হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ
কওমি ধারার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলগুলো এরই মধ্যে ঐক্যের রূপরেখা নিয়ে হেফাজতের কাছে আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবে অন্য দল বা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমঝোতার প্রশ্ন এসেছে।
সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সাত দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সরাসরি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের নাম উল্লেখ না করলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না করার শর্ত দিয়েছে।
আরও দুটি দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদাকে ঐক্যের ভিত্তি করার কথা বলেছে। অন্যদিকে তিনটি দল জামায়াত বা অন্য জোট নিয়ে শুরুতেই শর্তারোপের পক্ষে নয়।
সাত দলের প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি
সাত দলের ঐক্যের রূপরেখা নির্ধারণে দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে ১৫ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় বৈঠক হয়। এতে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব সাজিদুর রহমান এবং হেফাজত গঠিত সাবকমিটির নেতারা অংশ নেন। তবে এখনো ঐক্যের রূপরেখা তৈরি হয়নি।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ১৭ আগস্ট বলেন, সাবকমিটি সাত দলের প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। পরে আবার বৈঠক করে ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা হয়। এতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেয়।
সভা থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে ঐক্যের রূপরেখার প্রস্তাব দিতে বলা হয়। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি সাবকমিটিও গঠন করা হয়। দলগুলোর প্রস্তাব জমা পড়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা শুরু করে সাবকমিটি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠনে হেফাজতে ইসলামের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। কারণ, হেফাজত নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে।
জামায়াত থেকে দূরত্ব চায় জমিয়ত ও ইসলামী আন্দোলন
ঐক্যের রূপরেখা নির্ধারণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আটটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথম প্রস্তাবেই জামায়াতের সঙ্গে সাত দলের ঐক্যের কোনো সম্পর্ক না থাকা ‘শতভাগ নিশ্চিত করার’ কথা বলেছে দলটি।
একই সঙ্গে জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতে প্রস্তাবিত ঐক্যের কেউ এবং সাত দলের কোনো কর্মসূচিতে জামায়াতের কেউ অংশ নিতে পারবেন না- এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে সাত দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের না রাখা এবং হেফাজতের সভা-সমাবেশে সাত দলের নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জমিয়ত।
যদিও লিখিত প্রস্তাবের প্রথমেই জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার কথা বলা হয়েছে, জমিয়তের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত মূল ইস্যু নয়। বিগত সময়ে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়া কিছু কারণে শক্তিশালী হতে পারেনি। সেটি বিবেচনায় নিয়ে ঐক্য শক্তিশালী করার জন্য জমিয়ত প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রস্তাবে সরাসরি জামায়াতের নাম উল্লেখ করেনি। তবে দলটি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক বা সমঝোতা না রাখার পক্ষে।
ইসলামী আন্দোলন হেফাজতের কাছে ১২টি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদা পোষণকারী নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দল প্রাথমিকভাবে এই ঐক্যে থাকবে; অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা বা ঐক্য করা যাবে না; হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃস্থানীয় কেউ এই ঐক্যের বাইরের কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে সমর্থন দিতে পারবেন না।
ইসলামী আন্দোলনের প্রস্তাবে ‘রাজনৈতিক পক্ষ’ বলতে জামায়াতকে বোঝানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৭ আগস্ট তিনি বলেন, দেওবন্দ ঘরানার আলেমরা জামায়াতকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদাভুক্ত মনে করেন না। ইসলামী আন্দোলনও চায়, এই ঐক্যে জামায়াত না থাকুক এবং জামায়াতের জোটের সঙ্গে সাত দলের কারও সমঝোতা না হোক।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সাত দলের কেউ যদি অন্য বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে নতুন জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকে না। সবার আন্তরিকতা থাকলে ঐক্য হবে। তবে কারও অন্য মতলব থাকলে সেটি সম্ভব হবে না।
আকিদার শর্ত খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোটের
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ঐক্যের আদর্শিক ভিত্তি হবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদা। যাদের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা যাবে না। সরকার বা অন্য জোটের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে পথচলার কথাও বলেছে দলটি।
দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, এই জোটে থাকতে হলে অন্য কোনো জোটে থাকা বা যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। জোটে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো দল বা জোটের সঙ্গে আলোচনা করলে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অন্য কোনো দল যুক্ত হলেও সাত দলকেই নেতৃত্বে রাখতে হবে।
