অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমিতি এ ব্যাপারে দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সভায় ডেটা সংরক্ষণ, শিল্পকলা একাডেমিতে নতুন বিভাগ খোলাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সভার মূল আলোচনার বিষয় ছিল ওষুধ।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

গুগল ম্যাপে এখন বাংলাদেশের ৩৪টি জেলার বায়ুর মানসংক্রান্ত তথ্য দেখা যাচ্ছে। গুগল ম্যাপের ‘এয়ার কোয়ালিটি’ স্তরটি চালু করে কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই জানা যাচ্ছে।


বাংলাদেশ থেকে এ উদ্যোগে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের বসানো পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য গুগলের ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে। বায়ুর মান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে ক্যাপস।


গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব নির্মল বায়ু দিবস। এ দিবসে বায়ুদূষণের তথ্য জানার সহজ উপায়ের সন্ধান দিল ক্যাপস।


রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীগুলোর একটি। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ঢাকায় বায়ুদূষণ খুব বেশি থাকে। এ সময় বৃষ্টি কম থাকে, তাই দূষণের মাত্রা হয় অত্যধিক। তবে শুধু ঢাকা নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি শহরেই বায়ুদূষণ কমবেশি আছে। আর শুধু শুষ্ক মৌসুমে নয়, দূষণ এখন থাকে প্রায় সারা বছরই। যেমন আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় বিশ্বের ১২৭টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। বায়ুর মান ছিল ১৫৭, অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর। বর্ষা পরের এই শরতে সাধারণত বায়ুর মান ভালো থাকে, কিন্তু এখন তা–ও থাকছে না।


বায়ুর মান যেভাবে দেখা যাবে


মুঠোফোনে গুগল ম্যাপ খুলে ‘লেয়ারস’ বা স্তরচিহ্নে চাপ দিতে হবে। এরপর ‘এয়ার কোয়ালিটি’ নির্বাচন করলে মানচিত্রের বিভিন্ন স্থান রং ও সংখ্যার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানে বায়ুর মান কেমন, তা দেখা যাবে। বায়ুমান সূচক বা একিউআই হচ্ছে বিভিন্ন দূষকের মাত্রাকে একটি সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশের পদ্ধতি। সংখ্যা ও রং দেখে কোনো এলাকার বায়ু ভালো, মাঝারি, অস্বাস্থ্যকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।


যে ৩৪ জেলায় পর্যবেক্ষণযন্ত্র


ক্যাপস জানিয়েছে, বায়ুর মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৩৪ জেলায় তাদের লাইভ মনিটরিং স্টেশন চালু হয়েছে। অর্থাৎ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ জেলায় ক্যাপসের পর্যবেক্ষণযন্ত্র রয়েছে।


জেলাগুলো হলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার।


পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলোতেও স্টেশন বসিয়ে ৬৪ জেলা এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রতিটি পর্যবেক্ষণযন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর রয়েছে। এগুলো দিয়ে তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম২.৫, বস্তুকণা পিএম১০, মোট উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা টিভিওসি, বায়ুমান সূচক এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। কয়েকটি জেলার যন্ত্রে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড পরিমাপের ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনগুলো সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। এসব স্টেশন থেকে পাঁচ মিনিট পরপর তথ্য পাঠানো হয়। তবে গুগল বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক বায়ুমান সূচক হিসাব ও প্রদর্শন করে।


দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে স্টেশনগুলো বসানো হয়েছে। ক্যাপস মনে করছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এভাবে কাজ করার ফলে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়বে।


২৬ কোটির বেশি কর্মদিবস নষ্ট হয়


বাংলাদেশে বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (ক্রিয়া) গবেষণায়।


‘বাংলাদেশে সূক্ষ্ম কণাদূষণের জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন ড্যানিয়েল নেসান, হুবার্ট থিয়েরিও ও জেমি কেলি। প্রতিবেদনটির সম্পাদক ছিলেন জোনাথন সাইডম্যান।


গবেষণায় দেখা যায়, বর্তমান পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের অকালমৃত্যু ঘটে। এসব মৃত্যুর বড় অংশ হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে শুধু নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেই বছরে প্রায় ৫ হাজার ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়। পিএম২.৫ বলতে বাতাসে ভাসমান ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র কণাকে বোঝায়। এসব কণা শ্বাসের সঙ্গে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি রক্তপ্রবাহেও মিশে যেতে পারে।


ক্রিয়ার হিসাবে, পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮২ বার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়। একই কারণে প্রতিবছর প্রায় ২৬ কোটি ৩০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়।


