• প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

কেউ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট চশমা, কেউ রোবটিক হাত, আবার কেউ নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য অপসারণের প্রযুক্তি। পরিবেশ সুরক্ষা, চিকিৎসা প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্বীকৃতি দিতে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এমডিআইসি) দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক এ আয়োজনে রাজধানী ও আশপাশের প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়। 


শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। 


উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিভাগে প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরে প্রতিযোগী দলগুলো।


প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী মাহিমা আহমেদ ও তাঁর দলের তৈরি ‘রোবটিক হ্যান্ড’ এবং ‘ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রোবটিক হ্যান্ডে মোটর, সার্কিট বোর্ড ও থ্রিডি প্রিন্টেড পাঁচটি আঙুল ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পারে প্রক্সিমিটি সেন্সর ও আরডুইনো ন্যানোর সাহায্যে সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করে শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরেকটি উদ্যোগ ‘সার্কুলার ব্লু’। নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি এ ভাসমান প্ল্যাটফর্মে ডিসি মোটর, সার্ভো মোটর ও আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে জলাশয়ের বর্জ্য অপসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা পরিবেশদূষণ মোকাবিলায় নিজেদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এ ছাড়া ‘ককলিয়া ক্যাপ’, ‘সায়ার-ডিজিটাল রিসাইক্লার’, ‘টিম কার্বন ফাইটার’, ‘অমনিঅ্যাক্সিস’, ‘গ্লেন ব্লেজ রেসার্স’, ‘টেক টাইটানস’ ও ‘নিনজা সেভার্স অব দ্য নেচার’সহ বিভিন্ন দলের প্রকল্পে চিকিৎসা প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির নানা দিক উঠে আসে।


স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) কেবল চারটি বিষয়ের পাঠদান নয়; বরং এটি কৌতুহল, নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস এবং ধাপে ধাপে শেখার এক বিশেষ মানসিকতা। আমরা যখন বিশ্বের দিকে তাকাই, তখন আমরা চারদিকে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখতে পাই। ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য এসব চ্যালঞ্জেকে সামাধান করতে হবে। 


মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স,ম মাহবুব উল আলম, ওএসজি, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি (অব:) বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু শেখার, নিজেদের মেধা বিকাশের এবং ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। 


আমাদের মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে পারে। তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, দূরদর্শিতা এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। 


মানারাত ট্রাস্টের একাডেমিক কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, স্টেম ফেস্ট শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব উদ্ভাবনে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে এসব প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও জীবসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। 


উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাবেক  উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফজলে ইলাহী। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। 


এ সময় তিনি স্টেম ফেস্ট-কে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সায়েন্স ক্লাব, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। 


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।


দুই দিনব্যাপী আয়োজনে প্রথম দিন গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি রোবোটিকস, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম এবং ট্রেজার হান্ট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম ও প্রকল্প প্রদর্শনী শেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল করীম, অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার কো-অর্ডিনেটর মহসীন কোরাইশী, স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।




  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে আটজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের স্বজন বলে জানা গেছে। একসঙ্গে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের স্বজনদের মধ্যে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।


আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।


নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে নাফিজ ও নাবিলা নামে আরও দুজনের কথা জানা গেছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এবং অন্য নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


এ ঘটনায় পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানো আহাদ বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। আমাদের পরিবারের ছয়জন এই ঘটনায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে আমার চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং আমার এক মেয়ে কাজিনের ছোট সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও আমাদের আত্মীয়। তারা আমার মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।


তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিবারের মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত তিনজন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”


এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত লাইসেন্স ছিল না। এমনকি কয়েক মাস আগেই রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও সেখানে কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।


ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের শিকার রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সে সময় কর্তৃপক্ষকে সতর্কতামূলক নোটিশও দেওয়া হয়। কিন্তু সতর্কবার্তার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি।


এ ঘটনায় আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, রিসোর্টটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না এবং সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়ার পরও কেন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা। তার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় নাবিলার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।


এর আগে শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নাবিলাসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শোকবার্তায় জানানো হয়, রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার অকালমৃত্যুতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


