• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১২:৫৬ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের  বিভাগীয় খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত, ভুল ক্রেডিট বণ্টন এবং অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এতে একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্ণারে এক সংবাদ সম্মেলনে মানোন্নয়ন পরীক্ষার জন্য আবেদনকারী ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১২ জন শিক্ষার্থীদের পক্ষে ৫ জন শিক্ষার্থী এ–সংক্রান্ত বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান, বায়েজিদ বোস্তামী, নাহিদ আক্তার নোভা, মাহথির মোহাম্মদ চমন ও রবিউল ইসলাম।

তারা জানান, করোভাইরাস পরিস্থিতি এবং ‘জুলাই বিপ্লব’–পরবর্তী দীর্ঘ সেশনজটের সময়ে তারা বারবার জট নিরসনের দাবি জানালে তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাশিদুজ্জামান জানান, প্রতিটি সেমিস্টারের মান উন্নয়ন পরীক্ষা নিতে সময় বেশি লাগায় সেশনজট কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ কারণ দেখিয়ে তিনি ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকে সব মান উন্নয়ন পরীক্ষা স্থগিত করে ঘোষণা দেন যে ৪র্থ বর্ষ শেষে একসঙ্গে সব সেমিস্টারের মান উন্নয়ন নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়—যে সব কোর্সে ৩.০০–এর নিচে নম্বর পাবে, সেসব কোর্সে পরবর্তীতে মান উন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ থাকবে; সেমিস্টারের গড় সিজিপিএ বিবেচ্য হবে না।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী— ধারা ১০.৬: প্রতি একাডেমিক ইয়ারে যেকোনো কোর্সে ৩.০০–এর নিচে গ্রেড পেলে সেমিস্টার শেষে ১৫ দিনের মধ্যে রিটেক দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ধারা ১৩.২: ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফলাফলের পর যাদের যেকোনো কোর্সে গ্রেড ‘বি’–এর নিচে থাকবে, তারা অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে রিটেক দিতে পারবে।

অর্ডিন্যান্সে গড় সিজিপিএ ৩.০০-এর বেশি হলে মান উন্নয়ন দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান নেই। এসব নিয়ম অমান্য করে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে শুধুমাত্র ‘ফেইল করা’ শিক্ষার্থীদের জন্য মান উন্নয়ন পরীক্ষা সীমিত করেন, যা বিভাগীয় প্রতিশ্রুতিভঙ্গ।

শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষে বিভাগীয় অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মোট ক্রেডিট হওয়ার কথা ছিল ১৩৬। কিন্তু তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. মোছা. সালমা সুলতানার ভুল ক্রেডিট বিতরণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১২৮ ক্রেডিট অনুযায়ী একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় ভুল ধরা পড়ে। তখন বিভাগ হঠাৎ করে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের পুরনো অর্ডিন্যান্স চাপিয়ে ফল প্রকাশ করে। অথচ শিক্ষার্থীরা সেই অর্ডিন্যান্সের অন্তর্ভুক্ত নন। এতে স্পষ্টতই অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘন হয়েছে। ২০১৮–১৯ অর্ডিন্যান্স চাপিয়ে দিয়ে শুধু ‘ফেইল করা’ শিক্ষার্থীদের রিটেক ও মান উন্নয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, আর বাকি শিক্ষার্থীদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, আমরা কোনো বেআইনি সুবিধা চাইনি। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার—মান উন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ—চেয়েছি। কিন্তু বিভাগের ধারাবাহিক ভুলের কারণে আমরা ভুক্তভুগী হয়েছি। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দৌড়ঝাঁপ করেও সমাধান পাইনি। অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘন করে ফল প্রকাশ করে এবং প্রতিশ্রুতি ভেঙে আমাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের ভুলের দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো অন্যায়। এই সপ্তাহের মধ্যেই মান উন্নয়ন পরীক্ষার অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় প্রমাণ হবে—ইংরেজি বিভাগ শিক্ষার্থী-বান্ধব নয়। যে বিভাগ শিক্ষার্থী-বান্ধব নয়, সে বিভাগ তার কার্যক্রম চালানোর নৈতিক যোগ্যতা রাখে না। এসময় দাবি না মানলে তারা পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান।