ইসলামী ঐক্যজোটের প্রস্তাবেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদায় বিশ্বাসী হওয়ার বিষয়টি এসেছে। দলটির মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি বলেন, যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদায় বিশ্বাসী, শুধু তাদের নিয়েই ঐক্য হতে হবে-এমন প্রস্তাব তাঁরা দিয়েছেন।
জামায়াতকে বাদ দেওয়ার পূর্বশর্তে আপত্তি খেলাফত মজলিসের
খেলাফত মজলিস বিগত সময়ের সমমনা ইসলামি দলগুলোর মতো সাত দলের একসঙ্গে পথচলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। দলটির নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা দূর হওয়া দরকার।
তবে হেফাজত যেহেতু অরাজনৈতিক সংগঠন, সে কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে সংগঠনটির অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না।
খেলাফত মজলিসের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বলেন, বিগত সময়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়ায় জামায়াতও ছিল। এখন জামায়াতকে বাইরে রেখেই ঐক্য করতে হবে-এমন চিন্তা সঠিক নয়।
অন্য জোটে থাকা নিয়ে শর্ত চায় না নেজামে ইসলাম
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, প্রাথমিকভাবে কওমি ঘরানার দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হতে পারে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সব দলের মতামতের ভিত্তিতে তা সম্প্রসারণ করা যাবে।
নীতি-আদর্শ, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের বিষয়ে একমত অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও যুক্ত করার সুযোগ রাখতে হবে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে শর্তারোপ করা যাবে না।
দলটির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার বলেন, আপাতত তাঁরা এই ঐক্যকে নির্বাচনী জোট হিসেবে দেখছেন না। ঐক্য সুদৃঢ় হলে পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় একে জোটের রূপ দেওয়া যায় কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলীয় সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ২০১৩ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগপর্যন্ত ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’-এর ব্যানারে কওমি ঘরানার দলগুলোসহ কয়েকটি ইসলামি দল একসঙ্গে কার্যক্রম চালিয়েছে। সেই কাঠামোই নতুন ঐক্যে বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
প্রস্তাবিত ঐক্যে যুক্ত হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলগুলোর স্বাধীনতা রাখার কথা বলেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ভিন্ন রাজনৈতিক জোটে থাকা দলগুলোও ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’-এর ব্যানারে একসঙ্গে কাজ করেছে-এই অভিজ্ঞতাকে বর্তমান ঐক্যের ভিত্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ঐক্যপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পূর্বশর্ত আরোপ করা যাবে না। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য আছে, সেগুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা এবং ভিন্নমতের বিষয়গুলো ধাপে ধাপে সমাধান করা দরকার।
কেন কেন্দ্রে জামায়াত
হেফাজতের নেতা ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের পুরোনো আদর্শিক বিরোধ রয়েছে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদীর ইসলামবিষয়ক কিছু ব্যাখ্যাকে দেওবন্দ ধারার আলেমরা বিতর্কিত মনে করেন। সে কারণে হেফাজতের বর্তমান আমির বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের সমালোচনা করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন।
হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোরও নেতা। জাতীয় নির্বাচনের আগে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটারদের সমর্থন পেতে বড় দলগুলোর সঙ্গে এসব দলের যোগাযোগ বেড়েছিল।
শেষ পর্যন্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির জোটে থেকে নির্বাচন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও আসন সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন করে। ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের আগে ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে দুটি আসনে প্রার্থী দেয়।
নির্বাচনের পর কিছু বিষয়ে অসন্তোষ থেকে খেলাফত আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকেই কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে আলাদা রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে অবস্থান নেওয়ায় কওমি ধারার ভোট বিভিন্ন দিকে ভাগ হয়ে যায়। এ পটভূমিতেই হেফাজতের উদ্যোগে সাত দলকে নিয়ে নতুন ঐক্যের চেষ্টা চলছে।
তবে প্রস্তাবিত ঐক্য জামায়াত ও তার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে পুরোপুরি দূরে থাকবে, নাকি দলগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা পাবে-সেই প্রশ্নেই এখন প্রধান মতভেদ।
এনসিপি লোগো
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটি জানিয়েছে, এ হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পবিত্র ধর্মীয় সফরে যাওয়া যাত্রী থাকার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে দলটি। রোববার (১১ অক্টোবর) এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও শোক জানানো হয়।
বিবৃতিতে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এনসিপি।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে আটকে পড়া হজ-ওমরাহযাত্রীসহ সব যাত্রীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে এনসিপি আরও বলেছে, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় সফরকারী ও বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে দলটি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
