মাতৃত্বকালীন ছুটি না থাকায় ভোগান্তিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ এএম

একদিকে মাতৃত্বের দায়িত্ব, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে কঠিন সময় পার করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অনেক নারী শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি বা বিশেষ একাডেমিক সুবিধার কোনো নীতিমালা না থাকায় সন্তান জন্মদানের পরও ক্লাস, ইনকোর্স ও সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে অনেকেই সেমিস্টার ড্রপ দিচ্ছেন, আবার কেউ পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষাজীবনে।


সন্তান জন্মের পর চিকিৎসকের পরামর্শ থাকে অন্তত তিন মাস বিশ্রামে থাকার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে সেই বিশ্রামের কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ে ক্লাসে উপস্থিতি, পরীক্ষা ও মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতার কারণে মাতৃত্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়েও অনেক নারী শিক্ষার্থীকে নবজাতক সন্তান এবং শিক্ষাজীবনের মধ্যে কঠিন এক সমীকরণ মেলাতে হচ্ছে। স্পষ্ট নীতিমালার অভাবে কেউ হারাচ্ছেন একটি সেমিস্টার, কেউবা পিছিয়ে পড়ছেন পুরো একটি বছর।


সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ও বিশেষ একাডেমিক সুবিধার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো এ ধরনের কোনো নীতিমালা না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা ও সদ্য মা হওয়া শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।


অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান পুরো গর্ভাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছিলেন। হলের খাবার তাঁর জন্য উপযোগী না হওয়ায় বাসা থেকে রান্না করা খাবার কয়েক দিনের জন্য একসঙ্গে নিয়ে আসতেন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত ক্লাস করেছেন।


তিনি বলেন, "শেষ দিকে একটি পরীক্ষা দিতে পারিনি। এখন সন্তান হওয়ার পর তাকে নিয়েই থাকতে হয়। ঈদের ছুটির পর সেমিস্টার শুরু হলেও এখনো ক্লাসে যেতে পারিনি। ডেলিভারির পর শরীর এতটাই দুর্বল থাকে যে এই অবস্থায় ক্লাস করা একজন সদ্য মায়ের পক্ষে সম্ভব নয়।"


ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা আফরিন বলেন, "সন্তান জন্মের পরও দুর্বল শরীর নিয়ে ক্লাস করতে হয়েছে। গর্ভাবস্থায়ও নিয়মিত ক্লাস করেছি। সবার সাথে মিডটার্মে অংশ নিতে পারি নি, পরে একা দিতে হয়েছে। এই কষ্ট একজন সদ্য মা হওয়া শিক্ষার্থীই অনুভব করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেবি কেয়ার সিস্টেম চালু করা জরুরি।"


বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী উপমা রানী বৃষ্টিও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তিনি বলেন, "গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রয়োজন হলেও হলের খাবার তাঁর জন্য উপযোগী নয়। পাঁচতলা সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামাও আমার জন্য কষ্টকর। চিকিৎসক বেশি চলাফেরা কিংবা ভ্রমণ করতে নিষেধ করলেও উপস্থিতির বাধ্যবাধকতার কারণে নিয়মিত ক্লাসে যেতে হচ্ছে। ৬০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা কোনো ধরনের ছাড় দিতে চান না। 


তিনি আরো বলেন, "সেমিস্টারের সময় ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি না, সেমিস্টার খারাপ হয়। পরে জুনিয়রদের সাথে ইনপ্রুভ দিতে হয়। অক্টোবরে আমাদের সেমিস্টার আর ওইসময় আমার ডেলিভারি ডেইট। আমি বন্ধুদের ছেড়ে  জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করতে চাই না। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা হোক। আমার যেন ইয়ার লস না হয়।"


গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে হানি নাভিলার অভিজ্ঞতাও এ সংকটেরই প্রতিফলন। সন্তান জন্মদানের সম্ভাব্য সময় দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। মাতৃত্বকালীন ছুটি না থাকায় আমি তখন সেমিস্টারে বসতে পারি নি।ফলে বাধ্য হয়ে এক বছর ড্রপ দিয়ে জুনিয়রদের সঙ্গে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন।


নাভিলা আরো  বলেন, “সঠিক তথ্য ও সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় আমার শিক্ষাজীবনের একটি বছর নষ্ট হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।”


একই বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুমা জান্নাত বলেন, গর্ভাবস্থায় বিভাগের শিক্ষকরা সহযোগিতা করলেও সন্তান জন্মের পর বাস্তবতা বদলে যায়। তিনি বলেন, "চিকিৎসক তিন মাস বিশ্রাম নিতে বলেছেন। কিন্তু তিন মাস বিশ্রাম নিলে সেমিস্টার মিস হয়ে যাবে। সিজারের পর দুর্বল শরীর নিয়ে ক্লাস করা অসম্ভব। অন্তত তিন মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং ক্যাম্পাসে একটি বেবি কেয়ার রুম থাকা উচিত।"


বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, "মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে গর্ভবতী শিক্ষার্থী ও অন্য শিক্ষার্থীদের কেউই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। একজন শিক্ষার্থীর জন্য পুরো সেমিস্টার পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রয়োজন।"


এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, "এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবি জানায়নি। দাবি এলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষকের কাছে আবেদন করে একাডেমিক সহায়তা চাইতে পারবেন। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।"


বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে মাতৃত্ব কোনো ব্যতিক্রম নয়, এটি জীবনেরই একটি স্বাভাবিক অধ্যায়। কিন্তু সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাবে অনেক নারী শিক্ষার্থীর কাছে মাতৃত্ব যেন হয়ে উঠছে শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের প্রত্যাশা, এমন একটি মানবিক ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক, যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে আর সন্তান ও শিক্ষাজীবনের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে না হয়।





  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মাঝে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঘটনায় দুইপক্ষের মাঝে সমঝোতা হয়েছে। 


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে আলোচনা বসেন। পরে দুইদলের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এ সমঝোতার কথা বলেন।


এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের সকল পদক্ষেপ সার্বিক সহযোগিতা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মসূচি ঘোষণা করলে সংঘর্ষের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এবং ১৪৪ ধারা জারিরও আবেদন জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় আসলে কর্মসূচি স্থগিত রাখে উভয় দল।


শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, গত ৫ তারিখে জিয়া হলে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং তার জেরে ক্যাম্পাসের তৈরি হওয়া থমথমে পরিবেশ আমরা নিজেদের মধ্যে বসে সমাধান করেছি। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ক্যাম্পাসের গেট সংলগ্ন ও বাইরের এলাকাগুলোতে এখনো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা আবারও বৈঠকে বসেছি। আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বা কেউ তা করার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে পদক্ষেপ নেবে, তাতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, বহিরাগত কোনো সমস্যা রোধে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদেরও সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করব।


শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর তৈরি না হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বদা সতর্ক ও সচেষ্ট থাকবে। আমরা সবসময় একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসের পক্ষে। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলাই ছাত্রদলের মূল অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখেই শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়া নির্বিঘ্নে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে ছাত্রদল অতীতেও কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব।


প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাডেমিক পরিবেশ বা ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করতেছে। ইতিমধ্যেই আমরা হচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল, এদের সাথে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করে ওরা কিন্তু ওদের মতো করে সমঝোতা করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ক্লাস, পরীক্ষা, ছাত্ররা সবকিছু একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেছে। 


কুষ্টিয়ার সার্কেল অফিসার মাহমুদুল হক মজুমদার বলেন, উভয় পক্ষের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তাঁরা সবাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার স্যারের নেতৃত্বে আমরাও ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমাদের স্পষ্ট বার্তা হলো- এর মধ্যে যদি কেউ ক্যাম্পাসের ভেতরে বা বাইরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে জেলা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলিনুর রহমান কর্তৃক ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৮ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক ও মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিভিন্ন বিভাগের ৩৩ পদে  প্রভাষক, ১ পদে সহকারী অধ্যাপক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ১ পদে মেডিক্যাল অফিসার  নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। 


রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও মার্কেটিং বিভাগে তিনজন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।


একই সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে দুজন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।


এ ছাড়া লোক প্রশাসন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি, ফাইন আর্টস, ইংরেজি এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একজন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।


এর পাশাপাশি, ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হবে। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার (সাইকিয়াট্রিক) পদে একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।


প্রভাষক পদে বেতন স্কেল ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯), সহকারী অধ্যাপক পদে ৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা (গ্রেড-৬) এবং মেডিক্যাল অফিসার (সাইকিয়াট্রিক) পদে ২৩,০০০-৫৫,৪৬০ টাকা (গ্রেড-৮) নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীদের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার পদে আবেদনকারীর কোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি থাকতে হবে।


আবেদন ফরম, নিয়োগের শর্তাবলি ও প্রয়োজনীয় তথ্য অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, কুষ্টিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে ইবির রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছাতে হবে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ পিএম

ভর্তি পরীক্ষার সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় শিক্ষার্থীদের। কোথায় কখন পরীক্ষা, কোন বিষয়ে কত নম্বর, নেগেটিভ মার্কিং কত, আবেদন কখন শুরু ও শেষ, আবেদন ফি কত কিংবা ফলাফল কোথায় প্রকাশ হয়েছে- এসব তথ্য জানতে গিয়ে সময় অপচয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতেও পড়তে হয় ভর্তি-ইচ্ছুকদের।


শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি কমিয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন সহায়ক সেবা একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম তালুকদার। তাঁর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম 'অ্যাডমিশন হাব'। ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন।


প্ল্যাটফর্মটিতে পরীক্ষার সময়, তথ্য, আবেদন, অ্যাডমিট, ফলাফল, সাবজেক্ট রিভিউ এবং ভর্তি ব্লগ ও গাইড এই মোট ৭ টি প্রধান সুবিধা থাকছে। সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়, কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে এবং নেগেটিভ মার্কিং কত- এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আবেদনের শুরুর ও শেষ তারিখ, বিভিন্ন বিভাগ বা ইউনিটের আবেদন ফি এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখার সুযোগ রয়েছে। অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের সময়সীমা জানা যাবে এবং সেটি ডাউনলোড করেও নেওয়া যাবে।


ভর্তি পরীক্ষার পর ফলাফল দেখার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে যেতে হবে না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল এক জায়গায় দেখার সুবিধা রাখা হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে।


'অ্যাডমিশন হাব'-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো 'সাবজেক্ট রিভিউ'। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিগ্রি ও বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। কোনো বিষয়ে কী পড়ানো হয়, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষয় পড়ানো হয়, আসন সংখ্যা কত এবং ওই বিষয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে- এসব তথ্যও পাওয়া যাবে এখানে।


ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য 'অ্যাডমিশন হাব'- এ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিটভিত্তিক ভর্তি গাইড। এসব গাইডে ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন, আবেদনের প্রয়োজনীয় লিংক এবং প্রস্তুতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুষদভেদে ভর্তি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদাভাবে সাজানো থাকায় শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহজেই ধারণা নিতে পারবেন।


ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি সহায়ক সুবিধাও রাখা হয়েছে। আবেদন করার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ছবি ও স্বাক্ষরের আকার নির্ধারিত মাপে পরিবর্তন করার সুবিধা রয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাসের রুট ও ভাড়ার তথ্য, চলন্ত ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও বিলম্বের তথ্য, মেট্রোরেলের ভাড়ার তালিকা, সময়সূচি ও স্টেশনসংক্রান্ত তথ্য এবং ট্রেনের সময়সূচিও পাওয়া যাবে প্ল্যাটফর্মটিতে। এছাড়া কৃষি গুচ্ছে আবেদন করার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী তার এসএসসি ও এইচএসসির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জিপিএ অনুযায়ী আবেদন করার জন্য যোগ্য কি না, তা যাচাই করতে পারবেন কৃষি গুচ্ছ জিপিএ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে।


নতুন এ উদ্যোগটি নিয়ে মো. জাহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় একজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ঘুরে ঘুরে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে হয়। আমিও শিক্ষার্থী হিসেবে এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা আসে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী এক জায়গা থেকেই দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পেতে পারে।


তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট কমানো এবং সঠিক ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মটিতে আরও বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


প্ল্যাটফর্মটির পাশাপাশি বর্তমানে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজও চলছে। তবে অ্যাপটি এখনো চালু হয়নি; কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে এটি চালু করা হবে।


'অ্যাডমিশন হাব' ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করা যাবে admission.talukdaracademy.com.bd ঠিকানায়।


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫২ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আমির হোসেন অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করেন, বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হওয়ায় তিনি তার দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে ইচ্ছুক। 


গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী আমির হোসেন ও অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীর (অন্তু, হাসান, রিয়াদ) স্বাক্ষরিত একটি আপসনামা প্রক্টর বরাবর জমা দেওয়া হয়। তবে সেদিন প্রক্টর অফিসের কার্যসময়ের সমাপ্তি হওয়ায় সেটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে আজ রোববার প্রক্টর আনুষ্ঠানিকভাবে আপসনামাটি গ্রহণ করেন।


জানা যায়, গত ২০ আগস্ট কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে তিনি একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার সার্থক রিয়াদের বিরুদ্ধে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন।


পরবর্তীতে অভিযোগপত্রের সঙ্গে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আপসনামা জমা দেওয়া হয়। আপসনামায় অভিযোগকারী আমির হোসেন উল্লেখ করেন, ‘আমি উক্ত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমার আচরণের কারণে অন্তু ভাই, রিয়াদ ভাই ও হাসান ভাই যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’


আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের কেউ পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ, হয়রানি, হুমকি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে শিক্ষক ও বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।'



অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি আমির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাদের বিভাগীয় প্রধানের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ একসাথে বসে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেছি।যেহেতু একই বিভাগের সিনিয়র জুনিয়রের ঘটনা তাই আমি আর এই বিষয়টিকে বড় করতে চাচ্ছিনা। প্রক্টর বরাবর করা অভিযোগপত্রটি প্রত্যাহারের জন্যও আমি আবেদন করেছি।"



