সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পরপরই মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে জরুরি রদবদল আনা হয়েছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নীতি-নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার ছেড়ে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই দ্রুততম সময়ে নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও ত্রুটির পর গ্যাস সংকটের জন্য ক্ষমা চেয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ‘মোরাল সাপোর্ট’ চেয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে—এ বাস্তবতা তিনি বোঝেন। কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংক ঋণের সুদ ও শ্রমিকের বেতন চালিয়ে যাওয়ার চাপের বিষয়টিও তিনি জানেন। বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “মিটিংয়ের শুরুতেই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে আজকের যে সমস্যাটা, সে সমস্যাটার জন্য আমিসহ সবাই ভোগান্তির মধ্যে আছি।”
গভীর সমুদ্রে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টি মন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য, এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা সরকার “কল্পনাও” করেনি। টার্মিনালের পাশে থাকা আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যাওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশে থাকা দুটি এফএসআরইউর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু করার নাই। আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই।”
সংকট সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “এ সরকার জনগণের সরকার। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে বলে আমরা এখানে এসে সরকার গঠন করতে পেরেছি।”
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার ‘দিনরাত’ কাজ করছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “উই অল আর ভেরি সিরিয়াস।”
তবে এফএসআরইউ মেরামতের সময়সহ কিছু বিষয় ‘সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে তার ভাষ্য।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এখন এফএসআরইউ খারাপ হয়ে গেছে। এখানে তো আমি জোরজবরদস্তি করে বলতে পারব না। ইঞ্জিনিয়াররা যেভাবে আমাদেরকে বলবে, সেভাবেই হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি বয়লার সমন্বয় করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা সরকারকে জানিয়েছেন। ওই সময়ে গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।
গ্যাসের ঘাটতি সামলাতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ সচল হলে সেগুলো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানো যাবে।
টার্মিনালের পুড়ে যাওয়া তার বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কাস্টমসে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আলোচনায় শিল্পোদ্যোক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং ব্যাংকঋণের সুদের চাপের কথা তুলে ধরেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারীকরণ ও শিল্পায়নের শুরুর সময় তিনিও একজন শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তাই শিল্পের চাপ তার জানা আছে।
“আমি তো আপনাদেরই একজন। আপনাদের কষ্টটা আমার চেয়ে বেশি আর কে বোঝে? কারণ আমি জানি, আমরা যখন ইন্ডাস্ট্রি করছি, আমাদের এই ইন্টারেস্টের চাকা কীভাবে ঘুরছে।”
কারখানা বন্ধ থাকলেও যে সুদের হিসাব বন্ধ হয় না, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সবার ছুটি আছে, কিন্তু ইন্টারেস্টের ছুটি নাই। ছুটির দিনেও ইন্টারেস্ট বাড়তে থাকে।”
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তিনবার শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকার শিল্পের সংকট কাটাতে পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
“ইন্ডাস্ট্রি না চললে আমার ইকোনমিক গ্রোথ হবে কই থেকে? সুতরাং আমাদের জন্য শিল্পকে চালায়ে রাখা শিরোধার্য।”
শিল্প সচল রাখতে যা যা করা দরকার, সরকার তা করবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
বর্তমান সরকার যে পাঁচ বছরের জন্য এসেছে, সে কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “ইলেকশনে যদি জনগণ না নেয়, আমরা চলে যাব। এটা আমাদের অতীতে রেকর্ডও আছে।”
সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর বড় দুর্বলতাগুলো কমিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবারও ক্ষমা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, “এটা আমাদের ক্রিয়েট করার সমস্যা না। কিন্তু সরকার যখন দায়িত্ব নিয়েছি, দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের। সে দায়িত্ব অবহেলা করছি না। আমরা সবাই চেষ্টা করছি অতি দ্রুত যেন আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে পারি।”
ছবি : সংগৃহীত
লালদীঘির পাড় জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের বিপুল এই অর্থের ‘ঘাটতি’ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট দায়ের করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় এ মামলা করেন। এতে কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন।
এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে।
পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। কামরুল হোসেন ঘাটতির বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
মামলার এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের ছোট নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। এতে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকতো।
জাফরুল্লাহ তানভীর দেখাশোনা করার শর্তে ওই অর্থ বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামের একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।
মামলার আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি। ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে।
এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে যান’।
তিনি বলেন, রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে কোতোয়ালী থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে পুলিশ আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। আমার ছেলে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করতো।
ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন মাঝেমধ্যে তাকে লাভে টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ নিয়ে নিতেন। কিন্তু ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আমার ছেলের কাছে দেওয়া হয়েছিল-এমন কোনো প্রমাণ আমাদের দেখানো হয়নি। ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি’।
চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভল্টে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায় দেখেই বিষয়টি শেষ করা যাবে না। শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।