এবিষয়ে বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাসিদুজ্জামান বলেন, এবিষয়ে আমি উপাচার্যের সাথে কথা বলেছি। আমি বিভাগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত আছি। আপাতত আমার কোন মন্তব্য নেই।

বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ২০ জন শিক্ষার্থী মান উন্নয়ন পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিল, আমরা একাডেমিক কমিটি থেকে তাদের নাম পাঠিয়েছিলাম। যাদের মধ্যে ৮ জন শিক্ষার্থী যাদের রিটেক ছিল তাদেরকে অনুমোদন দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। বাকি ১২ জন পরবর্তীতে আবারো আবেদন করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আবারো একাডেমিক কাউন্সিলের একটা মিটিং হয় এবং আমরা সেই ১২ জনের নাম কন্ট্রোলার অফিস পাঠাই। পরবর্তীতে উপাচার্য স্যার এটাকে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের আশ্বাস দেন। এখন বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

বিষয় : ইবি




ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগমন উপলক্ষে ৪২ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর বরাত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক, হলসমুহের প্রভোস্ট, প্রশাসনিক দপ্তরের পরিচালক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ছাত্র-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।


এ কমিটি প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছি। সবাইকে নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করে আগাবো।


প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নিরাপত্তা জনিত ইস্যু নিয়ে কাজ করছি। সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিব। কোনো ধরনের যাতে ঘাটতি না থাকে সেই বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি।


প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনে আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের লেখা ‘মনকে কাজ দিন’ বই শিক্ষার্থীদের উপহার দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৭ এএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের লেখা ‘মনকে কাজ দিন’ বই শিক্ষার্থীদের উপহার দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে অন্যান্য উপহারসামগ্রীর সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে গোলাম আযমের লেখা ‘মনকে কাজ দিন’ বইটিও তুলে দেওয়া হয়।


এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নবীন বরণের মতো আয়োজনের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীদের কাছে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।


নবীন শিক্ষার্থীদের আবেগ ও সরলতাকে ব্যবহার করে কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক মতাদর্শকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তার প্রতিবাদ করা হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আহমেদুল কবীর তাপস।


ক্যাম্পাসে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


এদিকে, ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর আহ্বায়ক রাফিউর রহমান রুহান বলেন, একাত্তরের রণাঙ্গনের একজন প্রমাণিত অপরাধীকে যখন কেউ সাংগঠনিকভাবে উদযাপন করে অথবা তাঁর মতাদর্শকে সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, তখন তাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান ও বাংলাদেশপন্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। 


ক্যাম্পাসে সদ্য আগত নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে দেশমাতৃকার রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের জন্য দায়ী একজন ব্যক্তিকে ‘কাল্ট’ হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুহান।


এ বিষয়ে শেকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান নাঈমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। তাঁর লেখনীও অনেক সহজ-সরল। বইটির বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বিবেচনা করেই নবীন শিক্ষার্থীদের এটি উপহার দেওয়া হয়েছে।


ইবি খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে মুমতাহিনা-অথি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটির ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।


এতে সভাপতি হিসেবে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসলিমা আরেফিন অথি মনোনীত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত কমিটি ঘোষণা করা হয়।


কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-


সহ-সভাপতি সাবরিনা খাতুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিথী খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া খাতুন, অর্থ সম্পাদক মোসা: ইসমা খাতুন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মারজাহান আক্তার তানিয়া, দপ্তর সম্পাদক উম্মে মরিয়ম, প্রচার সম্পাদক কাজী ফাতেহা আসমিয়া আর্দি, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা, বিতর্ক গবেষণা সম্পাদক রুনা লায়লা, অনুষ্ঠান সম্পাদক রিয়া আক্তার রুমা।


কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন-


ইসরাত জাহান, তাসনীম, সুমাইয়া নাজনীন এবং সুমাইয়া জাহান।


দায়িত্ব পেয়ে সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা আরেফিন অথি বলেন, “সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য হবে সোসাইটিকে আরও সক্রিয়, সুসংগঠিত ও সদস্যবান্ধব করে তোলা। যেখানে নতুন সদস্য থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ সদস্য সবাই নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে নতুনদের প্রশিক্ষণ ও আত্মবিশ্বাস তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে চাই।”


সভাপতি মুমতাহিনা রিনি বলেন, “খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটি বরাবরই আমার একটি ইমোশনের জায়গা। ২০২২ সালে আপুদের হাত ধরে আমার যে যাত্রা শুরু হয়েছিলো সময়ের পরিক্রমায় আজ আমি সেখানে সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। এটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনই চ্যালেজ্ঞেরও বটে। আমি আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, যেনো এখান থেকে দেশসেরা বিতার্কিক তৈরি হয়।”


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ পিএম

দায়িত্বকালীন এক বছরের কার্যক্রমের বিবরণী প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরেন।


সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ কার্যক্রমের অডিট প্রকাশ না করা হলেও প্রকাশিত পেজেন্টেশনে কয়েকটি কাজে খরচকৃত অর্থের পরিমাণ দেখা যায়।


প্রেজেন্টেশনে দেখানো বছরব্যাপী কার্যক্রমের মধ্যে ছারপোকা দমন ও পরিচ্ছন্নতায় ব্যয় হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। প্রদর্শিত স্লাইডে উল্লেখ করা হয়- 'হলে ছারপোকা নিধন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই কমেছে।'


এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে খরচ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম বানাতে খরচ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা এবং এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারে ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ের কথাও জানানো হয়েছে প্রেজেন্টেশনে। 


এছাড়া একাধিক কাজের কথা উল্লেখ করলেও বিস্তারিত খরচের পরিমাণ এখনও প্রকাশ করেনি ডাকসু। ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, অডিটের কাজ চলছে, খরচের বিস্তারিত কিছুদিনের মধ্যেই জানানো হবে।


সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাকসু যে কাজ করেছে তা ৩৫ কোটি টাকার চাইতেও অনেক বেশি। তবে প্রশাসনের বাধার কারণে আমরা অনেক কাজই করতে পারিনি। 


সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখন পর্যন্ত প্রশাসন দেয়নি। পুরো সময় জুড়ে প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। তবে শত অসহযোগিতা সত্ত্বেও এক বছরে আবাসন, পরিবহন, হলে খাবারের মান ও স্বাস্থ্য গবেষণার মতো ডাকসু কমিটি হাজারের বেশি কাজ করেছে।


শিক্ষক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘DU Teachers’ Evaluation’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে।


কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, হলভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। গবেষণা বিষয়ে কর্মশালা, গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেশন এবং শিক্ষা এক্সপোসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়। 


পরিবহন খাতে শনিবার বাস সার্ভিস চালু, বিভিন্ন রুটে সন্ধ্যার ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস এবং সাপ্তাহিক ঢাকা-কুমিল্লা বাস সার্ভিস চালুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রুট বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।


কার্যক্রমের বিরবরণ দিয়ে দিয়ে ‘খতিয়ান’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে ডাকসু। বইয়ের একটি বড় অংশে বাস্তবায়ন না হওয়া বা আটকে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।


ডাকসুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও চাকরি মেলার মতো ছয়টি উদ্যোগ আটকে রয়েছে।


এ ছাড়া মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা, হলের ভর্তুকি মূল্যে খাবার, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড় সৌন্দর্যায়ন, ওয়াকওয়ে ও আলোকসজ্জাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিন, মোবাইল টয়লেট, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিভিন্ন হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ আটকে থাকার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 


ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম চালু এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার নিয়েও বইয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।


বামে মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ডানে সুমন সরদার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংঘর্ষের ঘটনায় এবার শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাদের।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।


নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা ব্যাখ্যা করতে হবে।


এতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।


এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনের কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনায় তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নবনিযুক্ত সভাপতিদের মধ্যে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়, ফাইন আর্টস বিভাগে সহকারী অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ফকির, ফার্মেসি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব (শাহীন) দায়িত্ব পেয়েছেন।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপন সূত্রে, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, ফাইন আর্টস বিভাগের সভাপতি আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধির সংশোধিত ১০(১) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপকদের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য নিজ নিজ বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিলাসী সাহা গত ২৫ আগস্ট সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয় আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাবকে (শাহীন)।