বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
একটি সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশে একটি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।
সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সকলের এখন প্রয়োজন দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা। আসুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি। আরও সমৃদ্ধ, আরও বিনিয়োগ এবং আরও ব্যবসাবান্ধব একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশায় আমি এই রাজস্ব সম্মেলনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।”
রাজস্ব আহরণে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এক আশা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। এটিই প্রমাণ করে আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন এবং আপনারা অবশ্যই পারবেন ইনশাআল্লাহ।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই আয়োজনকে কেবল একটি সাধারণ সম্মেলন হিসেবে দেখছি না। কারণ এনবিআরের সফলতার ওপরই সরকারের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা বহুলাংশে নির্ভর করে। বিগত সময়ে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের ফলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করায় জনগণের আস্থা বিনষ্ট হয়েছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। দেশের মানুষ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশকে ঋণনির্ভর বা আমদানি নির্ভরতার বোঝা থেকে বের করে নিয়ে এসে অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস ও ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বদ্ধপরিকর। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে ডিজিটালি আধুনিক ও ডাটা-ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার তাগিদ দেন, যাতে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বারবার বোঝা না চাপিয়ে নতুন কর সক্ষম ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও এনবিআরের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান। সম্মেলনে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর অনুবিভাগের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিসিক ভবন
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ১৮টি শিল্পনগরী ও শিল্পপার্কে ১ হাজার ৩৬২টি শিল্পপ্লট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোগত সুবিধার এ প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বিসিকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় আগ্রহী উদ্যোক্তারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফরম বিসিকের প্রধান কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট জেলা বা আঞ্চলিক অফিস এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা যাবে।
বড় প্রকল্পগুলোতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ
বরাদ্দযোগ্য প্লটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কে, যেখানে প্লটের সংখ্যা ৫৫৭টি। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরীতে ৩২৬টি, চট্টগ্রাম রাউজানে ১৬৩টি এবং বরিশাল শিল্পনগরীতে ১১২টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এর বাইরে গোপালগঞ্জ (সম্প্রসারণ), মাদারীপুর (সম্প্রসারণ), নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী-২, পাবনা, ঝালকাঠি, মেহেরপুর, বরগুনা ও চুয়াডাঙ্গা বিসিক শিল্পনগরীর নির্ধারিত প্লটের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার
শিল্প খাত ও নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে কিস্তি ও ফি জমার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। নারীরা জমির মোট মূল্যের ১৫ শতাংশ জামানত দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। জমির বাকি মূল্য এককালীন অথবা সর্বোচ্চ ৭ বছরে ১৪টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
তবে পুরুষ উদ্যোক্তারা আবেদনের সময় জমির প্রাক্কলিত মূল্যের ২০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। বাকি অর্থ এককালীন অথবা ৫ বছরে ১২টি সমকিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।
আধুনিক সুবিধা ও ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ
বিসিক জানিয়েছে, ঘোষিত শিল্পনগরীগুলোতে পরিকল্পিত পানি, গ্যাস, ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি ডাম্পিং ইয়ার্ড, ফায়ার সার্ভিস, গ্রিন জোন, মসজিদ ও লেকের মতো নাগরিক সুবিধা থাকবে।
তাছাড়া শিল্পপ্লট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রেখে উদ্যোক্তারা জামানতি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে।
বিসিক জানিয়েছে, সমগ্র প্লট বরাদ্দ কার্যক্রম ‘বিসিক শিল্পনগরী-শিল্পপার্ক প্লট বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবন
দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১৮ আগস্ট রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিন (১৭ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে।
এবারের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রদর্শনী স্টলও ঘুরে দেখতে পারেন সরকারপ্রধান।
কর ও কাস্টমস ক্যাডারদের দাবির মুখে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলন হয়। তখনকার প্রধানমন্ত্রী দুই দিনব্যাপী সেই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এবারের সম্মেলনটি হবে একদিনের।
এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত নতুন এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্যোগে রাজস্ব সম্মেলন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেয়ে চেয়ারম্যান এ উদ্যোগ নিয়েছেন। অল্প সময়ের নোটিশে সব আয়োজন সম্পন্ন করতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে কমিটির সদস্যদের।’
এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এনবিআর পৃথক করা নিয়ে হওয়া আন্দোলনের সময় নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। মাঠ পর্যায়ে দমবন্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে এখনও। নতুন সরকার ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঠিকভাবে কাজ না করলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। সেজন্য নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমানো, মনোবল চাঙা করা এবং কাজের পরিবেশ নির্মল করতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সারাদেশের কর্মকর্তারা আসবেন। পরস্পর দেখা সাক্ষাৎ হবে। মানসিক দূরত্বও কমবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দাবি নেই।
দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আয়োজক কমিটিতে থাকা এক এনবিআর সদস্য বলেন, ‘চূড়ান্ত কিছু হয়নি। সব কিছু ১৮ তারিখে জানতে পারবেন।
তবে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগে এনবিআরকে পৃথকের বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
রাজস্ব খাত সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা জাতীয় সংসদে পাসের জন্য তোলেনি বর্তমান বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ যাচাই–বাছাই করার জন্য কমিটি গঠন করেছে ক্ষমতাসীন সরকার।
