কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু ঢাকার সিনেমাতেই নয়, তৎকালীন পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিনয়ের দ্যুতিতে হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও জনপ্রিয় তারকা। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন জীবনের ৮১তম বছরে।
ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন শবনম। তার অভিনীত শেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকের কাছে তিনি ‘আম্মাজান’ নামেই আরও বেশি পরিচিতি পান। ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পাকিস্তানের সিনেমাতেও ছিল তার দারুণ জনপ্রিয়তা। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন শবনম। পরের বছর উর্দু ভাষার সিনেমা ‘চান্দা’-তে অভিনয় করে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণ করেছিলেন শবনম। জানান, ১৯৭০ সালে ঢাকা ছেড়ে লাহোরে পাড়ি জমান তিনি। এরপর নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে। সেখানকার প্রথম সিনেমার সম্মানী দিয়ে যে কাজটি করেছিলেন, সেটিও বেশ স্মরণীয়।
পাকিস্তানে প্রথম সিনেমার সম্মানী কত ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম বলেছিলেন, ‘সম্মানী কত ছিল তার সঠিক হিসাবটা মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে, ওই সম্মানী দিয়ে আমি ছোটখাটো একটা বাড়ি কিনেছিলাম। দুই বেডরুমের বাড়ি, করাচিতে। মা–বাবা ও ছেলে রনি তখন ঢাকায় ছিল। বাড়ি কেনার পর ছেলে এবং মা–বাবাকেও নিয়ে গেলাম।’
অর্থাৎ পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে প্রথম দিকের একটি সিনেমার সম্মানী দিয়েই করাচিতে দুই বেডরুমের বাড়ি কিনেছিলেন শবনম। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে সেই বাড়িতে মা–বাবা ও ছেলে রনিকে নিয়ে বসবাসও শুরু করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ঢাকার সিনেমায় নিজের শুরুর দিকের সম্মানীর কথাও জানিয়েছিলেন শবনম। ‘হারানো দিন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা। সেই পুরো অর্থই মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী। তবে ‘এ দেশ তোমার আমার’ ও ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কোনো সম্মানী পাননি তিনি।
অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় শবনম বাংলা ও উর্দু-দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তার অভিনয়, সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তা তাকে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় তারকায় পরিণত করেছে। জন্মদিনে তাই ফের আলোচনায় এসেছে তার বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্রজীবনের নানা অধ্যায়।
সংগৃহীত ছবি
ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ছোট্ট রামিসার নির্মম ঘটনা নাড়া দিয়েছে মানুষের বিবেক। সেই বেদনা ও বিচারপ্রত্যাশী মানুষের আকুতি থেকে গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ লিখেছেন ‘রামিসাদের বিচার’ শিরোনামের গান।
‘রামিসা এসে যোগ দিলো/ হঠাৎ আছিয়ার সনে/ তনু হত্যার বিচার হয়নি এখনো/ নুসরাত আছে লাইনে…’-এমন কথামালায় সাজানো গানটির সুরও করেছেন মাহবুবুল খালিদ। তার সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অবন্তি সিঁথি, রাফসান ও টুটুল।
গানটি প্রকাশিত হয়েছে খালিদ সংগীতের ইউটিউব চ্যানেলে। ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটেও গানটি শোনা যাচ্ছে।
নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে বরাবরই গান লিখেছেন মাহবুবুল খালিদ। আদুরি, ফেলানী ও মাগুরার শিশু আছিয়াকে নিয়ে লেখা তার গানগুলোও সমাজের নানা অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।
‘রামিসাদের বিচার’ও সেই ধারাবাহিকতার নতুন সংযোজন।
মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধি
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সকাল ছয়টার দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সমকালকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’
