কামরুল হাসান টিটু, রংপুর ব্যুরো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০১ আগস্ট, ২০২৫, সময় : ২:০০ পিএম

প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)তে কখনো হয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু) ।


২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর যাত্রা শুরুর পর থেকেই আওয়ামী শাসনামল হওয়ায় ক্ষমতার জোরে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। তাদের হাতে নির্যাতন, হয়রানি ও চাঁদাবাজির স্বীকার হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।


গত বছরের ১৬ জুলাই বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সাথে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের জড়িত থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় লেজুড় বৃত্তিক ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের  সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এবং লেজুড় বৃত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রামাণিত হলে ১১১তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী “সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন বহিঃস্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল” করা যেতে পারে, প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।


বেরোবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তাদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক চর্চা, ন্যায্য দাবি, আদায়সহ বিভিন্ন কারণে ছাত্রসংসদের দাবি জানিয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শহীদ আবু সাঈদের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিটি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে ‌।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের কোনো বিধান রাখা হয়নি। যার কারণে নির্বাচন করতে হলে প্রথমে ছাত্র সংসদ আইনের খসড়া একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পাস করে তা অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। বিধানটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সংযুক্ত হলে তারপরেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনের-২০০৯ এ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নীতিমালা যুক্ত করার জন্য কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানা যায়, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট কর্তৃক ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। এই মুহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নিমিত্তে ছাত্র সংসদ সংক্রান্ত স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসাব নম্বরে অর্থ সংরক্ষণ করা, ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুমোদন হলে যথা শীঘ্রই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।


এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও সমাবেশে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলে ধরছেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী আহমাদুল হক আলবির বলেন, “ক্যাম্পাসে সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও অনীহা সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করতে বিরোধীদের দমন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছিল। ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু থাকলে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হতো এবং একক আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হতো। এতে ক্যাম্পাসে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘আওয়ামী জাহেলিয়াতের’ মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন সময় নিয়ে ছাত্রসংসদের বিষয় অগ্রসরমান কিছু না দেখিয়ে ওনাদের ব্যার্থতা প্রকাশ করছে। প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া”।


শিক্ষার্থী এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট এর পর শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী ছিলো ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন এর রোড ম্যাপ এখনো দেওয়া হয় নি।ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ছাত্র সংসদ এর বিকল্প নেই। অতি দ্রুত সকল জটিলতা কাটিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।


শিক্ষার্থী তানভীর হাসান দিপু বলেন, একটি দেশের পার্লামেন্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, এবং পার্লামেন্ট দেশের মানুষের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমি মনে করি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য ছাত্র সংসদ ঠিক ততটাই ভূমিকা রাখে।


আরেক শিক্ষার্থী মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিপ্লবী ধারায় উজ্জীবিত এক অনন্য ক্যাম্পাস। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছে আমরা সেটিকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু গণতান্ত্রিক চর্চা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য আগামী ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানাই।


এবিষয়ে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ছাত্র সংসদ করার জন্য কোন সংবিধি ছিল না তাই নতুন সংবিধি প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কমিটি সকল স্টেক হোল্ডারদের সাথে কথা বলে একটি খসড়া সংবিধি দেয় সেটি ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মকর্তাসহ সকলের সম্মতিক্রমে পরিবর্তন পরিমার্জন করা হয় এবং আমরা সেটি সিন্ডিকেটে পাশ করি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে পাঠিয়েছি সেটি মঞ্জুরি কমিশনে আছে।


তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সংবিধি নতুনভাবে সংযোজন করতে হলে তার  অনেকগুলো প্রক্রিয়া পার করতে হয়। আমাদের প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের দাবির আগেই শুরু করেছি। আমরা আশা করি অতি শীঘ্রই এটি সম্পন্ন করতে পারব। এবং ছাত্র সংসদের সংবিধি পূর্ণাঙ্গ পাশ হয়ে আসবে ।




মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস ও পার্থ সরকার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ এএম

দীর্ঘসময় পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ঘোষিত নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ সরকারকে।


মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবিত তালিকা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুর বিশ্বাস বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর তারা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমাদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দীর্ঘদিন পর কমিটি গঠিত হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজপথের কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে আমরা ইতিবাচক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে চাই।'





দুই মাসে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

আসছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে লম্বা ছুটি পেতে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। আগামী দুই মাসে সাপ্তাহিক ছুটি ও বিভিন্ন সরকারি ছুটি মিলিয়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই ছুটি উপভোগ করবেন।


আগস্ট মাসে ছুটি


  • আগস্ট মাসে সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৯ দিন।
  • ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস (১ দিন)।
  • ১২ আগস্ট আখেরি সাহার শোম্বা (১ দিন)
  • ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে (১ দিন)

সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে মোট ছুটি থাকবে ১২ দিন।


সেপ্টেম্বর মাস


  • সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৮ দিন।
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম (১ দিন)।


মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়া উপলক্ষে ছুটি থাকলেও তা শনিবার পড়ায় এ উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি মিলবে না। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে ছুটি থাকবে মোট ৯ দিন। দুই মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট ২১ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন।



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

সাংবাদিকদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের প্রতিবাদে রাকসুর সব ধরনের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠন। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।


আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) যৌথ এক প্রতিবাদলিপিতে এ ঘোষণা দেয়।


প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রক্টর দপ্তরে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকসু ভবনে হামলা এবং পরে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গ্রন্থাগারে ঢুকে হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে নিন্দনীয়ভাবে বিঘ্নিত করে। এ নিয়ে রাকসু আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করলে ভিপি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষপাত করার অভিযোগ করেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে মায়াকান্নাসহ একাধিক ট্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ‘জড়ো করে ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দেন।


তিন সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাকসু ভিপির এমন বক্তব্য সাংবাদিকদের জন্য চরম অপমানজনক। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি এ নিয়ে প্রতিবাদ দিতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির মাধ্যমে সাংবাদিকদের ট্যাগিং ও হুমকি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের হুমকি ও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।


ছাত্র সংসদ বা তার কোনো প্রতিনিধি কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব ধরনের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।


টেলিভিশন সাংবাদিকদের নিন্দা


একই ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ)। আজ বিকেলে এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা, হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো বক্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।


গত সোমবার দফায় দফায় মারধর ও হামলার ঘটনায় ‘রাকসু ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান। 


তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এত মায়াকান্না করা যাবে না। আপনারা সাংবাদিকেরা যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা কালকে ছাত্রলীগকে ডিফেন্স করে (পক্ষ হয়ে) অনেকে নিউজ করেছেন। এই সাংবাদিক এখানেও অনেকে আছে। আমরা সেগুলো জড়ো করে করে এখানে ব্যবস্থা নেব।’


সাংবাদিকদের শব্দ প্রয়োগে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাকসুর ভিপি বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আমরা হামলা করেছি। এটা কোন ধরনের কথা? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা এই শব্দ বলতে এত কাঁপাকাঁপি করেন কেন? আর আপনারা এত মায়াকান্না দেখান কেন ছাত্রলীগের প্রতি?’


অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতির নতুন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন ।  বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ড. শামীমা নাসরিনকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।


বুধবার (২৯ জুলাই) শিক্ষক সমিতির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক পদ শূন্য হওয়ায় কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিনকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।


এছাড়া, শিক্ষক সমিতির ব্যাংক হিসাব পরিচালনার স্বাক্ষরকারী হিসেবেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের পরিবর্তে নতুন আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিনকে স্বাক্ষরকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।


সাইফুল মালেক আকাশ ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘ভাষা-সাহিত্য পরিষদ’-এর ১০ম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল মালেক আকাশ এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছেন স্নাতক ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ।


বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এবং প্রভাষক মো. গোলাম মাহমুদ পাভেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।


নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আনাস আহম্মদ আব্দুলাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফারহা খানম, সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রোমান মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক মো. ফাহিম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন অপূর্ব, প্রচার সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এবং সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আহনাফ তাহমিদ। এছাড়া বিভাগের পাঁচটি শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঁচজন শ্রেণি প্রতিনিধি কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।


নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি শিক্ষক, সহপাঠী ও অনুজদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, ভাষা-সাহিত্য পরিষদকে একটি সক্রিয়, সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে চান।


সহ-সভাপতি সাইফুল মালেক আকাশ বলেন, এ দায়িত্বের জন্য তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, ভাষা-সাহিত্য পরিষদকে সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে এগিয়ে নিতে এবং বিভাগের যেকোনো সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে তিনি কাজ করবেন।


কমিটির সব সদস্যই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নবগঠিত কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। মুখ্য আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। এছাড়াও নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি উপস্থিত ছিলেন। 


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, "দেশে জলবায়ু ও কৃষি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এখনও তুলনামূলকভাবে কম এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নও সহজে পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য ও বন্যার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান"।


মুখ্য আলোচক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নোবিপ্রবির এ প্রকল্পটি দেখেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালককে উৎসাহিত করেছেন।”


তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমানে আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনই জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন এবং আধুনিক, অভিযোজন সক্ষম কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না।


সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান  অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। 


সেমিনারে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে প্রকল্প পরিচালক জানান, "সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা ও এর বহুমাত্রিক প্রভাব, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মিটিগেশন ও অ্যাডাপটেশন কৌশল, মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে ভবিষ্যতে সয়াবিন ও বার্লি চাষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়"।


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।