প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেই শিগগির ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো কালবেলাকে বলছে, দুদেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই হবে দ্বিপক্ষীয় এ সফরের লক্ষ্য।
আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগেই এ সফর সম্পন্ন হতে পারে। এমনকি তারেক রহমান দিল্লি যেতে পারেন চলতি মাসেই। আর ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ না নিয়ে পাঠাতে পারেন প্রতিনিধি।
ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নয়াদিল্লি সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে দুদেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, গত দুই বছরে বৃহৎ এ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে তারেক রহমানের এ সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সিদ্ধান্তটি হবে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতায় এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব ও যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।
কূটনীতিকরা বলছেন, আগামী দিনে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধিশালী ও সুসম্মানজনক সম্পর্ক হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সহযোগিতার পথ সুগম হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানায় ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশ। এরই মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে তিনি ও তার দল আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অস্বাভাবিক এ সম্পর্ক শেখ হাসিনা ইস্যুতে টানাপোড়েনের পর্যায়ে চলে যায়। এর মাঝে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে ইট-পাটকেল ছোড়ার মতো ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা স্থগিত, বাণিজ্যে পারস্পরিক বিধিনিষেধ, হাসিনার ভারতে অবস্থান ও বক্তব্য প্রদান এবং কিছু কূটনৈতিক মন্তব্য নিয়েও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ ছাড়া রাজনৈতিক কিছু বক্তব্যের পাশাপাশি আরও কিছু ঘটনায় সম্পর্ক বাইরে বাইরে তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও ইতিবাচক করার সংকেত। চলতি বছরের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন। তখন দুপক্ষ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। এরপর ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু হয়, যাত্রীবাহী বাসসেবা পুনরায় শুরু হয় এবং জ্বালানি সংকটে ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করে। জুনে মন্ত্রী পদমর্যাদায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসেন সে দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। তার নিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করা হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক কিছু বিষয় বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়। গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে ফরেন করসপন্ডেন্ট ক্লাব আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাকিব আল হাসানও বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন দেখা যায়। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ জানিয়ে ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ উল্লেখ করে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে জানায়, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে এবং সেদেশের সরকার কোনোভাবেই এতে জড়িত নয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, উত্তেজনা কাটিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ এখন আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে আনতে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর তিনি জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার দাবি তোলা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমার পূর্ণ আস্থা আছে, দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা, যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্য লাভজনক হয়।’
তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসিতে ইস্যু থাকবে, ইস্যু না থাকলে ওটা ডেমোক্রেসি নয়। আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে; কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে, ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে তা দুদেশের জন্যই উইন-উইন সিচুয়েশন।’
বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।’ গত সোমবার গুরুত্বপূর্ণ এসব বৈঠক শেষে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ত্রিবেদী।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের বার্তা পৌঁছে দিতে নয়াদিল্লি যান তিনি। পরে মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চান, কীভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা যায়। আলোচনার মধ্যে যেন দুদেশের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। পাশাপাশি তিনি গঠনমূলক উপায়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মোদির দিকনির্দেশনা নেন।
এদিকে গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন কাটিয়ে স্বাভাবিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় সম্মেলনে ভারতে যাওয়ার চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর দুই দেশের জন্য বেশি কার্যকর হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি সরাসরি আলোচনায় বসতে পারবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন গঙ্গা চুক্তি নবায়নে রাজনৈতিক আলোচনা, তিস্তা নিয়ে আলোচনাসহ দুই বছরের বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, মানুষের যোগাযোগ সহজ করার মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি সম্ভব। হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতেও দুপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির সুযোগ থাকবে এ সফরে। ফলে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলছে সূত্রগুলো।
আবহাওয়া অধিদপ্তর
বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চল ও এর কাছাকাছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি বাড়তে পারে। রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। এর মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশেই মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং এর কাছাকাছি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। যদিও খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এর আগে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। এর সঙ্গে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়। দেশের অন্তত ৯টি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে পাঁচ দিনে প্রায় এক হাজার ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
এদিকে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও ভ্যাপসা ভাব বেড়েছে। গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। এর আগের দিন দেশের তিনটি এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের অস্বস্তি বাড়ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমতে পারে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে জনজীবন ও নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চার জেলায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচজন মারা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে একজন।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বার্তা অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, রাজশাহী, বরিশালে একজন করে মারা গেছে। এই হিসাব গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।
একই সময়ে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে; ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নতুন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা হলো এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪ জন।
অধিদপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে আসা রোগীর মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৮৭৯ জন; ঢাকা বিভাগে ৩৪০, রাজশাহীতে ২৬, সিলেটে ৮৯, চট্টগ্রামে ২২৮, বরিশালে ৮০, ময়মনসিংহে ৫৬, খুলনায় ৫৪ ও রংপুরে ছয়জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮৫ জন; নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গণটিকাতে থামেনি সংক্রমণ
গণটিকা দেওয়ার প্রায় তিন মাস পরও দেশে থামছে না হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু। প্রতিদিনই প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, অন্তত গত দুই দশকে দেশে হামে এত মৃত্যু ও এত বেশি রোগীর সংখ্যা দেখা যায়নি।
জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ বলেন, ‘২০২০ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পর ২০২৪ সালেও একই ধরনের কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি; যা ছিল বড় ভুল।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালে বছরজুড়ে নিয়মিত টিকাদানেও গাফিলতি ছিল। চলতি বছর গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ লাখ শিশু এর বাইরে রয়ে গেছে; এটিও বড় ধরনের ভুল।’
এ কারণেই এখন পাঁচ বছরের বেশি এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হামের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি বেশি বয়সী মানুষের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান এই জনস্বাস্থ্যবিদ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ বলে আলোচিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে একই শাস্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বুধবার ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, তাঁরা বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালায় এ ধরনের অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেদিন থেকে অনুপস্থিত, সেদিন থেকেই তাঁদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার পাশাপাশি ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি; জবাব দেওয়ার জন্য সময়ও চাননি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগ তদন্ত করে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য নথি পর্যালোচনার পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ইকবাল হোসাইন জবাব দেননি।
সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে তাঁকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে গত বছরের ২৩ জুলাই ইকবাল হোসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল সরকার। সাময়িক বরখাস্তের এক বছরের বেশি সময় পর এবার তাঁকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হলো।
যে বক্তব্যে আলোচিত হয়েছিলেন ইকবাল
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ছাত্র-জনতা হতাহতের ঘটনা ঘটছিল। ওই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছিলেন ইকবাল হোসাইন। সেই কথোপকথনের ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’
ভিডিওতে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলমকেও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের সামনে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ কথা বলছিলেন ইকবাল।
তবে জুলাই আন্দোলনের ঘটনা কিংবা ভাইরাল হওয়া ওই বক্তব্যকে ইকবালের চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা ‘পলায়নের’ অভিযোগেই তাঁকে বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে।
চাকরিচ্যুত অন্য পাঁচ কর্মকর্তা
কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ছিলেন। বদলির আদেশের পর ১৪ আগস্ট তিনি ডিএমপির দায়িত্ব ছাড়লেও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে যোগ দেননি। ওই দিন থেকেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে মৌখিক বা লিখিতভাবে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই তারিখ থেকেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরেক সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীও সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি ফেরেননি। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই দিন থেকেই তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।
এপিবিএনের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছিলেন।
ছুটি শেষে ৩১ ডিসেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ফেরেননি। তদন্তে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে যোগদানের উদ্দেশ্যে ডিএমপির দায়িত্বভার ছেড়ে দেন। পরে তাঁকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই দিন থেকেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জাইমা রহমান
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনেক সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তবে ডিজিটাল সেবা তখনই কাজে আসে, যখন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে-বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে করা এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে তিনি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন।
ফেসবুক পোস্টে জাইমা লেখেন, ‘গত সপ্তাহে আমি জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দিলাম, এবার বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য। প্রথমটি দিয়েছিলাম লন্ডনে, দশ বছরেরও বেশি আগে। দুটিতেই প্রথমবারে উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষা আমাকে যতটা প্রস্তুত করেছে, অন্যটি ততটা করেনি।’
তিনি লেখেন, ‘এখানকার পুরো প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট বা লাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি। ভেবেছি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে, আর সেই সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।’
‘অনেক তরুণ বাংলাদেশির, বিশেষ করে ঢাকার তরুণদের, একটি মৌলিক হতাশা আছে: আমাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয় এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যেটি সব সময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।’-ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার জাইমা।
তিনি আরও লেখেন, পথচারী হিসেবে আপনাকে হয়তো পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই দ্রুতগতির সড়ক পার হতে হয়, এমন ফুটপাত ধরে হাঁটতে হয় যেটি হঠাৎ শেষ হয়ে যায় কিংবা দখল হয়ে থাকে, আর পথ করে নিতে হয় বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেট কারের ভিড়ের মধ্য দিয়ে, যেগুলোর প্রত্যেকটি চলছে আলাদা আলাদা অলিখিত নিয়মে।
প্রধানমন্ত্রী কন্যা পোস্টে লেখেন, যাত্রী হিসেবে আপনার হাতে কার্যত কিছুই থাকে না। আপনার বাসটি যাত্রী তোলার জন্য অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে কি না, হঠাৎ ব্রেক কষবে কি না, গাড়িটির যান্ত্রিক ফিটনেস আছে কি না, কিংবা চালক ঠিকমতো প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না, কোনো কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।
আর নতুন চালক হিসেবে সবকিছু নিয়ম মেনে করতে গেলে আরেক দফা প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। নিয়মগুলো আসলে কী? কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয়? সঠিক পদ্ধতিটা কী? অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সব সময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়ে যায়? পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় সেই কাগজটির জন্য, যা প্রমাণ করে আমি পাস করেছি? এভাবে প্রশ্ন চলতেই থাকে।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আরও লেখেন, বিআরটিএ তার অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু ডিজিটাল করা তখনই কাজে আসে, যখন তা সত্যি সত্যি মানুষের জীবন সহজ করে।
তিনি লেখেন, অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় ‘অফিসে এসে কথা বলুন’-এ, তাহলে সমস্যাটির সমাধান আসলে হয়নি। প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সশরীর যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত কিংবা লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি করে। ব্রোকারেরা এই প্রক্রিয়ার ফাটলটিরই সুযোগ নেয়। মানুষ আইন ভাঙতে চায় বলে নয়, বরং সরকারি প্রক্রিয়াটি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে একজন মধ্যস্থতাকারীই সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়। এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর, কারণ এতে দুর্নীতি ব্যতিক্রম না থেকে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়।
একই সমস্যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও। লাইসেন্স, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ চমৎকার সব নিয়ম করতে পারে। কিন্তু নিয়ম যদি বেছে বেছে প্রয়োগ হতে দেখা যায়, মানুষ দ্রুতই সেসব নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। একজন নতুন চালক তখন ভাবেন: আমাকে বলা হচ্ছে নিয়ম মানা অপরিহার্য, অথচ চোখের সামনেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা আর নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে। কেন?
দুর্নীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা তাই কেবল অন্যায়টি ঘটা নয়, সেটির প্রতিকার কীভাবে হয়, সেটিও। অভিযোগ করে কিছু হবে না, বরং নিজেরই বাড়তি ভোগান্তি হবে, মানুষ যদি এমনটা বিশ্বাস করে, তাহলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটি দাঁড়ায়: ‘কী দরকার? চেনাজানা কাউকে বলি।’ আর এই ভাবে ব্যাপারটি চলতেই থাকে।
জাইমা লেখেন, এ কারণেই সড়ক নিরাপত্তা কেবল গাড়ি, লাইসেন্স আর শাস্তির বিষয় হতে পারে না। এটি হতে হবে সেই মানুষগুলোকে ঘিরে, যারা প্রতিদিন পথ চলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া একজন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরা একজন নারী। পরের অর্ডারটি ধরার তাড়ায় থাকা একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার। অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো একজন বাসচালক। ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। একজন রিকশাচালক, যার বাহনটিই তার জীবিকা। একই সড়ক তাদের প্রত্যেকের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা।
ভালো নীতিমালাকে এই বাস্তবতাগুলো বুঝতে হবে। নইলে নিয়ম উল্টো দরিদ্র বা বেশি ঝুঁকিতে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও গভীরভাবে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেবে, আর তাতে শোষণ ও ঘুষের নতুন সুযোগই তৈরি হবে।
এসব কথা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণেরা বছরের পর বছর কথা বলে আসছেন। ২০১৮ সালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছিল, যানবাহন চলাচল সামলানোর চেষ্টা করেছিল এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে।
তাই প্রশ্নটি এখন সম্ভবত আর এই নয় যে ‘সড়ক নিরাপদ নয়’। প্রশ্নটি বরং এই: ‘সমস্যাগুলো তো আমরা আগেই চিহ্নিত করে দিয়েছি। ব্যবস্থাটি এখনো সেগুলো ঠিক করল না কেন?’
আমার মনে হয়, এখানেই আমাদের প্রশ্নটা বদলে যায়। প্রশ্ন কেবল এটি হতে পারে না যে ‘নাগরিকদের দিয়ে কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে?’
আমাদের এটিও জিজ্ঞাসা করা উচিত:
‘সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করবো যে সবাই একই পরিষেবা পাবে?’
‘আমরা কীভাবে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারি?’
‘কীভাবে আমরা অভিযোগ ও অন্যায়ের বিষয়ে জানানোকে নিরাপদ ও সার্থক করে তুলতে পারি?’
‘এবং আমরা কীভাবে রাস্তা ডিজাইন করব যাতে একটি সাধারণ ভুলের কারণে কারও জীবনহানি না ঘটে?’
পোস্টের শেষে জাইমা রহমান লেখেন, পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে।
একটি শপিংমল
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে। এছাড়া সব ধরনের আলোকসজ্জাও বন্ধ রাখতে হবে এই সময়ের পর। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারে নতুন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে, গত ১১ জুন থেকে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল সরকার।
আজকের নির্দেশনায় বলা হয়, আজ থেকে বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
তবে, খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে। এ আদেশে মেনে চলার বিষয়ে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ জুন তারিখের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি ছিল। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে, যা ১২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ আশা প্রকাশ করেছেন।
আজ দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে চলমান ভোগান্তির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অন্য টার্মিনালটিও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে জ্বালানি সংকট আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে এই দুর্ঘটনা ও বৈরী আবহাওয়া। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি গ্যাস ঘাটতির কারণে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে পল্লী এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।