বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের পাঁচ শিক্ষার্থী ভারতের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যাপ্লাইড এথোলজি (আইএসএই) আয়োজিত ৫৯তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে তারা পৃথকভাবে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডা অঞ্চলের গৌতম বুদ্ধ ইউনিভার্সিটিতে পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার (১০ আগস্ট) শুরু হওয়া সম্মেলনটি চলবে আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। এতে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে প্রাণিকল্যাণ, প্রাণীর আচরণ এবং এ-সংশ্লিষ্ট গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘শেয়ারড ওয়ার্ল্ডস : এথোলজি ড্রিভেন অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কোএক্সিস্টেন্স’।
সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ড. সোলেমা আক্তার শান্তা, ডা. সিয়াম আহমেদ, ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক, ডা. তাসনিম বিনতে হাসান ও ডা. তাজিন খন্দকার। তারা প্রত্যেকে প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে একটি করে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাকৃবির পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে।
দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও এনিমেল ওয়েলফেয়ার ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি গবেষণাপত্রগুলোর করেসপন্ডিং অথর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের সদস্য ডা. আশিকুর রহমান কৌশিক বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২৩ জন আন্তর্জাতিক ডেলিগেট এখানে অংশ নিচ্ছেন। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাণিকল্যাণ বিষয়ে বিশ্বমানের গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার এই সুযোগ আমার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একজন বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ও ট্রাভেল গ্র্যান্ট পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের সহায়তা পাওয়া তাদের গবেষণার মান, সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।বিশ্বব্যাপী প্রাণিকল্যাণ বিষয়ক গবেষক, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্যতম বৃহৎ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাকৃবির গবেষণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও দৃশ্যমান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর খাবারের প্রধান ভরসাস্থল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক সময় পর্যটক ও বহিরাগতরাও খাবার খেতে আসে এখানে। তবে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামোগত সংকট এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সেবার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। গত বছর সংস্কারকাজ হলেও এক বছরের মধ্যেই আবারও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে ক্যাফেটেরিয়াটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুমের একাধিক কল ও পানির ট্যাপ নষ্ট হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান অনেকটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। এছাড়া রয়েছে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত ও ব্যবহারযোগ্য ওয়াশরুমেরও সংকট।
অন্যদিকে, খাবারের মান ও বৈচিত্র্য নিয়েও অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজ খাবার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার ঘটনাও ক্যাফেটেরিয়ার স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এনিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল কাজী বলেন, "মাঝেমধ্যে ক্যাফেটেরিয়ায় খেতে যাই। পরিবেশ খুব একটা ভালো না। আগে খাবারের বৈচিত্র্য ছিল, এখন এক-দুই ধরনের খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্যাকেজ খাবারও বন্ধ হয়ে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। খাবারের মান ও দাম কোনোটিই শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। অনেক সময় খাবার নেওয়ার সময় পাশেই মশা-মাছি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যায়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।"
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা সম্পা বলেন, “অনেক সময় দুপুরে ক্যাফেতে খাবার খেতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। কোনোদিন খাবারের মধ্যে মাকড়সার বাচ্চা, আবার কোনোদিন মাছের আঁশ পেয়েছি। এসব ঘটনার পর থেকেই ক্যাফের খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।”
ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজার ফরিদ উদ্দিন বলেন, "কল, বিদ্যুৎ, ওয়াশরুম ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কর্মকর্তারাও পরিদর্শনে এসেছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"
ক্যাফেটেরিয়ার আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ হারুন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। বিদ্যুতের সুইচ, লাইট ও পানির ফিল্টারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"
প্যাকেজ খাবার বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, "পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় শর্তসাপেক্ষে প্যাকেজ চালু ছিল। তবে স্টাফদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয় বহন না করায় পরিচালনাকারীদের লোকসান হচ্ছে। এ কারণেই তারা প্যাকেজ খাবার চালু রাখতে আগ্রহী নয়।"
খাবারের পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ম্যানেজারকে বারবার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে এবং কমিটির সদস্যদের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আবার বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জনবল সংকট থাকলেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, "ক্যাফেটেরিয়ার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে একটি কমিটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান উন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিছু লাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকি সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।"
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বর্ষাকে বিদায় জানাতে ‘মেঘ বলছে যাব যাব’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন করেছে টিম উৎসব। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বাংলার সংস্কৃতি, বর্ষার সৌন্দর্য, লোকঐতিহ্য ও তারুণ্যের সৃজনশীলতাকে একসূত্রে ধারণ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজনকে ঘিরে টিএসসি প্রাঙ্গণে বসে ১২টি স্টল। এসব স্টলে বিভিন্ন ধরনের খাবার, জুয়েলারি ও কসমেটিকসসহ নানা পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল নাচ, গান ও নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসব আয়োজন ঘিরে বিকেল থেকেই টিএসসি মুক্তমঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস। অ্যাসোসিয়েট স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক ও পারফিউম প্যারাডাইস। গিফট পার্টনার হিসেবে রয়েছে রেট্রো সিন্ডিকেট ও সরাইখানা সেরাভিক্সসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুষ্ঠান দেখতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘টিম উৎসবের আগের আয়োজনগুলোও আমি দেখেছি এবং সেগুলো বেশ ভালো লেগেছিল। তাদের আয়োজনে একটি সুন্দর পরিকল্পনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। সেই ভালো লাগা থেকেই আজকের আয়োজনটি দেখতে এসেছি। ক্যাম্পাসে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
আয়োজনের নামকরণ প্রসঙ্গে টিম উৎসবের সাধারণ সম্পাদক যাহ্'রা তাসনীম আদিবা বলেন, ‘প্রথম শুনলে মনে হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের কোনো বিখ্যাত গানের লাইন লিখতে গিয়ে আমরা হয়তো ভুল করেছি। আসলে বিষয়টি এমন নয়। আজ বাংলা ২৬ শে শ্রাবণ। শ্রাবণও প্রায় শেষের দিকে। সেই ভাবনা থেকেই রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত লাইনটিকে একটু পরিমার্জন করে আমাদের অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজন কিছুটা কমে এসেছে। তাই আমরা চেষ্টা করছি একটি সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে। আমরা আশাবাদী, এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আবারও একটি সুন্দর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও লোগো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। তিনি জানান, চারটি হলের ঘটনায় মোট ৪২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে হবে।
প্রক্টর বলেন, হলগুলো থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগ এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ঘটনাগুলো তদন্তে গঠিত দুটি কমিটিও কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আর তদন্তে কেউ সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। পরে ১ আগস্ট মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আরও পাঁচজন আহত হন। সর্বশেষ ২ আগস্ট রাতে চার হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়ান।
এসব ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের পাশাপাশি হলের গেট, জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক বাতিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর দায়ীদের শনাক্ত ও সংঘর্ষের কারণ উদ্ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা এ অবরোধ করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)-সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া ব্রিজে বাস ও মাহিন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ববি শিক্ষার্থীসহ অন্তত চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় তারা এ অবরোধ করেন।
দুর্ঘটনায় আহত ববি শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কের বেহাল অবস্থা ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার দাবি জানানো হলেও স্থায়ীভাবে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
ববি শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক এভাবে থাকতে পারে না। একটা জীবন গেলে প্রশাসনের টনক নড়ে, তারপর কিছুদিন নীরব থাকে। আবার ঘটনা ঘটলে প্রশাসন সক্রিয় হয়। এভাবে আমাদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—আহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচ ঢালাই করতে হবে, বিশেষ করে দপদপিয়া ব্রিজের সড়ক সংস্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সব দাবি-দাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করব এবং কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
ইবির ল’ অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটির নেতৃত্বে সুজন ও আরাফাত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন সচেতনতা মূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ল’ অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটির ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আল ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ল' অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ নাজমুল ইসলাম আরাফাত মনোনীত হয়েছেন।
আজ রবিবার (৯ আগস্ট) সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আল মোহিত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টা তামান্না ইসলাম ও সাবেক সভাপতি মো. তুহিন বাবু স্বাক্ষরিত এর বিজ্ঞাপ্তিতে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপ্তি সূত্রে জানা যায়, নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সাথে পরামর্শক্রমে গঠণতন্ত্র মোতাবেক আগামী সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে উপদেষ্টামন্ডলী বরাবর প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
দায়িত্ব পেয়ে নতুন সভাপতি নাঈমুর রহমান সুজন বলেন, ল অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারা দেশে আইনী সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে এবং আলোকিত মানুষ গঠনের মাধ্যমে একটি ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও নৈতিক সমাজ নির্মাণে সক্ষম হব।
নব্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম আরাফাত বলেন, ল' অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। এই সংগঠন শুধু আইনজ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং মানুষকে ন্যায়বিচার, অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করছে। আমি সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সকলে মিলে এগিয়ে গেলে এই যাত্রা হবে আরও অর্থবহ।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ল' অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটি' নামক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তরুণ-তরুণীদের মাঝে আইন বিষয়ক সচেতনতা তৈরি করতে এই সংগঠন কাজ করে চলেছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করে তাদের আইনের প্রতি সচেতনতা ও মূল্যবোধ এবং আত্মিক উন্নয়ন মূলক কাজ করে থাকে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষকদের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘সন্ত্রাস রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সংহতি’ শীর্ষক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেইট সংলগ্ন কদমতলায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ, বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে লেজুরবৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীরা বুটেক্সে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করণের জন্য আন্দোলন করে। ফলশ্রুতিতে প্রশাসন ক্যাম্পাসে সকল ধরণের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
এছাড়াও তিনি অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শৃঙ্খলা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। বক্তব্যে তিনি ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান এবং শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে ক্লাসে ফিরে এসে সাংস্কৃতিক ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে সক্রিয় রাখার আহ্বান জানান।
হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ইহসান এলাহী সাবিক বলেন, আইন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষকদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের নৈতিক দাবির প্রতি সংহতি জানানো শিক্ষকদের দায়িত্ব। বুটেক্সকে সন্ত্রাস, হল দখল ও নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মুহা. ওসমান মাহদী বলেন, শিক্ষকরা আমাদের পিতার সমতুল্য। শিক্ষকরা আমাদের পাশে দাঁড়ানো প্রমাণ করে আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন এবং প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রদক্ষিণ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত ৬ আগস্ট বুটেক্স ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কর্তৃক বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার জন শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন। এঘটনার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিং সহ নানাবিধ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।