নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি গ্রাহকের হাতে নোট দিচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়ার পর ব্যাংকগুলো সেই টাকা গ্রাহকের হাতে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বাক্ষরিত ৫০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোটটির আকার ১৫২ মিমি x ৬৫ মিমি। নোটের সম্মুখভাগের বাঁ পাশে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ও মাঝখানের ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা, কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি।
অন্যদিকে নোটের পেছন ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি মুদ্রিত আছে। নোটে জলছাপ হিসেবে আছে বেঙ্গল টাইগারের মুখ। তার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘৫০০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে সবুজ রঙের আধিক্য আছে।
বর্তমানে প্রচলিত ৫০০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি আছে। নতুন নোটে তা নেই। নতুন নোটের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি আছে। নতুন নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সই আছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এই ৫০০ টাকার নোট খোলাবাজারে দেখা যায়নি। বিকেলে মতিঝিল খোলাবাজারে প্রতিটি নতুন ৫০০ টাকার নোটের দাম ৬০০ টাকা হাঁকতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা এর কমে নোট ছাড়ছেন না।
আজ বিকেলে মতিঝিলের ১০ জন নোট বিক্রেতার মধ্যে দুজনের কাছে ৫০০ টাকার নোট এসেছে। তাঁরা জানান, ৫৮০ টাকা দিয়ে প্রতিটি নোট কিনতে হয়েছে। সে জন্য তাঁরা ৬০০ টাকা দাম চাইছেন। তবে কোনো গ্রাহক দেখা যায়নি।
বিক্রেতারা জানান, নতুন নোট নিয়ে ঈদের সময় কিছুটা আগ্রহ থাকে। অন্য সময় গ্রাহক থাকে না। তবে ছেঁড়াফাটা নোটের বিক্রেতা নিয়মিত থাকে। ছেঁড়াফাটা নোট কেনা তাঁদের মূল ব্যবসা। এই টাকা ঠিক করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বদল করে নেন তাঁরা। এটা তাঁদের আয়ের বড় অংশ।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের চলমান ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ সিরিজের অংশ হিসেবে আজ থেকে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়া শুরু করবে।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরযুক্ত এই নোটটি প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। পরে অন্যান্য শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নতুন নোটটির আকার ১৫২ মিমি ৬৫ মিমি এবং রং হবে প্রধানত সবুজ। বাঁ পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মাঝের পটভূমিতে ফুটন্ত শাপলা ফুল ও পাতা। বিপরীত পাশে চিত্রায়িত হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
নোটটিতে জলছাপ হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি, উজ্জ্বল ইলেক্ট্রোটাইপ ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম সংযোজিত রয়েছে। নোটটির সত্যতা নিশ্চিত করতে ১০টি স্বতন্ত্র সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে।
নোটের ডান দিকের ওপরের কোণে থাকা ‘৫০০’ সংখ্যা অপটিক্যালি ভ্যারিয়েবল কালিতে মুদ্রিত। নোটটি কাত করলে এই রং সবুজ থেকে নীল হয়ে যায় এবং ভেতরে তির্যক ‘৫০০’ দেখা যায়।
৪ মিমি চওড়া একটি টুইস্টেড সিকিউরিটি থ্রেডে লাল এবং উজ্জ্বল সোনালি রঙের সমন্বয় রয়েছে। নোটটি কাত করলে লাল অংশ সবুজে রূপ নেয় (যেখানে দেখা যায় Taka ৫০০), আর সোনালি অংশে চলমান রেইনবো রঙের বার দেখা যায়।
নোটটির নিচের বর্ডারের সবুজ নকশায় লুকানো ‘৫০০’ সংখ্যাটি শুধু অনুভূমিকভাবে ধরলে দেখা যায়। গভর্নরের স্বাক্ষরের পাশে থাকা সি-থ্রু ‘৫০০’ সংখ্যাটি আলোয় ধরলে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধার জন্য নোটে ডান নিচের কোণে ৫টি ছোট উঁচু ডট দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার, ব্যাংকের নাম, ডান পাশে তির্যক লাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রাফ ইনট্যালিও মুদ্রণে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা স্পর্শে নোটের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারেন। নোটের দুই পাশে ইউভি কিউরিং ভার্নিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা নোটকে চকচকে অনুভূতি ও বাড়তি স্থায়িত্ব দেয়।
ইউভি ডিটেক্টরে নোট ধরলে শাপলা ফুলের ছবি মেজেন্ডা রঙে জ্বলে ওঠে এবং কাগজে ছড়ানো লাল, নীল ও সবুজ রঙের তন্তুগুলো দৃশ্যমান হয়। নোটের বিভিন্ন স্থানে মাইক্রো প্রিন্টিংয়ে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা রয়েছে, যা শুধু লেন্সের সাহায্যে দেখা যাবে।
এর আগে একই স্থাপত্য সিরিজে নতুন ১০০০, ১০০, ৫০ এবং ২০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের বিপি পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে এক কার্গো কেনা হবে।
গতকাল শনিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৫১তম এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৫তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপির কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) বেঞ্চমার্ক মূল্যের চেয়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ০.১৭ ডলার কম।
এ ছাড়া কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অতিরিক্ত আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি এই কার্গো সরবরাহ করবে। এর দাম হবে জেকেএম বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ০.১০ ডলার কম। কার্গোটির সম্ভাব্য সরবরাহের তারিখ আগামী ২০ ডিসেম্বর।
অন্যদিকে, জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটসের সঙ্গে এলএনজি কেনাবেচার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পেট্রোবাংলা ও জেরার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) এবং টার্ম শিটের খসড়া নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯ (২) বিধির আওতায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। তবে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের আইনি যাচাই বা ভেটিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে প্রস্তাবটি কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক সতর্কতার মুখে ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই বন্ধ রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি স্থানে ‘স্প্যাম’ বা হামলার চিহ্ন শনাক্ত হওয়ার পর তা ঠিক করতে কাজ করছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মীরা। এ কারণে ছুটির পর ব্যাংকিং লেনদেন শুরু হলেও রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি চালু করা যায়নি।
জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটে দুটি জায়গায় হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই সাইটটি পুরোপুরি নিরাপদ করে সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। পরদিন থেকেই দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে (PHP) দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা (ENISA) ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গত ২১ অক্টোবর যৌথ সতর্কতা জারি করে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত সিকিউরিটি প্যাচ বা হালনাগাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সেই সতর্কতার অংশ হিসেবে বাড়তি সুরক্ষার তাগিদে গত বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছুটি শেষে আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টাল যথারীতি চালু করা হলেও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের কারণে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক
এইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে তিন দিন বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাইটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, রোববার কর্মদিবস হওয়ায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের সুবিধা বিবেচনায় ওয়েবসাইটটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির এই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে।
এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান একই কারণে সতর্কতা অবলম্বন করেছিল।
এদিকে সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলোর ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, বিজিডি ই-গভ সার্ট দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচপির সংস্করণ যাচাই, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল হওয়ায় সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রবিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩, ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৮৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিএইচপি নিরাপত্তা ত্রুটি
বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটও। বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি, যার পূর্ণরূপ হাইপারটেক্সট প্রি-প্রসেসর। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট তৈরিতে এই প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
সম্প্রতি পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বহু ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য সাইবার হামলা এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঝুঁকির বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত চালু করতে আইটি টিম কাজ করছে।
অ্যানালাইজেন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী সুমিত সাহা মনে করেন, পিএইচপির নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালানো সম্ভব। এ কারণে প্রোগ্রামিং ভাষা ও সফটওয়্যার প্রযুক্তির হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সুমিত সাহা বলেন, প্রোগ্রামিং স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনের মেমোরির নিয়ন্ত্রণ নেয়া সম্ভব হলে সেখান থেকে ডেটাবেজ পর্যন্ত পৌঁছানো যেতে পারে। যেকোনো ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর ডেটা। হ্যাকাররা সাধারণত এই ডেটাকেই লক্ষ্য করে। ডেটার নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, পিএইচপিতে সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ বা সুরক্ষা হালনাগাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ৩৬ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট দেখভাল করে বাংলাদেশ সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি। তবে এসব ওয়েবসাইট পিএইচপিনির্ভর না হওয়ায় আপাতত সেগুলো নিয়ে ঝুঁকি দেখছেন না সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।
তিনি বলেন, ৩৬ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট পিএইচপিভিত্তিক নয়। ফলে পিএইচপির বর্তমান নিরাপত্তা দুর্বলতা এসব ওয়েবসাইটে নেই। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট পিএইচপিনির্ভর, তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। পিএইচপির নিরাপত্তা দুর্বলতা মোকাবিলায় প্রকাশিত সিকিউরিটি প্যাচ বা নিরাপত্তা হালনাগাদের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
এদিকে, সরকারি যেসব সিস্টেম তৈরিতে পিএইচপি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ২২ অক্টোবর এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩২৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।