প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৮ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও জনবান্ধব, দক্ষ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। আাজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনবিআরের কার্যক্রম, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার নীতি ও পদ্ধতি এবং এর আধুনিকায়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনেছেন। তবে তিনি এই রাজস্ব সম্মেলনকে সাধারণ কোনো সম্মেলন হিসেবে দেখেন না।


তিনি বলেন, এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপর সরকারের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই আজকের সম্মেলন আগামী দিনে এনবিআরের আরও বেশি সাফল্যের পথনির্দেশনার সম্মেলন হবে বলে আশা করেন তিনি।


ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী ধরনের ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তা দেশের যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের চেয়ে এনবিআর কর্মকর্তারা বেশি অবগত।


তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি।


এনবিআরের নীতি ও নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্ট হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।’


দেশের জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান।


দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জনআস্থা অর্জন সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এনবিআরকেই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।


অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস বাড়াতে হবে


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিতাড়িত পতিত পলাতক ফ্যাসিস্ট চক্র দেশকে চূড়ান্তভাবে একটি ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতির বিরোধী বলে জানান তিনি। তাই রাজস্ব আহরণে অভ্যন্তরীণ আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। 


তিনি বলেন, আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে, মানুষের আয় বাড়বে, ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এ ক্ষেত্রেও এনবিআরের আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।


রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের আহ্বান


বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একের পর এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্যবসার নতুন নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে। এর ফলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।


আন্তর্জাতিক কর বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা, সম্ভাবনা, সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, হস্তান্তর মূল্য নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, বাণিজ্য অর্থায়ন, আর্থিক অপরাধ, অর্থপাচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কেও সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।


শুধু প্রচলিত কর আইন জানা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তার অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সামগ্রিক কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।


কর প্রদান সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার তাগিদ


প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ভালো রাজস্ব ব্যবস্থা এমন হওয়া দরকার, যেখানে মানুষ কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। কর প্রদান পদ্ধতি যথাসম্ভব দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত এবং সহজ করা দরকার।


অনলাইনে কর পরিশোধ করা সম্ভব হলে করদাতার অফিসে আসার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথানিয়মে কর আদায় করা একজন করদাতার জন্য যেমন লাভজনক, একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের জন্যও ইতিবাচক।


এনবিআর কর্মকর্তাদের আচরণ ও কার্যক্রমের মাধ্যমে করদাতার মনে এই বিশ্বাস জন্ম নিলে কর আদায় আরও সহজ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।


করভিত্তি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত সক্ষমতার তুলনায় এখনো অনেক কম। করভিত্তিও তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় করা নয়; বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। নিয়মিত কর দেওয়া একজন করদাতাকে রাষ্ট্র যেমন সম্মানিত করবে, একইভাবে যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন, তাঁকেও কর প্রদানের জন্য যথাযথভাবে উদ্বুদ্ধ বা আগ্রহী করে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


 একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা নয়


কর ব্যবস্থাপনা ও কর আদায় পদ্ধতি সহজ এবং দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। যাতে মানুষ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেই ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। 


তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, একই করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি টেকসই পদ্ধতি নয়।’ বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য ডিজিটাল ও আধুনিক, উপাত্তভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


ভ্যাট ব্যবস্থাকে ব্যবসাবান্ধব করার আহ্বান


ভ্যাটকে আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজস্ব উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ভ্যাট ব্যবস্থার সফলতা এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে বলে জানান তিনি। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও এনবিআরকে নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট কিংবা ট্যাক্স আদায় শুধু প্রয়োগের বিষয় নয়। বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর ভ্যাট ও করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে, বিশ্বাস করে। দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।


‘আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন, অবশ্যই পারবেন’


বক্তব্যের শেষ দিকে রাজস্ব আহরণের সম্প্রতি ইতিবাচক ধারার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, ‘আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন, এবং আপনারা অবশ্যই পারবেন, ইনশাআল্লাহ।’


এ জন্য শুধু দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি।’ আরও সমৃদ্ধ, আরও বিনিয়োগ ও আরও ব্যবসাবান্ধব একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা জানিয়ে রাজস্ব সম্মেলনের সফলতা কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

চালক ও মালিকের পাশাপাশি সড়ক আইন ভাঙলে এবার শাস্তির মুখে পড়তে পারেন যাত্রী ও পথচারীরাও। প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে যাত্রী, পথচারী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।


