ঢাকার অলিগলিতে নামে-বেনামে কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শত-শত স্কুল। সরু গলির ভেতরে, আবাসিক ভবনের নিচতলায়, ভাড়া করা ফ্ল্যাটে কিংবা অস্থায়ী কিছু কক্ষে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান।
প্রি-প্রাইমারি, কেজি, স্কুল-মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়ামসহ নানা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগেরই নেই খোলা ক্লাসরুম, খেলার জায়গা কিংবা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ ধরনের স্কুলগুলোর শিক্ষার মান, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানে সরকারের কোনো তদারকি নেই, নেই সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালাও। স্কুলগুলো কে খুলছে, কারা চালাচ্ছে, কার অনুমতিতে চলছে, সরকার আদৌ জানে কি না সেখানে কী হচ্ছে– এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।
সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় শারমিন একাডেমি নামে একটি স্কুলের ভেতরে এক শিশুশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, স্কুলের অফিস কক্ষের ভেতরে এক ব্যক্তি ৪ বছর বয়সি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করছেন।
পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রেখেছেন। কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি শিশুটিকে আঘাত করছেন। পরে জানা যায়, মারধরকারী ব্যক্তি ওই স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার, আর পাশে বসে থাকা নারী সেখানকার প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। মূলত এ দুজনই একাডেমিটির মালিক। ঘটনার তিনদিন পর পুলিশ পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে।
গত ২২ জানুয়ারি সকাল থেকে নয়াপল্টনের ওই এলাকা ও স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের ভেতরে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। মাঝে মধ্যে দুই- একজন অভিভাবক ও কৌতূহলী পথচারী সেখানে এসে স্কুলের ভেতরের দিকে তাকাচ্ছেন, কেউ কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে ভেতর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ থাকায় কারও প্রবেশের সুযোগ ছিল না।
স্কুল ভবনের কেয়ারটেকার কামরুল হক ঢাকা পোস্টকে জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাউকে আসতে দেখেননি তিনি।
কেন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণও জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে স্কুলটির দেয়ালে ও ব্যানারে থাকা কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সবগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় ও আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ঢাকার বহু অলিগলির স্কুলের মতো শারমিন একাডেমিও পরিচালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে একটি ভবনের মধ্যে। ওই ভবনের ভেতরে রয়েছে একটি বিউটি পার্লারও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানতেন সেখানে একটি স্কুল আছে কিন্তু সেটির অনুমোদন আছে কি না, শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো নীতিমালা আছে কি না বা শিশুরা সেখানে নিরাপদ কি না- এসব বিষয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।
অবশ্য গোটা রাজধানীজুড়েই এমন অসংখ্য স্কুল-মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলোর শুধু সাইনবোর্ড দেখে মানুষ, আর বাচ্চাদের ভর্তি করে দেয়।
অনুমোদিত নাকি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান তা আর যাচাই করে না কেউ। রাজধানীর আজিমপুর, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় অলিগলির ভেতরে গড়ে ওঠা এমন স্কুলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
অনেক ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাটে ৩০-৪০ জন শিশুকে গাদাগাদি করে বসানো হচ্ছে। নেই খোলা জায়গা, নেই জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা। তবুও এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
২০২৫ সালে বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন
আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০১১ সালে হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক শাস্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অসাংবিধানিক। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিশুকে নির্যাতন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের আলাদা তথ্য না থাকলেও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সামগ্রিক তথ্য বলছে, ২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নির্যাতনের ২১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল শূন্য থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
এই সংখ্যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৯-এ দাঁড়ায়। তারপর ২০২৩ সালে সামান্য কমে ৪৭ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে ৩০-এ নেমে আসে। তবে নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হয় না।
২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
এমন অবস্থায় রাজধানীসহ সারা দেশের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সামাকি মাধ্যমে অনেকে এসব নির্যাতনের ঘটনা দেখে আঁতকে উঠছেন এবং স্কুলগুলোর তদারকির ব্যবস্থা কী- সেই প্রশ্ন রাখছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর নজরদারি ও বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব স্কুলকে তদারকির আওতায় আনা দরকার।
রাজধানীর মিরপুর এলকার নাঈমা মিতু নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা বাবা-মায়েরা চাকরি বা কাজের কারণে বাধ্য হয়ে কাছাকাছি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাই। কিন্তু এসব স্কুলের ভেতরে কী হচ্ছে, শিক্ষকরা কেমন আচরণ করেন- তা জানার কোনো উপায় নেই।
