জমির দলিল-খাজনা-খারিজ সব থাকার পরও ১২ বছর ধরে বসবাসকারী পরিবারটিকে উচ্ছেদের চেষ্টা। অভিযোগ দিয়েও থানায় মিলছে না প্রতিকার, উল্টো ভুক্তভোগীকেই ‘আসামির স্ত্রী’ বলে দায় এড়াচ্ছেন ওসি।
নিজের কষ্টের টাকায় কেনা জমি, নিজের গড়া বসতবাড়ি। অথচ সেই বাড়িতেই এখন রাত কাটাতে ভয় পান সামছুন নাহার। স্বামী প্রবাসী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে শাহীন দেশের বাইরে। দুই সন্তান আর শাশুড়িকে নিয়ে রংপুর মহানগরীর তাজহাটের আশরতপুরে একাই লড়ছেন তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে প্রতিপক্ষ আকবর ও আকরাম গংয়ের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ জানাতে গিয়ে বারবার থানার দরজায় ঘুরেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং ওসির মুখে শুনতে হয়েছে, “আপনারা তো আসামির পক্ষের লোক।”
১২ বছরের বসবাস, তবুও ‘ভুয়া মালিক’ তকমা
সামছুন নাহার জানান, তাজহাট মৌজার জে.এল নং ৯৭, দাগ নং ৬৯৬ এর ১৭.৫ শতক জমি স্বামীর প্রবাসের আয় দিয়ে কেনা। দলিল হয়েছে, খাজনা-খারিজ করে নামজারিও করা হয়েছে। জমিতে রয়েছে বসতবাড়ি, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ ও পুকুর। বিগত ১২-১৩ বছর ধরে সুনামের সাথে এখানেই সংসার ও ব্যবসা চালাচ্ছেন তারা।
কিন্তু প্রতিপক্ষ মোঃ আকবর ও মোঃ আকরাম, পিতা মৃত খলিল, সাং আলমনগর, ১৯৬২ সালের রেকর্ড মূলে মালিকানা দাবি করে আদালতে ৫০/২৫ নং মামলা চালাচ্ছেন। সেই মামলাকেই ঢাল বানিয়ে বারবার হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিপক্ষরা আল আরাফাহ ব্যাংক, মৌলভীবাজার শাখায় জমি মর্গেজ রেখে ৩১/১০/২০১৮ পর্যন্ত ৯ কোটি ২ লক্ষ ৫ হাজার ৪৫০ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক পরবর্তীতে জমিতে সাইনবোর্ডও লাগিয়েছে। অথচ মেট্রোপলিটন কমিশনার কার্যালয় থেকে ২৬/০১/২০২০ তারিখের চিঠিতে তাদের বসতবাড়ীর ৬৯৬ দাগে কোনো অধিগ্রহণের কথা নেই।
রাতের আঁধারে হামলা, সিসি ক্যামেরাও রেহাই পায়নি
সামছুন নাহারের ভাষ্য, গত ২৬/০৮/২০২৬ ইং রাত ১.৩০ মিনিটে আসামিরা বাড়ির নৈশ প্রহরীকে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে বেদম মারপিট করে। হুমকি দেয়, “আর কখনো গ্যারেজ ও বসতবাড়ীর আশেপাশে দেখলে হাত-পা ভেঙে দেব।
পরদিন ২৭ আগস্ট সকাল ১২.১৫ মিনিটে এবং রাত ৯.০৫ মিনিটে দুই দফায় বাড়ি ও গ্যারেজের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। ৩০/০৮/২০২৬ ইং বিকেল ৪.৪০ মিনিটে ইট নিক্ষেপ করে ভেন্টিলেটরের ক্যামেরাও ভেঙে ফেলা হয়। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত আছে।
সবচেয়ে আতঙ্কের ঘটনা ঘটে গতকাল রাতে। সামছুন নাহার বলেন, “রাত ৯ টার দিকে তারা আবার হামলা করে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেট লাগিয়ে দেই। ৯৯৯ এ ফোন করলে দুইজন পুলিশ আসে।”
পুলিশ আসার পরও হামলাকারীরা তার ছেলের সাইকেল, কয়েকটি চেয়ার এবং হাঁস-মুরগির ঘর ভেঙে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপরেও চড়াও হয় আকরাম ও তার ছেলে আদনান গং।
থানায় গিয়ে মিলল অবহেলা, ওসির ‘পক্ষপাত’
এ নিয়ে তাজহাট থানায় একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে সিআর-১৪৫/২০২৩ নং মামলা করেছিলেন। ১৬/০৬/২০২৩ তারিখে পুলিশ কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জী নোটিশ দিয়ে যাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পরই আবার হামলা হয়। ১৪/০৭/২০২৬ তারিখে জিডি নং-৬৪৩ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সামছুন নাহারের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ ওসি রফিকের ভূমিকা নিয়ে। তার অভিযোগ, ওসি তাকে সরাসরি বলেন, “একজন ফ্যাসিস্ট ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মানিক হত্যা মামলার আসামির পক্ষে আপনারা আসছেন।”
ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোনোদিন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির ট্যাগ দিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মানিক হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। মামলায় স্বামীর নাম ঠিক থাকলেও বাবার নাম ও ঠিকানার সাথে কোনো মিল নেই। এরপরও পুলিশ তাকে খুঁজছে। সেই ভয়ে সে পলাতক।”
“স্বামী পলাতক বলে কি আমরা নিরাপত্তা পাব না? আমরা কি এই দেশের নাগরিক না? আমার দুইটা ছোট বাচ্চা আছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন আবার হামলা হয় সেই আতঙ্কে থাকি,” বলেন তিনি।
ওসি রফিক পরে বলেন, “আমার ছুটির অর্ডার হয়েছে। আপনারা অভিযোগ দেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।” এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়দের প্রশ্ন: আইন কার জন্য?
স্থানীয়রা বলছেন, “যেখানে দলিল আছে, খারিজ আছে, খাজনা দেওয়া আছে, সেখানে মালিক ভুয়া হয় কিভাবে? আদালতের রায় থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট-কমিশন নিয়ে উচ্ছেদ করুক। নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবে কেন?”
তাদের অভিযোগ, আদনান এলাকায় নেশাগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত। প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে সে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। সাক্ষী হিসেবে রায়হান কবির, মিজানুর রহমান, সাহারা বেগমসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করেছেন সামছুন নাহার।
সুবিচারের অপেক্ষায় অসহায় পরিবার
স্বামী পলাতক থাকায় এখন সামছুন নাহার একাই দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনকার হামলা-ভাঙচুরে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে তাজহাট থানার ওসির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একটি পরিবার শুধু নিজের কেনা জমিতে শান্তিতে বাঁচার অধিকার চাইছে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপই এখন তাদের শেষ ভরসা।
রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের আলোচিত ও বিতর্কিত শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি একটি মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল হক।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে শাহিনুর বেগমকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ হাজির করা হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে বিচারক মো.আশিক-উজ-জামান আগামী রবিবার জামিনের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
শাহিনুর বেগমের গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীর অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় শাহিনুর বেগমসহ তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় শাহিনুর বেগমের সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বিরুদ্ধে শাহিনুর বেগমের করা মামলায় মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে শাহিনুর বেগম ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালালে তারা আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর চিকিৎসা শেষে অভিযুক্ত শাহিনুর বেগমের বোন সাবনাজ বেগম বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০২/২৬।
এবিষয়ে বাদিনীর আইনজীবী এডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, বাদিনী সাবনাজ বেগম কোতোয়ালি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে আসামি শাহিনুর বেগমকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে থানা পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত আগামী রবিবার জামিনের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।
ঝালকাঠির নলছিটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে (৪ সেপ্টেম্বর) রোজ শুক্রবার বিকাল ৪ টায় নলছিটি পৌর মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নলছিটি - ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টা, প্রধান ভক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, আরো জেলা এবং উপজেলার নেতৃবৃন্দু উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব মোঃ আনিচুর রহমান খান হেলাল।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তবে নেতাকর্মীরা বলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায় সমর্থকরা অংশ নেন।
টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
মিষ্টি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ফেস্টিভ্যালের কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, টাঙ্গাইলের পণ্য মানুষের মাঝে তুলে ধরা এবং এগুলো নিয়ে মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে সারাদেশের মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে গোপালপুরের একটি অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও চমচম নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি আনারসের কথাও বলেছিলেন। টাঙ্গাইলের এই চমচমকে কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব।’
চমচম শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে একদিকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়বে, অন্যদিকে এ শিল্পে মানুষের আগ্রহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে প্রান্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ির বিদেশে প্রচুর কদর রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে তাঁতিদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে যারা শাড়ি তৈরি করেন, তাদের স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। যে তাঁতিরা এই কাজ করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে একটি তাঁতি সমাবেশ করব। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এর আগে বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’- এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রতীকী ছবি
বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হান পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে এবার চট্টগ্রামের আলোচিত এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। চাঁদার টাকা না পেলে ওই ব্যবসায়ীর ছেলে, মেয়ে ও নাতির লাশ সড়কে পড়ে থাকবে এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ৩১ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর এলাকার ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরীকে একটি বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মাহফুজা রুনা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজ শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপে আমার স্বামীকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে ছেলে ও মেয়েকে মেরে ফেলবে। পুরো পরিবারের ক্ষতি করবে।
তিনি জিডিতে আরও বলেছেন, ‘টাকা না দিলে মোজাফফরনগরে তোমার সঙ্গে আমার লোক থাকবে। কোথায় যাচ্ছ, কী করছ, সব দেখবে আমাদের লোকজন। তোমার ছেলেকে নিয়ে আসব, মেরে ফেলব। আমি রায়হান, যা বলি তা করি। কালকের মধ্যে মেরে ফেলব। তোকে কে বাঁচায় আমি দেখব। কোনো সুপারিশে কাজ হবে না। তোমরা সব ভাই পুত-নাতির লাশ নিয়ে কূল পাবে না। মেয়ে যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে...হবে অনে।’
