নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। মুখ্য আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। এছাড়াও নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, "দেশে জলবায়ু ও কৃষি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এখনও তুলনামূলকভাবে কম এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নও সহজে পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য ও বন্যার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান"।
মুখ্য আলোচক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নোবিপ্রবির এ প্রকল্পটি দেখেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালককে উৎসাহিত করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমানে আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনই জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন এবং আধুনিক, অভিযোজন সক্ষম কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না।
সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান।
সেমিনারে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে প্রকল্প পরিচালক জানান, "সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা ও এর বহুমাত্রিক প্রভাব, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মিটিগেশন ও অ্যাডাপটেশন কৌশল, মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে ভবিষ্যতে সয়াবিন ও বার্লি চাষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়"।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে কুবির উদ্ভাবনী প্রকল্প
গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে শিক্ষার্থীদের তৈরি তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (এমপি)। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে প্রদর্শিত তিনটি প্রকল্পই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উদ্ভাবন। এর মধ্যে শাকিরুল ইসলামের তৈরি স্মার্ট হুইলচেয়ার মুখের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে চলতে সক্ষম। হাত-পা অচল হলেও মুখের নড়াচড়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বনির্ভর চলাচল নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
রায়হান হোসেন রিফাতের উদ্ভাবিত ‘যুক্তি’ একটি বাংলাভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যা প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের ‘আমার প্রশ্ন’ (Amar Prosno) একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ওএমআর এবং ওএমআর প্রক্রিয়াকরণসহ ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের সমন্বয় করছেন ফোকাল পয়েন্ট ড. মাহমুদুল হাছান এবং সহ-ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মেহেদী হাসান।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. এম. শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের ফোকাল পয়েন্ট ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদুল হাছান বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে আমরা তিনটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করছি। মেলায় আগত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মাঝে আমাদের এই উদ্ভাবনগুলো বেশ আলোড়ন তুলেছে। তারা গবেষণাগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করার সময় সেটি দেশের কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে কি না, তা বিবেচনায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে।”
উল্লেখ্য, ‘ইনোভেট টু মার্কেট' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর নভোথিয়েটারে চলবে।
SelfGuard এর উদ্ভাবক ইফতেখার নাহিম
ডিজিটাল যুগে মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি হলো মনোযোগ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনবরত নোটিফিকেশন, রিলস, শর্ট ভিডিও এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে সেই মনোযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল আসক্তি দিন দিন বাড়ছে, যা তাদের পড়াশোনা, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার নাহিম তৈরি করেছেন সেল্ফগার্ড নামের একটি ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যাপ। অ্যাপটির নির্মাতার দাবি, এটি শুধু একটি অ্যাপ-ব্লকার নয়; বরং ব্যবহারকারীদের সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সুস্থ ডিজিটাল জীবনযাপন নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ।
সেল্ফগার্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, ব্যক্তিগতভাবে কাজ কিংবা কোডিংয়ের সময় বারবার ফোনের নোটিফিকেশন এসে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই অ্যাপটি তৈরির চিন্তা শুরু হয়। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এই সমস্যা কেবল তার একার নয়; বরং বর্তমান প্রজন্মের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফোকাস ও স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোতেই ব্যবহারকারীরা সহজে নিয়ম ভাঙতে পারেন। সেল্ফগার্ডের ক্ষেত্রে 'নো বাইপাস সিকিউরিটির' ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা কার্যকরভাবে বজায় রাখার চেষ্টা করে। নির্মাতার মতে, এটি ব্যবহারকারীদের আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।
অ্যাপটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাইভেসি ফার্স্ট নীতি। নির্মাতা জানান, বর্তমানে অনেক অ্যাপ বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারী তথ্য সংগ্রহ করে ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করে। তবে সেল্ফগার্ড এর ক্ষেত্রে ব্লক ফিল্টারিংসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়।
তার দাবি অনুযায়ী, অ্যাপটির অ্যাক্সেসিবিলিটি সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য শুধুমাত্র ডিভাইসের ভেতরে রিয়েল-টাইমে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং কোনো রিমোট সার্ভারে সংরক্ষণ বা প্রেরণ করা হয় না। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর ব্লক রুলস, কী-ওয়ার্ড, ফোকাস সেশন, স্ট্রিক এবং অন্যান্য তথ্য এসকিউএল সিফার এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়। এছাড়া অ্যাপটিতে কোনো থার্ড-পার্টি বিজ্ঞাপন বা ট্র্যাকিং অ্যানালিটিক্স সংযুক্ত করা হয়নি।
ইফতেখার নাহিম জানান, তিনি অ্যাপটির সাফল্য কেবল ডাউনলোড বা ইনস্টলের সংখ্যায় মূল্যায়ন করে না। বরং ব্যবহারকারীর স্ক্রিনটাইম কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করাকেই প্রকৃত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গুগল প্লে স্টোরেও অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। একাধিক রিভিউতে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, অ্যাপটি মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে সাহায্য করছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীও অ্যাপটিকে উপকারী বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট থেকে দূরে থেকে মনোযোগ ধরে রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। এ ছাড়া আরেকজন ব্যবহারকারী জানান, ডিভাইসে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ব্লক করতেও অ্যাপটি কার্যকরভাবে কাজ করছে। অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিটি রিভিউয়ের জবাবে ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং প্রতিক্রিয়াগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আগ্রহীরা চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.selfguardapp.android
