পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫২ পিএম

বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। 


বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং কারাদণ্ড শেষে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থাও করছে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে যশোর-৫ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য কাজী এনামুল হকের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ তথ্য জানান।


মন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি বা কারাগারে রয়েছেন। কোনো দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা বাংলাদেশি নাগরিকরা ওই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকেন। তাই ওই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো বন্দির আইনজীবী নিয়োগের সক্ষমতা না থাকলে আদালতের মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশন প্রচেষ্টা চালায়। বন্দির পরিবার আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে মিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হয়।


তিনি বলেন, কোনো ক্ষেত্রে জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে বন্দির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরিমানা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিটের ব্যবস্থাও করা হয়। পরিবার প্রত্যাবাসন ব্যয় বহনে অসমর্থ হলে সরকারি অর্থে ওই ব্যয় বহন করা হয়।


তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় প্রটোকলসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যুর ব্যবস্থাও করা হয়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশস্থ বাংলাদেশের মিশনগুলো এসব সেবা দিয়ে থাকে।


তিনি জানান, ক্ষেত্রবিশেষে স্বাগতিক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার জন্যও জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিক এবং মিয়ানমারে আটক তিন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।


ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগির একটি পোর্টাল চালু করবে।


সূত্র: বাসস




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৫ পিএম

পবিত্র হজের ২০২৭ সালের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জনের নিবন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


গত ২৭ জুলাই থেকে হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।


এরপর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার আবেদন, টিকাদান, হজ প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।


হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।


নিবন্ধন ও হজসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত-হোসেন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১২ পিএম

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব অনিয়মের প্রমাণ পান। 


এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার কাগজপত্র ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেন।


পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে অভিযোগ শুনে এখানে এসেছি সেটা শতভাগ সত্যি। ডেঙ্গু শনাক্তে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার (জমজম, সততা ও সান) থেকে লোক এসে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সুবিধা আছে। বাইরে থেকে লোক এসে এখান থেকে ব্লাড নিয়ে যায়, এরা কি অন্ধ? ডাক্তার আছে, চোখে দেখবে না?’


সাংবাদিকদের সামনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাগজ দেখিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থে রোগীদের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাইরের লোক এসে নমুনা নিয়ে যাচ্ছে। রোগীরা কেন বাইরে পরীক্ষা করাবেন সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপরও যদি বাইরের লোক এসে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হবে।


এদিকে পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে লিফট নিয়মিত চালু না থাকা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের একাধিক তলায় ছোটাছুটি করতে হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।


এক রোগীর স্বজন বলেন, লিফট নিয়মিত চালু থাকলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। বর্তমানে পরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের এক তলা থেকে আরেক তলায় যেতে হচ্ছে।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে চলছে, কোন কোন পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং কোথা থেকে রিপোর্ট এসেছে এসব বিষয়ে খোঁজ নেন। এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসা সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করার কথাও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন ছক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৮ এএম

‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে নতুন ছক তৈরি করছে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পর সাতটি পৃথক এসআরওর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে আইবাস প্লাস প্লাসে চাকরিজীবীদের তথ্য হালনাগাদ করে অনলাইনে নতুন বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির তথ্য অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে।


প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।


এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক সাত এসআরও বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ থাকবে। এসব আদেশে বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ-এ সাত ক্ষেত্রের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে কার্যকরের বিষয় থাকবে।


এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ হবে আইবাসে। এ ব্যবস্থায় প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।


এ প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামোর প্রয়োগে যেসব কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ আরও স্পষ্ট হবে।


সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাস-এ তথ্য হালনাগাদ এবং বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।’


উল্লেখ্য, নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে সরকার জানিয়েছে।


নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সাতটি পৃথক এসআরও জারি করা হবে। এগুলো হলো : সিভিল বা বেসামরিক প্রশাসনের সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। পুলিশ বিভাগ-পুলিশ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এই বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক বিধান। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ-সরকারি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাঠামো।


স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান-সরকারের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ-সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট যৌথ বাহিনী নির্দেশনা ও বেতন কাঠামো। জুডিশিয়াল বা বিচার বিভাগ-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য কাঠামো।


