• প্রকাশ : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৪৭ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৪৭ এএম

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৪৭ এএম

শুরু থেকে আলোচনায় থাকা বিনোদনের মেজাজে বানানো গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক ঘরানার সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ঝড় তুলল অস্কার মঞ্চে। চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বড় সম্মান বলে বিবেচিত ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের জিতল পল টমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানদার’ সিনেমাটি।


যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে রোববার সন্ধ্যায় অস্কারের জমকালো আসরে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। অস্কারের আসর সঞ্চালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কমেডিয়ান কোনান ও’ব্রায়েন। 


শুরুতেই তিনি বলেন, ‘এবারের অস্কার হতে যাচ্ছে রাজনৈতিক’।


সেরা সিনেমা, সেরা নির্মাতাসহ ৬ শাখায় অস্কার জিতে নিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এই সিনেমাটি।


তবে সেরা অভিনেতার অস্কার ছিটকে যাওয়ায় বড় সম্ভাবনা থাকলেও দ্বিতীয়বার আর অস্কার জয় হল না ক্যাপ্রিওর। অস্কার পেতে ১৩ শাখায় মনোনয়ন পেয়েছিল এই সিনেমাটি।


‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন পল টমাস অ্যান্ডারসন।


সেরা নির্মাতার পুরস্কার জিতে অ্যান্ডারসন বলেন, “এই প্রাপ্তির জন্যআমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আপনাদের ধন্যবাদ।”


অ্যান্ডারসন বলের তার দলের সদস্যরা সম্মানিত, এই সম্মানের ভাগীদার হওয়ার জন্য।


রসিকতা করে অস্কারজয়ী এই নির্মাতা বলেন, “কোনো কিছু পাওয়ার আগে আপনার মনে সন্দেহ থাকতে পারে যে আপনি এটার যোগ্য কী না। কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই আমি অস্কার পেয়ে আনন্দিত।”


তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি মানুষের আস্থা-ভরসা ও বিশ্বাস আমার উপরে আছে।”


১৯৯০ সালে প্রকাশিত টমাস পিনচনের উপন্যাস ‘ভাইনল্যান্ড’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি বানিয়েছেন পল টমাস অ্যান্ডারসন। যার সঙ্গে এ সময়ের যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়। বিপ্লব, অভিবাসন, দুর্নীতি, সংঘর্ষ, শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য-কী নেই এই সিনেমায়।


বলা হয়, ‘এই সিনেমা অসন্তোষ, প্রতিবাদ আর সমাজের বাইরে থাকা একাকী নায়কের গল্প, যা আজকের আমেরিকায় দেখা যায় না।’


দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে।


বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেমাটিকে ‘সমাজের আয়না’ বলে অভিহিত করেছিলেন মূল চরিত্রাভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। তার ভাষ্যে, “আমাদের সংস্কৃতির বিভাজন আর চরম মেরুকরণকে দেখায় এই সিনেমা। যদিও সিনেমার নির্দিষ্ট কোনো বার্তা নেই, তবে চরমপন্থার একধরনের প্রভাব এখানে কাজ করেছে।”


এই সিনেমায় রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, ব্ল্যাক কমেডি ও অ্যাকশন আছে, যার প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা।


দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, এই সিনেমা অসন্তোষ, প্রতিবাদ আর সমাজের বাইরে থাকা একাকী নায়কের গল্প, যা আজকের আমেরিকায় দেখা যায় না।


সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী


ডিক্যাপ্রিও বা টিমোথি শ্যালামে নন, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অস্কারে সেরা অভিনেতা হলেন ‘সিনার্স’ অভিনেতা মাইকেল বি জর্ডান।


রায়ান কুগলার পরিচালিত হরর ছবি ‘সিনার্স’–এ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এ পুরস্কার পেলেন তিনি।


সিনার্স’ একদিকে এটি যেমন হরর সিনেমা, অন্যদিকে ব্লুজ সংগীতনির্ভর মিউজিক্যাল, আবার একই সঙ্গে গ্যাংস্টার থ্রিলার। অর্থাৎ ত্রিশের দশকের মিসিসিপিকে কেন্দ্র করে নির্মিত গভীর গবেষণাভিত্তিক ঐতিহাসিক ড্রামা হল ‘সিনার্স’।