এই ব্যাপারে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, "অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আমির হোসেন আমার একই বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিভাগের শ্রদ্ধেয় বিভাগীয় প্রধান এবং ছাত্র উপদেষ্টা মহোদয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তাঁদের নির্দেশনায় বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র উপদেষ্টা এবং সিনিয়রদের উপস্থিতিতে আমরা একটি আলোচনা সভায় বসি।


উক্ত আলোচনায় আমির হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে নেয়। সে স্বীকার করে যে, পূর্বে তার বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছিল। একই সাথে সে তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তার একাডেমিক জীবন যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে কথা চিন্তা করে আমরা বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে আপোসে সম্মত হই।"


জিডি তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অন্তু দাশ বলেন, "আমি দায়িত্বরত পুলিশ অফিসারকে আমাদের মধ্যকার আপোসের সিদ্ধান্তটি জানিয়েছি। তবে, আমি এই মুহূর্তে জিডি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি না। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য আমি আরও কিছু সময় নিতে চাই। ভবিষ্যতে যখন আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করব, তখন জিডিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেব।"


অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, "এই ঘটনায় দুই পক্ষের একসাথে বসে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার প্রেক্ষিতে উভয়ে একমত পোষণ করেছে যে, পালটা পালটি অভিযোগ না করে নিজেদের মাধ্যমেই বিষয়টা সমাধান করা যেত। এবং সেই অনুযায়ী তারা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছে।"


প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘তাদের আবেদনপত্র আমি পেয়েছি। উভয়পক্ষই আপসনামা জমা দিয়েছে। তারা নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ করা হলে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা তারা মেনে নেবে।’


উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট বিজয়-২৪ হলে আমির হোসেন তার বিভাগের তিন সিনিয়রের রিরুদ্ধে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এনে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন।


চা-পান বিক্রি করা সাদ্দাম

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেটের সামনে চা-পান বিক্রি করা সাদ্দাম নামে ৮-০ বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নামাজ পড়তে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার।


পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকেই সাদ্দাম নিখোঁজ। পরে পরিবারের সদস্যরা পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।


পরিবারের দাবি, একটি সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, সাদ্দামকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের আশপাশে দেখা গেছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।


নিখোঁজ সাদ্দামের পরিচিতি: আনুমানিক বয়স ৮-১০ বছর, গায়ের রং ফর্সা ও শারীরিক হেংলা। সর্বশেষ তাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের আশপাশে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।


সাদ্দামের পারিবারিক জীবনও দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে কাটছে। তার বাবা অনেক আগেই তাকে ও তার পরিবারকে ছেড়ে চলে গেছেন। মা ও প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে সংগ্রাম করে আসছে পরিবারটি। জীবিকার তাগিদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের সামনে চা-পান বিক্রি করত সাদ্দাম।


এর আগে সাদ্দাম ও তার পরিবারের অসহায়ত্ব নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রনেতা তার পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। এরপর থেকেই দ্বিতীয় গেটের সামনে ছোট একটি দোকান করে চা-পান বিক্রি করছিল সাদ্দাম।


সাদ্দামের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন তার পরিবার। তার মা বলেন, “আমার এই সাদ্দাম ছাড়া কেউ নাই পৃথিবীতে। ওরে না পাইলে আমার পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে।”


সাদ্দামের সন্ধান পেলে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। ছবিতে থাকা শিশুটিকে কেউ দেখে থাকলে দ্রুত তার পরিবার বা সংশ্লিষ্টদের জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।


জবি ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে (ছবি-সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় র‍্যাবের সদস্যরা। রোববার সকালে কলতাবাজার এলাকার ওই মেসে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন।


ঘটনাটির বিষয়ে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে আসেন। র‍্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে আরও র‍্যাব সদস্য আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।


এ বিষয়ে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি এবং শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলি। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।


তিনি বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি আইন অনুযায়ী তদন্ত হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, সকালে একজন শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে মেসে র‍্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান এবং এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।


তিনি বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অধ্যাপক তারেক বিন আতিক জানান, পরে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চুরির মামলার কথা বলা হলেও মামলার বিস্তারিত তাদের জানানো হয়নি। 


তারেক বিন আতিকের দাবি, শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে মামলাটি হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি। বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকেও জানানো হয়।


এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে যারা এসেছিল, তারা র‍্যাবের সদস্য ছিল এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরে আমরা জানতে পারি, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলা। পরে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়ে তারা চলে যায়।


মামলাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ওসি আনোয়ার বলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন এবং পরে কথা বলবেন। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।


ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।