শোকবার্তায় তারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন।


প্রসঙ্গত, আজ শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


গরুভোজ বিতর্কে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৪ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গরুর মাংস রান্না ও গরুভোজ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।


গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।


বিবৃতিতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট অস্থিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ছাত্রদলের নেতারা। তারা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর প্রথম পরিচয় তারা ‘জবিয়ান’। ধর্মীয় পরিচয় ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেকের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।


বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সর্বজনীন সহাবস্থানের কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও মতের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছেন। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়া এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।


চলমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে ধৈর্য, আত্মসংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘আবেগ বা উসকানির বশবর্তী হয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।’


তারা আরও বলেন, মতপার্থক্য ও বিভেদ ভুলে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দেশের স্বার্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক আলোচনা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করে ছাত্রদল।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সব শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনকে দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিতে হবে।


প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে শিক্ষার্থীদের নৈশভোজে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গরুভোজ কর্মসূচির জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরুটি জবাই করেন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে আয়োজিত রাজধানীর প্রায় ৮৭ টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'MDIC STEM FEST 2026-27'। যেখানে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত রোবটের ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় রোবটিক্স গাড়ির মতো সব প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্পে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (এমডিআইসি) ক্যাম্পাস। 


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন। 


উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প। নিজেদের উদ্ভাবন অতিথিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ঘুরে দেখেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব ও মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা ও প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে তারা প্রশংসা করেন এবং বৃহত্তর পরিসরে অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তাহিয়াদ ইসলাম তৈরি করেছে ‘রোবো সকার’ নামের একটি রোবট। ফুটবল খেলার উপযোগী করে তৈরি এ রোবটের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় দুটি রোবটকে একে অপরের বিপক্ষে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। প্রযুক্তির সঙ্গে খেলাধুলার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে এই শিক্ষার্থী।


নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে তাহিয়াদ ইসলাম বলে, ‘আমি মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। রোবট বানাতে আমার ভালো লাগে। এই রোবটটি তৈরি করতে আমার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও সুন্দর ও উন্নত করতে চাই।’


তাহিয়াদের মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে আগ্রহী এ-লেভেল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহদী হাসান। সে তৈরি করেছে ‘লাইন ফলোয়িং রোবট’। ছোট গাড়ির মতো দেখতে রোবটটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে সক্ষম। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় চলাচল ও প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার একটি বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরেছে সে।


নিজের প্রকল্প সম্পর্কে মাহদী হাসান বলে, ‘আমি মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। এই রোবট তৈরি করতে প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।’


শুধু রোবোটিকস নয়, উৎসবে গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী ও ট্রেজার হান্ট। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, দলগত কাজ এবং নতুন ধারণা উদ্ভাবনের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


উৎসবের প্রথম দিন সকাল ৯টায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গণিত অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সপ্তম থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় রোবোটিকস ও মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম। বেলা আড়াইটা থেকে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সপ্তম শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আয়োজন রাখা হয়।


স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। STEM Fest-এর প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনই নয়, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা এবং নিজেদের জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ করার মানসিকতা অর্জন করুক।’


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আবিষ্কার ও গবেষণার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজ যারা নিজেদের প্রকল্প ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, বৈজ্ঞানিক সাফল্য মানুষের জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করলেও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে সেই অর্জন মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে সেই জ্ঞান প্রয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।


অনুষ্ঠানে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম বলেন, এবারের স্টেম ফেস্টে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে একদিন মানারাত থেকে একজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পাবেন। আসুন আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি এবং তার জন্য স্বপ্ন দেখি। আর এর জন্য আমাদের এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সংযুক্ত ও পারস্পরিক নির্ভরশীল। তাই শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, নতুন উদ্ভাবনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাও থাকতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বিপণন, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।’


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরার অধ্যক্ষ ড. মো. মোশারফ হোসেন, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, গুলশানের উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল করীম ও অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার সমন্বয়ক মহসিন কোরায়শী এবং স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ পিএম

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে (এমডিআইসি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘MDIC STEM FEST 2026-27’। যেখানে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