সিনেমায় যমজ ভাইয়ের চরিত্রাভিনেতা মাইকেল বি. জর্ডান যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন।


তবু এই ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে, স্মোকস্ট্যাক যমজ ভাই হয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন মাইকেল। শরীরী ভাষা ও কণ্ঠের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে দুই ভাইকে আলাদা করে তুলেছেন নিজের দক্ষতায়।


পুরস্কার পেয়ে ছোট্ট কথায় মাইকেল বি. জর্ডান বলেন, ‘তিনি হতবাক’।


পুরস্কার হাতে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাইকেল বি. জর্ডান বলেন, “তারা আমার আগে শুরু করেছিলেন বলেই আমি আজ এখানে আসতে পেরেছি।”


সহশিল্পীদের প্রতি তার ভাষ্য, ‘তোমরা সবাই মিলে এই সিনেমাটি তৈরি করেছ’।


আরও বলেন, “আজ এখানে আমার বাবা এসেছেন. পরিবারের সদস্যরা এসেছেন, তারাও অভিভূত।”


সেরা অভিনেত্রী জেসি বাকলি। গোল্ডেন গ্লোব, ক্রিটিকস চয়েজ, বাফটা, অ্যাক্টার অ্যাওয়ার্ডসের পর সমালোচকরা ধারণা করেছিলেন, এই শাখায় অস্কারটি যাচ্ছে বাকলির হাতে। অস্কার মঞ্চেও চমক দেখালেন তিনি।


চার প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে ক্লোয়ি ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’ সিনেমার জন্য এ পুরস্কার পেলেন এই আইরিশ তারকা।


বাকলি অস্কার জিতে গড়লেন ইতিহাসও। কারণ তাহলে প্রথম কোনো আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জয় করলেন এই অভিনেত্রী।


বাকলি অভিনীত ‘হ্যামনেট’ ম্যাগি ও ফ্যারেলের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত, যা উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ও তার স্ত্রী অ্যাগনেস হ্যাথাওয়ের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।


এতে ১১ বছর বয়সী পুত্র হ্যামনেটের মৃত্যুতে পারিবারিক শোক, সংকট এবং শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘হ্যামলেট’ সৃষ্টির পেছনের আবেগঘন পারিবারিক কাহিনী দেখানো হয়েছে। সিনেমাতে আরও আছেন পল মেসক্যাল।


এই সিনেমা সন্তান হারানোর শোক নিয়ে। সমালোচকদের ভাষ্য, এই সিনেমায় বাকলি নিজেকে শেক্সপিয়ারের স্ত্রী অ্যাগনেস হ্যাথাওয়ের চরিত্রে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন।


নির্মাতা ক্লোয়ি ঝাওয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাকলি। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তার স্বামীর প্রতি।


অশ্রুস্বজল চোখে বাকলি বলেন, “আমার বাবা-মা সব সময় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।


"আজ যুক্তরাজ্যে মা দিবস, তাই আমি এটি একজন মায়ের হৃদয়ের প্রতি এই অস্কার উৎসর্গ করতে চাই। এই ভূমিকায় আমাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”


পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী


পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন অ্যামি মুলিগান; আলোচিত হরর সিনেমা 'ওয়েপনস'-এর জন্য পুরস্কার পেলেন তিনি। সেরা পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শন পেন। ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এর অভিনেতা শন পেন এই শাখায় পুরস্কার পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়েই ছিলেন।


জয়ের হাসি হাসল যারা


• সেরা সিনেমা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার


• সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলি (হ্যামনেট)


• সেরা অভিনেতা: মাইকেল বি জর্ডান (সিনার্স)


• সেরা পরিচালক: পল টমাস অ্যান্ডারসন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)


• সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: অ্যামি মুলিগান (ওয়েপনস)


• সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)




জেনিফার উইনগেট।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৫ এএম

বিয়ে মানেই কি অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়া? অনেক অভিনেত্রীকেই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবার একই প্রশ্নের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী জেনিফার উইনগেট।


সম্প্রতি বিয়ের পর কাজের অগ্রাধিকার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।


আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর প্রচারে গিয়ে জেনিফার জানান, বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার কিছুটা বদলেছে ঠিকই, তবে অভিনয় কিংবা কাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।




