সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বাকি একজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সাদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে কামরুল হাসান (১৫) ও সদর দক্ষিণের এলাহিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম।
পুলিশ সুপার জানান, জিডির পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করি। আমরা আশাপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখি, অপ্রতিমকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান তুহিন। মূলত আইফোনটির দিকে নজর ছিল তুহিনের।
এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ফাহাদ ও ফাহাদের বন্ধু কামরুল জড়িত ছিল। তুহিনের তথ্যে ফাহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফাহাদ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কামরুলও জড়িত।
বিস্তারিত আসছে...
পে-স্কেল
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন এই কাঠামোতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মোট বেতন দাঁড়াচ্ছে ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা।
অন্যদিকে গাড়িসুবিধা ছাড়া সর্বোচ্চ পদে ভাতাসহ মোট বেতন হবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী, বিশেষ গ্রেডে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবদের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, আপ্যায়ন ও অন্যান্য ভাতা যোগ হয়ে তাদের মোট বেতন দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। এর বাইরে তারা সার্বক্ষণিক গাড়িসুবিধাসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাবেন।
সাধারণ গ্রেডগুলোর মধ্যে ১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যার ফলে তাদের মোট বেতন হবে প্রায় সোয়া দুই লাখ টাকা। আর বিসিএস দিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করা নবম গ্রেডের তরুণ কর্মকর্তাদের মূল বেতন ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা, যা বিভিন্ন ভাতা মিলে দাঁড়াবে ৬০ হাজার টাকার কিছু বেশি।
অন্যদিকে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত এই বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরো বর্ধিত মূল বেতন একবারে পাবেন না; এটি ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছর জুড়ে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বাড়িভাড়াসহ সিংহভাগ নতুন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন আদেশে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অঞ্চলভেদে বাড়িভাড়া ভাতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ও বৈশাখী ভাতার নতুন হার নির্ধারণ করেছে সরকার।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে জব্দ করা স্বর্ণ
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোটি টাকার স্বর্ণালংকারসহ ওমানের মাসকাট ফেরত এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার গোপন সংবাদে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৩১ গ্রাম ওজনের ওই স্বর্ণালংকারসহ তাকে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। বিমানবন্দর কাস্টমস জানায়, শুক্রবার গোপন সংবাদে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানতে পারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটে অবৈধভাবে স্বর্ণ আনা হচ্ছে। এমন সংবাদের পর ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে সন্দেহভাজন যাত্রী মো. হাসান মুরাদের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করা হয়।
একপর্যায়ে তার ব্যাগেজের ভেতরে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পেস্ট আকারের স্বর্ণসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে স্বর্ণ কারিগরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণের পর ওই পেস্ট থেকে ২৪ ক্যারেটের ৪২৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপিণ্ড পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে ওই যাত্রীর দেহ তল্লাশিকালে প্যান্টের পকেট থেকে আরও ১০৬ গ্রাম ওজনের ৩৫ পিস বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।
সবমিলিয়ে জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন ৫৩১ গ্রাম। শুল্ক-করসহ যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা। এ ঘটনায় স্বর্ণালংকারসহ আটক ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সেই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে আর কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, স্বর্ণের উৎস ও গন্তব্য কোথায় এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত- এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দল শাহজালাল বিমানবন্দরের ওয়াশরুম থেকে স্বর্ণ জব্দ করে
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংক থেকে ৪ কেজি ২০৪ গ্রাম ওজনের স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেটের ভেতর এসব পেস্ট পাওয়া যায় যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এয়ারপোর্ট (এ-শিফট) এ অভিযান চালায়। কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্ট সংলগ্ন ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট দেখতে পাওয়া যায়।
এনবিআর জানায়, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে এসব প্যাকেট কাস্টমস হলের ইনভেন্টরি টেবিলে খুলে পরীক্ষা করা হলে প্রাথমিকভাবে ৪.২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়। এসব প্যাকেটের কোনো মালিক পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড স্বর্ণকারের মাধ্যমে স্বর্ণসদৃশ পেস্ট থেকে স্বর্ণ পৃথকীকরণের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা স্বর্ণের প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধার স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারে। তবে পরীক্ষণ ও পৃথকীকরণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর স্বর্ণের চূড়ান্ত পরিমাণ, বিশুদ্ধতা এবং প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
###
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগদানের জন্য আগামীকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নতুন এক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবছরের মতো এবারও জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অধিবেশনের উদ্বোধন হয়। এতে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এর মধ্য দিয়ে মা-বাবার পারিবারিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আসছেন তারেক রহমান।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। দফায় দফায় বৈঠক করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কের জনএফ কেনেডি বিমানবন্দরে যাবেন হাজারো নেতাকর্মী। গতকালও কয়েকটি প্রস্তুতি সভা করেছেন তারা।
কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী
স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর কার্যকর অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন মিত্র দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব আলোচনায় দেশের জাতীয় স্বার্থ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এসডিজি অগ্রগতি পর্যালোচনা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক একাধিক উচ্চপর্যায়ের সাইড-ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন।
নতুন বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার, সংস্কার কার্যক্রম এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নিয়ে সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা জানাবেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ২০০০ সালে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
পারিবারিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতায় এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে আসছেন তারেক রহমান। একই পরিবারের তিন বিশিষ্ট রাজনীতিকের বিশ্বমঞ্চে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার এই ঘটনা দেশের রাজনীতিতে এক বিরল ও ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের ১১তম সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপর ২০০৫ সালে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছিলেন। নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর, অর্থনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অগ্রাধিকারগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলায় বক্তব্য রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভূ-রাজনীতি ও অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরেছিলেন। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সর্বজনীন অধিকার নিয়ে বিশ্বের দরবারে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।’
৮১তম অধিবেশন শুরু
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এ বছরের প্রতিপাদ্য–‘একসঙ্গে, আমরা পারব’। এই প্রতিপাদ্য বর্তমান পরিস্থিতির তাগিদ এবং আশাবাদ উভয়কেই তুলে ধরে।
সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, যেসব ১৩৯টি লক্ষ্যমাত্রার তথ্য পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ৩৬ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে অথবা মধ্যম অগ্রগতি অর্জন করেছে– যা আগের বছরের তুলনায় ইতিবাচক। তবে এই অগ্রগতি এখনও অত্যন্ত ধীর এবং অসম। অর্থায়নের ঘাটতি, জলবায়ুর আঘাত, ঋণের বোঝা, সংঘাত ও বৈষম্য অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। তা সত্ত্বেও রূপান্তর এখনও সম্ভব; কিন্তু লক্ষ্যগুলোর অগ্রগতি বাড়াতে প্রয়োজন বড় পরিসরে সমন্বিত উদ্যোগ, ধারাবাহিক বিনিয়োগ, মজবুত অংশীদারিত্ব এবং নতুন করে আন্তর্জাতিক সংহতি। উদ্বোধনী অধিবেশনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এতে চারটি সেশন ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের ব্যাপক প্রস্তুতি
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা সব নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। জনএফ কেনেডি বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে নেতাকর্মীর ঢল নামবে। বোস্টন বিএনপির সভাপতি বদরা সাইদ বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ বলেন, দলীয় প্রধানের সফর ঘিরে নিউইয়র্কে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার-ব্যানার লাগানো হয়েছে। নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
নতুন পে-স্কেল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ একবারে নয়, কার্যকর হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপ ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতনবৃদ্ধির পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপ ২০২৭ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের কর্মকর্তাদের জন্য ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।
তৃতীয় ধাপ বা শেষ ধাপ ২০২৭ সালে ১ জুলাইয়ে কার্যকর করা হবে। বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ (ইনক্রিমেন্ট) শতভাগ মূল বেতন ও সুবিধা কার্যকর হবে।
২০টি গ্রেডের নতুন বেতন স্কেল
১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নতুন স্কেলের মূল বেতনের বিষয় প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়। যেমন-
১ম গ্রেড : ১,৫৬,০০০ টাকা (নির্ধারিত)
২য় গ্রেড : ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড : ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড : ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা
৫ম গ্রেড : ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড : ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড : ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা
৮ম গ্রেড : ৪৬,০০০ – ১,১০,৮০০ টাকা
৯ম গ্রেড : ৪৪,০০০ – ১,০৫,৯০০ টাকা
১০ম গ্রেড : ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা
১১তম গ্রেড : ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা
১২তম গ্রেড : ২৪,৩০০ – ৫৪,৭০০ টাকা
১৩তম গ্রেড : ২৪,০০০ – ৫৬,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড : ২৫,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা
১৫তম গ্রেড : ২২,৮০০ – ৫১,২০০ টাকা
১৬তম গ্রেড : ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড : ২১,৪০০ – ৫১,১০০ টাকা
১৮তম গ্রেড : ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা
১৯তম গ্রেড : ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা
২০তম গ্রেড : ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা
প্রজ্ঞাপনে বিশেষ পদ মর্যাদায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের মূল বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা
নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মস্থল ও গ্রেড অনুযায়ী বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৪র্থ গ্রেডে ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন।
অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্দিষ্ট এলাকায় এ হার কিছুটা কম। জেলা সদর, উপজেলা ও অন্যান্য এলাকাতেও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বাসায় বসবাসকারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না।
চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা
চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত শর্তে এ ভাতা পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা এবং ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।
পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ বা নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমায় পাহাড়ি ভাতা এবং হাওর, দ্বীপ ও চরসহ দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের জন্য বিশেষ ভাতা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসে ২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব ও সচিব ১ হাজার, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ এবং যুগ্মসচিব ও অন্যান্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারা ৬০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা পাবেন।
সব কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পাবেন। নির্ধারিত শর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতাও দেওয়া হবে।
পেনশন ও উচ্চতর গ্রেড
নতুন প্রজ্ঞাপনে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিদ্যমান নিট পেনশনের ভিত্তিতে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ হবে। এতে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনের স্ল্যাব রাখা হয়েছে।
পেনশনের বর্ধিত অংশও তিন ধাপে কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে।
এ ছাড়া কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাবেন। পরবর্তী ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের সামরিক পদ, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, দৈনিক বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত কর্মীরা এই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকবেন না।