এই কমিটির সভাপতি হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২৮ এপ্রিল এই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৯ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিব।
রাজস্ব সম্মেলন বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের এক সদস্য বলেন, ‘আমি এখনও কিছুই জানি না। আমাকে অফিসিয়ালি জানানো হয়নি।
এনবিআরের সাবেক এক সদস্য বলেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন এই দ্বিতীয়বার হতে যাচ্ছে। এটি অনেকটা ডিসি সম্মেলনের মতো। তবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী, দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের বিষয়টি নির্ভর করবে। আমার মনে হয়, এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি বড় দাবি হিসেবে আসতে পারে। বিশেষত, বাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনার পৃথকীকরণ যেন নিরপেক্ষ সরকারের সময়ে গঠিত কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী হয়; সেটি উপস্থাপন করা যায়। এতে রাজস্ব বৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এনবিআরের দায়বদ্ধতাও বৃদ্ধি পাবে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে রাজস্ব বোর্ডের উচিত সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি কী হবে তা জানানো। ২০২৩- ২০২৪ অর্থবছরেও একবার রাজস্ব সম্মেলন হয়েছিল। সে সম্মেলনে রাজস্ব বোর্ড প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তথা আধুনিকায়ন কর্মসূচির সার্বিক সংস্কারের কথা না বলে ব্যয়ের জন্য রাজস্ব ভিত্তি সংকুচিত হচ্ছে এবং রাজস্ব আসছে না বলে অভিযোগ দিয়ে নিজেদের দায় থেকে রক্ষা করেন। এ কারণে সে সম্মেলন বিফল হয়েছে। এবার যাতে সেরকম না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও এর ব্যাপক সংস্কারের দাবি তুলে তাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমর্থন চাইতে হবে। এটাই এবারের মূল বিষয় হওয়া উচিত বলে মনে করি।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সম্মেলনে থাকা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালের পর রাজস্ব সংগ্রহ, রাজস্ব আওতা বাড়ানো সম্পর্কিত বিভিন্ন স্টল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন।
২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনকে সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান। তিনি কর ক্যাডারদের সংগঠন বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এনবিআর ও রাজস্ব আদায় সম্পর্কে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা প্রদান, এনবিআর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা কমানো, রাজস্ব পদ্ধতিসহ নানা বিষয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেনের চুক্তি বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বুধবার মানবসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
গত বছরের ১ জুলাই ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময় গভর্নর ছিলেন ড. আহসান এইচ মনসুর। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার এখনো প্রায় ১০ মাস বাকি। এর মধ্যেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চিফ ইকোনমিস্ট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বাতিল করা হলো।
প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে ড. আখতার হোসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও পরিচালনা পর্ষদকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বিষয়ে নীতিগত পরামর্শ দিতেন। অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে এ পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির লোগো
ইসলামী ব্যাংকের যে কর্মকর্তা সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকের সেই কর্মকর্তা হচ্ছেন মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করেছে। ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য দুদকে অভিযোগ করেছিলেন ইয়াসীন আলী।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, শাখা পর্যায় থেকে দুদকে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ঋণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে আদালতে যাওয়া হয়। আদালত প্রয়োজন মনে করলে অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠান। এ ছাড়া দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আলাদা বিভাগ আছে।
মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন আরও বলেন, শাখার কর্মকর্তা কেন দুদকে অভিযোগ জমা দিলেন, তা পরিষ্কার নয়। বিভাগীয় তদন্তের জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক নিয়ম মেনে আদালতের কাছে যাবে।
তবে ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ করার জন্য তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২৭ জুলাই জারি করা চিঠিতে শাখা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাঁকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি ব্যাংকের পরিচালকের পদ ছেড়ে দেন। নথি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
আইএফআইসি ব্যাংক ও ঢাকা রিজেন্সির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
নির্বাচিত কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ ডিসকাউন্ট ও আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার আইএফআইসি ব্যাংক প্রাঙ্গণে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
সমঝোতা স্মারকে আইএফআইসি ব্যাংকের চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশনস হেলাল আহমেদ এবং ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ডিরেক্টর অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং মাহমুদ হাসান স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির আওতায় আইএফআইসি ব্যাংকের নির্বাচিত কার্ডধারীরা ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের বিভিন্ন ডাইনিং, আবাসন ও অন্যান্য হসপিটালিটি সেবায় স্পেশাল ডিসকাউন্ট ও এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করতে পারবেন।
গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা ও উন্নত সেবার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একীভূত হওয়া দুর্বল পাঁচ ব্যাংকের লোগো
একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত বিধান রেখে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে সংশোধনীটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
জানা যায়, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সমাধান এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ করা হয়।
ওই আইনে ১৮ক ধারা সংযোজন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থায় রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট দূর করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক দায় কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।
তবে ১৮ক ধারার শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সংশোধনী আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। জানা যায়, দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে এই ধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।