শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

বামপন্থী ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় সদস্যের কমিটিতে রাফিউর রহমান রুহানকে আহ্বায়ক এবং মীর আবির হোসেন ও মাহির আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।


রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শেকৃবি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী শাখার এক কর্মিসভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।


কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন মো. মারুফ  আল্লম, সাদ আহমেদ ও অরণ্যা সেন।


নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক রাফিউর রহমান রুহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল রাজনীতির একটি প্ল্যাটফর্মের শূন্যতা অনুভব করছিলাম। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষির সংকটে কথা বলা ও কাজ করা এবং টেকসই কৃষির নামে কৃষিকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দিয়ে মাটি ও কৃষককে জিম্মি করার প্রতিবাদের দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই যাত্রা।


তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল হলেও রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেই কর্তৃত্ববাদী কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বজায় আছে। প্রগতিশীল আন্দোলনই এসব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। মেহনতি কৃষক ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 




  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম


  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য এবং এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

‎মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েকটি ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে প্রকাশ্যে তাঁর সম্মানহানি করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

‎সমাবেশ শিক্ষার্থীরা সাইবার বুলিং ও মানহানির সঙ্গে জড়িত পেজগুলোর পরিচালকদের দ্রুত শনাক্ত করা,অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সাইবার পরিবেশ নিশ্চিত করা সহ পাচঁটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন।

‎শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।

‎আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থী ইসরাত সূচি বলেন"আজকে একজন নারী শিক্ষার্থীর সাথে যা ঘটেছে, কাল তা আমার সাথেও ঘটতে পারে। আমি একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, এবং প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি "।

‎পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব বাচ্চু  বলেন" আপনারা দেখেছেন গতকাল থেকে আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের, একজন নারী শিক্ষার্থীকে কিভাবে স্লাটসেইমিং বা তার চরিত্র হরনের চেষ্টা করা হচ্ছে যা নোবিপ্রবিয়ান হিসেবে আমাদের অত্যান্ত লজ্জার বিষয়। আমাদের বোনদেরকে মাদক এবং দেহব্যবসার সাথে তুলনা করে হয়ে যা খুবই জঘন্য অপরাধ।  আমরা প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি যাতে করে এরকম ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে। 

‎পরিসংখ্যান বিভাগের নারী শিক্ষার্থী  মার্জনা তাকওয়া বলেন" আমি একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, এবং প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি "।

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর  এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, "আমরা এ ব্যাপারে অবগত আছি এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি স্মারকলিপি  প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টিকে আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং আমি প্রো ভিসি স্যারের সাথে কথা বলেছি। যেহেতু আমাদের ভিসি স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কাজে বিশ্ববিদ্যালয় বাইরে আছেন। আগামীকাল তিনি আসবেন। আগামীকাল তিনি আসার পরে আমি, প্রো-ভিসি  স্যারসহ একসাথে ভিসি স্যারের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিব এ ব্যাপারে কি করা যায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুধারাম থানায় একটি  জিডি করা হয়েছে এবং আশা করি তারাও এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করবে।"


‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.  মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের একটি অংশ  আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। আমরা এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি এবং সুধারাম  থানার এসপির সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে তিনি আমাদের এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা পুরো ঘটনা জানার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

‎উল্লেখ্য যে,  NSTU Outsider সহ আরো কয়েক পেজ থেকে একটা ভিডিও প্রকাশ করে নোবিপ্রবি নারী শিক্ষার্থীর নামে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে।

‎এর প্রতিবাদে আজ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন। রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির ১, ২ ও ৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। 


এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য ড. এ কে মতিনুর রহমান , উপ-উপাচার্য  ড. মো. অধ্যাপক এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী।


সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ সমাবর্তন ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়নে ওয়েবসাইট চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গত ১১ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ‘ডিউইভালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন। 


তবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যায় উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডাকসু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ঘাটতি তৈরি করেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


এদিকে রোববার ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ওয়েবসাইটটির উন্নয়নের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিভিউ গোপন রাখা হয়েছে। তবে গত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েবসাইটের রিভিউগুলো উন্মুক্ত ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে সংগ্রহ করেছে।


এতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট দুই হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে এক হাজার ২৪৩ জন, অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষক রিভিউ পেয়েছেন। বাকি ৮০২ জন শিক্ষকের কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি। রিভিউ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ৬৩৩ জনের গড় রেটিং ৪ বা তার বেশি, যা মোট রিভিউ পাওয়া শিক্ষকের ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ১৪৮ জন শিক্ষক পূর্ণ ৫ রেটিং পেয়েছেন এবং ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ রেটিং পেয়েছেন ৪৮৫ জন। এ ছাড়া ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ২৩৫ জন, ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ১৯২ জন এবং ২-এর নিচে রেটিং পেয়েছেন ১৮৩ জন শিক্ষক, যা মোট শিক্ষকের প্রায় ১৫ শতাংশ।


ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় পাস হওয়া থেকে নানা অনুরোধের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি চালু করার সদিচ্ছা দেখায়নি। তাই প্রশাসনের আশায় বসে না থেকে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইটটি তৈরি করছি। এতে করে আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব আরও বেশি শক্তিশালী হবে, পাঠদান মানসম্মত হবে।


ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কোর্স অনুযায়ী শূন্য থেকে ৫ পর্যন্ত পয়েন্ট দিতে পারেন এবং রিভিউ লিখতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর রিভিউ ম্যানুয়ালি যাচাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ইনস্টিটিউশনাল মেইলের মাধ্যমে সাইন করলে একটি কোড পান, সেটি প্রবেশ করিয়ে সাইন ইন করে শিক্ষার্থী শুধু তাঁর ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের রিভিউ দিতে পারেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষক মূল‌্যায়‌নের নামে ডাকসু যেটা কর‌ছে, তা অন‌ধিকার চর্চা। এর ফ‌লে এখন অনানু‌ষ্ঠা‌নিকভা‌বে শিক্ষক‌দের রে‌টিং হ‌বে এবং বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য় প‌রিস‌রে বিশৃঙ্খলা তৈ‌রি হ‌বে, যা পরে ম‌বে রূপান্ত‌রিত হ‌তে প‌রে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষক মূল‌্যায়‌নের ইতিবাচক ফলাফল থে‌কে ব‌ঞ্চিত হ‌বে। আমি বরং বিশ্ববিদ‌্যালয় কর্তৃপক্ষ‌কে শিক্ষক মূল‌্যায়‌নে যথাদ্রুত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা গ্রহ‌ণের আহ্বান জানাই।


এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন চালুর বিষয়টি প্রশাসন ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ডাকসু সেটাকে হঠাৎ করে নিজের মতো করে একটা মূল্যায়ন করেছে, যা ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের একটা ঘাটতি তৈরি করেছে। আমরা এই বিষয়ে ইউনিভার্সিটির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।


ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, ডাকসু নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় আমার প্রথম এবং প্রধান ইশতেহার ছিল শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রশাসনের বাইরে গিয়ে হলেও কিছু করে যাওয়া চাই। সে জায়গা থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।


শিক্ষকদের নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও শিক্ষার্থীরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের মাধ্যম শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকরা বুঝতে পার


  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০৮ এএম

অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিতকরণ ও রিডিং রুমে এসি স্থাপনসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ  হল শাখা ছাত্রশিবির।


রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তারা।


দাবিগুলো হলে—অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ ও মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিতকরণ, স্থায়ী সিট বন্টন নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত সিট বরাদ্দ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রিডিং রুমে এসি স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ।


লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তোমাদের দাবিগুলোর যৌক্তিক। আমরা শীঘ্রই হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তোমাদের অন্যান্য দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে হলের পানির ফিল্টার গুলো মেরামতের কাজ চলমান। তবে রিডিং রুমে এয়ার কন্ডিশনার স্থাপনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করবো।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে ম্যাজেন্ডা প্রকল্পের উদ্যোগে জাতীয় ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহযোগিতায় ছিলেন শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও কিষাণ থিয়েটার। 


রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের ১০টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৮টি শিক্ষার্থী দলের মধ্য থেকে বিজয়ী সেরা ৩টি দলকে মোট ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী দল পায় ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী দল পায় ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী দল পায় ১০ হাজার টাকা।


বিজয়ী দলের শিক্ষার্থী জারিফুল ইসলাম জিম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি সমাজে প্রচলিত কিছু ধারণাকে প্রশ্ন করতে। আমাদের তুলে ধরা গল্পের যে স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি তা ভবিষ্যতে আমাদের আরও ভালো গল্প বলের অনুপ্রেরণা দেবে। 


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান এবং পরিচালনায় ছিলেন  শেকৃবি প্রজেক্ট টিমের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম।


শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামানের  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ম্যাজেন্ডা শেকৃবি প্রজেক্টের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবি ছাত্র পরিচালক অধ্যাপক আশাবুল হক। প্রতিযোগিতায় জেন্ডার ইকুয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ২৭টি ভিডিওর প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ বিভেদ ভুলে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। একটি হাত কর্মক্ষম আর অন্যটি নিষ্ক্রিয় থাকলে প্রগতি সম্ভব নয়; দুই হাতকে সমানভাবে কাজে লাগিয়েই একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব।


প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, পুরুষ বা নারী হিসেবে নয়, সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শেকৃবিতে সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভিডিওগ্রাফির ফ্রেমে শিক্ষার্থীরা যেভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।


পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন কৃষাণ থিয়েটারের নিজস্ব রচনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক 'বহ্নিশিখা'। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক উদ্দীপনাময় আবহে সমাপ্ত হয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম

সংস্কার শেষে চালু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি ঠাঁই না পেলেও নতুন যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলোচিত ছবি।


শিক্ষার্থী সংসদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।


উদ্বোধনের পর সংগ্রহশালা ঘুরে দেখা যায়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যার পূর্বাপর বেশ কিছু স্থিরচিত্র সেখানে স্থান পেয়েছে।


পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায় সংগ্রহশালায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।


১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতেও জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনেই ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।


অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।


ডাকসুর সংগ্রহশালায় আরো দেখা গেল আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি আতাউল গণি ওসমানী, নবাব সলিমুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ছবি।


বঙ্গবন্ধুর কোনো একক বা গুরুত্বপূর্ণ ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি। তবে ১৯৭৪ সালে তার দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত তিনটি পেপার কাটিং রাখা হয়েছে।


ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন কিংবা ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি সেখানে চোখে পড়েনি।


জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ফ্যাসিবাদের সব আইকনের ছবি এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাই এখানে রাখা হয়নি। আর ৭২-৭৫ সালের অংশে তো তার ছবি আছে।


কিন্তু ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল অংশে কেন নেই, এ প্রশ্নে জুমা বলেন, “ইচ্ছা হয়নি, তাই রাখিনি।”


তাহলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি কেন রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি জিন্নাহর ছবি রাখিনি, সেই ইভেন্টের ছবি রেখেছি।”


২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনের আগেও বঙ্গবন্ধুর বেশকিছু ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছিল।


ডাকসু নির্বাচনের আগের দিন ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনেও ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর একাধিক ছবি সংবলিত চিত্র প্রকাশ হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাকসুর এক কর্মচারী বলেন, “২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয়ী হওয়ার পর সেই ছবিগুলো সেখান থেকে সরিয়ে ফেলেছে।”


সংগ্রহশালায় আরও যা যা আছে


১৯৪৭—১৯৭১


১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ থেকে শুরু করে সেসময়ের আন্দোলনের কিছু দৃশ্য এবং মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ কবিতাসহ ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক পিয়ারু সরদারের ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।


মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের কমান্ডার, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ কয়েকজনের বুদ্ধিজীবীদের মুখাবয়ব, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি স্থান পেয়েছে সংগ্রহশালায়। এসব ছবির নিচের দিকে মুক্তিযুদ্ধে একটি খোদাই চিত্র আছে, যেখানে বঙ্গবন্ধুও আছেন।


১৯৭১—১৯৮১


১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত তিনটি পেপার কাটিং বাঁধাই করে রাখা হয়েছে। ‘বাংলাদেশে কোনো বিরোধীদল নেই’শীর্ষক সংবাদের পেপার কাটিং এবং চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের দুটি ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।


আর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের ছবি হিসেবে খাল খননের দৃশ্য; খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের একসঙ্গে একটি স্থিরচিত্র; জিয়াউর রহমানের যুদ্ধের সময়ের দুটি ছবি এবং ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারের একটি ছবি সেখানে স্থান পেয়েছে।


স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন


হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ১৪টি স্থিরচিত্র সেখানে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—শহীদ নূর হোসেনের শরীরে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তিপাক’ লেখা সেই আইকনিক ছবি। এছাড়া ডাকসুর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত শহীদদের তালিকা, শহীদ আসাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যসহ আরও কয়েকটি ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।


২০০৯—২০২৪


২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ও সানি হত্যাকাণ্ড, ২০২০ সালের মোদী বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ছবি সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বিশেষ কোনো স্থিরচিত্র পাওয়া যায়নি।


সাহিত্যিক যারা আছেন


ডাকসুর সংগ্রহশালায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে হুমায়ুন আহমেদ, কবি জসীমউদ্দিন, আবুল কাশেম ফজলুল হক, মুনীর চৌধুরী, আবুল ফজলসহ বরেণ্য সাহিত্যিকদের ছবি স্থান পেয়েছে।


হাদীও আছেন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর থেকে লাশ আনা, জানাজা এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফনের ছবি।


ডাকসু বোর্ড


ডাকসু বোর্ডে ২০১৯ সালে নির্বাচিত সহ-সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম লেখা হলেও সাধারণ সম্পাদকের নাম খালি রাখা হয়েছে। সেই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।


পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব না থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন তার পদ বাতিল করে ওই মেয়াদে ডাকসুর জিএস ঘোষণা করেন রাশেদ খাঁনকে, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর দায়িত্বে রয়েছেন।


কেন সেই ঘর খালি রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ডাকসুর বর্তমান জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “রাব্বানী ও রাশেদ খাঁন—দুজনেরই বিষয়ে বিতর্ক আছে। কারণ রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু সেই ডাকসু কমিটির তো মেয়াদ শেষ।


“এখন কারো নাম ঘোষণা করলে সেই জিএস হয়ে গেছে এমন না। এক্ষেত্রে তাদের দুজনের যেহেতু বিতর্ক আছে, তাই আমরা খালি রেখেছি।”


যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা


সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন নূমান আহমাদ চৌধুরী।


মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে ভোট করা নূমান বলেন, “শুনলাম ডাকসু সংগ্রহশালার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে। তবে একটিবারের জন্যও ওদিকে যাবার আগ্রহ হয়নি।


“কারণ জানি যে সংস্কার কাজ করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত থাকা সংগঠন ‘পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘ’র (পরিবর্তিত নাম ইসলামী ছাত্রশিবির) প্যানেল।”


তিনি বলেন, “তাদের করা সংস্কার কীরকম হতে পারে, সেটা আগে থেকেই অনুমান করা যায়। লোকমুখে জানতে পারলাম, সেখান থেকে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলে পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টাঙানো হয়েছে; যেই জিন্নাহ শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে বেঈমানি করে তার লাহোর প্রস্তাব কাঁটছাট করে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষকে একাত্তরের বিভীষিকার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।”


নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, “ডাকসু মুজিবের ছবি রেখেছে, তবে মুজিবের জীবনের যে অধ্যায়টা বিতর্কিত—সেই সময়ের ছবি রেখেছে। কিন্তু যে মুজিবকে সামনে রেখে পুরো বাঙালি জাতি মুক্তিসংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেই মুজিবকে সরিয়ে ফেলেছে।


“ওরা আপামর বাঙালির নেতা শেখ মুজিবকে মুছে দিয়ে শুধু তার বিতর্কিত অধ্যায়টা রাখতে চায়; কারণ তাকে মুছে দিতে পারলে ও বিতর্কিত করতে পারলে বাংলাদেশের জন্মকে ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। ১৯৭১ এ পরাজয়ের জ্বালায় একটু প্রলেপ দেওয়া যায়।”


তিনি বলেন, “একাত্তর পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তানি শাসকদের এক নম্বর পূর্ববঙ্গীয় শত্রু ছিলেন শেখ মুজিব। তাদের উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রেও তাই হওয়াটাই স্বাভাবিক। স্বাধীনতার পর শিবিরের আদি পিতা যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম চেষ্টা করেছিলেন ভেঙে দুই টুকরা হয়ে পাকিস্তানকে পুনরায় জোড়া লাগানোর। গোলাম আযমের উত্তরসূরিরা যে তার সেই পরিকল্পনা থেকে এখনো সরে আসেনি, ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে ফেলাই তা প্রমাণ করে।”


ডাকসুর সাবেক এক নেতা  বলেন, “এর আগে কখনো জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে ছিল না। ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্র সংসদে আসার পর এ ছবি যুক্ত করেছে।”


ডাকসু সংগ্রহশালায় এখন কোনো তত্ত্বাবধায়ক নেই। এর আগে গোপাল চন্দ্র দাস নামে একজন ছিলেন, যাকে সবাই ডাকসুর গোপাল দা নামেই চেনেন। তিনি কয়েক বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।


গোপালচন্দ্র দাসকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আলী জিন্নাহর ছবি জীবনেও ছিল না। আমি ১৯৯১ সাল থেকে এখানে কাজ করি। এ সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা থেকে আমি সব দুর্লভ ছবিগুলো সংগ্রহ করেছি। ভাষা আন্দোলনের আমগাছটাও আমার সংগ্রহ করা। আর আলী জিন্নাহর থাকবেই বা কেন? বাংলাদেশকে আজ পাকিস্তান বানিয়েছে শিবির।”


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নেই শুনতেই গোপালচন্দ্র দাস বলেন, “হায় হায়, এখানে অনেক রেয়ার কিছু ছবি ছিল। তাও শেষ করে ফেলছে শিবির! কী আর বলব!"


অভিযোগের বিষয়ে শিবিরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে ।