দি ইন্সটিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)- এর ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬-এ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম সমর্থিত এনায়েত–সুমায়েল–নিক্সন পরিষদ (জিজি প্যানেল) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, সহ-সভাপতি পদে ইঞ্জি. মিঞা মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম (পলাশ), ইঞ্জি. মোহাম্মদ শাহিনুল হক ও ইঞ্জি. মো. আব্দুস সালাম বিজয়ী হন। এছাড়া অন্যান্যসম্পাদকীয় পদ এবং নির্বাহী সদস্য পদে জিজি প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে পূর্ণ প্যানেল বিজয়ের গৌরব অর্জন করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৬০০ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৬৯০ জন ভোট প্রদান করেছে। যা মোট ভোটারের প্রায় ৬৫ শতাংশ। ভোটগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে চারটি বুথ স্থাপন করা হয়। দিনব্যাপী সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সভাপতি পদে ১ হাজার ৪০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. আ. ন. ম. আহমেদ উল্লাহ পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। সহ-সভাপতি পদে ইঞ্জি. মিঞা মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম (পলাশ) ১ হাজার ৩৩৩ ভোট, ইঞ্জি. মোহাম্মদ শাহিনুল হক ১ হাজার ৩১৭ ভোট এবং ইঞ্জি. মো. আব্দুস সালাম ১ হাজার ১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব পদে ইঞ্জি. মো. সাজেদুল হক শালুক ও ইঞ্জি. রেজাউল করিম (রেজা), সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মোহাম্মদ মইদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ পদে ইঞ্জি. মো. জাহিদুর রহমান (আনিস), শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. ফয়সাল হোসেন, সহ শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক পদে ইঞ্জি. তাসবিদুল ইসলাম দিপু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ইঞ্জি. চন্দ্র শেখর দাশ, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. এ.এস.এম. আসিক ইসতিয়াক, সহ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. জহিরুল ইসলাম, নিয়োগ ও বিনিয়োগ বিষয়ক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. আরিফুর রহমান খান (জিসান), সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. আরফান আলী পিকে, সহ সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. মাহমুদুল ইসলাম সাদ্দাম, দপ্তর সম্পাদক পদে ইঞ্জি. মো. ফারুকুল ইসলাম জনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে ইঞ্জি. পৃথ্বিলা কামাল এবং নির্বাহী সদস্য পদে ইঞ্জি. মো. শরীফুল আমিন, ইঞ্জি. মো. সাইদুর রহমান (রবিন), ইঞ্জি. মো. খালিদুল ইসলাম (মিথুন), ইঞ্জি. মঞ্জুস সাত্তার মো. রাসেল ও ইঞ্জি. মুহাম্মদ উল্লাহ-আল ফেসানী নির্বাচিত হয়েছেন।
বিজয়ী হওয়ার পর নবনির্বাচিত সভাপতি ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “আজকের এই দিনের জন্য আমরা অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করেছিলাম। আইটিইটির নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। এত সুন্দরভাবে নির্বাচন আয়োজন করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনারসহ সার্বিকভাবে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন আইটিইটির পূর্ণ প্যানেল হিসেবে আমরা জয়লাভ করেছি। ফলে আমাদের দায়িত্বও অনেক বেড়ে গেছে। আপনাদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। আগামী দিনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আইটিইটিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো।”
পরাজিত ইউসি প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. আ. ন. ম. আহমেদ উল্লাহ বলেন, “আমি আমার ছোট ভাই এনায়েতকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা সবাই একই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার পরিবারের সদস্য। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করছি। আগামী দিনেও আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য হিসেবে আইটিইটির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।”
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “প্রথমত আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন জানাই যারা নির্বাচিত হয়েছেন। আইটিইটির নির্বাচনটি আমরা সুষ্ঠুভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পেরেছি। আপনারা বিগত সময়ে দেখেছেন অনেক সময় সারারাত পেরিয়েও ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন সেই দোয়া করি। সবশেষে বলবো, যারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং যারা নির্বাচিত হতে পারেননি—সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন।"
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ফেল থেকে পাশ করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। খাতা পুনঃনিরীক্ষণের পর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। আর জিপিএ বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠানো হবে।
কোন বোর্ডে কতজন নতুন করে জিপিএ-৫
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৬ জন শিক্ষার্থী।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭৭ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৫ জন।
এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২০৭ জন, যশোরে ১৮২ জন, সিলেটে ১২১ জন, বরিশালে ১১২ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৩ জন শিক্ষার্থী।
কোন বোর্ডে কতজন ফেল থেকে পাশ
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে।
ফেল থেকে পাসের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ৮৬৭ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যশোর বোর্ডে এ সংখ্যা ৩৮০ জন।
এ ছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৩৩৭ জন, কুমিল্লায় ৩৩৬ জন, চট্টগ্রামে ১৯০ জন, সিলেটে ১৮৬ জন, রাজশাহীতে ১১১ জন এবং বরিশালে ৭৯ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৫৫ জন এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এবার ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে।
যেভাবে জানা যাবে পুনঃনিরীক্ষণের ফল
আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তিনভাবে পুনঃনিরীক্ষণের ফল জানতে পারবে।
প্রথমত, নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখা যাবে।
দ্বিতীয়ত, সব শিক্ষা বোর্ডের পুনঃনিরীক্ষণের ফল নির্ধারিত ওয়েবসাইটে https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সেখান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
তৃতীয়ত, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের পাশাপাশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষা বোর্ড তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল দেখতে পারবেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলও বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও পুর্ননিরীক্ষণের ফল দেখা যাবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের অনুরোধ জানিয়েছে।
১২ লাখের বেশি উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়েছিল গত ১১ আগস্ট। আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুর্ননিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন।
একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পুর্ননিরীক্ষণের জন্য জমা পড়া উত্তরপত্রের সংখ্যা এক নয়।
তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। সব মিলিয়ে পুর্ননিরীক্ষণের আওতায় এসেছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র।