উৎসবের প্রথম দিনে সকাল ৯টায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গণিত অলিম্পিয়াড দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সপ্তম থেকে এ-২ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অলিম্পিয়াডের আয়োজন রাখা হয়। এছাড়াও সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রোবোটিকস ও মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, বেলা আড়াইটা থেকে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সপ্তম শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয়।


মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ এস লেভেলের শিক্ষার্থী ফাইরুজ মাছনুন আশরাফ বলেন, "এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করছে।"


স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, "শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। STEM Fest-এর প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনই নয়, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা এবং নিজেদের জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ করার মানসিকতা অর্জন করুক।"


অনুষ্ঠানে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম বলেন, এবারের স্টেম ফেস্টে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে একদিন মানারাত থেকে একজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পাবেন। আসুন আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি এবং তার জন্য স্বপ্ন দেখি। আর এর জন্য আমাদের এখন থেকেই শুরু করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সংযুক্ত ও পারস্পরিক নির্ভরশীল। তাই শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, নতুন উদ্ভাবনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাও থাকতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বিপণন, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।"


বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যক্ষ বলেন, "শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে পারে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।"


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, "বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আবিষ্কার ও গবেষণার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজ যারা নিজেদের প্রকল্প ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞান কেবল নতুন কিছু আবিষ্কারের মাধ্যম নয়, বরং এটি নিয়মতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা ও অনুসন্ধানের একটি প্রক্রিয়া। মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ করেছে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। মহাকাশ গবেষণা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের অগ্রগতি মানুষের সামনে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে।"


বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের অনুসন্ধিৎসা ও অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সংকল্প’ কবিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রায় এক শতাব্দী আগে নজরুল তাঁর কবিতায় মহাকাশ অনুসন্ধান এবং মঙ্গল গ্রহ থেকে সংকেত পাওয়ার যে কল্পনা করেছিলেন, তা মানুষের বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা ও অনুসন্ধিৎসার অসাধারণ প্রকাশ। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করাও জরুরি। বৈজ্ঞানিক সাফল্য মানুষের জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করলেও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে সেই অর্জন মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে সেই জ্ঞান প্রয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।"


এ সময় তিনি পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা, আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানারাত  ইন্টারন্যাশনাল স্কুল উত্তরা এর  প্রিন্সিপাল ড. মো. মোশারফ হোসেন, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ গুলশানের ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ আনোয়ারুল করীম ও  অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার কো অর্ডিনেটর মহসিন কোরায়শী, স্টেম ফেস্ট এর বালিকা শাখার আহব্বায়ক রোকসানা খানম প্রমুখ সহ আরও অনেকে।


উল্লেখ্য, উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ৯টা থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে। দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে ট্রেজার হান্ট। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হবে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের অধিকার সবার রয়েছে জানিয়ে আগের বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। 


বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক স্বাক্ষরিত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই প্রসঙ্গে প্রশাসনের বক্তব্য’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টরের উদ্যোগে ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক আলোচনা ও বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি হয়।


এ ছাড়া বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার যে অভিযোগ ওঠে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি প্রক্টরের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা ধর্মীয় সম্প্রীতির অবনতি এড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দিন আগে ক্যাম্পাসে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই প্রক্টর এ আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ওই আহ্বানকে কেন্দ্র করে নতুন করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করেছে।


এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যে কোন অনুষ্ঠানাদি উদযাপনের এখতিয়ার সকলেরই রয়েছে। তবে একটি উদযাপন যেন অন্য কোন উদযাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে সকলেরই সচেষ্ট থাকা একান্ত প্রয়োজন।’


এতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।


এর আগে একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।


প্রশাসনের ওই বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ।


পোস্টে তিনি প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নাকি শুধু গরু জবাইকে কেন্দ্র করে এটি জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে ‘জবিয়ানদের গরু ভোজ কর্মসূচি’ আয়োজনের ঘোষণা দেন জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়।


অন্যদিকে প্রশাসনের পশু জবাইসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে প্রায় একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেয় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।