নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি গ্রাহকের হাতে নোট দিচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়ার পর ব্যাংকগুলো সেই টাকা গ্রাহকের হাতে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বাক্ষরিত ৫০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোটটির আকার ১৫২ মিমি x ৬৫ মিমি। নোটের সম্মুখভাগের বাঁ পাশে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ও মাঝখানের ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা, কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি।
অন্যদিকে নোটের পেছন ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি মুদ্রিত আছে। নোটে জলছাপ হিসেবে আছে বেঙ্গল টাইগারের মুখ। তার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘৫০০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে সবুজ রঙের আধিক্য আছে।
বর্তমানে প্রচলিত ৫০০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি আছে। নতুন নোটে তা নেই। নতুন নোটের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি আছে। নতুন নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সই আছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এই ৫০০ টাকার নোট খোলাবাজারে দেখা যায়নি। বিকেলে মতিঝিল খোলাবাজারে প্রতিটি নতুন ৫০০ টাকার নোটের দাম ৬০০ টাকা হাঁকতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা এর কমে নোট ছাড়ছেন না।
আজ বিকেলে মতিঝিলের ১০ জন নোট বিক্রেতার মধ্যে দুজনের কাছে ৫০০ টাকার নোট এসেছে। তাঁরা জানান, ৫৮০ টাকা দিয়ে প্রতিটি নোট কিনতে হয়েছে। সে জন্য তাঁরা ৬০০ টাকা দাম চাইছেন। তবে কোনো গ্রাহক দেখা যায়নি।
বিক্রেতারা জানান, নতুন নোট নিয়ে ঈদের সময় কিছুটা আগ্রহ থাকে। অন্য সময় গ্রাহক থাকে না। তবে ছেঁড়াফাটা নোটের বিক্রেতা নিয়মিত থাকে। ছেঁড়াফাটা নোট কেনা তাঁদের মূল ব্যবসা। এই টাকা ঠিক করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বদল করে নেন তাঁরা। এটা তাঁদের আয়ের বড় অংশ।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের চলমান ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ সিরিজের অংশ হিসেবে আজ থেকে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়া শুরু করবে।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরযুক্ত এই নোটটি প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। পরে অন্যান্য শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নতুন নোটটির আকার ১৫২ মিমি ৬৫ মিমি এবং রং হবে প্রধানত সবুজ। বাঁ পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মাঝের পটভূমিতে ফুটন্ত শাপলা ফুল ও পাতা। বিপরীত পাশে চিত্রায়িত হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
নোটটিতে জলছাপ হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি, উজ্জ্বল ইলেক্ট্রোটাইপ ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম সংযোজিত রয়েছে। নোটটির সত্যতা নিশ্চিত করতে ১০টি স্বতন্ত্র সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে।
নোটের ডান দিকের ওপরের কোণে থাকা ‘৫০০’ সংখ্যা অপটিক্যালি ভ্যারিয়েবল কালিতে মুদ্রিত। নোটটি কাত করলে এই রং সবুজ থেকে নীল হয়ে যায় এবং ভেতরে তির্যক ‘৫০০’ দেখা যায়।
৪ মিমি চওড়া একটি টুইস্টেড সিকিউরিটি থ্রেডে লাল এবং উজ্জ্বল সোনালি রঙের সমন্বয় রয়েছে। নোটটি কাত করলে লাল অংশ সবুজে রূপ নেয় (যেখানে দেখা যায় Taka ৫০০), আর সোনালি অংশে চলমান রেইনবো রঙের বার দেখা যায়।
নোটটির নিচের বর্ডারের সবুজ নকশায় লুকানো ‘৫০০’ সংখ্যাটি শুধু অনুভূমিকভাবে ধরলে দেখা যায়। গভর্নরের স্বাক্ষরের পাশে থাকা সি-থ্রু ‘৫০০’ সংখ্যাটি আলোয় ধরলে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধার জন্য নোটে ডান নিচের কোণে ৫টি ছোট উঁচু ডট দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার, ব্যাংকের নাম, ডান পাশে তির্যক লাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রাফ ইনট্যালিও মুদ্রণে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা স্পর্শে নোটের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারেন। নোটের দুই পাশে ইউভি কিউরিং ভার্নিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা নোটকে চকচকে অনুভূতি ও বাড়তি স্থায়িত্ব দেয়।
ইউভি ডিটেক্টরে নোট ধরলে শাপলা ফুলের ছবি মেজেন্ডা রঙে জ্বলে ওঠে এবং কাগজে ছড়ানো লাল, নীল ও সবুজ রঙের তন্তুগুলো দৃশ্যমান হয়। নোটের বিভিন্ন স্থানে মাইক্রো প্রিন্টিংয়ে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা রয়েছে, যা শুধু লেন্সের সাহায্যে দেখা যাবে।
এর আগে একই স্থাপত্য সিরিজে নতুন ১০০০, ১০০, ৫০ এবং ২০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আলাদা করে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে দেখার সময় যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
আরিফ হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালাবে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে ব্যাংকভিত্তিক যে তদন্তগুলো চলছে, সেখানে কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা ব্যাংকের কাস্টমার।
আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকে ইন্সপেকশন করে। তদন্তের সময় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোনো ব্যক্তি অনিয়ম করলে, সেই অনিয়মের সঙ্গে পর্ষদ জড়িত কি না সেটাও দেখা হয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটা ব্যাংক নিজেরাই অডিট করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও করে এবং এক্সটার্নাল অডিটও হয়।
এটা কোনো ব্যক্তি বিশেষকে টার্গেট করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক করবে না। বিশেষ প্রায়োরিটি নিয়ে কিংবা টার্গেট করে কাজ করছে, এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর এক দিন পর আজ রবিবার বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানের বাসায় ওঠেন তিনি।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে।
রবিবার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬: ড্রাইভিং ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস অ্যান্ড প্রসপারিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ইনভেস্টরস এক্সপোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেমন নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সরলীকরণ, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ চায়।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ভ্যাট ও কর ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
চলতি করবর্ষে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন প্রথম প্রান্তিকেই দাখিল করে প্রণোদনা পেতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে এনবিআর।
করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করে বুধবার এনবিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে।
এনবিআর বলছে, করসেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বুধবার থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের এই সুবিধা দিচ্ছে; এতে করে করদাতারা এখন ঘরে বসেই তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন।
২০২৬-২০২৭ করবর্ষ হতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নিট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা প্রণোদনা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