ঢাকায় আবেদন সবচেয়ে বেশি
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুর্ননিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
আজ সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের পর পুর্ননিরীক্ষণের আবেদনের কারণে কারও ফলাফলে পরিবর্তন এলে তা ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে।
বিশ্ব স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে ‘স্বাক্ষরতা অভিযান’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল মসজিদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস্থ ডরমেটরি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের শিশুদেরকে নাম ও ঠিকানা লেখা শেখানো হয়।
এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ খান ও সহকারি পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ খান বলেন, "আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে শিশুদের নিজের নাম লিখতে, স্বাক্ষর করতে এবং নিজ ঠিকানা লেখার প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে শিশুদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।"
উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বরও সংগঠনটি এ কর্মসূচি পালন করে।
নবগঠিত শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা সকলের ছাত্রত্ব বাতিল দাবি জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩ টার দিকে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণে দেশীয় অস্ত্র, মব কালচার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও পদযাত্রায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, "২৪-এর জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগ হাজারো শহীদের রক্ত ঝরিয়েছে। ক্যাম্পাসের অরাজক পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ছাত্রলীগ কমিটি দিয়েছে। ছাত্রলীগের কোনো পদচিহ্ন আমরা এই ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। এজন্য ক্যাম্পাস প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।"
এ সময় ইবি শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দীন বলেন, "ক্যাম্পাসে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ তাদের নতুন কমিটি প্রকাশ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। যদি ছাত্রলীগ কোনো ধরনের দুষ্কর্ম বা কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে, তবে জুলাইয়ের ঐক্যের শক্তিতে বিশ্বাসী সকল ছাত্র সংগঠন-ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি এবং অন্যান্য সব প্রগতিশীল সংগঠন একজোট হয়ে তাদেরকে কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।"
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকট দূর করতে এবং টিউশন মিডিয়ার নামে প্রতারণা ও শোষণ থেকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ‘জেএনইউ ফ্রি টিউশন মিডিয়া’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তামাসুল ইসলাম সোহানের উদ্যোগে এই শিক্ষার্থীবান্ধব সেবাটি চালু হয়।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. গিয়াসউদ্দিন নিজে উপস্থিত থেকে এই ‘জেএনইউ ফ্রি টিউশন মিডিয়া’ প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন ও শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনকালে ছাত্রদল নেতা তামাসুল ইসলাম সোহান শিক্ষার্থীদের বর্তমান নানা সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম সংকটময় বিদ্যাপীঠগুলোর একটি। এখানকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত তীব্র আবাসন সংকট, ডাইনিংয়ের খাবার সংকট এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত জায়গার সংকটে জর্জরিত। এই নানামুখী প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু অসাধু ও সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। তারা বাণিজ্যিক টিউশন মিডিয়া খুলে টিউশন দেওয়ার নামে অসহায় ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উচ্চ হারে মিডিয়া ফি আদায় করে প্রতারণা করে আসছে।”
তিনি তাঁর প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, “আমি সবসময় এই অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চাই এবং তাঁদের প্রকৃত সাহায্য করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি করে হলেও টিউশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।”
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই সিন্ডিকেট ও টিউশন মিডিয়া চক্রকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি ‘ফ্রি টিউশন মিডিয়া’ প্ল্যাটফর্মটিকে কার্যকর করতে টিউশনের তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থী যদি স্বেচ্ছায় এই প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনায় যুক্ত হয়ে কাজ করতে আগ্রহী হন, তবে সেটিকে স্বাগত জানানো হবে এবং এটি তাঁদের জন্য একটি দারুণ সুযোগ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম আবর্তনের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন আজাদ আলিফসহ এই ফ্রি টিউশন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ইতিমধ্যে টিউশন পেয়ে উপকৃত হওয়া বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলেন, “তামাসুল ভাইয়ের এই উদ্যোগটি সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। টিউশন মিডিয়াগুলোর অতিরিক্ত ফি'র কারণে আমরা যখন টিউশন পাচ্ছিলাম না, তখন এই ফ্রি প্ল্যাটফর্মটি আমাদের অনেক বড় উপকারে এসেছে। আমরা আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যই এই উদ্যোগটি ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে এবং অত্যন্ত কল্যাণকর ও উপকারী প্রমাণিত হবে।”
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নবনিযুক্ত ২৭তম উপাচার্য এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারকে সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর আমীনুল হক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নবনিযুক্ত উপাচার্যকে পৃথকভাবে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। এছাড়া মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলামসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দ নতুন উপাচার্যকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আবেগঘন বক্তব্য প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন এবং ফিশারিজ কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য আমাদেরই অনুষদের শিক্ষক বিষয়টি যেমন গর্বের, তেমনি আনন্দের। অনেকেই বলে থাকেন, আমরা ফিশারিজ ফ্যাকাল্টির সদস্যরা সবসময় 'মাছের ঝাঁক' বা ফিশ স্কুলের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকি। আমাদের অনুষদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য যেন ভবিষ্যতেও অটুট থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নে আমরা আমাদের উপাচার্যকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করব।'
অনুভূতির প্রকাশে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, 'নতুন এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের শিক্ষকবৃন্দ যেসব যৌক্তিক দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন তা নিয়ে কাজ করার চিন্তা আছে। অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের পাশাপাশি অনুষদের সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি। নতুন দায়িত্বটি পুরোপুরি বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও ভাবমূর্তি উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।'