ভালুকায় ২২ একর বনভূমি উদ্ধার

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫৫ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ি মৌজায় সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করে বনায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বন বিভাগ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভিযান পরিচালনা করে তিনটি দাগে প্রায় ২২ একর বনভূমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড়শ কোটি টাকা, উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব জমিতে শাল, গর্জন ও চাপালিশ প্রজাতির ২০ হাজার চারা রোপণের মাধ্যমে বনায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে।


বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা ইফাজ মোর্শেদ সাহিলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হবিরবাড়ি মৌজার ১৮৫ নম্বর দাগে ভালুকা রেঞ্জ অফিসের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের ওরিয়ন গ্রুেপের দখলে থাকা প্রায় চার একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এ জমির আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা।


এ ছাড়া একই মৌজার ১৫৪ নম্বর দাগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের তিন একর এবং ৭১৭ নম্বর দাগে প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে তিনটি দাগ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২২ একর বনভূমি।


বন বিভাগ জানায়, বনভূমি উদ্ধারের পর শুধু দখলমুক্ত করেই কার্যক্রম শেষ করা হয়নি। উদ্ধার করা জমিতে দেশীয় প্রজাতির শাল, গর্জন ও চাপালিশের ২০ হাজার চারা রোপণ করে বনায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে একদিকে সরকারি বনভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে, অন্যদিকে নতুন করে সবুজ বনাঞ্চল সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর যোগসাজশে রেঞ্জ অফিসের সামনের বনভূমির প্রায় চার একর জায়গা একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যায়। দীর্ঘদিন পর বন বিভাগ ওই জমি উদ্ধার করে সেখানে বনায়ন করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।


হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা ইফাজ মোর্শেদ সাহিল বলেন, সরকারি বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে উদ্ধার হওয়া ২২ একর বনভূমিতে দেশীয় প্রজাতির ২০ হাজার চারা রোপণের মাধ্যমে বনায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, “বনভূমি শুধু দখলমুক্ত করাই নয়, উদ্ধার করা জমিকে আবার সবুজ বনাঞ্চলে ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি বনভূমি সংরক্ষণে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও বনভূমি দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।”


স্থানীয়দের মতে, বনভূমি উদ্ধারের পাশাপাশি সেখানে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করায় উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বন বিভাগের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভালুকার হারিয়ে যেতে বসা বনভূমি সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



এক জালেই উঠে এলো ৪৬ মণ ইলিশ, কত টাকায় বিক্রি

উপকূলের জেলেদের মধ্যে আনন্দ


কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলারের জালে একটানে ৪৬ মন ইলিশ ধরা পড়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ পিএম

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। নিলামে এসব ইলিশ প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। হঠাৎ এত পরিমাণ ইলিশ মাছ ধরা পড়ার খবরে দীর্ঘদিন পর এ উপকূলের জেলেদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।


মাছ ধরার ওই ট্রলারের মালিক জেলে আলমগীর মাঝি। ইলিশ ধরার সময় তিনি নিজেও ট্রলারে ছিলেন। আলমগীর মাঝি বলেন, গত বৃহস্পতিবার পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তাঁর মালিকানাধীন এফবি জুনাইদ নামের ট্রলারটিতে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ইলিশবোঝাই ট্রলারটিসহ তাঁরা মহিপুর মৎস্যবন্দরে পৌঁছান। এখানকার মনোয়ারা ফিশ নামের মাছের আড়তে নিলাম ডাকের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।


এফবি জুনাইদ ট্রলারের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছি। এইডা বড় খুশির খবর। একবার জাল ফেলতেই ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়া কম কতা নয়। দীর্ঘদিনের যে লোকসান, এত মাছ ধরা পড়ায় হেইডা কাডাইয়া উঠতে পারমু।’


মনোয়ারা ফিশের ব্যবস্থাপক সগির আকন জানান, ওই ট্রলারে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ছিল ২৪ মণ। প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ২ হাজার ৮৭৫ টাকা) দরে তাঁরা কিনে নিয়েছেন। এতে ২৪ মণ ইলিশের দাম পড়েছে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ তাঁরা প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে (প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা) তাঁরা কিনেছেন। এতে ২২ মণ ইলিশের দাম পড়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ তাঁরা কিনেছেন ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।


সগির আকন বলেন, ‘এ বছর ইলিশের দাম বিগত বছরের চাইতে অনেক বেশি। বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি থাকায় ৪৬ মণ ইলিশ ধরা জেলেরা ভালো মূল্য পাইছে।’


কলাপাড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সাগরে ইলিশ প্রাপ্তির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। তবে জেলেদের জালে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়বে।  যত বেশি পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে, জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান তত হবে।


সাগরে আগের চেয়ে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। কমছে ইলিশের উৎপাদন। এতে জেলেদের রুটিরুজিতে টান পড়ছে। এর মধ্যে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরার খবর জেলেদের জন্য সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন মো. বখতিয়ার রহমান। তিনি ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী।


বখতিয়ার রহমানের ভাষ্য, এ ঘটনা যেসব জেলে সাগরবক্ষে দিনরাত কাটান, অন্তত তাঁদের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে। তবে এক দিনে এত বেশি পরিমাণ মাছ আহরণ সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখা যাবে না। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে মাছের আমদানি দেখে মূল্যায়ন করা যাবে। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।










ফেনীতে ছয়তলা ভবনের পাঁচতলার জানালার সরু কার্নিশে আটকাপড়া মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম

১২ বছরের ইয়াসমিন আক্তারের মাদ্রাসায় যেতে ছিল অনিচ্ছা। তবুও সকালে খালাতো ভাই তাকে ফেনী শহরের হাজারী রোডের দারুল নাজাত মহিলা মাদ্রাসায় দিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ভবনের জানালার কার্নিশে আটকা পড়ে সে। 


পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। শনিবার দুপুরে হাজারী রোডের দারুল নাজাত মহিলা মাদ্রাসা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ইয়াসমিন আক্তার ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর এলাকার দুবাইপ্রবাসী আবদুস শুক্কুরের মেয়ে। সে দারুল নাজাত মহিলা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।


স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইয়াসমিন এর আগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে। সম্প্রতি তার মা জেসমিন আক্তার তাকে দারুল নাজাত মহিলা মাদ্রাসায় এনে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করেন। তবে মাদ্রাসায় পড়াশোনার প্রতি তার অনিচ্ছা ছিল। এজন্য এর আগেও সে মাদ্রাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছে। শনিবার সকালে ইয়াসমিনকে তার খালাতো ভাই মাদ্রাসায় দিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে ভবনের একটি জানালার কার্নিশে উঠে পড়ে। একপর্যায়ে সেখানে আটকা পড়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।



ফেনী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, দুপুর ১২টার দিকে একটি পাঁচতলা ভবনের কার্নিশে এক শিশু আটকে থাকার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ারফাইটার আবদুল্লাহ আল মামুন শিশুটিকে নিরাপদে কার্নিশ থেকে নিচে নামিয়ে আনেন। পরে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।



মাদ্রাসার মুহতামিম (মাদ্রাসা প্রধান) বলেন, ছয় মাস আগে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। তার মাদ্রাসায় পড়তে অনীহা ছিল। এ কারণে বেশ কয়েকবার সে বাড়ি চলে যায়। আজ তাকে আবার মাদ্রাসায় দিয়ে যাওয়ার পর পালাতে চেষ্টা করলে পাঁচতলার কার্নিশে আটকা পড়ে। ঘটনার পরপরই ছাত্রীর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।


ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাহের হোসেন বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ওই ছাত্রীকে তার স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। এরপরও প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।



সাংবাদিক শেখ রাজিব হাসান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

আনন্দ টেলিভিশনের গাজীপুর সিটি রিপোর্টার ও টঙ্গী প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক শেখ রাজিব হাসান (৩৫) আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


শেখ রাজিব হাসান গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের টেকবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং আঃ রাজ্জাকের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।


জানা যায়, গত ২১ জুলাই অটোরিকশায় যাওয়ার সময় একটি পিকআপ গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক শেখ রাজিব হাসান। দুর্ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।


শেখ রাজিব হাসানের অকাল মৃত্যুতে গাজীপুর ও টঙ্গীর সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


সহকর্মীরা জানান, শেখ রাজিব হাসান পেশাগত দায়িত্ব পালনে ছিলেন আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক দুর্ভোগ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ একজন সহকর্মী ও প্রিয় মানুষকে হারিয়েছে।


শনিবার বাদ আসর এরশাদনগর সংলগ্ন টেকবাড়ি মসজিদে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।


মৃত্যুকালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সী এই সাংবাদিক চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও শূন্যতা।শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রার্থনা করে যে, হে মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুম শেখ রাজিব হাসানের জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্য করা হয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।


শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে ওসমানীনগরের কাশিকাপুর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় মোট ৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। 


জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর একজনকে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এছাড়া নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কটি ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকদের বেপরোয়া গতি অথবা গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক ধারণা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। 


তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট বিষয় ও সম্ভাব্য দায় নিরূপণে তদন্ত কমিটি কাজ করবে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীনদের দেখতে শনিবার সকালে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ পিএম

গাইবান্ধার ৩ উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।


শনিবার ( ৮ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌ পথে সরেজমিনে সদরের চিথুলিয়া- দিগড় , ফুলছড়ির জিগাবাড়ী ও উড়িয়া এবং সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ও লাল-চামার এলাকার বন্যা ও নদীভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।


এরপর ফুলছড়িতে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন কালে দক্ষিণ কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় স্থানীয়দের উদ্দেশ্য তিনি বক্তব্য রাখেন।

 

বক্তব্যতে তিনি অতীতের ফ্যাসিষ্ট সরকার কে দায়ী করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার এ এলাকায় নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। নদী ভাঙ্গন রোধের নামে শুধু লুটপাট চালিয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বাড়িঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।


তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গন যেখানেই হবে সেখানেই জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দেওয়া হবে। গাইবান্ধার বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে একটিতে এক হাজার কোটি ও অপর আরেকটিতে আটশো কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে এই জেলায় নদী ভাঙ্গন থাকবে না।   


তিনি আরো বলেন, আগামী চার বছরের ভিতরে পানি সম্পদ মন্ত্রনায় ৯৬ টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় দুটি বৃহৎ প্রকল্প রয়েছে । যা অতিদ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।


এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে আটান্নটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করার জন্য। সেই সাথে  আগামী দু এক দিনের ভিতরে জিও ব্যাগ দিয়ে আপদ কালীন নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারের নানা উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। 


এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি-সাঘাটা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহ কুমার কুন্ড, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩১ পিএম

মেহেরপুরের গাংনীতে ১০টি ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তু ও পাঁচটি ল্যান্ডমাইনের বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ের বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার পরিত্যক্ত জমিতে স্থানীয়রা মাইনসদৃশ কয়েকটি বস্তু দেখতে পান।


পরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবুল মালিথার ছেলে কাঁদো মালিথা নিজজমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। এসময় মাটির নিচে ধাতব আকৃতির কয়েকটি বস্তু দেখতে পান।


পরে আরো খোঁড়াখুঁড়ি করলে একে একে মোট ১০টি ল্যান্ডমাইন সদৃশ বস্তু এবং পাঁচটি ল্যান্ডমাইনের খালি বক্স উদ্ধার হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে স্থানীয়রা গাংনী থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে এলাকা নিরাপত্তার আওতায় নেয়।


বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে সক্রিয় ল্যান্ডমাইন কি না, নাকি পুরনো বা নিষ্ক্রিয় বিস্ফোরক, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


এ কারণে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা করার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এগুলো ল্যান্ডমাইন কি না।’