নির্বাচন কমিশন (ইসি)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য ও দলিলাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে এনআইডির আবেদন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে অনুমোদন কিংবা বাতিলের সময় সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএস) আবশ্যিকভাবে কারণ বা নোট উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই পরিপত্রে। এতে বলা হয়, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তাদের অধীন কর্মকর্তাদের সম্পন্ন করা কাজ নিয়মিত তদারকি করবেন। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। পরে একটি নির্দিষ্ট ছকে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালক (অপারেশন্স)-এর অভ্যন্তরীণ অ্যাকাউন্টে তা পাঠাতে হবে।


পরিপত্রে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্ম তারিখের সঙ্গে নিজ নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদনগুলো কেবল মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।


এছাড়া কোনো নাগরিকের জন্মতারিখ, নিজ নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার আর সংশোধন করা যাবে না বলে পরিপত্রে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নির্দেশনাবলি অনুসরণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।


তিনি বলেছেন, পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে টার্মিনাল বসানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীও খোঁজা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে একটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে এভাবে আগুন লাগার বিষয়টি সরকার ‘কল্পনাও’ করেনি।


“এফএসআরওতে আগুন লেগেছে। লাগার পরে থেকে তো আমাদের এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে,” বলেন তিনি।


ওই ঘটনায় ক্ষতি আরও বড় হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, টার্মিনালের পাশে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ ছিল। আগুন লাগার পর সেটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া গেছে।


তিনি বলেন, দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। অন্যটি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।


ফলে ওই সময় গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু নাই।”


তবে লোডশেডিং যাতে কম হয় এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন জ্বালানিমন্ত্রী।


গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানান মন্ত্রী। টার্মিনাল সচল হলে দ্রুত এসব কার্গো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানোর আশা করছেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দিয়েছে। আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।


“পায়রা, তারপর মোংলা এবং হিরণ পয়েন্টের এই জায়গাগুলো আমরা স্টাডি করছি এবং ইনভেস্টরদেরকে আমরা ইনভাইট করছি।”


২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্য ধরার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে না, সেজন্য সঞ্চালন লাইনও দরকার হবে।


চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ বসালেও বিদ্যমান পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ সীমিত।


এ জন্য সমুদ্রের নিচ দিয়ে নতুন পাইপলাইন করে বাখরাবাদ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। বাপেক্সকে দিয়ে নতুন কূপ খনন শুরু করার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির জন্য আরও দুটি রিগ কেনার অর্ডার দেওয়ার কথা তিনি বলেন।


মন্ত্রী বলেন, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ভোলার গ্যাস কনটেইনারে করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেজন্য একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ৩০টি কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে কনটেইনারে গ্যাস সরবরাহের প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে কনটেইনার সরবরাহ করতে হলে সেগুলো চীনে তৈরি করে আনতে হবে।


এই ব্যবস্থা চালু করা গেলে শিল্পে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।


রাতেও বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা


অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে বিদ্যুতের চাহিদার ‘ধরন’ বদলে যাওয়ার কথা বলেন।


তিনি বলেন, আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকত। এখন মধ্যরাতেও চাহিদা বেশি থাকে। আগের দিন রাত ১২টার দিকে দেশে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল জানিয়ে এর কারণ হিসেবে রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার প্রবণতার কথা বলেন মন্ত্রী।


এসব বাহনকে ‘গরিবের টেসলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতে চার্জে বসে। এসব চার্জিংয়ের বড় অংশ অবৈধ সংযোগে চলে।”


অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।


ব্যবসায়ীদের ‘কষ্ট’


আলোচনায় শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বাড়তি ডিজেল খরচ এবং ব্যাংকঋণের চাপের কথা তুলে ধরেন।


জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও একসময় শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তাই কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে যাওয়ার চাপ তিনি বোঝেন।


“আমি তো আপনাদেরই একজন। আপনাদের কষ্টটা আমার চেয়ে বেশি কে বোঝে?”


কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংকঋণের সুদ যে বন্ধ থাকে না এবং শ্রমিকের যে বেতন দিতে হয়, সে কথা স্বীকার করে ব্যবসায়ীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান জ্বালানি মন্ত্রী।


তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।


মন্ত্রী বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি যদি না চলে, তাহলে আমার ইকোনমির গ্রোথ হবে কই থেকে?”


তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।


বেসরকারি তেল আমদানির নীতিমালা হয়নি


বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আলোচনা নিয়ে নানা প্রচারের কথাও মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।


তিনি বলেন, সরকার কোনো কোম্পানিকে তেল আমদানির ব্যবসা দিয়ে দেয়নি। এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিমালা হয়নি।


“পলিসি হওয়ার আগে অমুককে দিয়ে দিয়েছি, তমুককে দিয়ে দিয়েছি, এই যে প্রচার…।”


মন্ত্রী বলেন, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই বেসরকারি খাতে তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বাজারজাতের নীতি করা হবে।



সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পরপরই মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে জরুরি রদবদল আনা হয়েছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নীতি-নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার ছেড়ে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই দ্রুততম সময়ে নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেই শিগগির ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো কালবেলাকে বলছে, দুদেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই হবে দ্বিপক্ষীয় এ সফরের লক্ষ্য। 


আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগেই এ সফর সম্পন্ন হতে পারে। এমনকি তারেক রহমান দিল্লি যেতে পারেন চলতি মাসেই। আর ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ না নিয়ে পাঠাতে পারেন প্রতিনিধি।


ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নয়াদিল্লি সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে দুদেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে মনে করা হচ্ছে। 


তারা বলছেন, গত দুই বছরে বৃহৎ এ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে তারেক রহমানের এ সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সিদ্ধান্তটি হবে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতায় এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব ও যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।


কূটনীতিকরা বলছেন, আগামী দিনে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধিশালী ও সুসম্মানজনক সম্পর্ক হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সহযোগিতার পথ সুগম হবে।


দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানায় ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশ। এরই মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে তিনি ও তার দল আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অস্বাভাবিক এ সম্পর্ক শেখ হাসিনা ইস্যুতে টানাপোড়েনের পর্যায়ে চলে যায়। এর মাঝে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে ইট-পাটকেল ছোড়ার মতো ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা স্থগিত, বাণিজ্যে পারস্পরিক বিধিনিষেধ, হাসিনার ভারতে অবস্থান ও বক্তব্য প্রদান এবং কিছু কূটনৈতিক মন্তব্য নিয়েও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ ছাড়া রাজনৈতিক কিছু বক্তব্যের পাশাপাশি আরও কিছু ঘটনায় সম্পর্ক বাইরে বাইরে তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও ইতিবাচক করার সংকেত। চলতি বছরের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন। তখন দুপক্ষ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। এরপর ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু হয়, যাত্রীবাহী বাসসেবা পুনরায় শুরু হয় এবং জ্বালানি সংকটে ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করে। জুনে মন্ত্রী পদমর্যাদায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসেন সে দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। তার নিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করা হয়।


এদিকে সাম্প্রতিক কিছু বিষয় বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়। গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে ফরেন করসপন্ডেন্ট ক্লাব আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাকিব আল হাসানও বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন দেখা যায়। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ জানিয়ে ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ উল্লেখ করে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে জানায়, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে এবং সেদেশের সরকার কোনোভাবেই এতে জড়িত নয়।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, উত্তেজনা কাটিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ এখন আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে আনতে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর তিনি জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার দাবি তোলা হয়। 


সাক্ষাৎ শেষে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমার পূর্ণ আস্থা আছে, দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা, যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্য লাভজনক হয়।’ 


তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসিতে ইস্যু থাকবে, ইস্যু না থাকলে ওটা ডেমোক্রেসি নয়। আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে; কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে, ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে তা দুদেশের জন্যই উইন-উইন সিচুয়েশন।’ 


বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।’ গত সোমবার গুরুত্বপূর্ণ এসব বৈঠক শেষে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ত্রিবেদী। 


সূত্র বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের বার্তা পৌঁছে দিতে নয়াদিল্লি যান তিনি। পরে মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। 


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চান, কীভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা যায়। আলোচনার মধ্যে যেন দুদেশের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। পাশাপাশি তিনি গঠনমূলক উপায়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মোদির দিকনির্দেশনা নেন।


এদিকে গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন কাটিয়ে স্বাভাবিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় সম্মেলনে ভারতে যাওয়ার চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর দুই দেশের জন্য বেশি কার্যকর হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি সরাসরি আলোচনায় বসতে পারবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন গঙ্গা চুক্তি নবায়নে রাজনৈতিক আলোচনা, তিস্তা নিয়ে আলোচনাসহ দুই বছরের বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, মানুষের যোগাযোগ সহজ করার মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি সম্ভব। হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতেও দুপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির সুযোগ থাকবে এ সফরে। ফলে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলছে সূত্রগুলো।