ছবি : সংগৃহীত
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে টার্মিনাল বসানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীও খোঁজা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে একটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে এভাবে আগুন লাগার বিষয়টি সরকার ‘কল্পনাও’ করেনি।
“এফএসআরওতে আগুন লেগেছে। লাগার পরে থেকে তো আমাদের এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে,” বলেন তিনি।
ওই ঘটনায় ক্ষতি আরও বড় হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, টার্মিনালের পাশে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ ছিল। আগুন লাগার পর সেটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া গেছে।
তিনি বলেন, দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। অন্যটি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।
ফলে ওই সময় গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু নাই।”
তবে লোডশেডিং যাতে কম হয় এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানান মন্ত্রী। টার্মিনাল সচল হলে দ্রুত এসব কার্গো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানোর আশা করছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দিয়েছে। আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
“পায়রা, তারপর মোংলা এবং হিরণ পয়েন্টের এই জায়গাগুলো আমরা স্টাডি করছি এবং ইনভেস্টরদেরকে আমরা ইনভাইট করছি।”
২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্য ধরার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে না, সেজন্য সঞ্চালন লাইনও দরকার হবে।
চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ বসালেও বিদ্যমান পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ সীমিত।
এ জন্য সমুদ্রের নিচ দিয়ে নতুন পাইপলাইন করে বাখরাবাদ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। বাপেক্সকে দিয়ে নতুন কূপ খনন শুরু করার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির জন্য আরও দুটি রিগ কেনার অর্ডার দেওয়ার কথা তিনি বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ভোলার গ্যাস কনটেইনারে করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেজন্য একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ৩০টি কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে কনটেইনারে গ্যাস সরবরাহের প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে কনটেইনার সরবরাহ করতে হলে সেগুলো চীনে তৈরি করে আনতে হবে।
এই ব্যবস্থা চালু করা গেলে শিল্পে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
রাতেও বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা
অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে বিদ্যুতের চাহিদার ‘ধরন’ বদলে যাওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকত। এখন মধ্যরাতেও চাহিদা বেশি থাকে। আগের দিন রাত ১২টার দিকে দেশে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল জানিয়ে এর কারণ হিসেবে রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার প্রবণতার কথা বলেন মন্ত্রী।
এসব বাহনকে ‘গরিবের টেসলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতে চার্জে বসে। এসব চার্জিংয়ের বড় অংশ অবৈধ সংযোগে চলে।”
অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
ব্যবসায়ীদের ‘কষ্ট’
আলোচনায় শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বাড়তি ডিজেল খরচ এবং ব্যাংকঋণের চাপের কথা তুলে ধরেন।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও একসময় শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তাই কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে যাওয়ার চাপ তিনি বোঝেন।
“আমি তো আপনাদেরই একজন। আপনাদের কষ্টটা আমার চেয়ে বেশি কে বোঝে?”
কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ যে বন্ধ থাকে না এবং শ্রমিকের যে বেতন দিতে হয়, সে কথা স্বীকার করে ব্যবসায়ীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান জ্বালানি মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
মন্ত্রী বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি যদি না চলে, তাহলে আমার ইকোনমির গ্রোথ হবে কই থেকে?”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।
বেসরকারি তেল আমদানির নীতিমালা হয়নি
বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আলোচনা নিয়ে নানা প্রচারের কথাও মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।
তিনি বলেন, সরকার কোনো কোম্পানিকে তেল আমদানির ব্যবসা দিয়ে দেয়নি। এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিমালা হয়নি।
“পলিসি হওয়ার আগে অমুককে দিয়ে দিয়েছি, তমুককে দিয়ে দিয়েছি, এই যে প্রচার…।”
মন্ত্রী বলেন, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই বেসরকারি খাতে তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বাজারজাতের নীতি করা হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি)
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য ও দলিলাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে এনআইডির আবেদন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে অনুমোদন কিংবা বাতিলের সময় সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএস) আবশ্যিকভাবে কারণ বা নোট উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই পরিপত্রে। এতে বলা হয়, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তাদের অধীন কর্মকর্তাদের সম্পন্ন করা কাজ নিয়মিত তদারকি করবেন। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। পরে একটি নির্দিষ্ট ছকে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালক (অপারেশন্স)-এর অভ্যন্তরীণ অ্যাকাউন্টে তা পাঠাতে হবে।
পরিপত্রে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্ম তারিখের সঙ্গে নিজ নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদনগুলো কেবল মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
এছাড়া কোনো নাগরিকের জন্মতারিখ, নিজ নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার আর সংশোধন করা যাবে না বলে পরিপত্রে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশনাবলি অনুসরণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেই শিগগির ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো কালবেলাকে বলছে, দুদেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই হবে দ্বিপক্ষীয় এ সফরের লক্ষ্য।
আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগেই এ সফর সম্পন্ন হতে পারে। এমনকি তারেক রহমান দিল্লি যেতে পারেন চলতি মাসেই। আর ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ না নিয়ে পাঠাতে পারেন প্রতিনিধি।
ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নয়াদিল্লি সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে দুদেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, গত দুই বছরে বৃহৎ এ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে তারেক রহমানের এ সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সিদ্ধান্তটি হবে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতায় এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব ও যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।
কূটনীতিকরা বলছেন, আগামী দিনে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধিশালী ও সুসম্মানজনক সম্পর্ক হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সহযোগিতার পথ সুগম হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানায় ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশ। এরই মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে তিনি ও তার দল আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অস্বাভাবিক এ সম্পর্ক শেখ হাসিনা ইস্যুতে টানাপোড়েনের পর্যায়ে চলে যায়। এর মাঝে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে ইট-পাটকেল ছোড়ার মতো ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা স্থগিত, বাণিজ্যে পারস্পরিক বিধিনিষেধ, হাসিনার ভারতে অবস্থান ও বক্তব্য প্রদান এবং কিছু কূটনৈতিক মন্তব্য নিয়েও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ ছাড়া রাজনৈতিক কিছু বক্তব্যের পাশাপাশি আরও কিছু ঘটনায় সম্পর্ক বাইরে বাইরে তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও ইতিবাচক করার সংকেত। চলতি বছরের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন। তখন দুপক্ষ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। এরপর ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু হয়, যাত্রীবাহী বাসসেবা পুনরায় শুরু হয় এবং জ্বালানি সংকটে ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করে। জুনে মন্ত্রী পদমর্যাদায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসেন সে দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। তার নিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করা হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক কিছু বিষয় বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়। গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে ফরেন করসপন্ডেন্ট ক্লাব আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাকিব আল হাসানও বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন দেখা যায়। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ জানিয়ে ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ উল্লেখ করে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে জানায়, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে এবং সেদেশের সরকার কোনোভাবেই এতে জড়িত নয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, উত্তেজনা কাটিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ এখন আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে আনতে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর তিনি জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার দাবি তোলা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমার পূর্ণ আস্থা আছে, দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা, যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্য লাভজনক হয়।’
তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসিতে ইস্যু থাকবে, ইস্যু না থাকলে ওটা ডেমোক্রেসি নয়। আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে; কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে, ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে তা দুদেশের জন্যই উইন-উইন সিচুয়েশন।’
বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।’ গত সোমবার গুরুত্বপূর্ণ এসব বৈঠক শেষে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ত্রিবেদী।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের বার্তা পৌঁছে দিতে নয়াদিল্লি যান তিনি। পরে মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চান, কীভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা যায়। আলোচনার মধ্যে যেন দুদেশের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। পাশাপাশি তিনি গঠনমূলক উপায়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মোদির দিকনির্দেশনা নেন।
এদিকে গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন কাটিয়ে স্বাভাবিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় সম্মেলনে ভারতে যাওয়ার চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর দুই দেশের জন্য বেশি কার্যকর হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি সরাসরি আলোচনায় বসতে পারবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন গঙ্গা চুক্তি নবায়নে রাজনৈতিক আলোচনা, তিস্তা নিয়ে আলোচনাসহ দুই বছরের বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, মানুষের যোগাযোগ সহজ করার মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি সম্ভব। হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতেও দুপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির সুযোগ থাকবে এ সফরে। ফলে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলছে সূত্রগুলো।
আবহাওয়া অধিদপ্তর
বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চল ও এর কাছাকাছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি বাড়তে পারে। রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। এর মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশেই মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং এর কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। যদিও খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এর আগে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। এর সঙ্গে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়। দেশের অন্তত ৯টি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে পাঁচ দিনে প্রায় এক হাজার ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
এদিকে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও ভ্যাপসা ভাব বেড়েছে। গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। এর আগের দিন দেশের তিনটি এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের অস্বস্তি বাড়ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমতে পারে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে জনজীবন ও নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।