মিয়ানমারে যাচ্ছে সার আসছে মাদক

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ পিএম

বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের জল ও স্থলপথে মাদকদ্রব্যের বিনিময়ে এবার শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে সার পাচার। সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের অধিকাংশ সার ডিলার এবং চোরাচালানী সিন্ডিকেট।


ইতিমধ্যে টেকনাফ,উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির  বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি ইয়াবা, খ্রীস্ট্রাল মেথ  আসছে মিয়ানমার থেকে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন বাহিনীর কাছে গত একমাসে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পাচারকারী। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ৯৩ জন ও এপিবিএন সদস্য ১ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী আছেন ২১ জন, আর অন্যরা হচ্ছে সাধারণ পরিবহন শ্রমিক, মহিলা আছেন ১৮ জন। মামলা হয়েছে ৭২ টি।


তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পাচারের পাশাপাশি আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে সার পাচার।


মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বেশ কয়েক দফায় সার আটক করেছেন। নতুন করে সার পাচার হওয়ার খবরে সীমান্তের কৃষকসহ সচেতন মহলের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে মিয়ানমারে সার পাচার অনেকটা বন্ধ ছিল। এমনকি ওই সময়ে সার পাচার ও আটকের ঘটনা ছিল বিরল। তবে সাম্প্রতিককালে নতুন করে সার পাচারের ঘটনায় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় সার পাচারে জড়িত চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের দাবী জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সরকার ও বিদ্রোহীদের মাঝে চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যে এক ধরণের সংকট চলছে। আরাকান আর্মি শাসিত ওই রাজ্যের কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে পাচারে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারে ইউরিয়া সারের বেশ কদর রয়েছে। সেখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার দ্বি-গুণ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩হাজার টাকা ধরে প্রতি বস্তা সার মিয়ানমারের চোরাকারবারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন এখানকার চোরাকারবারীরা। 


কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সে দেশে (মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে) সারের বস্তা দ্বি-গুণ বেশী দামে বিক্রির সুযোগে এ দেশীয় চোরকারবারীরা সার পাচারে তৎপর রয়েছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহর, পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী কেন্দ্রীক বড় বড় চোরাকারবারীরা বিভিন্ন সার ডিলারদের সাথে আতাঁত করে সাগরপথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মিয়ানমারে সার পাচার করছেন। আবার স্থল পথের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে সারসহ অন্যান্য পণ্য।


সমুদ্রপথে সার পাচার করতে গিয়ে কোষ্টগার্ডের হাতে একাধিক চালান আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাগরপথে জাহাজে করে সার পাচারের ঘটনার পরপরই টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি সারসহ ইতিমেধ্য বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮সেপ্টেম্বর ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৫বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছেন বিজিবি। এর আগে ২সেপ্টেম্বর একই সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ বস্তা সারসহ একটি হস্তচালিত নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। গত ২০ আগষ্ট সাবরাং বিওপির জওয়ানেরা নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ বস্তা সারসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটক করেন। এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে পরিবহনের সময় ৩০০ বস্তা সারের একটি বড় চালান জব্দ করেন মরিচ্যা বিজিবি। ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩৪ বিজিবির জওয়ানেরা ৮৮ বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করেন। ১৫ জুলাই রাতে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পচারকালে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৪ রোহিঙ্গাকে হাতে নাতে আটক করেন পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা। ১৩ জুলাই পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ১৩০ বস্তা সার আটক করেন। ৮ জুলাই পালংখালীর বিওপির জওয়ানেরা আনজুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজিবাইকসহ ২২ বস্তা ইউরিয়া সার আটক করেন। ১ জুলাই পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ফারিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের হালিশহর, ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সীমান্ত দিয়ে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাচারের সময় সারের বেশ কয়েকটি চালান আটক করেন কোস্টগার্ড।


টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, গত মাসে (আগষ্টে) উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্টিত হয়েছে। ওই সভায় সার পাচাররোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি, ডিলার পর্যায়ে মনিটরিং বাড়ানো, সারের বস্তার মুখ খোলা দেওয়া, ৫টার পরে সার বিক্রি না করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 


তিনি আরো জানান,সার পাচার শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে আমাদের প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠা ও মনিটিরিংয়ের মাধ্যমে সার পাচার ঠেকানো সম্ভব জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের সমন্বয়ে আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে: কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, সার পাচারসহ যাবতীয় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই মিডিয়া কর্মকর্তা। 


কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ডিডি) ডক্টর বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সার পাচার ঠেকাতে বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। কোন ডিলার সার পাচারে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ৬৪বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল জহিরুল ইসলাম জানান, সার এমন একটা জিনিষ যা পকেটে করে নেওয়া যায়না। কার কার সার প্রয়োজন সেটাও স্থানীয় লোকজন ভাল করেই জানেন। এছাড়া কৃষকসহ স্থানীয়রা সার পাচাররোধে বিজিবিসহ আইন শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে পারেন জানিয়ে তিনি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনার উপর গুরুত্বারোপন করেন।




  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৯ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ কে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। একই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে দায়ের করা হত্যা মামলার দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।


আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্ত ও দাবি তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের কোনো ইজতেমা, দাওয়াতি বা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সাদপন্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা দুটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অবিলম্বে চার্জশিট দাখিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, এ বিষয়ে যদি সরকারের ওপর কোনো ধরনের অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয় কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তবে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। 


হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমি, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।


সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসির সঙ্গে বাদানুবাদের ঘটনায় কোনো মামলা হলে প্রধান আসামি হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে তার এ-সংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন।


গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রুমিন ফারহানা এ প্রতিক্রিয়া জানান।


লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে গত ২৩ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি সম্মান রেখে তিনি অপেক্ষা করছেন, এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসির বিরুদ্ধে কী ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ার জেরে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা। এছাড়া রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন। 


এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের চোর।’


 থানায় রুমিন ফারহানা-ওসির বাগবিতণ্ডা, উত্তপ্ত কথোপকথন


তপন চন্দ্র দাস ও লিখন চন্দ্র দাস

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তপন চন্দ্র দাস (৫০), লিখন চন্দ্র দাস (২০) নামে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 


পুলিশ জানায়, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন মহাসড়কে বাবা ও ছেলে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ আহত দুজনকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছেলে লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তাঁর বাবা তপন চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত বাবা ছেলে শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কৈবর্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইস চৌরাস্তা এলাকায় জনৈক মিজানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুল আলম বললেন, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।


খুলনায় পুলিশের আইজিপি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১১ পিএম

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেছেন, জন-আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।


আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং খুলনা এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।


কেএমপি কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


আইজিপি বলেন, বিগত সতেরো বছরে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসন করাই আমাদের লক্ষ্য। ৫ আগস্টের পর পুলিশ দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পুলিশ কাজ করছে। জনগণের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই, জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই। বর্তমান সরকার মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" ঘোষণা করেছে; যাতে সমাজে কোন মাদক না থাকে, চাঁদাবাজ না থাকে, কিশোর গ্যাং না থাকে। 


আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপরাধ নির্মূল করবো। বর্তমানে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে। বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানান। পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনাস্থ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৭ পিএম

ঠাকুরগাঁও এর আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে শুক্রবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহৌউৎসব। ঠাকুরগাঁওয়ে বছরের পর বছর ধরে হেমন্তের শুরুতেই বুড়ির বাঁধে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।  


সম্প্রীতি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম এখানে তৈরি করেছেন একটি দৃষ্টিনন্দিত মৎস চত্বর। যা স্থানীয় অদূরান্তের দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। এই বাঁধে অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জালের বিরুদ্ধে নিয়েছেন ব্যবস্থা। অবমুক্ত করা হয়েছে মাছের পোনাও।ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে আজ শনিবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় পুরোদমে চলছে মাছ ধরার উৎসব। আর এখানকার শুক নদীর 'বুড়ির বাঁধ' এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উন্মুক্ত উৎসব। রীতিমতো প্রতিযোগিতার আমেজে চলে এ মাছ শিকার, যা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। শীতের আগমনী বার্তায় বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর সবার জন্য মাছ ধরার এ সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে এখানে বসেছে তিন দিনের এক গ্রামীণ মেলাও।


এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকেই বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয়। এর পরেই শত সৌখিন শিকারি ও সাধারণ মানুষ বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে নামেন। 


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামীণ জনপদ ও শহর থেকে শত শত মানুষ বুড়ির বাঁধে ভিড় করেছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত বাঁধের চারপাশ। সবাই যার যার মতো করে জাল, পলো (খলুই), খোচা ও লাফি জাল নিয়ে নেমে পড়েছেন কাদা-জলে। এমনকি সরঞ্জামহীন অনেকেই খালি হাতেও নেমেছেন মাছ ধরতে। সব মিলিয়ে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহা উৎসব।


স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত ১৯৮২ সালে শুকনো মৌসুমে এ অঞ্চলের জমি চাষাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে শুক নদীর ওপর বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি এখানে আটকে রাখা হয় সেচের জন্য। এ সময়ে ঠাকুরগাঁও মৎস্য অধিদপ্তর বাঁধের পানিতে বিভিন্ন মাছের পোনাও অবমুক্ত করে। আর শীতের শুরুতেই যখন পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন বাঁধের মাছ ধরার জন্য সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।


এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে আসছে মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।


ঠাকুরগাঁও সদরের চিলারং ইউনিয়ন অম্বারু থেকে আসা কামরুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার জন্য এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি।


অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আমি খুব খুশি। কারণ দেশি মাছের স্বাদ আলাদা। এখানে রুই, পাবদা, ষোল ও বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।


পীরগঞ্জের আমতলী থেকে আসা আল‌আমিন হকের মতে, বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে এসে মনে হচ্ছে যেন এক বিশাল লোকমেলা, যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ।


মাছ শিকারি ছাড়াও মেলায় ভিড় বাড়ে মাছের ক্রেতাদেরও। শহর থেকে আসা মাছ ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশি মাছ পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন, কিন্তু এসে দেখেন শহরের বাজারের চেয়েও এখানকার মাছের অনেক সস্তা ও টাটকা।


ভুল্লী বাজার থেকে আসা সুজন ইসলাম জানান, এখানে টেংরা, গোচি, শিং, টুনা মাছ প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ থেকে টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর শোল ও রুই-কাতলা মাছের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। পুঁটি মাছও বিক্রি হচ্ছে ১২০-২০০ টাকায়।


শহরের কলেজপাড়া থেকে আসা সৌখিন মাছ শিকারি রফিকুল ইসলাম বলেন, কত মাছ পেলাম সেটা বড় কথা নয়। সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে আসার জন্য।


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সভা আলী জানান, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয় এবং শীতের শুরুতেই মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।


উৎসবে যোগ দেয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রাজা শহিদুল আসলাম বলেন, মনে হচ্ছে যেন এক গ্রামীণ মেলায় এসেছি। মাছ ধরা এখানে উপলক্ষ মাত্র, আসলে এটা মিলনমেলা। এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে শত শত মানুষের মিলনমেলা ও মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।

বাইকে এসেই যুবদল নেতাকে গুলি

খুলনায় আইজিপির সফরের মধ্যেও যুবদল নেতাকে গুলি


যুবদল নেতা রামিম

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

প্রতিনিয়ত খুলনায় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা কেন্দিক গুলি করে হত্যার খবর নতুন না হলেও এবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) খুলনা সফরের মধ্যেও প্রকাশ্যে রামিম (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।


আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।


আহত রামিম বিশ্বাস পারহাজী গ্রামের হাবিবুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ বিল্লাল মোল্লা।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ভ্যানে করে কোলাবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রামিম। পথে গ্রামের আইনাল মোল্লার বাড়ির সামনে প্রধান সড়কে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ আলী বিশ্বাস জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।


উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ অক্টোবর মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা নগরীতে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিন ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামের এক যুবককে প্রতিপক্ষ গ্রুপের দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। একই দিন সন্ধ্যায় লবণচরার জিন্নাপাড়া বউবাজার এলাকায় খুশি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে তার মায়ের সামনেই মাথায় গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।