ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন ও বিডিজবস প্লাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে ‘শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও কর্মসংস্থান’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবঙ কী-নোট স্পিকার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। এছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সোসিও ইকোনমিক হেলথ এডুকেশন অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ড. মেহেদী হাসান, এনজিও সংস্থা ‘সেতু’র মাইক্রোফাইন্যান্স (MF) বা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক মো. আলাউল আলম এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির এজিএম ও শাখা প্রধান আবুল কালাম আজাদ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে সুপারিশ বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তার একাডেমিক ফলাফলই বিবেচ্য নয়। রক্তদান কর্মসূচি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করেছে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষতা শাণিত করতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করলে কিংবা যেকোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে Problem Solving Capacity না থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের জন্য কতটা উপযোগী—সেটিও বিবেচনায় আসে।”
উল্লেখ্য, এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে বর্তমান চাকরির বাজার ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা, কার্যকর পেশাদার CV প্রস্তুতকরণ, ইন্টারভিউ কৌশল এবং কর্মজীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সদরঘাটে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনার পর ছাত্রদলের কিছু কর্মী মীমাংসার নামে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকা নেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
তার পোস্টে ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে বেশি ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও, জানা যায় ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; লঞ্চটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে হিমেল এসব কথা বলেন।
এর আগে, লঞ্চে মাদক সেবনের সন্দেহে দুই জবি শিক্ষার্থীকে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
ঘটনায় জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ, আলিমুল ও পবন এবং জিয়াউদ্দিন বাসিতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শের আলীর উপস্থিতি ছিল।
পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তবে ফেসবুক পোস্টে হিমেল দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত বেশি ভাড়ার দাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের তর্ক থেকে শুরু হয়। তার দাবি, পরে মালিকপক্ষের লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে আহত এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠী ও সিনিয়রদের সহযোগিতা চান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে থাকা বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়ররা তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যান এবং মালিকপক্ষ ও টার্মিনাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচারের দাবি জানান।
হিমেল আরও দাবি করেন, মালিকপক্ষ পরে বারবার ক্ষমা চেয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। আহতদের চিকিৎসা খরচ ও মোবাইলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় মালিকপক্ষ মানবিক দিক থেকে কোনো নগদ অর্থ দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সেখানে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, কত টাকা বা কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে-এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবগত নন বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনার পর লঞ্চ মালিকপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে। লঞ্চে কর্মরত এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে অর্থ কার হাতে বা কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাননি।
এদিকে, হিমেলের পোস্টে ঘটনাটি ভাড়ার টাকা নিয়ে শুরু হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; সেটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল। ফলে লঞ্চে যাত্রী না থাকলে ভাড়া নিয়ে বিরোধের বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তার ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই না করে সেটিকে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে প্রচার করা কতটা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা- সে প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন মীমাংসার সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৬ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জন্য ছয়জন, ২০২০ সালের জন্য পাঁচজন এবং ২০২১ সালের জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯-এর জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনীত ছয় শিক্ষার্থী হলেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের মো. সাগর ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. ইসমাইল হোসাইন হৃদয়, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সুরাইয়া বিনতে রফিক, অর্থনীতি বিভাগের মিতু রানী রায়, আইন বিভাগের মাহমুদা আমির ইভা এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শারমিন আক্তার। তারা সবাই ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
২০২০ সালের জন্য মনোনীত পাঁচজন হলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অনুরাধা পাল, মার্কেটিং বিভাগের মো. নয়ন হোসাইন, গণিত বিভাগের তাসলিমা আক্তার, লোকপ্রশাসন বিভাগের মাহাবুবুল আলম এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো. আনিক মিয়া। তারা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া ২০২১ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের রুনা আক্তার, পরিসংখ্যান বিভাগের রেহানা আক্তার তামিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের লায়লা নিগার তানভী, আইন বিভাগের হামিদা সুলতানা এবং ফার্মেসি বিভাগের মৌসুমি আক্তার মিতু। তারা ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে ইউজিসি প্রবর্তিত একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ২০০৫ সালে এ পদক চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষদ বা বিভাগে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।
ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৪৬৯ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোরিয়া-বাংলাদেশ ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রজেক্টের উপস্থাপনা ও তায়কান্দোর ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিনিধিদল।
গত সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইও জিইয়ন ও লিম বঙ ট্যাক যুব নেতৃত্ব ও তায়কান্দো বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিনিধিদল আগামী ১৮ নভেম্বর জাবিতে কোরিয়া-বাংলাদেশ ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রজেক্টের উপস্থাপনা এবং ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি তায়কান্দোর ওপর একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করতে চায়।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলম প্রতিনিধিদলকে জাবিতে স্বাগত জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. খন্দকার মো. শরিফুল হুদা, শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক আজমল আমীন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
উচ্চশিক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব ও মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ 'প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক' ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ১৩ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সর্বমোট ৪৬৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করে, যার মধ্যে বুটেক্সের ২০১৯ সালের ৪ জন, ২০২০ সালের ৪ জন ও ২০২১ সালের ৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
ইউজিসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৯-এর জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন–ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুস্মিতা সাহা, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ. এম. এহসানুল হক, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের মো. সবুজ এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আখিরি জান্নাত।
২০২০ সালের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন–ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আবু সাঈদ, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তানিয়া আক্তার, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের মো. রেদওয়ানুল ইসলাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পূজা কুন্ডু।
এছাড়া ২০২১ সালের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন–ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. নাঈমুল ইসলাম, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এস.কে. মোহাম্মদ রাফি, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফৌজুন নাহার খান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. ইমরান হোসেন এবং টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের পৃথ্বিলা কামাল।
নীতিমালা অনুযায়ী, মনোনীত প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ২২ ক্যারেট মানের ৪.৫ গ্রাম স্বর্ণ ও ১০ গ্রাম রৌপ্য দিয়ে তৈরি একটি আকর্ষণীয় পদক এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণায় তরুণদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিভাবান গ্র্যাজুয়েটদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রদান করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অফিসার পরিষদ ২০২৬-২৭ বছরের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাকৃবি অফিসার পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান সরকার রোকন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার পরিষদের সভাপতি ড. এ. কে. এম. মাহবুবুর রশীদ গোলাপ। সঞ্চালনায় ছিলেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরে বক্তারা নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এসময় বক্তারা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুনদের নতুন কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের নেতৃত্ব ধরে রাখতে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, বাকৃবির নবগঠিত অফিসার পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি শুভকামনা। বাকৃবিকে এগিয়ে নিতে হলে আপনাদের কর্মস্পৃহা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের সেই কথা স্মরণ করতে চাই, তিনি বলতেন 'কথা কম কাজ বেশি'। আজকে যারা এই পরিবারে আছেন তারা সুন্দর ভাবে কাজ করে যাবেন।
এসময় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনার বাসার আশেপাশে সন্ধ্যার পরে খেয়াল করলে দেখবেন মাদক বিক্রি হচ্ছে এবং সেবন হচ্ছে। আপনি কোথাও যাওয়ার পথে মাদকসেবীদের দেখেও এড়িয়ে গেলেন, ভাবলেন অমুকের ছেলে খাচ্ছে, আমার কি? আমার ছেলে মসজিদে যায়। কিন্তু মাদক একদিন আপনার মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলেকেও প্রভাবিত করবে। একদিন, দুইদিন করে সেবন করাবে এবং একপর্যায়ে সে আসক্ত হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রশাসন বা এমপি, চেয়ারম্যান বা প্রশাসক তারা একা পারবে না যদি আপনারাও দায়িত্ব না নেন। সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, অফিসার পরিষদের বিজয়ীদের অভিনন্দন জানাই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। আর দ্বিতীয়ত আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হয় সেজন্য প্রশাসনের সাথে নিয়মতান্ত্রিক ও সুন্দরভাবে আলোচনা করা।
নির্বাচিত অফিসারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যে শপথ নিয়েছেন এবং শপথে যা উল্লেখ করেছেন, তার যথাযথভাবে অনুসরণ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। কোনো দাবিদাওয়া থাকলে তা প্রশাসনিক ও নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।
রাজধানীর সদরঘাটে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে অর্থ দাবি ও লেনদেনের অভিযোগের সংবাদ সংগ্রহকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের কর্মীদের দ্বারা দুই সাংবাদিককে হেনস্তা, ধাক্কাধাক্কি এবং ঘটনাস্থল থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জবি প্রেসক্লাবের দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ রোকুনুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মুসফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ লিমন ইসলামের উক্ত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিরোধ মীমাংসার নামে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সদস্য ও বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম এবং পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবকে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি করে ঘটনাস্থল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় জবি শাখা ছাত্রদলের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ, লোক প্রশাসন বিভাগের আলিমুল, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের সাইন আহমেদ পবন, ইতিহাস বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সাইদ ও নাইম, থিয়েটার বিভাগের ১৮তম ব্যাচের নাইম, আইইআর বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলীসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন।
যাদের বেশিরভাগই আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের কর্মী হিসেবে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা, মাদক সেবন ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জবি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাংবাদিকদের হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং গণতান্ত্রিক ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
তাই এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জবি প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি কিংবা হেনস্তার ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।