অর্থাৎ একটি সাধারণ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল কাঠামো কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত প্রয়োগবিধি পৃথক আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অর্থ বিভাগ চাইছে সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাস-এর আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসতে। বর্তমানে আইবাস প্লাস প্লাস সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে।


সরকারি কর্মচারীদের অনলাইন বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগও রয়েছে। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তথ্য পূরণ ও যাচাই হয়ে গেলে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা কত হবে, তা সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হয়ে যাবে।


এর ফলে প্রত্যেক কর্মচারী নিজের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তার আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন। আইবাস প্লাস প্লাস-এর বর্তমান ব্যবস্থায়ও অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং বেতন-পেনশন ইএফটির মাধ্যমে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। 


নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হচ্ছে।


অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হচ্ছে-কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের বদলে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে একজন কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।


এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘বেতন বাড়ানোর সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে একবারেই নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা যেত। তবে একাধিক ধাপে বাস্তবায়ন করাও বাস্তবসম্মত। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।’

গতির অভাবে সিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না ট্রেন

সঠিক সময়ে ট্রেন পৌঁছানোই ট্রেনের যাত্রী পরিষেবার মূল বিষয়


ট্রেন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ এএম

দেশে বর্তমানে ১৪০ কিমি.র গতিসম্পন্ন ট্রেন চলাচল করছে ৬৫ কিলোমিটার গতিতে। অথচ শুধু রেলপথ বা ইঞ্জিন-কোচ সংস্কার হলেই ট্রেনে ফেরানো সম্ভব অন্তত একশ কিলোমিটার গতি। আর গতির অভাবে সিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনগুলো। গতি ফিরিয়ে আনতে পারলে একই সময়ে দ্বিগুণ সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে।


বর্তমানে রেলের যাত্রীবাহী ট্রেন রয়েছে ২৮৫টি। তার মধ্যে ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেন। আর মাত্র ৩টি বিরতিহীন ট্রেন। সঠিক সময়ে ট্রেন পৌঁছানোই ট্রেনের যাত্রী পরিষেবার মূল বিষয়। তাছাড়া যাত্রীসেবা ও সুরক্ষার অন্যান্য কার্যক্রমও রয়েছে। কিন্তু গত দুই যুগ ধরেই রেল থেকে উধাও হয়ে গেছে ওই মূল তিনটি বিষয়ই। ফলে নিয়মে পরিণত হয়েছে ট্রেনের ঘণ্টার পর ঘণ্টার ট্রেন দেরি করে চলা। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।




সূত্র মতে জানা গেছে, দেশের রেলপথে কোনো ট্রেনই যথাযথ গতিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এদেশে ১২০ কিংবা ১৪০ কিলোমিটার গতি নিয়ে ট্রেন চালানো স্বপ্নের বিষয় এখনো। মূলত জরাজীর্ণ ইঞ্জিন, রুট এবং জনবল সংকট এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দিন দিন আরো প্রকট হচ্ছে রেলের ইঞ্জিন সংকট। এমন পরিস্থিতিতে বেশি গতির ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়ার শঙ্কা থাকে। বর্তমানে জরাজীর্ণ বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ রুট। যদিও প্রতি অর্থবছরই বরাদ্দ থাকে রেলপথের চলমান সংস্কার কার্যকর রাখতে। কিন্তু ওই বরাদ্দের বেশির ভাগই লুটপাট হয়ে যায়।


সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেমের রেলপথে মাইলের পর মাইল যথাযথ পাথর নেই। আর পুরো রেলপথের অধিকাংশ স্থানে স্লিপার, ডগস্পাইক (হুক), ফিশপ্লেট খোলা রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে রেলওয়ে সেতুর মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিশেষ করেআখাউড়া থেকে সিলেট রেলপথ খুবই জরাজীর্ণ। ফলে ওই পথে কখনো কখনো ট্রেন চলে ৫ থেকে ১০ শতাংশ গতিতে। তাছাড়া জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রেলপথও প্রায় তিন যুগ ধরে জরাজীর্ণ। ফলে প্রায়শই ওসব লাইনে দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি রেলপথে বৈধ কিংবা অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে রেলের ২৭০টি ইঞ্জিন রয়েছে। তবে ওসব ইঞ্জিনের ৭৭ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিগত আওয়ামী সরকার প্রায় ১৬ বছরে রেলে সোয়া ১ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও বাস্তবে তার বেশিরভাগই লোপাট হয়ে গেছে।


অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ট্রেনের গতি বাড়ানোসহ যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। জরাজীর্ণ লাইন থাকায় ট্রেনে গতি উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ গতির ট্রেন হলে যাত্রীদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বাড়তো। তাতে আয়ের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও সুরক্ষাও বাড়তো। রেলের জন্য নতুন করে উচ্চগতির ইঞ্জিন ও কোচ কেনা হচ্ছে।


একটি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের ৪৮০ কিলোমিটার দূরত্বের পথপৌঁছাতে ট্রেনের ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় লাগার কথা। আর ঢাকা-পঞ্চগড়ের ৬৩৯ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেন পৌঁছাতেই প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় লাগছে আর পঞ্চগড়ে যেতে সময় লাগছে ১২ ঘণ্টা। ফলে ট্রেনগুলো গড়পড়তা (আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার) ৫০ শতাংশ সময়ানুবর্তিতাও ধরে রাখতে পারছে না। সেক্ষেত্রে ট্রেনের গতি বাড়ানোর কার্যক্রম বাস্তবায়নে রেল সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্তকর্তা গড়িমসি করে। অভিযোগ রয়েছে, বিলম্বে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাস মালিকদের সঙ্গে রেলওয়ে বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তাছাড়া মালবাহী ট্রেন পরিচালনায় চলছে চরম নৈরাজ্য। যদিও বিগত অর্থবছরেও বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। 


এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল হোসেন জানান, যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। গতি বাড়ানোর সঙ্গে আয় বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। গতি বাড়লে ঢাকা-যশোর ও ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে বেশি সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব। কিন্তু ইঞ্জিন ও কোচ পাওয়া যাচ্ছে না।


সংসদে মাহবুব উদ্দিন খোকন। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

আপিল বিভাগে একটি মামলায় জরিমানার আদেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এজলাস ত্যাগের বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।


এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এমন ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঘটনাটি রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে কোনো অঙ্গের সঙ্গে ঘটেনি। এটি একজন আইনজীবীর আচরণের বিষয়। তবে ওই আচরণকে তিনি সমর্থন করছেন না।


বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলেন নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের সম্মানিত সংসদ সদস্য বার-এর প্রেসিডেন্ট জনাব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। উনার সাথে প্রধান বিচারপতির একটি বদানুবাদের ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং সকল আপিল বিভাগের বিচারপতি তাদের এজলাস ত্যাগ করেন এবং গতকালকে তারা আর কোর্টে ফিরে আসেননি।”


মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আপিল বিভাগ একটি মামলায় আদেশ দেয়। একই বিষয়ে একাধিক রিট আবেদন এবং আগের মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে রিট আবেদনকারী মো. নূর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা (কস্ট) করা হয়।


জরিমানার টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।


আদেশ দেওয়ার সময় আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ আদালতে ছিলেন। তবে তার সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে এসব মামলায় যুক্ত ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন তখন আদালতে ছিলেন না।


দুপুরের পর এজলাসে গিয়ে ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন।


তার ভাষ্য ছিল, একজন জুনিয়র ল’ইয়ার হিসেবে ৫ লাখ টাকা ‘কস্ট’ অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা মাফ করে দেওয়া দরকার।


ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।


সেই ঘটনা বর্ণনা করে ব্যারিস্টার খোকন পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।"


খোকনের দাবি, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো।


তবে প্রধান বিচারপতি তখন খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরই আইনজীবীদের আয় কমে গেছে–এমন কিছু খোকন বোঝাতে চাইছে কি না।


খোকন একই বক্তব্য আবার বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, তার ওই বক্তব্য ‘অ্যাবসোলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’।


এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি আর আদালতে দিনের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এরপর তিনি এবং বেঞ্চের অন্য বিচারকরা এজলাস ছেড়ে উঠে যান।


সকালের ঘটনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে সংসদ সদস্য নাজিবুর বলেন, “একজন আইনজীবী বারংবার সত্যকে গোপন করে রিট করার কারণে পেনাল্টি হিসেবে জরিমানা করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাটির সূত্রপাত হয়।”


তিনি বলেন, “মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সংসদের একজন সদস্য।


“এ ধরনের যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলি। জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার যে সর্বশেষ আশ্রয়স্থল, সেটা হলো বিচার বিভাগ। এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী মেসেজ দিচ্ছে, এটা আমাদেরকে চিন্তা করা উচিত।”


অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে কিন্তু তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।”


এরপর ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’ প্রবাদটি মনে করিয়ে দিয়ে নাজিবুর বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সে ধরনের বার্তা দিচ্ছে কিনা, এটা কিন্তু আমাদেরকে খতিয়ে দেখতে হবে।”


‘এক অঙ্গ আরেক অঙ্গের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে না’


রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টিও তোলেন নাজিবুর রহমান।


তিনি বলেন, “বিশেষ করে আমাদের রাষ্ট্রের যে তিনটি প্রধান অঙ্গ রয়েছে, বিচার বিভাগ—তার স্বাধীনতা আমরা চাই, সকলে এটার ব্যাপারে কথা বলেছে। এটা যেমন সার্বভৌম নয়, একই সাথে সংসদও সার্বভৌম নয় এবং এক্সিকিউটিভ, সেটাও সার্বভৌম নয়।”


এই সংসদ সদস্য লেন, “এই তিনটা মিলে জনগণ যে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, যেভাবে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাকে আমাদেরকে সেইভাবে ব্যবহার করতে হবে, একটা অঙ্গ আরেক অঙ্গের উপরে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে না, এটাই আমাদের জন্য প্রযোজ্য, এটাই যথার্থ।”


এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চান তিনি। তখন স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য ক্ষমতার পৃথকীকরণের প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। আইনমন্ত্রী চাইলে তখনই অথবা পরে কার্যপ্রণালী বিধির ৩৫০ বিধিতে বক্তব্য দিতে পারেন।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ‘আলোচনার দাবি রাখে’।


তবে তিনি বলেন, “সেপারেশন অফ পাওয়ারের যে থিওরি, তা এখানে অ্যাপ্লাই করে না মাননীয় স্পিকার।”


তার ব্যাখ্যা, ঘটনাটি একজন আইনজীবীর আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেই আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।


আইনমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের তিনটা অর্গানের কোনো অর্গানের পার্ট নয়। ইট ইজ অ্যান ইনফরমাল বডি, ইট ইজ অ্যান অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য মেম্বারস হু আর প্র্যাকটিসিং ইন দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ।”


তিনি বলেন, ওই আইনজীবী বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগের কোনো অঙ্গকে প্রতিনিধিত্ব করেননি।


তবে আইনমন্ত্রী এও বলেন, “দ্যাট ডাজ নট মিন আই অ্যাম জাস্টিফাইং দ্যাট অ্যাকশন।”


আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে আইনজীবী ও বেঞ্চের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা নতুন নয়।


তিনি বলেন, “এটা অনেক সময় দেখা যায় এটা বার অ্যান্ড বেঞ্চের রিলেশনশিপের ব্যাপার। অনেক সময় মনে হচ্ছে যে আমরা ফাইট করছি বারে। কোনো সময় আদার সাইডের লইয়ারের সাথে, কোনো সময় আমরা বেঞ্চের সাথে। কিন্তু বের হওয়ার পরে আমরা কিন্তু এক হয়ে যাই।”


এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের পেশাজীবনের একটি ঘটনার উদাহরণ দেন।


আসাদুজ্জামান বলেন, একটি মামলায় ড. কামাল হোসেন, রফিকুল হক ও ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এক পক্ষে এবং ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ অন্য পক্ষে ছিলেন।


বিচারকের একটি প্রশ্নের পর রফিকুল হক বলেছিলেন, “আমার ৫০ বছরের প্র্যাকটিসের জীবনে আমি এরকম কোনো সাবমিশন শুনি নাই।”


এর জবাবে রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, “আমার মত মানুষের বাচ্চা ৫০ দিনে এটা শিখতে পারে, কিন্তু যাদের ব্রেন নাই তারা ৫০ বছরেও শিখবে না।”


আইনমন্ত্রী বলেন, পরে ইশতিয়াক আহমেদ তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করতে বললে রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “আপনি দালালি করবেন না।”


আদালতে এমন তর্কের পরও পরে ওই আইনজীবীদের একসঙ্গে চা খেতে দেখেছিলেন বলে সংসদে জানান আসাদুজ্জামান।


মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি যেভাবে আদালত থেকে উঠে গিয়েছিলেন, তাতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর আচরণ ‘যথাযথ ছিল না’ বলে তাদের মনে হয়েছে।


তিনি বলেন, “কালকে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গেলেন, এই উঠে যাওয়াটা আমাদের কাছে নিশ্চিতভাবেই মনে হয়েছে দ্য লইয়ার হু ডেমোনস্ট্রেটেড দ্যাট কন্ডাক্ট ওয়াজ নট প্রপার।”


আইনমন্ত্রী বলেন, বুধবার প্রধান বিচারপতি আদালতে বসে আদালত অবমাননার রুল দিতে পারেন বলে তাদের ধারণা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি।


তিনি বলেন, “সকাল ৯টায় উঠেই উনি আবার কিন্তু যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই লয়ারও সেই মাননীয় প্রধান বিচারপতির কোর্টে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মামলা করেছেন বলে খবর পেয়েছি।”


ঘটনাটি সংসদে তোলার জন্য নাজিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী।


তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি এবং এটা আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল ২১-এ আমাদের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব রয়ে গেছে।”


পরে সংসদে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।


তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আগের দিনের ঘটনা বর্ণনা করতে চাইলে স্পিকার তাকে শুধু বিশেষ ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে বলেন।


ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আপনার যদি বিশেষ ব্যাখ্যা থাকে তা দিন। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে বলেছেন। আমি ওই বারের ক্ষুদ্র সদস্য। আপনি ওই বারের সভাপতি। আমার মনে হয়, আইনমন্ত্রী যেভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, মহান সংসদে তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নতুন করে যদি যুক্ত করার না থাকে তাহলে বসুন।”


এরপরও মাহবুব উদ্দিন খোকন ঘটনার বিস্তারিত বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে থামান।


ডেপুটি স্পিকার বলেন, “জুডিশিয়াল বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কথা বলা শোভা পাচ্ছে না। আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আপনি বসুন।”


একপর্যায়ে সংসদ কক্ষে হইচই শুরু হলে স্পিকার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মাইক বন্ধ করে দেন।


মাহবুব উদ্দিনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি



আ. লীগ সরকার শুধু ঋণখেলাপিই করেনি, হিসাবেও গড়মিল করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৭ এএম

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্টরা শুধু বিপুল ঋণখেলাপিই করেনি, এর হিসাবেও গড়মিল করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ থেকে বের করে আনতে কাজ করছে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


এ সময় দেশে গ্যাস, জ্বালানি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি প্রকট বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সমস্যা সম্পর্কে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো অবগত রয়েছে। এমনকি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্দিষ্ট কোনো দেশকে সুবিধা দিতেই গ্যাস উত্তোলন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের এফএসআরইউতে আগুন লাগার কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সংকট কাটাতে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী জোটের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ির লংমার্চ করলেই যদি সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চে যেতো।  


তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে কুইক রেন্টাল প্রক্রিয়া চালু করে বিগত সরকার দেশকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। একই সঙ্গে দেশের সংকটকে কেন্দ্র করে উসকানি দেওয়া হলে এতে পতিত ফ্যাসিস্টরাই লাভবান হবে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।


বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার আশা, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের বড় উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হবে।


এ ছাড়া দেশে বর্তমানে বাকস্বাধীনতা অবাধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতা লঙ্ঘনের কারণ না হয়। গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিবেকবান নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়— এ বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।