বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বর্ষাকে বিদায় জানাতে ‘মেঘ বলছে যাব যাব’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন করেছে টিম উৎসব। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বাংলার সংস্কৃতি, বর্ষার সৌন্দর্য, লোকঐতিহ্য ও তারুণ্যের সৃজনশীলতাকে একসূত্রে ধারণ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজনকে ঘিরে টিএসসি প্রাঙ্গণে বসে ১২টি স্টল। এসব স্টলে বিভিন্ন ধরনের খাবার, জুয়েলারি ও কসমেটিকসসহ নানা পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল নাচ, গান ও নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসব আয়োজন ঘিরে বিকেল থেকেই টিএসসি মুক্তমঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস। অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক ও পারফিউম প্যারাডাইস। গিফট পার্টনার হিসেবে রয়েছে রেট্রো সিন্ডিকেট ও সরাইখানা সেরাভিক্সসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুষ্ঠান দেখতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘টিম উৎসবের আগের আয়োজনগুলোও আমি দেখেছি এবং সেগুলো বেশ ভালো লেগেছিল। তাদের আয়োজনে একটি সুন্দর পরিকল্পনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। সেই ভালো লাগা থেকেই আজকের আয়োজনটি দেখতে এসেছি। ক্যাম্পাসে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
আয়োজনের নামকরণ প্রসঙ্গে টিম উৎসবের সাধারণ সম্পাদক যাহ্'রা তাসনীম আদিবা বলেন, ‘প্রথম শুনলে মনে হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের কোনো বিখ্যাত গানের লাইন লিখতে গিয়ে আমরা হয়তো ভুল করেছি। আসলে বিষয়টি এমন নয়। আজ বাংলা ২৬ শে শ্রাবণ। শ্রাবণও প্রায় শেষের দিকে। সেই ভাবনা থেকেই রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত লাইনটিকে একটু পরিমার্জন করে আমাদের অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজন কিছুটা কমে এসেছে। তাই আমরা চেষ্টা করছি একটি সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে। আমরা আশাবাদী, এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আবারও একটি সুন্দর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের পাঁচ শিক্ষার্থী ভারতের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যাপ্লাইড এথোলজি (আইএসএই) আয়োজিত ৫৯তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে তারা পৃথকভাবে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডা অঞ্চলের গৌতম বুদ্ধ ইউনিভার্সিটিতে পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার (১০ আগস্ট) শুরু হওয়া সম্মেলনটি চলবে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। এতে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ, প্রাণীর আচরণ এবং এ-সংশ্লিষ্ট গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘শেয়ারড ওয়ার্ল্ডস : এথোলজি ড্রিভেন অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কোএক্সিস্টেন্স’।
সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ড. সোলেমা আক্তার শান্তা, ডা. সিয়াম আহমেদ, ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক, ডা. তাসনিম বিনতে হাসান ও ডা. তাজিন খন্দকার। তারা প্রত্যেকে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাকৃবির পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে।
দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি গবেষণাপত্রগুলোর করেসপন্ডিং অথর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের সদস্য ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট এখানে অংশ নিচ্ছেন। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে বিশ্বমানের গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার এই সুযোগ আমার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একজন বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও ট্রাভেল গ্র্যান্ট পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের সহায়তা পাওয়া তাদের গবেষণার মান, সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।বিশ্বব্যাপী প্রাণিকল্যাণ বিষয়ক গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাকৃবির গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও দৃশ্যমান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও লোগো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। তিনি জানান, চারটি হলের ঘটনায় মোট ৪২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে হবে।
প্রক্টর বলেন, হলগুলো থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগ এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ঘটনাগুলো তদন্তে গঠিত দুটি কমিটিও কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আর তদন্তে কেউ সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। পরে ১ আগস্ট মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আরও পাঁচজন আহত হন। সর্বশেষ ২ আগস্ট রাতে চার হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়ান।
এসব ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের পাশাপাশি হলের গেট, জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক বাতিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর দায়ীদের শনাক্ত ও সংঘর্ষের কারণ উদ্ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা এ অবরোধ করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)-সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া ব্রিজে বাস ও মাহিন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ববি শিক্ষার্থীসহ অন্তত চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় তারা এ অবরোধ করেন।
দুর্ঘটনায় আহত ববি শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কের বেহাল অবস্থা ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার দাবি জানানো হলেও স্থায়ীভাবে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
ববি শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক এভাবে থাকতে পারে না। একটা জীবন গেলে প্রশাসনের টনক নড়ে, তারপর কিছুদিন নীরব থাকে। আবার ঘটনা ঘটলে প্রশাসন সক্রিয় হয়। এভাবে আমাদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—আহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচ ঢালাই করতে হবে, বিশেষ করে দপদপিয়া ব্রিজের সড়ক সংস্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সব দাবি-দাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করব এবং কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
ইবির ল’ অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটির নেতৃত্বে সুজন ও আরাফাত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন সচেতনতা মূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ল’ অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটির ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আল ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ল' অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ নাজমুল ইসলাম আরাফাত মনোনীত হয়েছেন।
আজ রবিবার (৯ আগস্ট) সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আল মোহিত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টা তামান্না ইসলাম ও সাবেক সভাপতি মো. তুহিন বাবু স্বাক্ষরিত এর বিজ্ঞাপ্তিতে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপ্তি সূত্রে জানা যায়, নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সাথে পরামর্শক্রমে গঠণতন্ত্র মোতাবেক আগামী সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে উপদেষ্টামন্ডলী বরাবর প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
দায়িত্ব পেয়ে নতুন সভাপতি নাঈমুর রহমান সুজন বলেন, ল অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারা দেশে আইনী সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে এবং আলোকিত মানুষ গঠনের মাধ্যমে একটি ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও নৈতিক সমাজ নির্মাণে সক্ষম হব।
নব্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম আরাফাত বলেন, ল' অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। এই সংগঠন শুধু আইনজ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং মানুষকে ন্যায়বিচার, অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করছে। আমি সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সকলে মিলে এগিয়ে গেলে এই যাত্রা হবে আরও অর্থবহ।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ল' অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটি' নামক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তরুণ-তরুণীদের মাঝে আইন বিষয়ক সচেতনতা তৈরি করতে এই সংগঠন কাজ করে চলেছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে তাদের আইনের প্রতি সচেতনতা ও মূল্যবোধ এবং আত্মিক উন্নয়ন মূলক কাজ করে থাকে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষকদের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘সন্ত্রাস রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সংহতি’ শীর্ষক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেইট সংলগ্ন কদমতলায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ, বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে লেজুরবৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীরা বুটেক্সে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করণের জন্য আন্দোলন করে। ফলশ্রুতিতে প্রশাসন ক্যাম্পাসে সকল ধরণের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
এছাড়াও তিনি অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শৃঙ্খলা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। বক্তব্যে তিনি ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান এবং শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে ক্লাসে ফিরে এসে সাংস্কৃতিক ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে সক্রিয় রাখার আহ্বান জানান।
হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ইহসান এলাহী সাবিক বলেন, আইন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষকদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের নৈতিক দাবির প্রতি সংহতি জানানো শিক্ষকদের দায়িত্ব। বুটেক্সকে সন্ত্রাস, হল দখল ও নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মুহা. ওসমান মাহদী বলেন, শিক্ষকরা আমাদের পিতার সমতুল্য। শিক্ষকরা আমাদের পাশে দাঁড়ানো প্রমাণ করে আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন এবং প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রদক্ষিণ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত ৬ আগস্ট বুটেক্স ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কর্তৃক বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার জন শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন। এঘটনার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিং সহ নানাবিধ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধ, প্রকাশ্য বাগ্বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে এবার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম ও প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন।
গত রোববার (২ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে দুই নেতার বিরুদ্ধে কী ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। বহিষ্কৃত দুই নেতা দাবি করেছেন, তাঁদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সেটিও জানানো হয়নি।
দুই নেতা নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের বহিষ্কারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্বের বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে বিরোধের একাধিক ঘটনা এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের তৎকালীন প্রভোস্ট ড. মো. তসলিম মাহমুদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হলের একটি আবাসিক আসনকে কেন্দ্র করে ওই বিরোধের সূত্রপাত। পরে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন হলের প্রভোস্ট।
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল আবদুল মালেক উকিল হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিনিকেতন এলাকায় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের সঙ্গে সংগঠনের এক নম্বর সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজনের হাতাহাতি হয়। পরে হলের সামনে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সাব্বির হোসেনকে চ্যাংদোলা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ওই ঘটনার পর সাব্বির হোসেনকে সংগঠনের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তবে সাব্বির হোসেনের দাবি, তিনি সাবেক উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর থেকেই সংগঠনের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি বর্তমানে ক্যাম্পাসের জুনিয়র ব্যাচের ১ যুগের ও বেশি সিনিয়র ও সাধারণ সম্পাদক শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী। তারপরও কেন্দ্রের সিদ্বান্ত অনুযায়ী আমরা তাদের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলো আয়োজন করে যাচ্ছিলাম।কিন্তু কমিটি দেওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের সভাপতি ও শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবকিছুকে স্বৈরাচারীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেছিলো।
তিনি আরোও বলেন, আমরা সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত সায়েম, প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন ও আমাদের অনুসারীদের নিয়ে আমাদের প্লাটফর্মটা দ্বার করাচ্ছিলাম।
শাওন আরোও বলেন, "নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতিকে ‘বুইড়া খাটাশ’ বলায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়"।
তিনি আরোও বলেন, "তবে এটুকু সত্য যে, আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কখনোই এমন কোনো কর্মকাণ্ডে একাত্ম হইনি, যা আমাদের দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। চাঁদাবাজি, প্রকৌশলীকে হুমকি-ধমকি প্রদান, শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অবৈধভাবে হলের সিট দখল, বৈধভাবে বরাদ্দকৃত সিট বাতিলের জন্য হল প্রভোস্টের ওপর চাপ প্রয়োগ, জনসম্মুখে কাউকে হেনস্তা করা কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা কখনো তাদের সঙ্গে ছিলাম না। তাদের সঙ্গে এসকল কর্মকান্ডে এক হতে না পারাই বহিষ্কারের কারণ হতে পারে"।
সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম বলেন, তাঁদের বহিষ্কারের আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সেটাও আমরা জানি না। আমাদের কাছ থেকে কোনো কিছু জানতেও চাওয়া হয়নি। হুট করেই বহিষ্কার করা হয়েছে।’
সায়েমের দাবি, নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটিকে ‘ভুজুংভাজুং কমিটি’ বলায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দুই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম তাদের দফায় দফায় সতর্ক করেছে। কমিটি দেওয়ার আট মাস হয়ে গেলেও এক দিনের জন্যও তারা কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি।’
জাহিদ হাসানের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠন ও কমিটিকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করার পাশাপাশি তাঁরা সংগঠনের নীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের নজরে ছিল।
শোকজ না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে নোটিশের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম অনলাইনে এবং বিভিন্ন মিটিংয়েও তাদের সতর্ক করেছে।’
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দায়িত্ব নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ না নিলে তাঁর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাখা ছাত্রদলে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদ হাসান। তাঁর ভাষ্য, ‘গ্রুপিং বা অন্তর্কোন্দল এগুলো আমাদের কোনো বিষয় নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অমূলক। এখানে ছাত্রদলের যথাযথ নেতৃত্বের মাধ্যমেই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে।’
তাঁর দাবি, বহিষ্কৃত দুই নেতা কার অনুসারী, সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক অভিযোগের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক মাসের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান বাধনকে শোকজ করা হয়েছিল। পরে তাঁদের তিন মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে শুধু ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় এবং বহিষ্কৃত নেতাদের শোকজ করা হয়েছিল কি না, তা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।