ভারতে ছড়িয়ে পড়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের পর তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা থেকে তাদের পাশে থাকার কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই নেতা শনিবার ফেইসবুক পোস্টে বলেন, ‘‘এই লড়াই আপনাদের একার না। ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি। ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’’
ভারতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের দিনে তিনি লেখেন, ‘‘ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানানো ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এমন দমনপীড়ন চলতে পারে না।’’
ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ লেখেন, ‘‘আপনাদের এই লড়াই আমাদের পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জবাবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেসময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের সেই অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি দেখিয়েছিল, তা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ ও সম্মান করি।
‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। শাহীনবাগের নারী সমাজ, জেএনইউ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমাদের জুলাইয়ের মত ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখ সারথি হয়ে উঠেছেন।’’ পোস্টে তিনি ভারতের শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের মুক্তি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “তাদের বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটকে রেখেছে ভারত সরকার। আজ তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। ভারতের এসব তরুণ আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দিরা আমাদের সহযোদ্ধা। তাদের সাহস পুরো দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি লেখেন, ‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে আমাদের বার্তা: বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম আপনাদের পাশে আছে। শক্ত হোন, একে অপরকে রক্ষা করুন, সাম্প্রদায়িক ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করুন এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষা করুন।’’
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে শহীদ ওসমান হাদীর রাজনৈতিক আদর্শ, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন এবং তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ থাকলেও তার মৃত্যুর পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লেখেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার জন্য বলেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, তখন শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খাঁন।
জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা প্লান থেকেই গাঁজাখোর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এমন মন্তব্য করেছে।’
রাশেদ খাঁন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে সংগ্রাম করেছেন। এ কারণে তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়েও পোস্টে নিজের মতামত তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরদের কিছু বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির কবর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক করা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিলো, তিনিও বললেন, ‘যেসময় কেউ কথা বলতো না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত না।’
আমিও শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে এক মত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদীকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করবো, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম
মাল্টা, পোলাওয়ের চাল, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। দ্রব্যমূল্য বাড়ার জন্য অসাধু সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন তিনি। অভিযোগ করেছেন, আবারও অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম পোস্টে লেখেন, দুই মাস ধরে প্রতি কেজি মাল্টা ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমদানির নথি অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন খরচ ও মুনাফা যোগ করেও প্রতি কেজির সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
মাল্টার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ–সংকটের কথা বলা হলেও আমদানির তথ্য তা সমর্থন করে না, লেখেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দেওয়া হিসাবে, গত বছরের জুলাই–সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। এরপরও দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় গত দুই মাসে জনগণের কাছ থেকে অসাধু সিন্ডিকেট কয়েক শ কোটি টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।
নাহিদ ইসলাম পোস্টে আরও লিখেছেন, ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। শুধু পোলাওয়ের চাল থেকেই গত তিন মাসে আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা, এখন তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে পোস্টে লেখেন নাহিদ। তাঁর মতে, মুরগির খাবারের দাম বাড়ার যুক্তি দেখানো হলেও সেই বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। বেড়েছে পাঁচ টাকা।
১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কয়েক দফা বাড়ানোর পরও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এনসিপির এই নেতা। আমদানি পর্যাপ্ত। তাহলে প্রতিদিন অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।