ফলে এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা প্রণোদনা পাবেন। এই সময়ের পর দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না বরং ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে দাখিলকৃত রিটার্নে অতিরিক্ত কর প্রদান করতে হবে।
তাই এনবিআর 'যথাসময়ে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের ‘বিশেষ অনুরোধ করছে' বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালুর পর থেকে পদ্ধতিটা করদাতাদের মাঝে সাড়া ফেলে।
২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ আখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।
এদিকে এনবিআর এবারেও গত করবর্ষের মতই বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
তবে, ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
এছাড়াও, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাগণ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
জাতীয় রাজস্ব বের্ডের www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস এর মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপা<ই সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে রিটার্ন প্রস্তুতপূর্বক রিটার্ন জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সেবা দেবেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯০ টাকা, সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।
ছবি : সংগৃহীত
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডলারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে; আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে তিন সপ্তাহে দর বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা দশমিক ৫১ শতাংশ।
সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা; সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা। গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৩৮ পয়সা। কয়েকটি ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে দাম রাখা হয়েছে ১২৪ টাকার বেশি। আর খোলা বাজারে ডলারের দর ১২৬ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে।
বুধবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা। সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ছিল ১২২ টাকা ৯৭ পয়সা। আর তিন সপ্তাহ আগে ২৪ জুন গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ১ পয়সা।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সা বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলছেন, চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বাড়ছে। তবে ব্যাংক খাতের কেউ কেউ বলছেন, সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে ‘খুশি করতে’ ডলারের দর বাড়ানো হচ্ছে। আইএমএফ বরাবরই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়ায় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি খোলা বাজারেও (কার্ব মার্কেট) বাড়ছে দাম।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক বৃহস্পতিবার ১২৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকায়।
বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
সিটি ব্যাংকও ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ১২৬ টাকা ৬০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়েছে; ক্রয় মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ৩০ পয়সা।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়; কেনা হয় ১২৫ টাকা ২০ পয়সায়।
মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হঠাৎ করেই ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে; সে তুলনায় সরবরাহ নেই। সে কারণেই দাম বাড়ছে।”
একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, “সরকারি কয়েকটি পেমেন্ট ছিল। সে কারণে ডলারের চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বেড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে ডলারের দর আর বাড়বে না।”
তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা বাড়ায় কিছুদিন ধরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফরের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে আরিফ খান বলেন, “আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফর বা তাদের শর্তের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত চাহিদা বাড়ার কারণেই বেড়েছে।”
তবে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, “আইএমএফ বহুদিন ধরেই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দিতে বলছে। সংস্থাটির সঙ্গে নতুন সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ পাওয়ার পথ সহজ করতে আইএমএফকে খুশি করতে ডলারের দাম বাড়ানো হতে পারে।”
আইএমএফ যা বলছে
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি দলটি তাদের এবারের বৈঠক শেষ করেছে।
১২ জুলাই থেকে এই প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আইএমএফ একটি বিবৃতি দিয়েছে, তাতে মুদ্রা বিনিময় বিষয়ে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ফলপ্রসূ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখতে হবে।
সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থায় যে ‘ক্রলিং পেগ’ চালু করেছিল বাংলাদেশ, তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিনিময় হার আরও নমনীয় হবে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতাও সুরক্ষিত থাকবে।
ক্রলিং পেগ হচ্ছে এমন একটি বিনিময় হার ব্যবস্থা, যেখানে একটি দেশের মুদ্রার বিনিময় হারকে একবারে পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় না, আবার পুরোপুরি স্থিরও রাখা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট নিয়মে ধীরে ধীরে বিনিময় হার সমন্বয় করে। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম এক দিনে বড় পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি বা কমানোই হচ্ছে ক্রলিং পেগ।
সোনার দাম দ্বিগুণ হবে
আন্তর্জাতিক বাজারে আগামী ৫ বছরের মধ্যে সোনার দাম দ্বিগুণ হয়ে প্রতি আউন্স ৮,০০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জার্মানির ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ সোনা মজুত করার প্রবণতাই দাম এতোটা বৃদ্ধির মূল কারণ।
২০২০ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ১,৫৮৫ ডলার, যা বর্তমানে রেকর্ড ভেঙে ৪,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
জার্মানির ডয়চে ব্যাংকের (Deutsche Bank) বিশেষজ্ঞদের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৮,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। জেপি মরগ্যান (J.P. Morgan) এবং ইউবিএস (UBS)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দাম ৫,০০০ থেকে ৫,৫০০ ডলারে উঠে যেতে পারে।
চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কসহ বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাপকভাবে তাদের সোনা মজুত (Gold Reserves) বাড়াচ্ছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ব্যাংকগুলোর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা কাগজের মুদ্রার চেয়ে সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক বিভিন্ন যুদ্ধবিগ্রহ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বৈশ্বিক মূল্যের প্রভাব বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে, যেখানে বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২,১৯,৮০৮ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এভাবে দাম বাড়তে থাকলে দেশের বাজারেও সোনা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।