গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নসহ শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার এর সভাপতিত্বে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা জামিল আহমেদ, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, উপজেলা তথ্য আপ ছোয়া তামান্না, আইটি এক্রপার্ট তাওহিদ, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লবণ বোঝাই বলগেট ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে লবণ বোঝাই একটি বলগেট ডুবে মো. সাবের (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বলগেটে থাকা আরও সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাতিয়া-সন্দ্বীপের মাঝামাঝি রোহিঙ্গা চরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জাহাজ চ্যানেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সাবের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার আবু আলীর ছেলে। তিনি ডুবে যাওয়া বলগেটের বার্বুচি ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, বুধবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে লবণ বোঝাই এমভি তানিম হাতিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে হাতিয়া-সন্দ্বীপের মাঝামাঝি রোহিঙ্গা চরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জাহাজ চ্যানেলে পৌঁছালে বলগেটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বলগেটটি ডুবে যায়। পরে কাছাকাছি থাকা মাছ ধরার ট্রলারের সহযোগিতায় বলগেটে থাকা আট মাঝি-মাল্লাকে উদ্ধার করে তীরে নেওয়া হয়।
তবে সাগর উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনাকবলিত বলগেটটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। দুপুরের দিকে বার্বুচি মো.সাবেরকে চট্টগ্রামে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ ফয়সাল বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এসময় একটি বোটসহ ৫ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন।
আটকরা হলেন, হাতিয়া বাজার এলাকার আব্দুল ওহাব (১৯), হানিফ (২৬), আবুল মোর্শেদ (২৭), চৌরুঙ্গী আল আমিন সমাজের পারভেজ উদ্দিন (২৬) এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর খাজা মার্কেট এলাকার পলাশ (১৮)।
কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে হাতিয়ার বাংলা বাজার খেয়াঘাট এলাকার মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বোটের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটির গতিরোধ করা হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বিএডিসি সিল দেওয়া ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য ৮ লাখ টাকা। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় বোটটিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানান, আটকদের বিরুদ্ধে পণ্য পাচারের ঘটনায় মামলা করে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মো. রাব্বী (২৭)
ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটার দোকানের ভেতরে ঢুকে মো. রাব্বী (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বী মাসকান্দা এলাকার হাইস্কুল রোডের মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে পড়ার পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসের সামনে কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি হামলা চালালে রাব্বী আত্মরক্ষার্থে নিজের দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা পিছু নিয়ে সেখানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।
কোতোয়ালী মডেল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় সাব্বির ও তাঁর ভাই জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
সিলেট নগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক আসামি বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। ছোরাটিতে রক্তের দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ওই রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের মিল খোঁজা হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত উদ্ধারের বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মিয়া রায়নগরের একটি খালি জায়গায় ছোরাটি ফেলে দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে খোঁজাখুঁজি করেও ছোরাটি পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে ওই এলাকায় আবার তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠাব। ছোরায় থাকা রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে কার রক্ত সেখানে রয়েছে, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তিনি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ছোরাটি ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণে ধারণা পাওয়া গেছে। বাসার বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছোরার ধাতব অংশেও শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে। এছাড়া একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।
উপ পুলিশ কমিশনার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া যে ধরনের ছোরার কথা বলেছিলেন, উদ্ধার করা ছোরাটির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। বাবুল মিয়া রংমিস্ত্রির পাশাপাশি কসাইয়ের কাজ করেন। কসাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি সাধারণত শক্ত ও মজবুত হয় বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সে আমাদের বলেছিল, ছুরিটি ছয়-সাত ইঞ্চি লম্বা হতে পারে এবং কাঠের হাতল থাকতে পারে। উদ্ধার করা ছোরাটির সঙ্গে তার দেওয়া বর্ণনার যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমের সম্পর্ক নাকি সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, রং করার কাজ করতে গিয়ে নিহত গৃহকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। তাদের মধ্যে সম্পর্কটি প্রেমের পর্যায়ে গিয়েছিল কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আটক বাবুল মিয়ার বরাত দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, গৃহকর্মীর কোনো আচরণে বাবুল মিয়া ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি ছুরি নিয়ে ওই বাসায় গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে গৃহকর্মীকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গৃহকর্ত্রী এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে গৃহকর্তা এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পর বাসায় প্রবেশের সময় দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বাবুল মিয়া যে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, সেখানকার রেলিংয়ে হাতের ছাপ ও পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। নিচেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় বাবুল মিয়া ছাড়া অন্য কেউ ওই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিন। হত্যাকাণ্ডের পর বাসার কয়েকটি ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়া গেলেও সেগুলো ভাঙা ছিল না বলে জানান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সেখান থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন পাতার একটি দলিলসদৃশ কাগজ পাওয়া গেছে। সেটি মূল দলিল নয়, সম্ভবত ফটোকপি বা অনুলিপি। এর সঙ্গে কোনো মামলা বা সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসায় আগে রং করার কাজ করায় ঘরের ভেতরের পরিবেশ ও বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে তার ধারণা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন বাসাভাড়া দিতে পারছিলেন না বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বাসাভাড়া পরিশোধ করেছেন কি না এবং ঘটনার পর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।
মামলার বিষয়ে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানদের একজন বা একাধিকজন দেশে এসে আইনজীবী ও স্বজনদের মাধ্যমে এজাহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজাহার পাওয়া গেলে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে এবং আটক বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হবে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এরপরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলমান প্রক্রিয়ার ২য় সপ্তাহের ২য় দিনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আশেকপুর জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ে "যুব সমাজের নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা" ও স্বেচ্ছাসেবার গুরুত্ব শীর্ষক সচেতনতামূলক সেমিনার ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তানভীর হাসান খান রুবেল বলেন, একটি সুন্দর, মানবিক পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জোবায়দা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক আছিয়া আক্তার, কামরুন নাহার, হোসাইন আকন্দ, আব্দুর রহিম, নজরুল ইসলাম, সজল চন্দ্র আর্য্য, বুলবুল আহমেদ, রুপা মোষ, সম্পা দে,ফরিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক মোহিদুল ইরলাম মোহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ মিয়া, সদস্য মোঃসিয়াম।
এছাড়াও সংগঠনের সকল পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
একসময় নাট্যমঞ্চে উঠতেন তিনি। করতেন অভিনয়, যুক্ত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। ছাত্রজীবনে রাজনীতির উত্তাল স্রোতেও ছিলেন সক্রিয়।
এরপর শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব। জীবনের প্রতিটি বাঁক পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সামনে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
নাট্যমঞ্চ থেকে রাজনীতির মঞ্চ
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প শুধু দলীয় পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনি রাজনীতির গল্প নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা, শিক্ষকতা এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।
ছাত্রজীবনেই তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তার ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। পরে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও তার মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতার ছাপ থেকে যায়।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি শৈশব-কৈশোর থেকেই সমাজ ও সংস্কৃতির নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান তিনি।
ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন মির্জা ফখরুল। সেখান থেকে অর্জন করেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
মির্জা ফখরুলই হলেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী
ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একদিকে নাট্যমঞ্চ, অন্যদিকে রাজনীতির উত্তাল রাজপথ-দুই ভিন্ন জগতের অভিজ্ঞতা নিয়ে গড়ে উঠতে থাকেন তরুণ মির্জা ফখরুল।
শিক্ষকতা থেকে সক্রিয় রাজনীতি
শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন তিনি।
পরাজয় পেরিয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও থেমে যাননি মির্জা ফখরুল। ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হারালেও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দলটির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে রাজপথ ও গণমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।