ফ্যাসিবাদী আমলের মতো দেশ আবার সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় হামলা শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, লালনের মাজার থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন সেই মুহূর্তে তার ওপর একজন ডিম ছুঁড়ে মারে এবং প্রায় ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ থাকেন তিনি।
পাটওয়ারীর ওপর হামলার দাবি করে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় Nasiruddin Patwary ভাইয়ের ওপর বিএনপির হামলা।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা নাইম আবেদিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালবেলাকে জানিয়েছেন, ‘মাজারের মতো একটা পবিত্র জায়গার ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ এসে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।’
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগত সফরে রোববার কুষ্টিয়ায় আসেন। বিকেলে তিনি কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়া বাড়িতে যান।
মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে তিনি লালন মেলা মাঠ ঘুরে মাজারে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় মাজারের বাইরে থাকা তার গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয় ।
হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছু সময় মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপদে বের করে আনে। রাত ৮টার দিকে তিনি কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে রওনা হন বলে জানা গেছে।
এদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কুষ্টিয়া সফরের বিষয়ে স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীদের অনেকেই অবগত ছিলেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কুষ্টিয়ার কয়েকজন এনসিপি নেতা জানান, এটি তার ব্যক্তিগত সফর ছিল। সফরের বিষয়ে স্থানীয় সংগঠনকে আগে থেকে জানানো হয়নি।
এনসিপি কুমারখালী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আলামিন হোসেন আকাশ বলেন, ‘মাজারে অবস্থানকালে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। ছাত্রদলের কয়েকজন সরাসরি উপস্থিত থেকে এই হামলার নেতৃত্ব দেন।’
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি বলেন, ‘মবের রাজনীতিতে ছাত্রদল বিশ্বাস করে না। নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার বিষয়ে আমরা অবগত নই। তবে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ছাত্রদল কোনো ধরনের সন্ত্রাস, হামলা বা বিশৃঙ্খলার রাজনীতিকে সমর্থন করে না।’
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ব্যক্তিগত সফরে লালন মাজারে এসেছিলেন। তার আসার বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে অবগত করা হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আমরা তাকে প্রটোকল দেয়ার চেষ্টা করেছি, তিনি প্রটোকল নিতে রাজি হননি। তিনি নিজ নিরাপত্তায় চলে গেছেন।’
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তিনি ব্যক্তিগত সফরে সেখানে গিয়েছিলেন। কে বা কারা হামলা করেছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে এসেছে।’
এর আগে গত ২২ মে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ (পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকা) প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার নেতাকর্মীরা।
এছাড়া ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় দিকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার, সোনালী ব্যাংক ও সার্কিট হাউস এলাকায়ও হামলার শিকার হন তিনি।
<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fpermalink.php%3Fstory_fbid%3Dpfbid03XKHaThqPVhuZ7QQCZ7nA7Q9cVvBzpoHb4PaNLGDRA863dGLo2D2CEPfWGr1JwNxl%26id%3D100006640866646&show_text=true&width=500" width="500" height="773" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
যে সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, তাদের দরকার নাই উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে এবং নিরাপত্তা নিয়ে থাকতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনগণ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শুধু শাস্তি-শৃঙ্খলার ব্যবস্থাই নয়, কার্যত দেশের সব প্রতিষ্ঠান এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিনে-দুপুরে এবং রাতের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে নানা ধরনের অপকর্ম ঘটছে। রাজধানী যেহেতু সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থান, তাই রাজধানীর পরিস্থিতি থেকেই সারা দেশের অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়।
মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, একটি মেডিকেল সেন্টার ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে এবং সেখানকার সম্পদ লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুষ্কৃতিকারীদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ আড়ালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান এ সময় দাবি করেন একজনকে জনগণের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি এবং গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায়ও আনা হয়নি। একই ঘটনায় আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জনগণকে বোকা বা অন্ধ মনে না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন কোনো কিছু আড়াল করার সময় নয়। তার ভাষায়, মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু জনগণের কাছে পৌঁছে যায় এবং মানুষ সবকিছু পরিষ্কারভাবে দেখতে পায়।