শারমিন একাডেমির ঘটনার ভিডিও দেখে আমি ভীষণ আতঙ্কিত। যদি আমার সন্তানের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে? সরকারের উচিত এসব স্কুলের নিয়মিত তদারকি করা বা শিক্ষাদান ও শিক্ষকদের গুণগত মানের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা।
শারমিন সুলতানা নামে আরেক অভিভাবক বলেন, লটারি-নির্ভর ব্যবস্থা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঠেলে দিচ্ছে গলির ভেতরের স্কুলে। কোনো অনুমোদন, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই যারা শিশুদের পড়ায়, তাদের হাতে আমরা সন্তান তুলে দিচ্ছি।
তাছাড়া শিশুদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো চিত্র। এসব ছোট ছোট স্কুলে অভিভাবকদের কথাও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।
প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা নেই, রাষ্ট্রের তদারকি দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল জায়গাটি হলো তদারকি না থাকা। প্রাইমারি বা কেজি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পরিদর্শন বা কার্যকর নজরদারি নেই। আর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল।
এগুলো জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নয়, আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণেও নেই। ফলে কার্যত এসব স্কুল একটি ‘আইনগত ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হচ্ছে।
আবার অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরং সোসাইটি, ট্রাস্ট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। এতে করে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষক নিয়োগ, শিশু সুরক্ষা বা আচরণবিধি– এসব বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। একবার সাইনবোর্ড ঝোলালেই কার্যক্রম শুরু করা যায়।
প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এমন অগোছালো ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রের পরিসরে যা কিছু ঘটে, তার দায় সরকারের রয়েছে।
একই সঙ্গে সমাজ ও কমিউনিটির স্টেকহোল্ডারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে কোথায় কতগুলো প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন তার সঠিক পরিকল্পনাই হয়নি।
অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, বর্তমানে ভর্তি ব্যবস্থায় লটারির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। লটারিতে যাদের নাম ওঠে, তারা স্কুলে ভর্তি হতে পারে, আর যাদের নাম ওঠে না, তারা কোথায় যাবে- এই প্রশ্নের কোনো কার্যকর সমাধান নেই।
একদিকে শিক্ষা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, অন্যদিকে ভর্তি সীমিত করার এই বাস্তবতা একটি বড় বৈপরীত্য তৈরি করছে। এই সুযোগেই পাড়া-মহল্লায় নামে-বেনামে অনেক বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গড়ে উঠছে, যেগুলো মূলত ব্যবসায়িক মানসিকতায় পরিচালিত।
তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না।
শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার সঙ্গে নার্সিং, কেয়ারিং ও টিচিং–এই তিনটি বিষয় গভীরভাবে যুক্ত। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মনোজাগতিক প্রস্তুতি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিশু নির্যাতনের মতো অমানবিক ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই একক মালিকানাভিত্তিক ক্ষমতার জায়গা হতে পারে না উল্লেখ করে অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, শিশুদের শারীরিক নির্যাতন, অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি হাওর, বাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। শুধু তালিকা তৈরি করে বসিয়ে না রেখে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
অপ্রতুল অবকাঠামো, অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণি পরিচালনা, নামমাত্র বেতন ও অতিরিক্ত কাজের চাপ- এসব বাস্তবতায় শিক্ষকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিশু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেই।
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট শিশুদের শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে কঠিন ও দায়িত্বশীল কাজ। শিশুরা হলো একটি ‘ছোট চারা গাছ’। এই চারার যত্ন নিতে হলে দক্ষ ‘মালি’ প্রয়োজন।
অর্থাৎ যারা শিশুদের দেখভাল ও শিক্ষা দেবেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হলেই বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শিশুকে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই, নিবন্ধনের আওতায় আসছে সব স্কুল
শিশু শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই। এটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হলে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত কেজি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তদারকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধনের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেখে থাকে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই সরবরাহের বিষয়টিও নিবন্ধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
তবে সরাসরি মনিটরিং বা তদারকির দায়িত্ব মূলত মন্ত্রণালয়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিবন্ধনসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ অন্যান্য নির্ধারিত কাজগুলো তদারকি করে থাকে।
ডিজি আরও জানান, বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত একটি বিধিমালা রয়েছে, যা সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সেই বিধিমালার আলোকে বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সম্প্রতি একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিমের প্রশিক্ষণ চলছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরই সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করা হবে– যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে, কেবল তারাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার কার্যালয়ে গিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নবনিযুক্ত ২৭তম উপাচার্য এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারকে সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর আমীনুল হক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নবনিযুক্ত উপাচার্যকে পৃথকভাবে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। এছাড়া মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলামসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দ নতুন উপাচার্যকে নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আবেগঘন বক্তব্য প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন এবং ফিশারিজ কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য আমাদেরই অনুষদের শিক্ষক বিষয়টি যেমন গর্বের, তেমনি আনন্দের। অনেকেই বলে থাকেন, আমরা ফিশারিজ ফ্যাকাল্টির সদস্যরা সবসময় 'মাছের ঝাঁক' বা ফিশ স্কুলের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকি। আমাদের অনুষদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য যেন ভবিষ্যতেও অটুট থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নে আমরা আমাদের উপাচার্যকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করব।'
অনুভূতির প্রকাশে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, 'নতুন এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের শিক্ষকবৃন্দ যেসব যৌক্তিক দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন তা নিয়ে কাজ করার চিন্তা আছে। অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের পাশাপাশি অনুষদের সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি। নতুন দায়িত্বটি পুরোপুরি বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও ভাবমূর্তি উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।'
নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশে নাম্বার কমিয়ে ভাইবাতে নাম্বার বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ এবং দূর্নীতির সুযোগ সৃষ্টির অভিযোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার রাত ১১:৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থেকে শুরু করে ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল,আব্দুল মালিক উকিল হল, বিবি হযরত খাদিজা হল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন, 'ভাইবা না মেধা? মেধা মেধা','ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তিদে", 'বেশি মার্ক ভাইভায়,দলের লোকে চাকরি পায়’ ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ, মানি না মানব না’, 'দিকে দিকে খবর দে,ভাইভা কোটার কবর দে', ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আর কী?’
বিক্ষোভ মিছিল শেষে নোবিপ্রবি আইন বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন "একটা গোষ্ঠী তাদের পোরষণ কে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য পায়তারা করতেছে, তারা মেধাকে বাদ দিয়ে ভাইবার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের সুযোগ সৃষ্টি করতেছে। আপনারা যদি জালিয়াতি রুখতে না পারেন তাহলে আপনাদের সরকারে থাকার কোন দরকার নেই "।
সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগে ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন "সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প সচিবালয় সভায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নাম্বার ৪০০% অবধি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এর প্রতি আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরাই তো পূর্বে দেখেছি লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার পরেও শুধু সরকার বিরোধী দলের বা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে অনেক সময় চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে অথবা ভাইবা থেকে দেয়া বাদ দেয়া হয়েছে,সুতরাং ভাইভাতে বেশি নাম্বার দিলে এ ধরনের দলীয়করণের আশংকা থেকেই যায়। "
বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাইড কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান বলেন "আমরা আজ এখানে কোন দলের বিরুদ্ধে বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাড়াইনি, আজ আমরা এখানে দাড়িয়েছি অযৌক্তিক এবং নীতি বহির্ভূত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। বর্তমান সরকার জালিয়াতি ও প্রক্সি রোধের অজুহাত দেখিয়ে ভাইভাতে নম্বর বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। "
তিনি আরো বলেন "২৪ শে শিক্ষার্থীরা কৌটার বিরুদ্ধে রক্ত ঝরিয়েছে, আমরা ভাইভার নামে আর কোন কৌটা কার্ড দেখতে চাইনা। ছাত্র সমাজ মেধার ভিত্তিতে চাকরি চায়, তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি চায়। যদি ভাইভাতে অতিরিক্ত নাম্বার দেয়া হয় সেখানে জালিয়াতি রোধের বিপরীতে নতুন জালিয়াতির সৃষ্টি হবে, যেটা আজকে সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে।"
তিনি আরো বলেন "আমরা কিছুদিন আগে সরকারের এক মন্ত্রীকে বলতে শুনেছি শুধু যেকোনোভাবে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে আসো ভাইভা আমরা দেখব, আমাদের মনে হচ্ছে ওই সিদ্ধান্তকে আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে সরকার। আমরা মনে করি সরকারের সিদ্ধান্ত ছাত্রদের সাথে তামাশা করার মত সিদ্ধান্ত, সরকার যদি এই সিদ্ধান্তে থাকে তাহলে আমরা আন্দোলনকে আরো সামনের দিকে নিয়ে যাব। "