আবহাওয়া অধিদপ্তর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ এএম

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চল ও এর কাছাকাছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি বাড়তে পারে। রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। 


কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। এর মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশেই মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে।’


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং এর কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। যদিও খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।


এর আগে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। এর সঙ্গে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়। দেশের অন্তত ৯টি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে পাঁচ দিনে প্রায় এক হাজার ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। 


এদিকে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও ভ্যাপসা ভাব বেড়েছে। গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। এর আগের দিন দেশের তিনটি এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের অস্বস্তি বাড়ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।


আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমতে পারে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে জনজীবন ও নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চার জেলায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচজন মারা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে একজন।


আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বার্তা অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, রাজশাহী, বরিশালে একজন করে মারা গেছে। এই হিসাব গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।


একই সময়ে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে; ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নতুন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা হলো এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪ জন।


অধিদপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে আসা রোগীর মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৮৭৯ জন; ঢাকা বিভাগে ৩৪০, রাজশাহীতে ২৬, সিলেটে ৮৯, চট্টগ্রামে ২২৮, বরিশালে ৮০, ময়মনসিংহে ৫৬, খুলনায় ৫৪ ও রংপুরে ছয়জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন। 


সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮৫ জন; নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

     

গণটিকাতে থামেনি সংক্রমণ    


গণটিকা দেওয়ার প্রায় তিন মাস পরও দেশে থামছে না হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু। প্রতিদিনই প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। 


জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, অন্তত গত দুই দশকে দেশে হামে এত মৃত্যু ও এত বেশি রোগীর সংখ্যা দেখা যায়নি।


জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ বলেন, ‘২০২০ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পর ২০২৪ সালেও একই ধরনের কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি; যা ছিল বড় ভুল।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালে বছরজুড়ে নিয়মিত টিকাদানেও গাফিলতি ছিল। চলতি বছর গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ লাখ শিশু এর বাইরে রয়ে গেছে; এটিও বড় ধরনের ভুল।’ 


এ কারণেই এখন পাঁচ বছরের বেশি এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হামের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি বেশি বয়সী মানুষের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান এই জনস্বাস্থ্যবিদ।


  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ বলে আলোচিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে একই শাস্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।


অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বুধবার ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, তাঁরা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। 


সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালায় এ ধরনের অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেদিন থেকে অনুপস্থিত, সেদিন থেকেই তাঁদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 


এতে বলা হয়, ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার পাশাপাশি ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি।


এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি; জবাব দেওয়ার জন্য সময়ও চাননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগ তদন্ত করে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।


তদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য নথি পর্যালোচনার পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন জবাব দেননি। 


সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে তাঁকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে গত বছরের ২৩ জুলাই ইকবাল হোসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল সরকার। সাময়িক বরখাস্তের এক বছরের বেশি সময় পর এবার তাঁকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হলো।


যে বক্তব্যে আলোচিত হয়েছিলেন ইকবাল


২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ছাত্র-জনতা হতাহতের ঘটনা ঘটছিল। ওই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছিলেন ইকবাল হোসাইন। সেই কথোপকথনের ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।


ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’


ভিডিওতে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকেও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের সামনে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ কথা বলছিলেন ইকবাল।


তবে জুলাই আন্দোলনের ঘটনা কিংবা ভাইরাল হওয়া ওই বক্তব্যকে ইকবালের চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা ‘পলায়নের’ অভিযোগেই তাঁকে বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে।


চাকরিচ্যুত অন্য পাঁচ কর্মকর্তা


কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ছিলেন। বদলির আদেশের পর ১৪ আগস্ট তিনি ডিএমপির দায়িত্ব ছাড়লেও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে যোগ দেননি। ওই দিন থেকেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। 


তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।


ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে মৌখিক বা লিখিতভাবে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই তারিখ থেকেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।


আরেক সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীও সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি ফেরেননি। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই দিন থেকেই তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।


এপিবিএনের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছিলেন। 


ছুটি শেষে ৩১ ডিসেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ফেরেননি। তদন্তে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।


ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে যোগদানের উদ্দেশ্যে ডিএমপির দায়িত্বভার ছেড়ে দেন। পরে তাঁকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই দিন থেকেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।