গত ১৬ জুলাই প্রবাসী ব্যবসায়ী উইলিয়াম ইসমাইলের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন জেনিফার। বিয়ের পর কাজের ক্ষেত্রে তার অগ্রাধিকার বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন,‘কিছুই বদলায়নি। আমি শুধু বিয়ে করেছি। বাকি সব একই আছে।’


জুলাই মাসে উইলিয়াম ইসমাইলকে বিয়ে করেন জেনিফার উইনগেট। ছবি: সংগৃহীত।

জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতেই বিশ্বাসী জেনিফার। কাজের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কও তার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অভিনেত্রীর ভাষায়, কিছু মানুষ জীবনে ভারসাম্য পছন্দ করেন, তিনিও তাদেরই একজন।


টেলিভিশন কিংবা ডিজিটাল- যে মাধ্যমেই কাজ করুন না কেন, সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশকে গুরুত্ব দেন জেনিফার। একই মানুষদের সঙ্গে বারবার কাজ করার কারণও জানিয়েছেন তিনি।


তার মতে, পরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করলে একটি স্বচ্ছন্দ পরিবেশ তৈরি হয়। একে অপরকে বুঝতে সুবিধা হয়। কে কী করবেন কিংবা কী করবেন না, সেটিও অনেকটা আগে থেকেই জানা থাকে। ফলে কাজের জায়গায় বোঝাপড়া আরও সহজ হয়।


তবে বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার কিছুটা বদলেছে বলে স্বীকার করেছেন জেনিফার। কাজের প্রয়োজনে তাকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কখন কোথায় থাকতে হবে, কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে সামলাবেন- এসব বিষয় এখন আগের চেয়ে কিছুটা বেশি ভাবতে হচ্ছে তাকে।


তবুও নতুন জীবন নিয়ে এখন পর্যন্ত তার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি ভক্তদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।


এদিকে জেনিফার বর্তমানে ব্যস্ত তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর প্রচারে। রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার এ সিরিজে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন পরিণীতি চোপড়াসহ আরও অনেকে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সিরিজটির।


সিডনি সুইনি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি এবার সিনেমা বা সিরিজে নয়, আলোচনায় এসেছেন একটি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে। নতুন স্পোর্টস ট্রেডিং ও প্রেডিকশন অ্যাপ নোভিগের বিজ্ঞাপনে প্রায় পুরোপুরি নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হয়েছেন ‘ইউফোরিয়া’ অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনটিতে সুইনিকে দেখা যায় বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জামের সঙ্গে। কোথাও বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢেকেছেন, কোথাও আবার হকি গোলপোস্ট, ফুটবল প্যাড, বেসবল ক্যাচারের হেলমেট কিংবা হকি গোলকিপারের মাস্ক ব্যবহার করেছেন। সুইনি শুধু এই বিজ্ঞাপনের মুখ নন, নোভিগের কৌশলগত অংশীদার ও শেয়ারহোল্ডারও হয়েছেন।


বিজ্ঞাপনটি নিয়ে এক বিবৃতিতে সুইনি বলেন, ‘মজার একটি ধারণাকে সামনে আনাই ছিল এই প্রচারের উদ্দেশ্য। ভাবনাটি খুব সহজ—সব ধরনের বাড়তি শব্দ সরিয়ে মনোযোগটা পুরোপুরি খেলাধুলার দিকে নেওয়া।’


বিজ্ঞাপনের শুরুতেই সুইনিকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাবছেন খেলাধুলা সম্পর্কে আপনি সব জানেন? তাহলে প্রমাণ করুন।’ এরপর ক্যামেরার সামনে নগ্ন অবস্থায় একটি বাস্কেটবল হুপের ওপর বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। শরীর ঢেকে রেখেছেন কয়েকটি বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে।


এরপর বিজ্ঞাপনটি আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। কখনো হকি গোলকিপারের পোশাকের অংশ, কখনো ফুটবল প্যাড, আবার কখনো বেসবল ক্যাচারের হেলমেট পরে দেখা যায় সুইনিকে। একপর্যায়ে তিনি নোভিগের জার্সিও পরেন।


নোভিগ গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য বয়স হতে হবে অন্তত ২১ বছর। আধুনিক আর্থিক বাজারের ট্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে খেলাধুলাকেন্দ্রিক প্রেডিকশন মার্কেটের ধারণা মিলিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


তবে খোলামেলা বিজ্ঞাপনে সুইনির উপস্থিতি এবারই প্রথম নয়। চলতি বছর নিজের অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড সির্ন চালু করার পর সেখানকার প্রচারণাতেও একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। গত বছর আমেরিকান ইগলের একটি জিনসের বিজ্ঞাপনেও অভিনয় করেছিলেন সুইনি। বিজ্ঞাপনে ‘গুড জিনস’ শব্দ নিয়ে করা শব্দখেলা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।


অভিনয়ের দিক থেকেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সুইনি। ‘দ্য হাউসমেইড’-এর সাফল্যের পর এর সিকুয়েল ‘দ্য হাউসমেইডস সিক্রেট’-এ দেখা যাবে তাঁকে। ‘এনিবডি বাট ইউ’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। তুলনামূলক ছোট বাজেটের সেই রোমান্টিক কমেডি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি ডলার আয় করে বড় বক্স অফিস সাফল্য পায়।


সুইনির সামনে আরও আছে নেটফ্লিক্সের ‘গান্ডাম’ সিনেমা এবং স্টুডিওক্যানালের ‘দ্য কাস্টম অব দ্য কান্ট্রি’।


মেঘনা আলম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে নানা সময় আলোচনায় থাকেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ, পর্দা করা এবং গণমাধ্যমে তার পুরোনো ছবি প্রকাশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম লেখেন, ‘আমি মাথায় কাপড় দিয়ে থাকি প্রায় ২ বছর। এদিকে মিডিয়া সব নিউজ করে আমার আগের ক্লিভেজ শো করা। একজন নারীর চয়েস, কমফোর্ট, মডেস্টি সব কিছুর চেয়ে ভিউ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছা থাকলেও পর্দা করা সম্ভব না।’


এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন মেঘনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াননি তিনি।


মেঘনা আলম লেখেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি। তবুও আমাকে কত অপবাদ দেওয়া হয়, শুধু ধর্মীয় লেবাসে না থাকার কারণে।’


তার দাবি, শুধু পোশাক বা ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ না করার কারণে একজন নারীকে নিয়ে নানা ধরনের অপবাদ ছড়ানো হয়। একই সঙ্গে একজন নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ ও জীবনযাপনের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


পোস্টে সমাজের দ্বিমুখী মানসিকতার সমালোচনাও করেন মেঘনা। তার অভিযোগ, নৈতিকতা ও ধর্মের মুখোশ পরে থাকা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ কিংবা ভাইরাল অডিও ছড়িয়ে পড়লেও তাদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।


এমন সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেঘনা আলম লেখেন, ‘এ কেমন দুনিয়া?’


তার সাম্প্রতিক পোস্টে মূলত একজন নারীর পোশাক, ব্যক্তিগত পছন্দ ও সামাজিক মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে পুরোনো ছবি ও বর্তমান জীবনযাপনের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


মেঘনা আলমের এসব বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-প্রতিক্রিয়া। কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন, আবার কেউ ভিন্নমতও জানাচ্ছেন। তবে নিজের অবস্থান ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন এই মডেল ও রাজনীতিবিদ।

বিষয় : মেঘনা আলম


এআই ছবিতে আশির দশকের লুকে তাসনিয়া ফারিণ ও তমা মির্জা

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৯ পিএম

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডের নতুন এক হাওয়া বইছে।  নেটিজেনরা যেন হুট করেই ফিরে গেছেন আশির দশকে। ফেসবুক খুললেই টাইমলাইনে ভেসে উঠছে আশির দশকের হলিউড-বলিউডের ক্লাসিক পোস্টার বা ভিন্টেজ ফটোশুটের ছবি। ওভারসাইজড ব্লেজার, পোলকা ডট পোশাক, চওড়া কলারের শার্ট, রট্রো হেয়ার স্টাইলে ধরা দিচ্ছেন তারকারা। 


নিজের বর্তমান ছবিকে এআই-এর মাধ্যমে বদলে নিয়ে নেটিজেনরা দেখে নিচ্ছেন, চার দশক আগের সেই স্নিগ্ধ ফ্রেমে নিজেকে কেমন দেখাত। এই রেট্রো রূপান্তরের ছোঁয়া বাদ পড়েনি বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন থেকেও।


নতুন ট্রেন্ডে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা, সাফা কবির, তমা মির্জা, তাসনিয়া ফারিণ, বিদ্যা সিনহা মিম তৌসিম মাহাবুব, আরশ খান, জিয়াউল ফারুক অপূর্বসহ অনেকে। 


নজর কাড়া একটি ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, নতুন ট্রেন্ড 


চিত্রনায়িকা তমা মির্জা নিজের এমন একটি রেট্রো মেকওভারের ছবি অনুরাগী ও অনুসারীদের সাথে ভাগ করে নিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড অনুসরণ করছি।’ 


অভিনেত্রী তানজিকা আমিন ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছেন, গা ভাসাইলাম


অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেছেন, কালজয়ী গান আর পুরোনো দিনের স্টাইলের সেই সোনালী যুগে ফিরে যাওয়া!


অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম লিখেছেন, আশির দশকের লুক।


সাফা কবির লিখেছেন, আশির দশকের এই উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর চরকি এতে দারুণ এক চমৎকার ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে! আশির দশকের এই লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?


অন্যদিকে, ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব আশির ধাঁচের একটি ফ্রেমে বন্দী হয়ে লিখে জানিয়েছেন, ‘আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে।’


অভিনেত্রী সাফা কবীর ও তাসনিয়া ফারিণও পিছিয়ে নেই এই ডিজিটাল নস্টালজিয়া থেকে। নিজের আশির দশকের রূপ প্রকাশ করে সাফা কবীর লিখেছেন, ‘আশির দশকের উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে, আর চরকি বিষয়টিকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে! আশির দশকের লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?’ একই ধারায় তাসনিয়া ফারিণ কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়েই যেন মন্তব্য করেছেন, ‘ভালোই হতো।’


সংগীতশিল্পী পড়শীও নিজের একটি সত্তাকে ৪০ বছর আগের সেই পুরোনো ক্যানভাসে আবিষ্কার করে বেশ রোমাঞ্চিত। ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮০ সালে যদি থাকতাম, তাহলে মনে হয় এমন থাকতাম।’


চিত্রনায়িকা মৌসুমী

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

প্রায় তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি; বরং প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও সময়-সুযোগ মিললে যুক্ত হচ্ছেন নানা ধরনের শুটিংয়ের কাজে। এবার তাঁকে দেখা যাবে নতুন একটি সিনেমায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হতে যাওয়া সিনেমাটির নাম ‘আ বিউটিফুল লাই’। সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করছেন নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। সিনেমাটির পরিচালনায়ও তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মৌসুমীকে কেন্দ্র করে নতুন এই কাজের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন নির্মাতা। সিনেমাটির শুটিং শিগগির শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে এর পরিধিও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লোকেশনে গল্পের প্রয়োজনে শুটিং করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে শুটিং, সহশিল্পী, মুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। 


‘আ বিউটিফুল লাই’ নিয়ে শুরুতে প্রাথমিকভাবে টেলিছবি হিসেবে নির্মাণের কথা ভেবেছিলেন নির্মাতা। গল্পের ব্যাপ্তি ও নির্মাণের সম্ভাবনা বিবেচনায় এখন এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় রূপ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সে অনুযায়ী চিত্রনাট্যেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গল্পের ধরনও বেশ আলাদা। 


‘আ বিউটিফুল লাই’ মূলত একটি রোড ট্রিপের গল্প। এর সঙ্গে রয়েছে থ্রিলারের আবহ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে চলার মধ্যে গল্পের চরিত্রদের জীবনে ঘটতে থাকবে নানা ঘটনা। সেই ঘটনাগুলোর কেন্দ্রে থাকবে একটি মিথ্যা। সেই মিথ্যাকে ঘিরে গল্প এগোবে ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে। 


সিনেমাটির নামের মধ্যেও যেন গল্পের মূল ভাবনাটি লুকিয়ে রয়েছে। মিথ্যা থেকে যখন একের পর এক ঘটনা তৈরি হয়, সেই মিথ্যার মধ্যেও কখনও কখনও জীবনের সুন্দর মুহূর্ত ধরা দেয়। নির্মাতা সেই বৈপরীত্যকে গল্পের ভেতর তুলে ধরতে চাইছেন। 