সূক্ষ্ম কণাদূষণের সঙ্গে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৪৮৫টি অপরিণত বা সময়ের আগে জন্ম এবং ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৯টি কম ওজনের শিশুর জন্মের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলেছেন, বায়ুদূষণের এই প্রভাব এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়ছে।


যন্ত্রের মান নিশ্চিত করার পরামর্শ


ক্যাপসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক। তিনি বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) আছেন। তিনি বলেন, গুগল ম্যাপের মাধ্যমে বায়ুদূষণের তথ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এর ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়তে পারে।


তবে পর্যবেক্ষণযন্ত্রের মান ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘যেসব যন্ত্র বসিয়ে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সেগুলোর মান কেমন, তা দেখতে হবে। সাধারণত তুলনামূলক কম দামের যন্ত্র দিয়ে এ ধরনের কাজ করা হয়। এসব যন্ত্র তিন থেকে চার বছর পরপর বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। যন্ত্র নিয়মিত বদলানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশনের ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’


পরিবেশ অধিদপ্তরও দেশের বিভিন্ন স্থানে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখ করে জিয়াউল হক বলেন, মাঝেমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ক্যাপসের সংগৃহীত তথ্য পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখা উচিত। এতে ক্যাপসের যন্ত্রের পাঠ কতটা নির্ভরযোগ্য, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।


একই স্থানের তথ্যে পার্থক্য হতে পারে


গুগলের তথ্য অনুযায়ী, মানচিত্রে দেখানো বায়ুর মান শুধু একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠানো তথ্য নয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ স্টেশন ও বাণিজ্যিক সেন্সরের তথ্যের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের উপাত্ত, আবহাওয়ার ধরন, যানবাহনের চাপ, অগ্নিকাণ্ড এবং ভূমির আচ্ছাদনসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে বায়ুর মান নির্ধারণ করা হয়।


ফলে গুগল ম্যাপে কোনো স্থানের জন্য দেখানো বায়ুমান সূচক এবং নিকটবর্তী কোনো পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্য দিয়ে পুরো জেলার সব এলাকার বায়ুর মানও একই রকম বলে ধরে নেওয়া যায় না। বায়ুর মান অল্প দূরত্বের মধ্যেও বদলে যেতে পারে।


‘প্রাথমিক তথ্য ছাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়’


ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাতটি ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। এগুলো হচ্ছে বায়ুদূষণের বর্তমান ও ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, দূষণ বাড়া বা কমার কারণ অনুসন্ধান, নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পদ্ধতি নির্ধারণ, সময় ও ব্যয়ের ভিত্তিতে পদ্ধতিগুলোর তুলনামূলক ছক তৈরি এবং নির্বাচিত পদ্ধতি প্রয়োগের পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়ন।


স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার আরও বলেন, ‘দূষণের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য না থাকলে এসব কাজের কোনোটিই ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের জেলা শহরগুলোয় বায়ুর মান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে দূষণের উৎস ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে।’ ক্যাপসের চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিতে থাকা পর্যবেক্ষণ স্টেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও অন্যান্য উপাত্তের সঙ্গে সমন্বয় করে মানচিত্রে যুক্ত করছে গুগল। এতে এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।


গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ


ক্যাপস জানিয়েছে, তারা কয়েকটি সরকারি, বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব তথ্য নিয়ে থিসিস করতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


দেশের সব জেলায় নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষণ স্টেশন স্থাপন করা গেলে বায়ুদূষণের স্থান ও সময়ভিত্তিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্য দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগতে পারে। তবে তার জন্য যন্ত্রের মান, নিয়মিত ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য যাচাই এবং সংগৃহীত উপাত্তের উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রতি বজায় রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। 


এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।


তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং ধর্মের অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জুমার খুতবা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শান্তি, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।


কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থবছরে সংগৃহীত জাকাত  ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক কোটি ৫৯ টাকা সরকারি জাকাত ফান্ডে আছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৩ পিএম

সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধান) বিলকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশের পর মিছিল করে তারা। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে তা মানছে না। 


মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে গিয়ে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করেছে। এর প্রতিবাদে বিরোধী দলের এমপিরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। 


জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর করুণ পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে। মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনকে দুর্বল করে যে বিল পাস হয়েছে, তা বিএনপির ফ্যাসিবাদী হওয়ার লক্ষণ। 


জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বিএনপি একই সঙ্গে ইসলামবিরোধী ও গণবিরোধী সরকার। মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনকে দুর্বল করে ‘কালো আইন’ করেছে। সরকারের ফ্যাসিবাদী হওয়ার কোনো খায়েশ না থাকলে দ্রুত এসব আইন বাতিল করতে হবে।


ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন উত্তরের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি,  উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি প্রমুখ। 


