ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সিলগালা করে রাখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত টাকার নোট আবারও বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন ডিজাইনের নোট ছাপাতে ধীরগতি এবং বাজারে নগদের চাহিদা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোনো ছাপা নোটগুলো ধাপে ধাপে প্রচলনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ীই এসব নোট পুনরায় বিতরণ করা হচ্ছে। অপরদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য— যেহেতু শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই সেগুলো বাজারে ছাড়তে আইনি বা নীতিগত কোনও বাধা নেই।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোট বিতর্ক
গত বছরের (২০২৫) রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও প্রতীকী উপস্থাপনার বিষয়ে কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত টাকার নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে নতুন নকশার নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় বিভিন্ন ব্যাংকের ভল্টে থাকা শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নতুন ছাপানো নোট সিলগালা করে রাখা হয়। তখন থেকেই অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাদের মতে, ইতোমধ্যে ছাপানো নোট বাজারে না ছাড়লে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে।
নতুন সরকারের নীতিগত পরিবর্তন
সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সরকার মনে করছে, ইতোমধ্যে ছাপানো নোট দীর্ঘদিন ভল্টে আটকে রাখলে অর্থনৈতিকভাবে তা অযৌক্তিক হবে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে পুরোনো ডিজাইনের নোট পুনরায় বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “নতুন ডিজাইনের নয় ধরনের নোট ছাপানোর কাজ চলছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের গতি কিছুটা কম। যেহেতু পুরোনো নোট নিষিদ্ধ করা হয়নি এবং বাজারে নগদের চাহিদা রয়েছে, তাই আগের ছাপানো নোটগুলো ধাপে ধাপে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকগুলোতে শুরু হয়েছে বিতরণ
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা পুরোনো নোট বিনিময় ও বিতরণ শুরু করেছেন।
সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “২০২৫ সালের ঈদুল আজহার সময় পুরোনো ছাপা নোট বিতরণ বন্ধ ছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা আসে এগুলো স্বাভাবিকভাবে বিতরণ করার জন্য। এরপর থেকেই আমরা নিয়ম অনুযায়ী নোটগুলো চলমান রেখেছি।”
ব্যাংকারদের মতে, দেশে নগদ টাকার চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে, বিশেষ করে উৎসবের সময়। নতুন নোট ছাপানোর প্রক্রিয়া তুলনামূলক ধীর হওয়ায় বাজারে নগদের সরবরাহ ঠিক রাখতে পুরোনো নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।
ঈদে নতুন নোট না দিলেও বাজারে চাহিদা
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে, এবার ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময় কার্যক্রম চালু করা হবে না। তবে বাস্তবে খোলাবাজারে নতুন নোটের চাহিদা কমেনি। বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে নতুন নোট বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট অনেক ক্ষেত্রে ‘নতুন নোট’ হিসেবেই বিক্রি হচ্ছে। এতে বাজারে এক ধরনের অদৃশ্য লেনদেন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা।
নতুন নোট ছাপানো নিয়ে প্রশ্ন
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে আগের নোট সিলগালা করে রাখার সিদ্ধান্তও অর্থনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
তাদের মতে, একটি দেশের মুদ্রা কেবল অর্থনৈতিক মাধ্যম নয়, রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতারও প্রতীক। তাই মুদ্রা নকশা নিয়ে হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন করলে তা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরোনো নোট পুনরায় বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তকে বাস্তবতার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন অনেক ব্যাংকার।
সামনে কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। ধীরে ধীরে সেগুলো বাজারে বাড়ানো হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত বাজারের চাহিদা মেটাতে আগের ছাপানো নোটগুলোই প্রধান ভরসা হয়ে থাকবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভবিষ্যতে মুদ্রা নকশা বা প্রতীক পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয়, মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
কারণ একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু রাজনীতিতে নয়— সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাতেও পড়ে।
ছবি : সংগৃহীত
আপনি আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন না। ভাবুন তো, আপনার কী হবে। কর কর্মকর্তারা কঠোর হলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হতে পারে। দেশে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) আছেন। বছরে রিটার্ন দেন প্রায় ৫০ লাখ করদাতা। বাকি ৭৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দেন না।
আইন অনুসারে, টিআইএনধারী সবার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। করযোগ্য আয় থাকলে রিটার্ন দিতে হয়। আর ৪৫ ধরনের সরকারি–বেসরকারি সেবা নিতে হলে রিটার্ন দিতে হয়।
এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রিটার্ন দেননি। এবার দেখা যাক, আয়কর রিটার্ন না দিলে কী জরিমানা হয়।
রিটার্ন না দিলে কী হয়
আয়কর আইন অনুসারে, পাঁচ ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা। এগুলো হলো—
১. জরিমানা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা
নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবেন কর কর্মকর্তারা। এ ধারায় বলা হয়েছে, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা যাবে। তবে এ জরিমানা কমপক্ষে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। কোনো তদন্তের ক্ষেত্রে রিটার্নের তথ্য চাওয়া হলে তা দিতে ব্যর্থ হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
২. কর ছাড় পাওয়া যাবে না
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে কর অব্যাহতির সুবিধা পাওয়া যাবে না। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন করা হবে। আপনি প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করে কর পেতেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এই কর ছাড় পাবেন না।
৩. বাড়তি ২ শতাংশ কর
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
৪. গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
সময়মতো আয়কর রিটার্ন না দিলে আপনার বাড়ির গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের। এমনকি শিল্পকারখানার মালিকেরা যদি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্ন না দেন, তাহলে গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিতে পারবেন তাঁরা।
শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে।
৫. বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা
সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত উচ্চ গ্রেডের (প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা) কর্মকর্তাদের সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে। অফিস থেকে রিটার্ন জমার কপি চাওয়া হয়, তা না হলে বেতন–ভাতা কেটে রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়। বেসরকারি খাতের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
রিটার্ন দেওয়ার সময় শেষ কবে
চলতি অর্থবছর থেকে রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর। প্রথম তিন মাস (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন কর ছাড় পাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে যা কর বসবে, তা–ই দিতে হবে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রিটার্ন দিলে করের পাশাপাশি জরিমানা বসবে।
তাই অর্থবছর পেরিয়ে গেলেই শুধু রিটার্ন–সংক্রান্ত জরিমানা, বাড়তি করসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের বিপি পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে এক কার্গো কেনা হবে।
গতকাল শনিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৫১তম এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৫তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপির কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) বেঞ্চমার্ক মূল্যের চেয়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ০.১৭ ডলার কম।
এ ছাড়া কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অতিরিক্ত আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি এই কার্গো সরবরাহ করবে। এর দাম হবে জেকেএম বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ০.১০ ডলার কম। কার্গোটির সম্ভাব্য সরবরাহের তারিখ আগামী ২০ ডিসেম্বর।
অন্যদিকে, জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটসের সঙ্গে এলএনজি কেনাবেচার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পেট্রোবাংলা ও জেরার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) এবং টার্ম শিটের খসড়া নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯ (২) বিধির আওতায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। তবে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের আইনি যাচাই বা ভেটিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে প্রস্তাবটি কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক সতর্কতার মুখে ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই বন্ধ রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি স্থানে ‘স্প্যাম’ বা হামলার চিহ্ন শনাক্ত হওয়ার পর তা ঠিক করতে কাজ করছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মীরা। এ কারণে ছুটির পর ব্যাংকিং লেনদেন শুরু হলেও রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি চালু করা যায়নি।
জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটে দুটি জায়গায় হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই সাইটটি পুরোপুরি নিরাপদ করে সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। পরদিন থেকেই দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে (PHP) দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা (ENISA) ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গত ২১ অক্টোবর যৌথ সতর্কতা জারি করে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত সিকিউরিটি প্যাচ বা হালনাগাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সেই সতর্কতার অংশ হিসেবে বাড়তি সুরক্ষার তাগিদে গত বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছুটি শেষে আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টাল যথারীতি চালু করা হলেও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের কারণে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক
এইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে তিন দিন বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাইটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, রোববার কর্মদিবস হওয়ায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের সুবিধা বিবেচনায় ওয়েবসাইটটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির এই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে।
এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান একই কারণে সতর্কতা অবলম্বন করেছিল।
এদিকে সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলোর ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, বিজিডি ই-গভ সার্ট দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচপির সংস্করণ যাচাই, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল হওয়ায় সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রবিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩, ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৮৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিএইচপি নিরাপত্তা ত্রুটি
বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটও। বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি, যার পূর্ণরূপ হাইপারটেক্সট প্রি-প্রসেসর। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট তৈরিতে এই প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
সম্প্রতি পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বহু ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য সাইবার হামলা এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঝুঁকির বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত চালু করতে আইটি টিম কাজ করছে।
অ্যানালাইজেন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী সুমিত সাহা মনে করেন, পিএইচপির নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালানো সম্ভব। এ কারণে প্রোগ্রামিং ভাষা ও সফটওয়্যার প্রযুক্তির হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুমিত সাহা বলেন, প্রোগ্রামিং স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনের মেমোরির নিয়ন্ত্রণ নেয়া সম্ভব হলে সেখান থেকে ডেটাবেজ পর্যন্ত পৌঁছানো যেতে পারে। যেকোনো ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর ডেটা। হ্যাকাররা সাধারণত এই ডেটাকেই লক্ষ্য করে। ডেটার নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, পিএইচপিতে সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ বা সুরক্ষা হালনাগাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ৩৬ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট দেখভাল করে বাংলাদেশ সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি। তবে এসব ওয়েবসাইট পিএইচপিনির্ভর না হওয়ায় আপাতত সেগুলো নিয়ে ঝুঁকি দেখছেন না সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।
তিনি বলেন, ৩৬ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট পিএইচপিভিত্তিক নয়। ফলে পিএইচপির বর্তমান নিরাপত্তা দুর্বলতা এসব ওয়েবসাইটে নেই। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট পিএইচপিনির্ভর, তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। পিএইচপির নিরাপত্তা দুর্বলতা মোকাবিলায় প্রকাশিত সিকিউরিটি প্যাচ বা নিরাপত্তা হালনাগাদের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
এদিকে, সরকারি যেসব সিস্টেম তৈরিতে পিএইচপি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।