স্পাইডার ম্যান
বিশ্ব বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্ভেল ও সনির ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির মাত্র ১৭ দিনের মাথায় সিনেমাটি ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম চলচ্চিত্র হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
এর আগে সবচেয়ে দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছাতে ‘অ্যাভঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর সময় লেগেছিল মাত্র ১১ দিন।
বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক শূন্য ২২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। টম হল্যান্ড ও জেনডায়া অভিনীত এবং ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আয় করেছে ৭৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১ দশমিক ২৩৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে মাত্র অষ্টম ছবি, যা ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে।
তৃতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বব্যাপী সপ্তাহান্তের আয় ১৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এসেছে ৭০ মিলিয়ন ডলার। এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়। এই তালিকায় এখনো শীর্ষে আছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকনস’। আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি ৬৭টি দেশে চলমান। তৃতীয় সপ্তাহান্তে বিদেশি বাজার থেকে আয় করেছে ১১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার ছিল চীন, যেখানে সপ্তাহান্তে আয় ১০ মিলিয়ন ডলার এবং মোট আয় ২১০ মিলিয়ন ডলার।
এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৬৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন), যুক্তরাজ্য (১০৬ মিলিয়ন), মেক্সিকো (৭৮ মিলিয়ন), ব্রাজিল (৫৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন) ও ভারত (৫৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার)। ভারতসহ ৩৬টি আন্তর্জাতিক বাজারে এটি সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে গেছে। তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ইতালি, স্পেন, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ।
অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ও দুর্দান্ত গতিতে এগোচ্ছে। মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহে ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে আয় ৫০৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৭৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। শুধু চীনেই প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৩৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার।
তবে এই মুহূর্তে বিশ্ব বক্স অফিসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ১৭ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে ছবিটি শুধু স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নয়, পুরো সুপারহিরো সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা যখন ব্যর্থতার মুখে, তখন নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ কীভাবে সাফল্য পেল? জেনে নেওয়া যাক সম্ভাব্য ১০ কারণ-
‘স্পাইডার-ম্যান’ নিজেই এক বিশাল ব্র্যান্ড
টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সও নয়-স্পাইডার-ম্যান নিজেই একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মতো স্পাইডার-ম্যানও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সুপারহিরোদের একজন। এমসিইউর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে চরিত্রটি আরও বড় একটি জগৎ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা এমসিইউর ওপর নির্ভরশীল নয়।
এই কারণেই টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দেখতে দর্শক শুধু মার্ভেলের ভক্ত হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে যান না।
সাধারণ দর্শকের কাছেও চরিত্রটির আলাদা আবেদন আছে। ফলে এমসিইউর অন্য কিছু সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমলেও স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
টম হল্যান্ডের আগের তিন সিনেমাই ছিল সফল
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর আগে টম হল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া তিনটি স্পাইডার-ম্যান সিনেমা-‘হোমকামিং’ (২০১৭), ‘ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯) ও ‘নো ওয়ে হোম’ (২০২১)-দর্শক ও সমালোচকদের কাছেই জনপ্রিয় হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এও হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দর্শক পছন্দ করেছেন।
অর্থাৎ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শূন্য থেকে শুরু করেনি। আগের সিনেমাগুলো চরিত্রটির জন্য যে আস্থা তৈরি করেছে, নতুন ছবিটি সেই আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে যেন ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষত থেকেছে-আগের প্রতিটি সিনেমা পরের সিনেমার জন্য দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। মার্ভেলের বৃহত্তর ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু চরিত্র ও গল্প নিয়ে যেখানে দর্শকের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনা ছিল অনেক বেশি ধারাবাহিক।
‘নো ওয়ে হোম’-এর আবেগ এখনো তাজা
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’কে বোঝার জন্য ‘নো ওয়ে হোম’-এর শেষটাও গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমাটির শেষে পিটার পার্কারকে এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার ফলে পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে যায়। এমনকি তার প্রিয় মানুষ এমজিও আর জানে না পিটার পার্কার কে।
এই সমাপ্তি শুধু একটি সিনেমার শেষ ছিল না; এটি ছিল চরিত্রটির জীবনে বড় এক পরিবর্তন। ফলে পরের সিনেমায় কী হবে, পিটার কীভাবে এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে-তা জানার কৌতূহল তৈরি হয় দর্শকের মধ্যে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই আবেগের জায়গা থেকেই গল্প শুরু করেছে। ফলে আগের সিনেমার দর্শকের জন্য এটি শুধু আরেকটি নতুন স্পাইডার-ম্যান সিনেমা নয়; বরং অসমাপ্ত একটি আবেগের পরের অধ্যায়।
এবার মাল্টিভার্স নয়, নিউইয়র্কের রাস্তায় স্পাইডার-ম্যান
সাম্প্রতিক এমসিইউর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাল্টিভার্স। অন্য জগৎ, বিকল্প বাস্তবতা, অসংখ্য চরিত্র ও সময়ের নানা স্তর-সব মিলিয়ে বিশাল এক গল্পের কাঠামো। ‘নো ওয়ে হোম’ও সেই মাল্টিভার্সকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল এবং দর্শক সেটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপর একই ধরনের ধারণার পুনরাবৃত্তিতে দর্শকের একাংশ ক্লান্ত হয়েছে।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পথ থেকে সরে এসেছে। ছবিটির গল্প তুলনামূলকভাবে স্ট্রিট-লেভেল বা মাটির কাছাকাছি। পিটার পার্কার নিউইয়র্কে নিজের মতো করে কাজ করছেন, অপরাধীদের মোকাবিলা করছেন, পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন।
এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্পাইডার-ম্যানের আসল শক্তি শুধু পৃথিবী বাঁচানো নয়; একজন সাধারণ তরুণ কীভাবে নিজের ব্যক্তিজীবন ও সুপারহিরো পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখে-সেটিও।
‘ম্যাকগাফিন’ নেই, আছে চরিত্র
সুপারহিরো সিনেমার বহুল ব্যবহৃত একটি কাঠামো হলো কোনো বিশেষ বস্তু খুঁজে বের করা, রক্ষা করা কিংবা ধ্বংস করা। কখনো পাথর, কখনো কিউব, কখনো তলোয়ার, কখনো এমন কোনো বস্তু যা পুরো মহাবিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পরিচিত কাঠামো থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে।
স্পাইডার-ম্যান কমিকসের দীর্ঘদিনের লেখক জে মাইকেল স্ট্র্যাজিনস্কিও এ বিষয়টিকে ছবিটির সাফল্যের একটি কারণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, দর্শক বারবার একই ধরনের ‘ম্যাকগাফিন’ বা রহস্যময় বস্তুকেন্দ্রিক গল্প দেখতে দেখতে ক্লান্ত হতে পারেন।
‘এন্ডগেম’-এর পর আবার সেই উন্মাদনা?
‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছিল এমসিইউর একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অনেক সিনেমাই ব্যবসা করেছে, কিছু সিনেমা বড় সাফল্যও পেয়েছে। কিন্তু ‘এন্ডগেম’-এর মতো সর্বজনীন সাংস্কৃতিক ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর সাফল্য তাই শুধু স্পাইডার-ম্যানের সাফল্য নয়। এটি মার্ভেলের জন্যও একধরনের স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল-সুপারহিরো সিনেমা কি তার আগের আবেদন হারিয়ে ফেলেছে?-‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তার উত্তর দিয়েছে অন্যভাবে। দর্শক হয়তো সুপারহিরো সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তাঁরা শুধু একই ধরনের সুপারহিরো সিনেমা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়েছেন।
তাই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ যখন একই পুরোনো চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে এনে গল্পকে ব্যক্তিগত করেছে, মাল্টিভার্সের বদলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ফিরিয়েছে, অতিরিক্ত ম্যাকগাফিন বাদ দিয়েছে এবং টম হল্যান্ড-জেন্ডায়ার মতো তারকাদের আবেগকে সামনে রেখেছে-তখন দর্শক আবারও সাড়া দিয়েছেন। আর এখানেই ছবিটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা: সুপারহিরো সিনেমার সমস্যা হয়তো সুপারহিরো নয়, সমস্যা গল্প বলার ধরনে।
চরিত্রনির্ভর গল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে তাই গল্পের কেন্দ্রে কোনো জাদুকরি বস্তু নয়; বরং পিটার পার্কার নিজেই। তার হারানো সম্পর্ক, একাকিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নতুন শত্রুর মোকাবিলা-গল্পের আবেগ তৈরি হয়েছে এসব জায়গা থেকে। সুপারহিরো সিনেমায় এটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তন হলেও দর্শকের কাছে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
বাস্তবধর্মী আবহ দর্শককে টেনেছে
‘গ্রাউন্ডেড’ বা বাস্তবধর্মী-শব্দ দুটি শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগে, কারণ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ কোনো বাস্তবধর্মী পারিবারিক নাটক নয়। এটি স্পাইডার-ম্যানের সিনেমা। তবু মার্ভেলের অন্যান্য অনেক ছবির তুলনায় এর গতি কম উন্মত্ত, গল্প বেশি চরিত্রনির্ভর এবং বেশ কিছু দৃশ্যকে নিছক সিজিআই প্রদর্শনী মনে হয় না।
সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের মধ্যে বাস্তবধর্মী নির্মাণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে-লো-ফাই ঘরানার সফল সিনেমা থেকে শুরু করে বড় বাজেটের কিছু ছবিতেও বাস্তব সেট, বাস্তব অ্যাকশন ও চরিত্রনির্ভর গল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ও সেই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে।
এমনকি ছবিটির সবচেয়ে দুর্বল অংশ হিসেবে যে দীর্ঘ লড়াইয়ের দৃশ্যটির কথা বলা হয়েছে, সেটিও হলো সবচেয়ে বেশি ‘মার্ভেলসুলভ’ অংশ-স্পাইডার-ম্যান ও হাল্কের দীর্ঘ লড়াই। অর্থাৎ ছবিটির যে অংশটি বেশি প্রচলিত সুপারহিরো ঘরানার, সেটিই তুলনামূলকভাবে গল্পের জন্য কম জরুরি বলে মনে হয়েছে।
টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার প্রভাব
স্ট্রিমিংয়ের যুগে অনেকেই মনে করেন, বড় তারকার প্রয়োজন কমে গেছে। কিন্তু বক্স অফিস আবারও দেখাচ্ছে, তারকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
টম হল্যান্ড ও জেনডায়া দুজনই বর্তমানে নিজেদের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার শীর্ষ পর্যায়ে। বাস্তব জীবনেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ফলে পর্দায় পিটার পার্কার ও এমজের সম্পর্কও বাড়তি আবেগ তৈরি করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে এই সম্পর্কই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর এমজি পিটারকে মনে না রাখার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি নতুন সিনেমার শুরু থেকেই দর্শকের আবেগের কেন্দ্র।
অর্থাৎ এখানে তারকাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং চরিত্রের আবেগ-দুটো একে অন্যকে শক্তিশালী করেছে।
স্যাডি সিঙ্ককে ঘিরে রহস্য
সিনেমা মুক্তির আগে স্যাডি সিঙ্ককে নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলাদা কৌতূহল। মার্ভেল তাঁর চরিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ভক্তদের মধ্যে নানা তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কে-এই প্রশ্নের উত্তর জানতে দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জিন গ্রের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে, বিশেষ করে এমসিইউতে এক্স-মেনের নতুন যুগ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে।
বর্তমান সময়ে সিনেমার বড় কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে চরিত্রের পরিচয় গোপন রাখা নিজেই একটি বিপণন কৌশলে পরিণত হয়।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই কৌশল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখতে গেছেন শুধু গল্পের জন্য নয়, স্যাডি সিঙ্ক আসলে কে-সেটি নিজের চোখে দেখার জন্যও।
দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা
বক্স অফিসে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য প্রথম সপ্তাহের আয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সব নয়। একটি সিনেমাকে দীর্ঘ দৌড়ের জন্য প্রয়োজন দর্শকের ভালোবাসা।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই জায়গাতেও সুবিধা পেয়েছে। দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং সিনেমাকে ঘিরে নানা মিম-সব মিলিয়ে ছবিটি মুক্তির পরও পপ সংস্কৃতির আলোচনায় থেকে গেছে। একটি সিনেমা যত বেশি মানুষকে কথা বলায়, নতুন দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।
এই ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখে মুখে প্রচারই বড় বাজেটের সিনেমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিজ্ঞাপনগুলোর একটি।
শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি দর্শকের ভালো লেগেছে
সব বিশ্লেষণের পর সবচেয়ে সহজ কারণটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- দর্শকের সিনেমাটি ভালো লেগেছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ টম হল্যান্ড যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমা। দর্শক-প্রতিক্রিয়াও ছিল অসাধারণ। ছবিটির দর্শক স্কোর ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা লাইভ-অ্যাকশন ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ছবিতে ক্যামিও আছে, ভবিষ্যৎ সিনেমার জন্য কিছু প্রস্তুতিও আছে, আছে নানা চমক ও মোড়। কিন্তু এসবের মধ্যেও গল্পের কেন্দ্র থেকে সরে যায়নি পিটার পার্কার। একদিকে তাকে নতুন এক রহস্যময় শত্রুর মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে।
বিশেষ করে পিটার ও এমজেকে ঘিরে একটি ছাদদৃশ্য দর্শকের আবেগকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ প্রমাণ করে, সুপারহিরো সিনেমার সাফল্যের জন্য সব সময় পৃথিবী ধ্বংসের হুমকি দরকার হয় না; কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা দিয়েও লাখো দর্শককে নাড়া দেওয়া সম্ভব।
করণ জোহর ও সালমান খান
ভারতের জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও বিতর্কের নানা বিষয় উঠে এসেছে প্রযোজক ও পরিচালক করণ জহরের এই অনুষ্ঠানের আড্ডায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ তথা নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রোমোতেই বেশ বোঝা গেল যে, দর্শকমহলের জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে। অতিথি বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। প্রচারঝলকের গোড়াতেই ভাইজানের সঙ্গে সঞ্চালককে রসিকতায় মাততে দেখা গেল।
আর সেখানেই করণ জোহরের প্রশ্নবাণে স্তম্ভিত ভাইজান!
সালমানকে স্বাগত জানিয়ে করণকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন জ্ঞানী মানুষ একবার বলেছিলেন, ‘ইটস ডান, ব্রো’। তাই আমার শেষ সিজন শুরু করার জন্য এই মানুষটির থেকে ভালো আর কে-ই হতে পারেন!’
বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের আড্ডা-গসিপ, বিতর্ক আর নানা আলোচনার ঠেক হয়ে উঠেছে করণ জোহরের টকশো। ‘কফি উইথ করণ’ মানেই নতুন সম্পর্ক, নতুন ব্রেকআপ আর নতুন গুঞ্জন!
শুধু তাই নয়, খুনসুটি করে তাকে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণের পর এবার শুরু হচ্ছে কফি উইথ সালমান।’ এরপরই বলিউড সুপারস্টারকে সরাসরি করণ জোহর জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘তুমি কি এখনও ভার্জিন (চিরকুমার)?’
এটাই অবশ্য প্রথম নয়! অতীতে একবার ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভাইজানকে। তবে এবার আর থামেননি। পালটা করণ জোহরকে সীমাজ্ঞানের পাঠ দিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই নিজেকে একটু কন্ট্রোল করো।’
টিজারটি প্রকাশ্যে আসতেই স্যোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। এর আগেও ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি পর্বে অতিথি হয়ে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির নবম মরশুমের প্রথম পর্বটি শিগগিরই প্রচার হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে
শাকিব খান ও স্বামী নেহালের সঙ্গে সাবিলা নূর
শোবিজ দুনিয়ায় বইছে তারকাদের বিচ্ছেদের বাতাস। এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের বিচ্ছেদগুঞ্জন।
২০১৯ সালে নেহাল সুন্দর তাহরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসারই চলছিল তার। কিন্তু এখন নাকি একসঙ্গে থাকছেনও না তারা! বিচ্ছেদ নাকি হয়েছে অনেক আগেই, যা গোপন রাখা হয়েছে অনেকদিন ধরে।
বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে উঠে আসে এমন কথা। পরে বিষয়টি আসে সংবাদের শিরোনাম আকারেই! এ গুঞ্জন ছড়ানোর নেপথ্যে মিলি সুলতানা নামের এক একটিভিস্ট-এর একাধিক পোস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে দীর্ঘ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, সাবিলার অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেট থেকেই নাকি অভিনেত্রীর সংসার ভাঙার বীজ বোনা হয়েছিল। মিলি সুলতানা পোস্টে উল্লেখ করেন, শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় সাবিলা নূরের। শুধু তাই নয়, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, দেশের নায়িকাদের কাছে শাকিব খান নাকি এক ভয়ানক ব্যধি। যার ভুক্তভোগী সাবিলার স্বামী নেহাল সুন্দর তাহের। সাবিলা নূর নাকি নেহালের নিয়ন্ত্রণে আর নেই, এমনটাও উল্লেখ করেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট আরও বিস্ফোরক কিছু বিষয় তুলে দাবি করেন, সাবিলা নূর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। রিহ্যাবেও ছিলেন বেশ কয়েকদিন।
নেহালের মনে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, শাকিব খানের পাল্লায় পড়ে সাবিলা নিজেকে আরও উঁচুতে ওঠাতে চেয়েছিলেন। বাসায় নাকি মদ্যপ অবস্থায়ও ফেরেন। নেহাল দেখলেন সাবিলা আর তার কবজায় নেই। এরপর মিলি সুলতানা উল্লেখ করেন, এ সকল ঘটনার কারণে নাকি সাবিলার সংসার ভেঙেছে; বিচ্ছেদ ঘটেছে। আর বিষয়টি গোপন রেখেছেন সাবিলা নূর।
সব মিলিয়ে, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে শোবিজ অঙ্গনের ভেতরে নায়িকাদের অফস্ক্রিন স্টোরির কথা তুলে ধরেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু এই পোস্টে শুধু শাকিবের দিকে আঙুল তুলে থেমে থাকেননি তিনি, পরবর্তী এক পোস্টে রকস্টার সিনেমার ডিওপি (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফার) আবদুল মামুনের সাথে সাবিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেই নাকি ভেঙে যায় সাবিলা-নেহালের সাত বছরের সংসার।
অ্যাক্টিভিস্ট মিলি সুলতানা সবশেষ উল্লেখ করেন, ‘যদিও সাবিলা শাকিবের সাথে ধামাকা রোমান্সে অংশ নিয়েছেন এটা সত্যি। কিন্তু তার ঘর ভাঙার জন্য রকস্টারের ক্যামেরাম্যন আব্দুল মামুনই দায়ী। এই কথাটা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি। এবার সাবিলার সুহৃদরা কি বলবেন?’
এখন কথা হলো, এই অ্যাক্টিভিস্ট-এর এই পোস্ট কেন এত সাড়া ফেলল, কেন বিষয়টি মানুষ কানে নিলো সেটা নিয়েও ভাবছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ এটাকে বানোয়াট-মনগড়া গল্প বলছেন। আবার কেউ কেউ শাকিব খানের অতীতের বাস্তবতা টেনে এটিকে সম্ভাব্য সত্যি বলেও ভাবছেন। শোবিজ অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা যে একটা 'রোজকার বিষয়' তা মনে করেন অনেক নেটিজেনই। কাজেই, সমালোচক, লেখক মিলি সুলতানার এই পোস্ট নানা ধরনের জল্পনা উস্কে দিলেও, শোবিজ অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেও তার উল্লেখিত পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
এ প্রসঙ্গে সাবিলা নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। অতঃপর, অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
শাহরুখ খান ও সোহানা খান
শাহরুখ খান অভিনীত অ্যাকশন থ্রিলার ‘কিং’ সিনেমা মুক্তির আর মাত্র দুই মাস বাকি। ছবিটির কাজও প্রায় শেষের পথে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শেষ ধাপের শুটিং। এই পর্বে শাহরুখের অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি তার মেয়ে সুহানা খানের একটি নতুন গানের শুটিং করবেন পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ।
প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নতুন করে কাজ শুরু করেন। ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ইস্টের একটি স্টুডিওতে শাহরুখকে নিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যের ধারণ শুরু হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব দৃশ্যের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন যুক্ত হওয়া গানটির চিত্রগ্রহণে মনোযোগ দেবেন পরিচালক।
‘কিং’ সিনেমায় সুহানা খানের নাচের দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে একটি বিশেষ গানের আয়োজন করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে বিশাল সেট তৈরি করে এর শুটিং করা হবে। গানটির কোরিওগ্রাফিতে থাকছেন পীযূষ ভগত ও শাজিয়া সামজি।
একদিকে শুটিংয়ের শেষ পর্বের ব্যস্ততা, অন্যদিকে একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
শাহরুখ খান ও সুহানা খান ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও জয়দীপ আহলাওয়াত।
নাসিমা খানম
বাংলা সিনেমার সূচনালগ্নের সময়কার অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম।
জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে তার অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না জীবনের উদ্যানে।
নাসিমা খানের মৃত্যুতে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই শোকপ্রকাশ করছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক বার্তায় লিখেছেন, 'আন্টি অনেক পুরোনো শিল্পী, ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; পড়াশোনা ছিল আকাশচুম্বী। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার সাথে অভিনয় করার। আন্টি, আপনার জান্নাত কামনা করছি।'
অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নায়ক সনি রহমান বলেন, 'চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্র নাসিমা খান আপা।
রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নাসিমা খান আপু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। নাসিমা আপুর চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।'
নাসিমা খানের বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গেল ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হয়েছেন। সেই থেকে অনেকভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু সন্ধান পাননি।
শিল্পী সমিতির নেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে আসা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলেই হবে শেষকৃত্য।
উল্লেখ্য, নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটোবেলায় সংস্কৃতিচর্চার সূচনা। শিখেছিলেন নাচ। তার পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদেই সিনেমায় আসেন নাসিমা।
বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, 'তানহা', ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ইত্যাদি।
স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি জগৎ থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনা দিয়ে ফেরেন। পুনরায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেন।
সিডনিতে শাবনূর ও রবি চৌধুরী
নায়িকা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে, পাশের আসনে বসে খালি গলায় গাইছেন গায়ক—ছুটির দিন শুক্রবারে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। দুজনেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ও গায়ক। সিডনির রাস্তায় সেই গাড়ি চালাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান। গাড়ি ছুটছে, গান চলছে, সঙ্গে জমেছে আড্ডাও। নব্বইয়ের দশকের এই দুই জনপ্রিয় তারকার বন্ধুত্ব যে এত বছর পরও আগের মতোই আছে, তাই দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।
সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন রবি চৌধুরী। তাঁর আসার খবর আগেই পেয়েছিলেন শাবনূর। তাই ঠিক করে রেখেছিলেন, সময় করে একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিল। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবি চৌধুরীকে ঘুরিয়ে দেখালেন শাবনূর। আর গাড়িতে বসে বন্ধুকে গান শোনানোর দায়িত্বটা নিলেন রবি।
গাড়ি চলতে চলতে শাবনূরের অনুরোধে তাঁর খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’। একসময় যে গান পর্দায় রিয়াজ–শাবনূরের ঠোঁটে দর্শকের মন জয় করেছিল, এত বছর পর সেই গানটি ফিরে এল পুরোনো দিনের স্মৃতি।
ঘোরাