• প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২০ পিএম

জুলাই মাসে থানা পুলিশের সামগ্রিক কার্যক্রমে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শিবিরুল ইসলাম


সোমবার (১০ আগস্ট)  ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। গত জুলাই ২০২৬ মাসে থানাগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান, জনবান্ধব পুলিশিংসহ সার্বিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে তাকে জেলার সেরা অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মনোনীত করা হয়।


এ সময় পুলিশ সুপার তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্মাননা গ্রহণ শেষে অফিসার ইনচার্জ শিবিরুল ইসলাম বলেন,এই স্বীকৃতি শুধুমাত্র আমার একার নয়, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের আস্থা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।


তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং পুলিশ-জনতা সমন্বয়েই নিরাপদ সমাজ গড়ে উঠবে।




আব্দুল হক

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার চতুর ঋণ খেলাপী আব্দুল হক কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 


আজ সোমবার সদর মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট এলাকা থেকে নবীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুল হক সদর উপজেলার হাবলাউচ্চ গ্রামের শেখ বাড়ির মৃত তালেব আলী ছেলে।  


আব্দুল হক ২০২৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণ গ্রহণ করার পর থেকে তিনি ব্যাংকের সাথে কোনো যোগাযোগ না করে পালিয়ে বেড়াতেন বিভিন্ন জায়গায়। ২০২৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে ঋণ খেলাপীর দায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আব্দুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 


আদালত একমাত্র আসামী মোঃ আব্দুল হকের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। তিনি দীর্ঘ সময় পলাতক থাকায় পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট থেকে নবীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। একটি সুত্র জানান আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুলকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে।


ক্যাশলেস বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১০ পিএম

লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ স্লোগানে অগ্রণী ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ আগস্ট সোমবার শহরের ছয়আনি বাজার টাঙ্গাইল শাখা থেকে একটি বর্ণাঢ্য রোড শো শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অভিন্ন বাংলা কিউ আর (BANGLA QR) লেনদেনে এক অভিনব পদ্ধতির সচেতনতা বৃদ্ধিতে "রোড শো" আয়োজন করে অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি টাঙ্গাইল শাখা। 


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংকের অঞ্চল প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোঃ মনিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান রাসেল আহম্মেদ, আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোঃ মাহফুজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. নূর মোহাম্মদ রাজ্য, কালিহাতী থানা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন তুহিন, আঞ্চলিক কার্যালয় সহ টাঙ্গাইল শাখার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ও গ্রাহক শুভানুধ্যায়ীগণ। টাঙ্গাইল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান রাসেল আহম্মেদ বলেন, উদ্বুদ্ধ করনের জন্য অগ্রণী ব্যাংকের এমডি স্যার, ডিএমডি রুবানা ম্যাডাম, জিএম স্যারকে  আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। 


"Bangla QR  এ লেনদেন করি ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ি" এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে "ক্যাশলেস বাংলাদেশ" বিনির্মানে এই আয়োজন। এক দেশ এক QR লেনদেন "Bangla QR"। ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অগ্রণী ব্যাংক। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনে প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি। বাংলা QR এর সবচেয়ে বড় সুবিধা একটি অভিন্ন কিউআর কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানির লেনদেন করতে পারে। 


নগদ টাকা বিহীন ব্যবসায়িক লেনদেন এবং কেনাকাটায় বিশ্বস্ত সহযোগী। গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অভ্যস্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপদ ও দ্রুত লেনদেনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকিং সেবায় যেমন গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ছে, তেমনি ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনেও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসারে অগ্রণী ব্যাংক টাঙ্গাইলের এ উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধস

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

দেড় যুগের ধারাবাহিকতা ভেঙে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধস নেমেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে পাসের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। 


তবে পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এবার ৩ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২টি।


আজ সোমবার সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এ ফল ঘোষণা করেন। এ সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।


সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বোর্ডের এসএসসি ফলাফলে পাসের হার ছিল তুলনামূলক ভাবে কম। ২০০১ সালে পাসের হার ছিল মাত্র ৩৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র দুজন। ২০০২ সালে পাসের হার বেড়ে হয় ৪১ দশমিক ৯৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পায় ১৮ জন। ২০০৩ সালে পাসের হার ছিল ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পায় ১০ জন। ২০০৪ সালে পাসের হার ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পায় ৩৪৮ জন। ২০০৫ সালে পাসের হার আবার কমে দাঁড়ায় ৪৮ দশমিক ৪৭ শতাংশে; জিপিএ-৫ পায় ৪৭৩ জন। 


এরপর ধীরে ধীরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসে। ২০০৯ সালে পাসের হার এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়ে হয় ১ হাজার ৮৯৬। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও পাসের হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৬ দশমিক ০৬, ২০২৪ সালে ৭৩ দশমিক ৩৫ এবং ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা আরও কমে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ গত পাঁচ বছর ধরেই সিলেট বোর্ডে পাসের হার কমার প্রবণতা ছিল। এবার সেই পতন আরও তীব্র হয়েছে। পাসের হারে বড় ধস নামলেও জিপিএ-৫-এর চিত্র পুরোপুরি বিপরীত। এবার ৩ হাজার ৮৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। 


এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৭৪৫ এবং মেয়ে ২ হাজার ৯১ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনেক এগিয়ে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৬৮৪ এবং মেয়ে ১ হাজার ৯২৪ জন।


মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন। তাদের মধ্যে ছেলে ২৪ এবং মেয়ে ৯৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন; এর মধ্যে ছেলে ৩৭ এবং মেয়ে ৭১ জন। গত কয়েক বছরের তুলনায় জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও অবশ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২২ সালে সিলেট বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ৫৬৫ জন। ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৪৫২, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৭১ এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৬১৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেখা গেছে মানবিক বিভাগে। এই বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের চেয়ে ফেল করেছে বেশি শিক্ষার্থী।


মানবিক বিভাগে এবার ৫৭ হাজার ৭৬০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২৭ হাজার ৮১৫ জন এবং ফেল করেছে ২৯ হাজার ৯৪৫ জন। ছেলেদের পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, আর মেয়েদের ৫০ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। 


বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, ইংরেজি ও গণিতে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে। এছাড়া দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতিও ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা। সামগ্রিক ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। এবার মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ। বোর্ডে এবার মোট ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। তাদের মধ্যে ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে এবং ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে।




পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, এবার পরীক্ষার্থীদের দুই বছরে দুই ধরনের সিলেবাসে পড়তে হয়েছে। এর প্রভাব ফলাফলে পড়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ইংরেজি ও গণিতে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় পরীক্ষা কঠোরভাবে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এ ছাড়া ইংরেজি ও গণিতে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতিও রয়েছে। দক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা গেলে ফলাফল আরও ভালো করা সম্ভব।


সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন চার জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে সিলেট জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এরপর মৌলভীবাজারে ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জে ৫৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার হবিগঞ্জে, ৫৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। সিলেট জেলায় ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষা দিয়ে ২২ হাজার ১৬০ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৩ জন। মৌলভীবাজারে ১৯ হাজার ৮৫৬ জনের মধ্যে ১১ হাজার ১০৩ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৫ জন। সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার ২৮৯ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৯৯৯ জন পাস করেছে। হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৮ হাজার ৬৯৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন।


এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল সাতটি। তবে এবার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেনি। সব মিলিয়ে, একদিকে পাসের হার নেমে গেছে ১৮ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে, অন্যদিকে জিপিএ-৫ কিছুটা বেড়েছে।


সিলেট বোর্ডে এগিয়ে মেয়েরা

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে কমেছে পাসের হার। তবে বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।


সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্রী ৩২ হাজার ৬৮ জন এবং ছাত্র ১৯ হাজার ৮৮৯ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি-দুই ক্ষেত্রেই এবার এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।


সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। যেখানে মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে মেয়েরা। মোট ৩ হাজার ৮৩৬টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে মেয়েরা পেয়েছে ২ হাজার ৯১টি এবং ছেলেরা পেয়েছে ১ হাজার ৭৪৫টি।


২০২৫ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। এর আগে ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। একই সঙ্গে এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন।


সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সিলেট জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন পাসের হার সুনামগঞ্জ জেলায়- ৫৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। শিক্ষকদের মতে, বিভাগের দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত শিক্ষকের ঘাটতিও বিভাগের ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।


এদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবেই ভালো ফলাফলকে দেখছেন অভিভাবকেরা। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।


দই ভাই

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকায় বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও বাজারে ‘দই ভাই’ নামে বিক্রি হচ্ছে দই। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের সুড়িরমোড় এলাকায় একটি বাড়িতে এ দই উৎপাদনের কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। 


তবে কারখানাটির বাইরে কোনো সাইনবোর্ড বা প্রতিষ্ঠানের নামফলক দেখা যায়নি। একই সঙ্গে কারখানাটির বিএসটিআই অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।


সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি বাড়িতে ‘দই ভাই’ ব্র্যান্ডের দই উৎপাদন করা হচ্ছে। সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পাওয়ার পর সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দেখা যায়। তবে কারখানাটির বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা বা অনুমোদনের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যায়নি।


কারখানার স্টাফ পরিচয়দানকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছি। ব্র্যান্ডিং ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র রয়েছে। তবে সেগুলো উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কাছে আছে।”


তবে কারখানাটির বিএসটিআই অনুমোদন রয়েছে কি না- এ বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট নথি বা অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। ফলে উৎপাদিত দইয়ের গুণগত মান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সরকারি অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয় ভোক্তা মো. লিখন বলেন, “আমরা বাজার থেকে ‘দই ভাই’ নামে দই কিনে খাই। কিন্তু কারখানার কোনো পরিচয় বা অনুমোদনের তথ্য না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।”


আরেক ভোক্তা শারমিন আক্তার বলেন, “খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান খাদ্য উৎপাদন করলে তা ভোক্তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”


এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. আহমেদ আলী শাহ বলেন, “একদিন কারখানাটি যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু ওইভাবে দেখা হয়নি।”


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নীলফামারী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শিহাব উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি শুনলাম এবং এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করতে পারেন।”


এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এদিকে সচেতন মহলের দাবি, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু ‘দই ভাই’ ব্র্যান্ডের  তই নয় বরং বাজারে এমন সকল পন্যের উৎপাদন কারখানার বৈধতা, বিএসটিআই অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অনুমোদনহীন উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী। তবে জেলার সেরা ফলাফল করেছে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শতভাগ পাসের পাশাপাশি এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫২ জন শিক্ষার্থী।


আজ সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। ফলে গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও বিদ্যালয়টি জেলায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।


দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী জিলা স্কুল। এ বিদ্যালয় থেকে ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।


প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালী জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৯.৯৮%, যা কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার (৬৫.৪২%) অপেক্ষা প্রায় ৫.৪৪% কম। তবে এ বছর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও পাশের হার অনেকটা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেখা যায় মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ১০ হাজার ৩৫৭ জন পাশ করেছে ৬ হাজার ৮ জন অন্যদিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ১৪ হাজার ৭২৬ জন পাশ করেছে ৯ হাজার ৩৮ জন। 


এর মধ্যে জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১হাজার২১৭ জন শিক্ষার্থী এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৪টি। গত বছর ও এ জেলায় পাশের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ যদিও এ বছর কিছুটা বেড়েছে।


এ দিকে জেলাভিত্তিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যেখানে পাশের হার ৬৮.৬৮% হলেও জিপিএ-৫ সর্বোচ্ছ ৬৩০টি পেয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা। ফলাফল খারাপ করেছে হাতিয়া উপজেলা যার পাশের ৪৮.৭০ শতাংশ।


নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করার ব্যাপারে বলেন, শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সঠিক তত্ত্বাবধায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তীব্র নজরধারী ও তাদের কঠোর অধ্যাবসায়ই এ সাফল্যের মূল কারণ। তিনি বলেন গত বছরেও এই বিদ্যালয়টি জেলায় ফলাফলে শীর্ষস্থানে ছিল। আগামী বছরেও ফলাফল শতভাগ করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে পাঠদান করানো হবে।