উল্লেখ্য যে,গত রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে বিধিমালা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ভাইভা পরীক্ষার নাম্বার ১০ এর পরিবর্তে ৫০ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে তারা বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। যদি ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে তারা কঠিন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্ত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা 'কোটা গেছে যেই পথে– ভাইভা যাবে সেই পথে', 'ভাইভার নামে দলীয়করণ– বন্ধ কর, করতে হবে', ভাইভা না মেধা– মেধা মেধা', ‘দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া– ভাইভায় এসো ঘুষ নিয়া' ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে উদ্দেশ্য করে 'ছি ছি ধিক্কার– জাহেদ তুই চাটুকার' বলেও স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, 'আমরা জুলাই আন্দোলনের কথা না ভুললেও আমাদের সরকার হয়তো ভুলে গেছে। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় কিন্তু আমরা দেখতে পারছি বর্তমান সরকার ইতিহাস ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। যে জুলাই অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, আবার তা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং ভাইবার নামে আবার কোটাকে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার।
তিনি বলেন, 'বিএনপির ১৯৯০–৯৬ এর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সরাসরি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও সরকারি চাকরিতে হস্তক্ষেপ করার প্রথম প্রচেষ্টা চালায় তারা। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলছি এসব বন্ধ করুন তা না হলে পালানোর জায়গা পাবেন না।'
জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সদস্য সচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, 'আমরা সব সময় বলে থাকি যে কোটা না মেধা–মেধা মেধা। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে কোটা আবার নতুনভাবে ফিরে আসছে। আজকে আমরা কারো নিজের সুবিধার জন্য এখানে আসি নাই। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এভাবে বাড়তে দিলে এক পর্যায়ে এই সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা যারা চব্বিশের আন্দোলন দেখেছি এরপরও যদি আমরা না শুধরাই আমাদের জন্য যা অপেক্ষা করতেছে, তা হবে আরও ভয়ংকর। তাই এই ব্যবস্থা প্রতিহত করা আমাদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব থেকেই আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একটা ইচ্ছা থাকে যে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কাজ করব কিন্তু এখন দেশের জন্য কাজ করার সেই পথটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন আমাদের এই ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা দরকার, প্রতিবাদ করা দরকার এবং যার যার জায়গা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলা প্রয়োজন।'
ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, 'আমাদের বারবার যে কোন বিষয় নিয়ে রাজপথে নামা লাগে, অথচ এই সরকার হওয়ার কথা ছিল জনগণের। কিন্তু সরকার হয়ে যায় তার নিজের দলের। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।'
তিনি আরও বলেন, 'একটা সরকার কিভাবে সবকিছুতে দলীয়করণ করে তা আশপাশে তাকালেই দেখতে পাবেন। এমন কোন প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে দলীয়করণ করা হয়নি। আমরা তারেক সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের যদি আবার ফ্যাসিবাদী কায়দা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেটা আর কখনো হবে না। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তা কখনোই মেনে নিবে না।'
কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, 'সরকারি চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন এবং দলীয় লোকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আজকের এই মানববন্ধন। আপনারা লক্ষ্য করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভাই শহীদ হয়েছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যাদের অনেকে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ তাদের সুস্থ হওয়ার আগেই তাদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার আবারও বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে।'
তিনি বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে চায় এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আমাদের এই প্রতিবাদ সারা বাংলাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আরও লক্ষ্য করছি, সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার মতো নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হতে হবে। আমরা মনে করছি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয় ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের যে অপচেষ্টা চলছে, সরকারকে সেখান থেকেও ফিরে আসতে হবে। ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।'
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা)নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে ১১ থেকে ১২তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০। প্রস্তাবিত বিধিমালায় তা বাড়িয়ে ৪০ নম্বর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ২৫ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ।
নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘ভাইভা বোর্ডের বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইভা বোর্ডের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘আবু সাঈদ মুক্ত, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ এবং ‘মেধা না কোটা? মেধা, মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে এতে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়বে। ভাইভা একটি ব্যক্তি-নির্ভর পরীক্ষা। ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের হাতে পরীক্ষার্থীর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকে। সেই ক্ষমতার যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনোভাবেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা তৃণমূল পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। এ পর্যায়ের নিয়োগে যদি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে, তাহলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী বেশি নম্বর পেয়েও যদি ভাইভায় কম নম্বরের কারণে পিছিয়ে পড়েন, তাহলে তার মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। অন্যদিকে লিখিত পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে ভাইভায় বেশি নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম আবর্তনের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. হাসান উদ্দিন এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মহিনুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও বিভাগের সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সংবর্ধনা পর্বে ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিদায়ী ব্যাচের উদ্দেশ্যে তাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বিদায়ী ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি ও আবেগঘন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য ও উজ্জ্বল উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। ডিন ও বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানকে দেশের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা ও গবেষণায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাই অংশ নেন।আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
খাবারের গামলায় পা, জবির ক্যাফেটেরিয়ায় স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘন
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। খাবার প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত বড় গামলার ওপর কর্মীদের পা রাখার পাশাপাশি রান্নাঘরের মেঝেতেই চলছে খাদ্য প্রস্তুতির কাজ। ফলে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের গুণগত স্বাস্থ্যমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘরের মেঝেতে বড় ধাতব গামলায় খাবার প্রস্তুতের কাজ চলছে। এর পাশেই বসে আছেন কয়েকজন কর্মী। তাদের একজনকে খাবার প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত গামলার ওপর পা রেখে বসে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের মেঝেতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও রান্নার উপকরণ।
এছাড়াও রান্নাঘরের সার্বিক পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। খাবার তৈরির সরঞ্জাম, খাদ্যসামগ্রী ও মেঝের ব্যবহারের ধরন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। প্রতিদিন এই ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করেন। অনেক শিক্ষার্থীই ক্লাস ও পরীক্ষার ফাঁকে ক্যাম্পাসের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ওপর নির্ভর করেন। ফলে খাবার প্রস্তুতের স্থান ও প্রক্রিয়া স্বাস্থ্যসম্মত না হলে তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান ও পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস নয়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘর নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত এবং খাবারের মান নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী শওকত হাসান দীপ্ত বলেন, “আসলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কপালে যেন দুঃখ ছাড়া আর কিছুই নেই। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছি, সেটার মান ও প্রস্তুতপ্রক্রিয়া নিয়ে যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা চাই, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, “বিষয়টি দেখার পর আমরা ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মাসুদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিব্রতকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে এ ধরনের বিষয় আর দেখা যাবে না। খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়েও তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। খাবারের মান আরও উন্নত করার জন্য আমরা ক্রমাগত চেষ্টা করছি। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার সাশ্রয়ী রাখতে গিয়ে বিষয়টি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আজকের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক কে. এ. এম. রিফাত হাসান বলেন, “আমরা আসলে ছবিটা দেখেছি। তবে ছবিটি এআই জেনারেটেড কি না, নাকি সত্যিকার ছবি এবং ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেছে কি না এগুলো আমরা আগে তদন্ত করে দেখব। যদি ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের একটি খাদ্যের মান ও উন্নয়ন কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যেভাবে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।”
এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। আমার কর্মচারীরা এভাবে খাবার প্রস্তুত করছে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। হঠাৎ কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেটিও আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”