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘একের পর এক ফোন দিয়ে হুমকি দেয়। হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমরা ভয়ে আছি। হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি এখন কোন রাজনীতি করি না, ব্যবসা করি।’
বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বলেন, চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জিডি করা হয়েছে। পুলিশ জিাডর তদন্ত শুরু করেছে। কারা হুমকি দিয়েছে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ১১ আগস্ট নগরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের ফটকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলি করার আগে দুপুর ১২টার দিকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা পরিশোধের জন্য এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভবন মালিকের ছেলের কাছে অডিও বার্তা পাঠান সন্ত্রাসীরা। এরপর রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তারও আগে ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে একই চক্রের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, হুমকির শিকার ব্যবসায়ী মাকসুদের বিরুদ্ধে মোজাফফরনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া, জমিজমা নিয়ে বিরোধে জড়ানোসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রামে চিহিৃত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান (ছবি-সংগৃহীত)
চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর ওয়্যারলেস এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী ১৭ মামলার আসামি ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে (৪২) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। তার সমর্থকদের হামলায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয় খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়ি। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ওয়াকিল হোসেন তার বাসার ভেতরে থাকা গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পালিয়ে গেছেন। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ নগরের পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের মামলার ২ নম্বর আসামি ওয়াকিল হোসেন। গত দুই বছর ধরে খুলশী ও পাহাড়তলীর পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় কাটা, জমি দখল-পাল্টা দখল, মাদক বেচাকেনাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বারবার তার নাম জড়িয়েছে। তিনি স্থানীয় বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বেপরোয়া সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ড করে আসছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নগরের খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, কলেজ শিক্ষককে মারধর ও নির্যাতনের মামলার আসামি ওয়াকিল হোসেন। তার বিরুদ্ধে আগেও অস্ত্র মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানে যাই। পুলিশ ওয়্যারলেস এলাকায় যেতেই তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। বাসায় পৌঁছানোর আগেই ঘরের মধ্যে থাকা গোপন সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে পালিয়ে যায় ওয়াকিল হোসেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে গেলে তার সহযোগীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ককটেল সদৃশ্য বস্তু নিক্ষেপ করে। এ সময় খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাদের হামলায় ওসি আবদুর রহিমসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষায় পুলিশ ৩-৪টি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পালিয়ে যায় ওয়াকিল হোসেনের অনুসারীরা। পরে তার ওয়্যারলেস কলোনির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ভেতরে একটি গোপন সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, অভিযানের খবর পেয়ে ওই সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে আগেই সটকে পড়েন বগা। এ সময় মোবাইল ফোনে ও ভিডিও কলে পুলিশকে হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তিনি।
ওয়াকিল হোসেন নগরের ওয়্যারলেস কলোনির মোহাম্মদ জাবেদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত তিনি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে। ৮ জুন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলাজুড়ে। তাকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার সম্মতি রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে চলছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষ্যে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ভারী শিল্প কলকারখানা,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এছাড়া শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহরিয়ার কবির রতন বলেন, ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালু সহ আরও অনেকে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরেও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে বেকার সমস্যার সমাধানে আত্নকর্মসংস্থানের জন্য ভারী শিল্প কলকারখানা স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। আয়োজকরা বলছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের।
সচেতন নাগরিক মাসুদ হাসান পলাশ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।
তিনি বলেন, জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, বরং তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকেই মূল্যায়ন করা। তিনি কোনোভাবেই উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষ নন; দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়েই আজ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে মানুষ তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষেরই সম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।
সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা-সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঠাকুরগাঁওয়ের শিল্প কলকারখানা,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।