পর্যালোচনা দাবি হেফাজতের


‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিলে’ মুসলিম পারিবারিক ও সামাজিক বিধিব্যবস্থার যাতে ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই দাবি জানিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। 


হেফাজত আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান সোমবার বিবৃতিতে বলেছেন, বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার নিরাপত্তা, সুচিকিৎসা ও সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিত করা প্রতিটি সন্তানের জন্য ইমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। ইসলাম মা-বাবার হক আদায়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে। তাই জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সুরক্ষায় যে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে আইনের প্রয়োগ ও শরিয়াহর সামঞ্জস্য নিয়ে আলোকপাত করে হেফাজত নেতারা বলেন, মুসলমানদের সম্পত্তি বণ্টন, হেবা এবং মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি সম্পূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক ফারায়েজ আইনের অধীন। সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন কোনো পদ্ধতি বা ধারা যেন মূল ইসলামী মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। 


সমালোচনা ইসলামী আন্দোলনের 


ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামী শরিয়াহতে বিস্তারিত বলা হয়েছে। নতুন পদ্ধতি সংযোজনের দরকার ও সুযোগ নেই। হেবার পরে সম্পত্তি থেকে মা-বাবাকে উচ্ছেদের ঘটনা রোধ করতে সমাজে, সংস্কৃতিতে ও শিক্ষায় মা-বাবার প্রতি সম্মানের ধারণাকে গ্রোথিত করতে হবে। একই সঙ্গে মা-বাবার প্রতি কর্তব্য অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে সমাধান সম্ভব। কিন্তু শরিয়াহকে অমান্য করা যায় না। আইনটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়।


উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে সংশোধনী আনতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল। সতর্ক করে বলা হয়, সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না।


জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।


ভলকার তুর্ক বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারি করতে পারে- এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান আমরা জানিয়ে আসছি।’


বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর স্বাধীন নজরদারির জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা এর আগেও একাধিকবার বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার।


জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়ে করা তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।


বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সুপারিশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করতে পারে।


এদিকে বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণীত গুমসংক্রান্ত আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত আইন নিয়ে অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, এসব আইন স্বাধীনতা, তদন্তের ক্ষমতা এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করছে না।


ড. খলিলুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ এএম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।


সূত্র জানায়, ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। আর ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক।


ওই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।


এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।


নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান, যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি-নির্বাচিত, বৈশ্বিক এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ বাংলাদেশ কার্যালয় ড. খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএ-৮১ এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।


এর আগে গত ২ জুন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাকে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন। নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে আট ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।


১৯৮৬ সালে ইউএনজিএ’র ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। চার দশক পর আবার একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক বিশ্বের বৃহত্তম বহুপাক্ষিক ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।


 


নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৬ পিএম

নগরীর যানজট নিরসন ও নৌপথ জনপ্রিয় করতে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।


নৌমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর ধরে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালু ছিল এবং সেই ওয়াটার বাস গত ১০ বছরে ক্ষতি করেছে ৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রত্যেক বছর ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। এখন নতুন করে বিআইডব্লিউটিএ সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস আবার পরিচালনা করার উদ্যোগ নিয়েছে। 


তিনি বলেন, বাংলাদেশের নৌপথের ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে এই মুহূর্তে ড্রেজিং করে সচল রাখা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের মতো। ড্রেজিং চলমান রয়েছে নৌপথ সচল রাখার জন্য। সংরক্ষিত ড্রেজিং সব সময়ের জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে বাস্তবায়ন করা হয়। যেখানে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা করা দরকার, নৌচলাচল রুট যেখানে সচল আছে, তা ড্রেজিং করে নিয়মিতভাবেই সংরক্ষণ করা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, ঢাকার চারপাশে যে নদী, সেখানে দূষণ আছে এবং সেই দূষণ কী প্রক্রিয়ায় হচ্ছে, তা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে কেমিক্যাল বর্জ্য আছে, লিকুইড বর্জ্য আছে, সলিড বর্জ্য আছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঢাকার এই চারপাশে যে পাঁচটি নদী, তা দূষণমুক্ত করার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে এবং গতকাল এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বিত মিটিং হয়েছে, কমিটি করা হয়েছে, এই পাঁচটি নদী পরিদর্শন করা হয়েছে।


নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই দূষণমুক্ত করার জন্য ওয়াসা, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়- সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যে কার্যক্রম ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে আগামীতে নদীগুলির পাড় সংরক্ষণ এগুলিও এই বিষয়ের মধ্যে আমলে আনা হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পবর্জ্য যাতে আর নদীতে না যায়, সেজন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।