• প্রকাশ : সোমবার ১১ মে, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

দেশের ৩৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের জিমনেশিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


গত ৭ মে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিক বাকৃবি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি আসন ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দেয়।


সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব ও সদস্য-সচিব শফিকুল ইসলাম অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসেন। ফলে আয়োজক কমিটির দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিষয়টি উপস্থিতদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়।


উপস্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন ছিল। তাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্যদের অগ্রাধিকার দেওয়াকে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দৃষ্টিকটু বলে মন্তব্য করেন।


এই বিষয়ে বাকৃবির সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বটি মোটেও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়নি। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পুরো আয়োজনজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা জড়িত। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সবকিছু নিয়মমাফিক ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।


এ বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব বলেন, ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালকের আমন্ত্রণে আমরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। ওখানে সর্বপ্রথম উপাচার্য স্যার আসেন এরপর আমরা ছিলাম বাকিরা সবাই দেরিতে আসছে। উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং কোষাধ্যক্ষ মহোদয়সহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ আসন গ্রহণ করার পর আমরাও আসন গ্রহণ করি । অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে আর কারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসেছেন, সেদিকে আলাদাভাবে খেয়াল করা হয়নি। তবে অবশ্যই সকল শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বসার পর আমরা বসেছি। 


সদস্য-সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রীড়া প্রশিক্ষন বিভাগের পক্ষ থেকে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং আমরা বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলাম । অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের বসার জায়গা ছিল কিন্তু তারা বসেনি পাশাপাশি অনেক আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন না । যে সকল শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন তারাও ছবি তোলার সময় আর অতিথির আসনে বসতে চান নি। 


আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, 'আমাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রেজিস্ট্রার, ভিসি স্যার আমাকে বসতে বলছে। কে কাকে সম্মান দিবে না দিবে, এটা তো আমরা বলতে পারিনি। এখানে আমি কারো ত্রুটি দেখি না। আমাদের ফোন দিয়ে, কার্ড দিয়ে ইনভাইট করেছে আমরা তাদের গেস্ট। এ হিসেবে যেখানে সম্মান দিয়েছে আমরা সেখানে গিয়েছি। প্রোগ্রামগুলো বাস্তবায়নে আমরা ভূমিকা পালন করেছি আইন শৃংখলা রক্ষার্থে, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়। এজন্য সম্মানার্থে ওনারা আমাদেরকে নিয়ে আসছে।


তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের সবসময় ইনভাইটেড গেস্ট হিসেবে বলেছে। এটা আমার পক্ষ থেকে স্পষ্ট, আমাকে ডেকেছে, আমি গিয়েছি। অন্য দুইজনের বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। ওখানে অনেক শিক্ষক ছিল কাকে বসতে দিবে, কাকে দিবে না, এটা নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিলো। এজন্য তারাই আমাদের বসতে বলছে। যেহেতু আমি বিশেষ অতিথি ছিলাম কারণ যারা বিশেষ অতিথি ছিলো তারাই বক্তব্য দিয়েছে। এজন্য বিশেষ অতিথির চেয়ারে বসেছি, অন্য দুইজনের বিষয়ে তো বলতে পারিনা। '


অনুষ্ঠানের এই আয়োজন নিয়ে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আসাদুল হক সজল বলেন, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যানারে যে কয়জনের নাম ছিল তার মধ্যে ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক আসে নাই। ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা না থাকায় তার পরিবর্তে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি । ফলে আসন ফাঁকা থাকায় সেগুলোতে রেজিস্ট্রার স্যারকে বসতে বলছিলেন ভিসি স্যার। পরে ছাত্র নেতারা এমনিতেই সেখানে বসে গিয়েছিল। ছাত্রনেতাদের সম্মান করে আমরা আমাদের অনুষ্ঠান গুলোতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে থাকি। আসলে অতিথি হিসেবে চেয়ারের জন্য কাউকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। ব্যানারে যাদের নাম ছিল দুইজন না আসায় তাদের পরিবর্তে দুইজন বসার কথা। এর বাইরে কারও বসার সুযোগ ছিল না




রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

সাংবাদিকদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের প্রতিবাদে রাকসুর সব ধরনের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠন। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।


আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) যৌথ এক প্রতিবাদলিপিতে এ ঘোষণা দেয়।


প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রক্টর দপ্তরে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকসু ভবনে হামলা এবং পরে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গ্রন্থাগারে ঢুকে হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে নিন্দনীয়ভাবে বিঘ্নিত করে। এ নিয়ে রাকসু আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করলে ভিপি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষপাত করার অভিযোগ করেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে মায়াকান্নাসহ একাধিক ট্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ‘জড়ো করে ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দেন।


তিন সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাকসু ভিপির এমন বক্তব্য সাংবাদিকদের জন্য চরম অপমানজনক। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি এ নিয়ে প্রতিবাদ দিতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির মাধ্যমে সাংবাদিকদের ট্যাগিং ও হুমকি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের হুমকি ও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।


ছাত্র সংসদ বা তার কোনো প্রতিনিধি কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব ধরনের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।


টেলিভিশন সাংবাদিকদের নিন্দা


একই ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ)। আজ বিকেলে এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা, হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো বক্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।


গত সোমবার দফায় দফায় মারধর ও হামলার ঘটনায় ‘রাকসু ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান। 


তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এত মায়াকান্না করা যাবে না। আপনারা সাংবাদিকেরা যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা কালকে ছাত্রলীগকে ডিফেন্স করে (পক্ষ হয়ে) অনেকে নিউজ করেছেন। এই সাংবাদিক এখানেও অনেকে আছে। আমরা সেগুলো জড়ো করে করে এখানে ব্যবস্থা নেব।’


সাংবাদিকদের শব্দ প্রয়োগে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাকসুর ভিপি বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আমরা হামলা করেছি। এটা কোন ধরনের কথা? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা এই শব্দ বলতে এত কাঁপাকাঁপি করেন কেন? আর আপনারা এত মায়াকান্না দেখান কেন ছাত্রলীগের প্রতি?’


অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতির নতুন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন ।  বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ড. শামীমা নাসরিনকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।


বুধবার (২৯ জুলাই) শিক্ষক সমিতির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার ও সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক পদ শূন্য হওয়ায় কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিনকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।


এছাড়া, শিক্ষক সমিতির ব্যাংক হিসাব পরিচালনার স্বাক্ষরকারী হিসেবেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের পরিবর্তে নতুন আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিনকে স্বাক্ষরকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।


সাইফুল মালেক আকাশ ও আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘ভাষা-সাহিত্য পরিষদ’-এর ১০ম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল মালেক আকাশ এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছেন স্নাতক ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ।


বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এবং প্রভাষক মো. গোলাম মাহমুদ পাভেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।


নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আনাস আহম্মদ আব্দুলাহ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফারহা খানম, সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রোমান মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক মো. ফাহিম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন অপূর্ব, প্রচার সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এবং সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আহনাফ তাহমিদ। এছাড়া বিভাগের পাঁচটি শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঁচজন শ্রেণি প্রতিনিধি কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।


নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসউদ বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি শিক্ষক, সহপাঠী ও অনুজদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, ভাষা-সাহিত্য পরিষদকে একটি সক্রিয়, সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে চান।


সহ-সভাপতি সাইফুল মালেক আকাশ বলেন, এ দায়িত্বের জন্য তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, ভাষা-সাহিত্য পরিষদকে সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে এগিয়ে নিতে এবং বিভাগের যেকোনো সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে তিনি কাজ করবেন।


কমিটির সব সদস্যই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নবগঠিত কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। মুখ্য আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। এছাড়াও নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি উপস্থিত ছিলেন। 


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, "দেশে জলবায়ু ও কৃষি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এখনও তুলনামূলকভাবে কম এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নও সহজে পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য ও বন্যার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান"।


মুখ্য আলোচক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নোবিপ্রবির এ প্রকল্পটি দেখেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালককে উৎসাহিত করেছেন।”


তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমানে আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনই জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন এবং আধুনিক, অভিযোজন সক্ষম কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না।


সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান  অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। 


সেমিনারে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে প্রকল্প পরিচালক জানান, "সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা ও এর বহুমাত্রিক প্রভাব, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মিটিগেশন ও অ্যাডাপটেশন কৌশল, মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে ভবিষ্যতে সয়াবিন ও বার্লি চাষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়"।


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জব কর্নারের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রসংগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনূর রহমান বরাবর  স্মারকলিপি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ২ টার দিকে স্মারকলিপিটি উপাচার্যের কাছে জমা দেন তারা।


স্মারকলিপিতে বলা হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জব কর্নারটি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়ে আসছে, দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে তীব্র স্থানসংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী আসন সংকটের কারণে পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সংকীর্ণ পরিবেশে গাদাগাদি করে পড়াশোনা করতে হচ্ছে, যা একটি স্বাস্থ্যকর ও মনোযোগী শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। সেই ধারাবাহিকতায় দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যের সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।


স্মারকলিপিতে তারা ৭ টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: জব কর্নারের জন্য আরও একটি রিডিং রুম সংযোজন করা; শুক্রবারে জব কর্নার খোলা রাখার ব্যবস্থা করা;‎ ‎আবাসিক হলসমূহের ছুটির সঙ্গে জব কর্নারের ছুটির সামজস্য বিধান করা; উচ্চগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা; ‎রিডিং রুমে পর্যান্ত ডেস্ক ও উপযুক্ত আসবাবপত্র সংযোজন করা; নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা; জব কর্নারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন করা।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:০১ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হকৃবি) উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্যের অনুমোদনক্রমে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তাঁকে চার বছরের জন্য উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ মেয়াদকালে তাঁর চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হলে সেদিন পর্যন্তই তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি ও বিধি অনুসারে এবং উপাচার্য কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য এ নিয়োগাদেশ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র কৃষি অর্থনীতি, এগ্রিবিজনেস ও কৃষি বিপণন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং দেশি-বিদেশি সাময়িকীতে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।