রিধিকা রিধি মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে অভিনয়েও নিয়মিত কাজ করেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন এই অভিনেত্রী।
মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘পিনিক ম্যান ৪’ ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’, ‘সুন্দরী’, ‘চাষার বউ ডাক্তার’ ও ‘লেডি বাটপার’ উল্লেখযোগ্য।
সাদিয়া আয়মান
সময়ের ব্যস্ত টিভি অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুঞ্জন। এবার সেই গুঞ্জন, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই, গুঞ্জন নিয়ে বলার কিছু নেই। থাকে না, কিছু কথা না বললেও হয়।
যখন একটা মানুষ তার কথা বলে ফেলে, আমি যদি আমার সাইড অফ স্টোরি বলি, তখন কিন্তু গল্পটা আসলে অন্যরকম হবে। তো ওইটা হয়তোবা যে মানুষটা বলে সে চিন্তাও করে না। আমি চাই না আসলে কাদা ছোড়াছুড়ি হোক। আমি চাই না একজন একটি ইন্টারভিউতে এক কথা বলছে, আবার আমি আরেক কথা বলব... এরকম নোংরামি করতে চাই না। আমার মনে হয় সত্য কখনো চাপা থাকে না, সত্য একসময় সামনে আসবেই।’
সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমার প্রেমের খুব ইচ্ছা নেই। আমি সব সময় আমার সেটেলমেন্ট করাতেই আমি বিশ্বাসী। আমার কাছে যখন মনে হবে ঠিকঠাক মতো সময়, সুযোগ... আল্লাহ তো সব লিখে রেখেছে কপালে। আমরা অনেক কিছু চাইলেও সেটা হয় না। আল্লাহ সবকিছু আসলে প্ল্যান করে রেখেছেন। আমাদের কোনো প্ল্যান থাকলেও সেটা আসলে পরক্ষণেই চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। তো আমার মনে হয় যখন সঠিক সময় হবে, যা হবে সব।’
বর্তমানে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছেন উল্লেখ করে সাদিয়া আয়মান জানান, অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থেকে নিজের কাজ, পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষাতেই নজর দিচ্ছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় এখন সময় না। আমি এখন অনেক ছোট, কাজ করে যাই। যখন অনেক বড় হব, সিনিয়র হয়ে যাব, তখন যখন আমার গল্পগুলো বলব, তখন সেগুলো আরো ভ্যালু অ্যাড করবে। আসলে এত এনার্জি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। শুটিংয়ের কাজ, ফ্যামিলি, আমার বিড়ালের যত্ন নেওয়া—আমাকে নিজেকে নিয়েই চিন্তা করতে হয়। আমার মেন্টাল হেলথ আমি খুবই প্রটেক্ট করি। যেগুলো আমাকে মেন্টাল হেলথে ইফেক্ট করতে পারে, সেগুলোকে আমি পাত্তাই দিই না।’
‘টক্সিক’ সিনেমার একটি গানে বলিউডের কিয়ারা আদভানির সাহসী দৃশ্য নিয়ে তোলপাড় উঠেছিল। কটাক্ষ, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় কিছুটি থিতিয়ে আসার পর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। অভিনেতার কথায় এটি কিয়ারার ‘সেরা কাজগুলোর একটি’।
এনডিটিভি জানিয়েছেন প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ এর টিজার সামনে এসেছে।
কিয়ারাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে সিদ্ধার্থ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “তোমার পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং আবেগ বড়পর্দায় স্পষ্ট ধরা পড়বে। এটা তোমার সেরা কাজগুলোর একটি হতে চলেছে। গীতু মোহনদাস, যশ, তুমি এবং পুরো টিম যে জাদু তৈরি করেছ, তা দেখার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। ‘টক্সিক’ টিমকে শুভেচ্ছা। ২৬ অগাস্টের অপেক্ষায় আছি।”
জুলাইয়ের প্রথম ভাগে প্রকাশ পায় সিনেমার প্রথম গান ‘তাবাহি’; এর পর থেকে কটূক্তির বিরাম নেই। কারণ ভারতের দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা যশের সঙ্গে ‘সাহসী দৃশ্যে’ পাওয়া যায় কিয়ারাকে।
উষ্ণ দৃশ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রী দুজনেই কাজ করলেও সমালোচনার বড় অংশই গিয়ে পড়ে কিয়ারার ওপর, যেখানে একই দৃশ্যে প্রশংসিত হন যশ।
‘তবাহী’ গানের দৃশ্য প্রকাশের পরে এমন খবরও ছড়িয়েছিল, কিয়ারার উপর নাকি সিদ্ধার্থ ‘অসন্তুষ্ট’, আর তাই তিনি নীরব।
সোশাল মিডিয়া ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে ‘টক্সিক’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে যশ কিয়ারার সমর্থনে এগিয়ে আসেন। চরিত্রের প্রতি ‘নিষ্ঠা ফুটে ওঠায়’ স্ত্রীর প্রশংসা করেন সিদ্ধার্থ। কটূকথায় কান না দিতেও স্ত্রীকে পরামর্শ দেশ সিদ্ধার্থ।
যশ বলেন, “একজন অভিনেতা হিসেবে অনেক সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সেগুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই কাজেরই প্রশংসা করবে। হয়ত আমরা সময়ের থেকে একটু এগিয়ে আছি।”
শুরুতে চুপচাপ থাকলেও কিছু দিন আগে কিয়ারা জানিয়েছেন, ‘টক্সিকে’ তার অভিনয় করার কারণ।
কিয়ারা নারী চরিত্র নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে নারাজ; তার মতে, নারী চরিত্রগুলো জটিল, বাস্তবসম্মত এবং শক্তিশালী হওয়া উচিত।
কিয়ারা বলেন, “‘টক্সিকে’ আমার চরিত্রটিও তেমন। যখন আমি চরিত্রটির বর্ণনা শুনি, তখন এর পরিপূর্ণ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। একজন অভিনয় শিল্পী যা চান, ‘টক্সিক’ সেই সমস্ত সুযোগ দিয়েছে এবং সাহসী কিছু করার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।
“আমি ভেবেছিলাম, ক্যারিয়ারে আমি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি এই ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি।”
‘টক্সিক’ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন যশ এবং গীতু মোহনদাস দুজনে মিলে। পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। সিনেমাটি একসঙ্গে ইংরেজি এবং কন্নড় ভাষায় শুট করা হয়েছে। পরে হিন্দি, তেলুগু, তামিল, মলয়ালমসহ একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে।
চলতি মাসের ২৬ তারিখে প্রেক্ষাগৃহে আসবে সিনেমাটি।
তানজিন তিশা
প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাকে জামিন দেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকার আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। ওই শাড়িটির প্রচারণা করবেন এবং এর মূল্য পরিশোধ করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে শাড়িটির মূল্য পরিশোধ না করে তানজিন তিশা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন আদালত। পরে ডিবির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়।
ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবারও লন্ডনে ফিরেছেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এই অভিনেতা। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয়। ৩ আগস্ট চিকিৎসার এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে এই ১০ দিনে পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে। কাকরাইলে নিসচার কার্যালয়েও যান। বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে দেখতে এলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডায়ও মেতে ওঠেন।
লন্ডনে ফেরার আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। বেলা দুইটার পর ঢাকায় ফেরেন তিনি।
আজ সকালে তাঁর ফ্লাইট ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর বিমানটি ঢাকা ছাড়ে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জয় বলেন, ‘এই কয়েকটা দিন আব্বার দারুণ সময় কেটেছে। তাঁর সহকর্মীরা এসেছেন। মন খুলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এই ব্যাপারগুলো আব্বুকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান চিকিৎসা প্রসঙ্গে জয় জানান, কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। এবার তাঁকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য দোয়া চাই।’
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন ক্যানসার।
অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে ৫ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। এরপর প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এদিকে দেড় বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে দেশে ফেরার জন্য তাঁর মনও টানছিল। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর সেই ইচ্ছাতেই এবার তাঁকে দেশে আনা হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও তা ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। এবার লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে তাঁর।