নতুন এই সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে মৌসুমীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এর গল্প তাঁকে আগ্রহী করেছে। বিশেষ করে রোড ট্রিপের সঙ্গে থ্রিলারের সংমিশ্রণ এবং মিথ্যাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে ভালো লেগেছে। মৌসুমী বলেন, ‘আ বিউটিফুল লাই মূলত একটা রোড ট্রিপের গল্প। থ্রিলারধর্মী গল্প। গল্পে যা কিছু ঘটছে, একটা মিথ্যার ওপর ঘটছে। তারপরও ভালো লাগছে মুহূর্তগুলো। সে কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে আ বিউটিফুল লাই।’


গল্পের বিষয়ে খুব বেশি কিছু অবশ্য এখনই প্রকাশ করতে চান না মৌসুমী। তাঁর কথায়, সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত কোন মাধ্যমে মুক্তি পাবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়। 


মৌসুমী ও নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের অবশ্য এটাই প্রথম কাজ নয়। দেশে থাকাকালীন এই নির্মাতার নির্দেশনায় অভিনয় করেছেন মৌসুমী। এবার দুজনের কাজের ক্ষেত্র যুক্তরাষ্ট্র। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখানকার লোকেশন ও পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে গল্পটি পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন তিনি। 


মৌসুমীর প্রবাসজীবনে পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাজুড়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মা, বোন ও মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। একসময় ঢাকাই সিনেমার ব্যস্ততম নায়িকাদের একজন ছিলেন মৌসুমী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ এখনও অটুট। তাই দেশের বাইরে থেকেও যখন নতুন কোনো গল্প তাঁর সামনে আসে, গল্পটি পছন্দ হলে তাতে যুক্ত হচ্ছেন। 


‘আ বিউটিফুল লাই’ও তেমনই একটি কাজ। তবে মৌসুমীর ভাষ্যে আপাতত ছবিটির সবচেয়ে বড় পরিচয়–মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া এক উপভোগ্য রোড ট্রিপের গল্প।


নুসরাত ফারিয়া

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

নুসরাত ফারিয়া। মডেল ও অভিনেত্রী। আজ তাঁর জন্মদিন। অভিনয়, গান ও উপস্থাপনা-বিনোদনের নানা মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজ করেছেন। জন্মদিন, নতুন কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।


এবারের জন্মদিন কীভাবে কাটবে?


গত পাঁচ বছর জন্মদিনে দেশের বাইরে ছিলাম। এ কারণে ঢাকায় জন্মদিন উদযাপন করা হয়নি। এবার ঢাকায় খুব আনন্দেই কাটবে জন্মদিন। তবে বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, কাছের মানুষদের সঙ্গে থাকব। জন্মদিনে সবচেয়ে ভালো লাগে মানুষের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পেতে। 


ভক্তরা যেভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার। এখন জন্মদিনকে শুধু আনন্দের দিন হিসেবে দেখি না; বরং গত এক বছরে কী করেছি, কী শিখেছি, কোথায় ভুল করেছি এবং সামনে কী করতে চাই– এসব নিয়েও ভাবি। 


শৈশবের জন্মদিনের কথা মনে পড়ে?


খুব মনে পড়ে। ছোটবেলায় জন্মদিন মানেই ছিল নতুন জামা, কেক, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। তখন জন্মদিনের আনন্দটা ছিল খুব সরল। কে কী উপহার দেবে, কেক কখন কাটব- এসব নিয়েই উত্তেজনা থাকত। এখন জীবন অনেক ব্যস্ত, দায়িত্বও বেড়েছে। তাই ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে ভালো লাগে। ওই সময়ের আনন্দটা অন্যরকম ছিল।




চলচ্চিত্রের এই সময়কে কীভাবে দেখছেন?


চলচ্চিত্র এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দর্শকের রুচি বদলেছে, গল্প বলার ধরন বদলেছে, মাধ্যমও বেড়েছে। সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি এখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছে। ফলে শিল্পীদের জন্য সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি দায়িত্বও বেড়েছে। দর্শক এখন অনেক সচেতন। শুধু তারকা থাকলেই একটা কাজ ভালো হবে-এমনটা তারা ভাবেন না। গল্প, অভিনয়, নির্মাণ–সবকিছুর দিকে তারা নজর দেন। আমি মনে করি, এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন।


মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ফুটবল ৭১’ নিয়ে কতটা আশাবাদী?


‘ফুটবল ৭১’ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের যে ভূমিকা, সেটি আমাদের ইতিহাসের গর্বের অংশ। এমন একটি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা আমার জন্য আনন্দের। আমি চাই, আমাদের নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানুক। দর্শক সিনেমাটি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন বলে আমি আশাবাদী।


‘লাপাত্তা’য় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?


‘লাপাত্তা’ করতে গিয়ে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার নিয়মিতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো- এটা আমার কাছে বিশেষ অনুভূতি। এফডিসি আমার চিরচেনা জায়গা। কদিন আগেই সেখানে গানের শুটিং করেছি, এবার ‘লাপাত্তা’র শুটিং করেছি। মেহেদী হাসান হৃদয় এই সময়ের একজন মেধাবী নির্মাতা। দর্শকের পালস বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে গল্পটা।


গল্পের কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?


গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পুরো গল্পটি তাঁকে ঘিরে এগিয়েছে। এটা শুধু থ্রিলার নয়। এখানে সাসপেন্স, থ্রিল ও আবেগের পাশাপাশি কমেডিও আছে। ফলে চরিত্রটিতে অনেক ধরনের শেড রয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এমন চরিত্র করার সুযোগ আমাকে আকৃষ্ট করেছে। নাসির উদ্দিন খান, শাহরিয়ার নাজিম জয়– চমৎকার শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি। আশা করছি, দর্শকও নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন।


জীবনের নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার পর অভিনয়ে ফিরেছেন। এই ফেরাটা আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?


খুব গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে সবকিছু সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। কিছু পরিস্থিতি মানুষকে থামিয়ে দেয়, কিছু ঘটনা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। আমিও অনেক কিছু থেকে শিখেছি। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে পারি। বুঝেছি, কোনো কঠিন সময়ই চিরস্থায়ী নয়। মানুষের ভালোবাসা অনেক শক্তি দিয়েছে। সেই শক্তিতেই আবার কাজে ফিরতে পেরেছি। এখন সামনে তাকাতে চাই।


প্রায়ই দেশের বাইরে দেখা যায়। সম্প্রতি তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে ঘুরেছেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কেমন?


ভ্রমণ আমার খুব পছন্দের। নতুন জায়গা দেখা, নতুন সংস্কৃতি জানা, নতুন মানুষের জীবনযাপন দেখা– এসব আমাকে অনেক কিছু শেখায়। তুরস্কের অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল। অক্সফোর্ডেও সময়টা উপভোগ করেছি। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য কিছু সময় বের করা দরকার। ভ্রমণ আমাকে মানসিকভাবে রিচার্জ করে। ফিরে এসে কাজের প্রতি নতুন উদ্যম পাই।


গান নিয়েও তো আপনাকে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?


গান আমার আরেকটি ভালো লাগার জায়গা। ‘লোকে বলে’ নিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি। ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতাও চমৎকার। গানটির ভিডিওতে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। সামনে আরও দুটি নতুন গান নিয়ে পরিকল্পনা আছে। সময় হলে শ্রোতাদের সঙ্গে সেগুলো শেয়ার করব।


উপস্থাপনায় ফেরার ইচ্ছা আছে?


উপস্থাপনা আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে এখন অভিনয় ও গানকে বেশি সময় দিচ্ছি। আমি যে মাধ্যমেই কাজ করি, সেখানে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। শুধু কাজ করার জন্য কাজ করতে চাই না। কাজটির মধ্যে যেন নিজের ভালো লাগা এবং দর্শকের জন্য নতুনত্ব থাকে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।


ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?


অভিনয়ে আরও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করতে চাই। সবেচেয়ে বড় কথা, আমি এখনও স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নপূরণের গল্পটা এখনও শেষ হয়নি। গল্পনির্ভর কাজ করতে চাই। গানে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে।