নোয়াখালীর হাতিয়ায় মিয়ানমারে পাচারের সময় ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সিমেন্টসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার মৌলভীচরের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মো. আবু তাহের (৫৭), ভোলা সদর উপজেলার মো. আলাউদ্দিন (৪২) ও একই এলাকার মো. নিরব (৩৫)।
কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন বাল্কহেডটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় বাল্কহেড থেকে ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, আটক তিনজনকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলা করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভল্টে রাখা টাকার বান্ডিলের ওপরের দিকে থাকত এক হাজার টাকার নোট। কিন্তু বান্ডিলের ভেতরে রাখা হতো ১০০ টাকার নোট। বাইরে থেকে দেখে মনে হতো, পুরো বান্ডিলেই এক হাজার টাকার নোট রয়েছে। এভাবে ভল্টে থাকা টাকার প্রকৃত পরিমাণ আড়াল করে ধাপে ধাপে সরানো হয় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চট্টগ্রামের লালদীঘি (পূর্ব) করপোরেট শাখায়। গত সোমবার এ ঘটনায় মামলা করেছে শাখার মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ। সেদিনই মামলায় শাখার ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীর নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
টাকার বান্ডিলে হেরফের করে অর্থ সরানোর বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুই আসামি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া অন্য কেউ ঘটনায় জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব মেলানো হচ্ছিল। তখনই হিসাবের সঙ্গে ভল্টে থাকা টাকার গরমিল ধরা পড়ে।
পরে রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, ভল্টে যে পরিমাণ টাকা থাকার কথা, বাস্তবে রয়েছে তার চেয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম। এ বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা রাখার সময় এক হাজার টাকার বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের ছোট নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে মনে হতো, সেখানে এক হাজার টাকার নোটই রয়েছে। কিন্তু ভেতরে প্রকৃত টাকার পরিমাণ কম।
এজাহারে বলা হয়েছে, এভাবে ভল্টের টাকা সরিয়ে তা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়। হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। জাফরুল্লাহ তানভীর নামের একজনকে ওই খামার দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে ১০ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পরে পুলিশ কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ, তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ব্যাংকে প্রতিদিনের লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর নিয়ম রয়েছে। ঘাটতির বিষয়টি এত দিন পরে ধরা পড়ার বিষয়টি জানতে মামলার বাদী অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি (পূর্ব) করপোরেট শাখার মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের কী পরিমাণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সভাপতি নাহার চাকলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির
টাঙ্গাইলের পথে-ঘাটে ছড়িয়ে থাকা অসহায় ও অবহেলিত প্রাণিদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে ‘প্রাণিকল্যাণ পরিষদ’ নামে একটি নতুন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে শহরের বটতলায় জেলার প্রাণিপ্রেমীদের এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে।
সভায় উপস্থিত বক্তারা প্রাণিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভা শেষে নাহার চাকলাদারকে সভাপতি এবং মনিরুজ্জামান মনিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ‘প্রাণিকল্যাণ পরিষদ’-এর প্রথম কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্যরা হচ্ছেন- সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান বাবু, যুগ্ম-সম্পাদক বিউটি আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সবুজ, কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম সরকার। কার্যকারী কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন- কাউছার আহমেদ, মো. শাহ আলম, মিজ মুক্তি সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন নয়ন ও রুহুল আমীন।
নবগঠিত কমিটির নেতারা জানান, টাঙ্গাইল জেলা ও পৌর এলাকায় প্রতিনিয়ত অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণি সড়ক দুর্ঘটনা, খাদ্যাভাব এবং নানাবিধ নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে। এসব প্রাণির অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করবে। সেগুলো হচ্ছে- জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয়, নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ এবং টিকাদান কর্মসূচি।
নেতারা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কিংবা গুরুতর অসুস্থ প্রাণিদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করার ব্যবস্থা করবে। শহরের নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে ভাসমান প্রাণিদের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রাণিদের ওপর যেকোনো ধরনের মানবিক নিষ্ঠুরতা রোধে আইনি সচেতনতা তৈরি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে। জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানো রোধে বেওয়ারিশ প্রাণিদের জন্য পর্যায়ক্রমে টিকাদান ও বন্ধ্যাত্বকরণ অভিযানের পরিকল্পনাও এই সংগঠনের রয়েছে।
বটতলার ওই সভায় বক্তারা আরো বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনে অবলা প্রাণিদের প্রতি সদয় হওয়া জরুরি। টাঙ্গাইলকে একটি আদর্শ ও প্রাণিবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নবগঠিত ‘প্রাণিকল্যাণ পরিষদ’ জেলার সর্বস্তরের সামাজিক সংগঠন, তরুণ সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছে।
বালুমহালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গিয়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ইজারাদারের এক কর্মীকে মারধর করেন
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার একটি বালুমহালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী ইজারাদারের এক কর্মীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজার এলাকার কুলুরবাড়ি বালুমহালে এ ঘটনা ঘটে। ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আনসার ও র্যাবের সদস্যরাও অংশ নেন। অভিযানে মারধরের এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউএনওর বিচার দাবি করেছেন নেটিজেনরা।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়— ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বালুমহালের অফিসকক্ষে প্রবেশ করে কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে থাপ্পড় মারেন। পরে র্যাবের এক সদস্য সারোয়ারকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও তার হাত থেকে একটি লাঠি নিয়ে কয়েক দফা আঘাত করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন বলেও ফুটেজে দেখা যায়।
ইজারাদারপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর ভুক্তভোগী সারোয়ার জাহানকে র্যাবের একটি গাড়িতে করে ধলা এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বালুমহালটির ইজারা নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র দেখাতে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো সুযোগ না দিয়েই আমার কর্মচারীকে মারধর করা হয়। পরে কাগজপত্র যাচাই করে ইজারার বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে দিনাজপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, দিনাজপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক বাবু চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সোহেল, দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান আক্তার, সহ-প্রচার সম্পাদক হীরা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান বাদশা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নাজমুল হুদা জনিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বখতিয়ার আহমেদ কচি। এ সময় দিনাজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক হাসু খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম এবং জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী জিন্নাত আরাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা আরাফাত রহমান কোকোর রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ক্রিকেটের উন্নয়ন ও সংগঠনের সঙ্গে কোকোর সম্পৃক্ততা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আরাফাত রহমান কোকো ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিসিবির গেমস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে সমকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারী মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪৫ বছর বয়সে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। পরে তাঁর মরদেহ দেশে এনে ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। দোয়া মাহফিলের শেষপর্যায়ে দেশ, জাতি ও দলের কল্যাণ কামনার পাশাপাশি মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে রাব্বি হোসেন রাকিব (২২) এক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে ১নম্বর ওয়ার্ডের ১নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বর্দি গ্রামের চুল্লার বাড়ির পিছনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সোনাইমুড়ী গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।
ভুক্তভোগী রাকিব অভিযোগ করে বলেন, রাতে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার থেকে বাজার করে স্থানীয় হায়দার বাড়ির দরজায় ভাড়া বাসায় যাওয়ার পথে একদল অস্ত্রধারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে চুল্লার বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে একই ইউনিয়নের আলমগীর (৩০), রাজন (২৮), রিপন (২১) ও আলম (২৮) তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছ থেকে নগদ ১৫শত টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ডান পায়ের হাঁটুর পাশে গুলি করে দেয়। একপর্যায়ে তিনি পাশের ডোবায় লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মুঠোফোনে কল করে বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হাবীবুর রহমান বলেন, এক ব্যক্তির শরীরে একটি ২.২ বোরের ছোট গুলি লাগার খবর পেয়েছি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ময়লা পরিস্কারে অংশ নেন বিএনপি নেতা হাজী আক্কাস আলী
নওগাঁর মহাদেবপুরে ডাবলওয়ে সড়কের দুপাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা আর মাটি স্বেচ্ছাশ্রমে পরিস্কার করে ট্রাক্টরযোগে পরিবহণ করে অন্যত্র ফেলে দিয়ে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি নেতা হাজী আক্কাস আলী।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে সারাদিন ১২ জন শ্রমিক লাগিয়ে তিনি এসব পরিস্কার করার কাজ সম্পন্ন করেন।
বিকেলে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী আক্কাস আলী রাস্তার পাশের ময়লা আবর্জনা কোদাল দিয়ে সংগ্রহ করে স্তুপ করে রাখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো ট্রাক্টরে তুলে কাজ সমাপ্ত করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, উপজেলা সদরের ব্র্যাকের মোড় থেকে বচনা ব্রীজ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার ডাবলওয়ে সড়কের দুপাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা আবর্জনা, নোংরা পানি জমা হয়ে পুঁতি দুর্গন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি করে। এসব দেখাশুনার কেউ নেই। সদর ইউনিয়ন পরিষদ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে স্থানীয় জনতাকে এরকম দূর্ভোগে পড়তে হতো না। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এসব পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। আগামীতে পুরো মহাদেবপুর উপজেলা সদরের ময়লা পরিস্কারের দায়িত্ব তিনি নিতে চান বলেও জানান।
স্থানীয়রা তার এই স্বেচ্ছাউদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।