প্রস্তাবিত আইনে চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িতে ওঠা, গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করা এবং নির্ধারিত আসনের বাইরে বসার মতো অপরাধে যাত্রীকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে।


ফুটপাত ব্যবহার না করে চলাচল করলেও পথচারীকে একই অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে। পথচারীদের ফুটপাত, নির্ধারিত পারাপার স্থান ও নিরাপদ সড়কদ্বীপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


তবে দেশের অনেক সড়কে ফুটপাত দখল, অনুপস্থিতি কিংবা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও খসড়ায় নিরাপদ ফুটপাত, পর্যাপ্ত ক্রসিং ও সড়কদ্বীপ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


নতুন আইনে মোটরসাইকেলে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুকে সহযাত্রী হিসেবে নেওয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বেশি বয়সী শিশুকে কীভাবে বহন করা যাবে, তা বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।


লাইসেন্স ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ককে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিলে মালিক বা অভিভাবককেও দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে চালক ও সহযাত্রী দুজনের জন্যই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।


এ ছাড়া ১৩৫ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতার অথবা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে মোটরযানের সামনের আসনে বসানো যাবে না। শিশুদের বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তা আসন বা ‘চাইল্ড রিস্ট্রেইন্ট সিস্টেম’ ব্যবহারের বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।


গতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর হওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে। জাতীয় পর্যায়ে মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং শহর এলাকায় ৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য স্পিড ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় স্পিড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।


পথচারী পারাপারের স্থান, মোড় ও রেলক্রসিংয়ের ৫০ মিটারের মধ্যে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়াশা, বৃষ্টি বা ধুলায় দৃষ্টিসীমা কমে গেলে এবং জনবহুল এলাকায়ও ওভারটেকিং করা যাবে না।


ক্লান্ত বা ঝিমুনি অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এক হাতে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিধান প্রথমবার ভাঙলে সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি চালকের এক পয়েন্ট কাটার বিধানও রাখা হয়েছে।


মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো শনাক্তে চালকের নিঃশ্বাস, রক্ত বা অন্য নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকবে। নমুনা দিতে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।


নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করতে এয়ারব্যাগ, সিটবেল্ট, স্পিড গভর্নর, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, অ্যান্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম, আধুনিক স্পিড লিমিটার, জিপিএস ট্র্যাকার, ড্যাশ ক্যামেরা ও ড্রাইভিং মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।


পাশাপাশি অটোনোমাস ইমার্জেন্সি ব্রেকিং ও বুদ্ধিমান গতি অভিযোজন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। নতুন গাড়ির নিরাপত্তা যাচাইয়ে ‘নিউ কার অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম’ এবং সড়কের নিরাপত্তা মান নির্ধারণে ‘স্টার রেটিং’ চালুর প্রস্তাব রয়েছে।


পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।


যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, রুট পারমিট, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং চালক-কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে মালিককে দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে। চালক, কন্ডাক্টর ও পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রথমবার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার এবং পরবর্তী প্রতিবার ১০ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।


সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় বিধান লঙ্ঘন করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে দায়ী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ন্যূনতম এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।


প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর মতামত ও পর্যালোচনার জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যাচাই-বাছাই শেষে আইনটি সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।


তবে নতুন আইনটি ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন বাতিল করছে না। বরং ওই আইন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ এবং মহাসড়ক আইন-২০২১সহ সংশ্লিষ্ট আইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।


আইনটির মূল লক্ষ্য চালক, যাত্রী ও পথচারীর আচরণের পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন, সড়ক অবকাঠামো, গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা তদন্ত এবং দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ও সেবাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনা।


তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন আইন প্রণয়ন করলেই সড়ক নিরাপদ হবে না। নিরাপদ ফুটপাত, আধুনিক যানবাহন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন এই আইন বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।


সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৬ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯১৮। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।


গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জন।


এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার দুই জনের জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জনে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’


মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এ জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে চায়, সরকার সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।’


আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের সিএসআর (CSR) তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন।


প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।


তিনি জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে গৃহীত এই কর্মসূচির আওতায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য মোট ২০ হাজার রেইনকোট প্রদান করা হচ্ছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সম্পৃক্ত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।


রেইনকোট গ্রহণকালে শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা হিসেবে চা-পাতা উপহার দেন। অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকদের পক্ষে শান্তি উড়িয়া, মুন্নী কুর্মি, জ্যোৎস্না আক্তার, রিনা তাঁতী, শশিকা ব্যানার্জি, কবিতা কর্মকার, সুজাতা বিশ্বাস, রিতা রাণী বাউরী ও আফখাতুন নাহার উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী (সিলেট-৬), নাসির উদ্দিন মিঠু (মৌলভীবাজার-১), মো. শওকতুল ইসলাম (মৌলভীবাজার-২), এম নাসের রহমান (মৌলভীবাজার-৩), হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার-৪), আলহাজ মো. জি কে গউছ (হবিগঞ্জ-৩) এবং এস এম ফয়সাল (হবিগঞ্জ-৪)।


বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাপি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, বাপি’র উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য মিজ্ সিমিন রহমান, নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম; শেভরন বাংলাদেশের পরিচালক মো. ইমরুল কবির, আশিক শেহজাদ রহমান ও হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট একেএম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স চিফ গোলাম হাবিব।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) ধারাবাহিক তিনটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম ও বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে।


তিন অভিযানে সব মিলিয়ে আটক করা হয়েছে ৩৪৯ কার্টুন বিদেশি সিগারেট, ৩৮০ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১ লিটার বিদেশি মদ। পণ্যগুলোর সম্মিলিত শুল্কায়নযোগ্য/বাজারমূল্য ৯০ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং নির্ধারিত পণ্যগুলোর প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ টাকা। সে হিসাবে শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের সম্মিলিত মূল্য ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬ হাজার ৮৬০ টাকা।


সোমবার এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সার্কেলের এ-শিফট দুবাই থেকে আগত ইকে৫৮২ ও ইকে৫৮২৬ ফ্লাইটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তিন যাত্রীর কাছ থেকে ১৭০ কার্টুন সিগারেট, ৯ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়।


আটক সিগারেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৬২১ শতাংশ হারে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৪২ লাখ ২২ হাজার ৮০০ টাকা। বিদেশি মদের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ২০ হাজার টাকা এবং ৬১০.৩০ শতাংশ হারে শুল্ক-কর ১ লাখ ২২ হাজার ৬০ টাকা। এছাড়া নিষিদ্ধ ক্রিমের বাজারমূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।


এ অভিযানে আটক পণ্যের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৮৬০ টাকা।


এ-শিফটের দ্বিতীয় অভিযান: গত ১১ আগস্ট ২ দুবাই থেকে আসা বিজি ১৪৮ ফ্লাইটে অভিযান চালায় সিআইআইডির এ-শিফট। বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে আটক করা হয় ১৭৯ কার্টুন সিগারেট এবং ৫২ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম। সিগারেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ৬২১শতাংশ হারে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬০ টাকা। নিষিদ্ধ ক্রিমের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ অভিযানে আটক পণ্যের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য ৬২ লাখ ২ হাজার ৩৬০ টাকা।


ফরেন পোস্ট অফিসে বিশাল চালান: অন্যদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযান চালিয়ে একসঙ্গে ৩১৯ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম আটক করা হয়েছে। শুধু এই চালানটিরই আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


চোরাচালান প্রতিরোধ ও রাজস্ব সুরক্ষায় গোপন তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি এবং যাত্রী ও কার্গো/পার্সেল পর্যায়ে সিআইআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। 


আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 


সরকারপ্রধান বলেন, যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য। 


অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।


সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সৎ, দক্ষ, তাদের আমরা আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চাই। এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তাদের দণ্ডের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।


সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।


সকালে এই সম্মেলনে যোগ দেন সরকারপ্রধান। সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া থাকছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়েরও সুযোগ।

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।


তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এই মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে রয়েছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমরা তাঁকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে মনে করি। পর্যায়ক্রমে মামলার বাকি পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে আছেন, তাদেরও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’


গতকাল সোমবার দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আইসিটি কেস- ৫/২৬ মামলায় আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। তদন্ত শুরুর পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। 


চিফ প্রসিকিউটর চিঠিতে দাবি করেছেন, তদন্ত সংস্থা আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ‘যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।


মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। সমাবেশটি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। 


আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ


প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সময় বিজিবি’র মহাপরিচালক ছিলেন মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অভিযানের অপারেশনাল পরিকল্পনায় অংশ নেন এবং বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করেন। 


তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী ৩২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই ঘটনাতেই বিজিবি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। 


২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সর্বশেষ সব খবর