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেল্ফগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ইফতেখার নাহিম বলেন, 'নিজের গোপনীয়তা শতভাগ সুরক্ষিত রেখে অ্যালগরিদমের হাত থেকে নিজের সময় ও স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যই সেল্ফগার্ড।'
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে সেল্ফগার্ড-কে একটি সাধারণ মোবাইল অ্যাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ের 'ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং মুভমেন্ট' এ পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কার এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদারের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী।
আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে এমন স্থানগুলো পরিষ্কার করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ক্যাম্পাসের সব অংশীজনকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখা গেলে মশার প্রজননস্থল কমানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিবেশও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হবে।
তারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়াও ছাত্রদলের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এমন কর্মসূচি জনসচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
তিনি বলেন, "একদিনে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।"
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ক্যাম্পাস নয়, নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশও পরিষ্কার রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়াও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার না চালিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, ইয়াসির আরাফাত, মনির হোসেন, রায়হান হোসেন অপু, আল আমিন সোহেল, রবিন মিয়া শাওন, মেহেদী হাসান এবং আহ্বায়ক সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয়, রাহাত হাসান, মেহেদী হাসান ইমন, মেহেদী হাসান সাগর, মনির হোসেন শান্ত, লিমন, মাসফফিক, মনির, মিঠু, রেদোয়ান রুবায়েত, নাইমুর, নাইম, সাইফুল, কামরুল, ইভান, আশরাফুল, আবু হুয়াইয়া, আকরাম, সৌরভ, সাব্বির, মালেক, রায়হান, মামুন, মিথীল, সিয়ামসহ সংগঠনটির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী।
এমসিজে নিউজের সিএনই ফরহাদ মিয়া কাউছার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নিজস্ব মিডিয়া প্লাটফর্ম এমসিজে নিউজ এর চিফ নিউজ এডিটর (সিএনই) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ মিয়া কাউছার।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এমসিজে নিউজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক সাংবাদিকতা চর্চার একটি নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসভিত্তিক সংবাদ, ফিচার, প্রতিবেদন ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করে বাস্তব সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
নবনিযুক্ত সিএনই ফরহাদ মিয়া কাউছার বলেন, "আমরা সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যা পড়ি তার বাস্তব প্রয়োগের জায়গা এমসিজে নিউজ। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে আমরা সাংবাদিকতা চর্চা করি। এমসিজে নিউজ একটি জনপ্রিয় মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এটার চিফ নিউজ এডিটর অর্থাৎ সিএনই'র দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য সম্মানের এবং ভালো লাগার বিষয়। বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়র সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমসিজে নিউজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।"
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বেলাল হুসাইন বলেন, "এমসিজে নিউজের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য নতুন সিএনই নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি দেশ বিদেশে বিভাগের ব্রান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশাকরি নতুন সিএনই ও তার টিম তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে এবং এমসিজে নিউজকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।"
অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হল প্রভোস্ট বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শাহ আজিজুর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবির।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এটিএম মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন হাউজ টিউটর সহযোগী অধ্যাপক মো. আনারুল ওহাব শাহিন।
স্মারকলিপিতে শাহ আজিজুর রহমান হলে দীর্ঘদিন পর সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রদানের পরও কার্যক্রম বিলম্বিতের অভিযোগ উল্লেখ করে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলে—অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ ও মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিতকরণ, স্থায়ী সিট বন্টন নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত সিট বরাদ্দ, হলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিতকরণ।
হল শাখা শিবির সভাপতি শাহ মো. মারুফ হাসান বলেন, "২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে হলে কোনো অ্যালোটমেন্ট দেওয়া হয়নি; বর্তমানে চলমান অ্যালোটমেন্টের সময়সীমাও ২০ আগস্ট থেকে বাড়িয়ে ২০ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে—তাহলে সিট বণ্টনে এত দীর্ঘসূত্রতা কেন? অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ন্যায্য আবাসন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।"
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এটিএম মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায় নি।
হাউজ টিউটর সহযোগী অধ্যাপক মো. আনারুল ওহাব বলেন,"প্রভোস্ট ছুটিতে আছেন। আমি স্মারকলিপি রিসিভ করেছি। প্রভোস্ট আসলে আমরা বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।"
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষকরা হলেন কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে.বি.এম. সাইফুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় ওই শিক্ষকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁরা সন্তোষজনক জবাব দেননি। পরে বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হলে তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মন্তব্য করতে রাজি হননি।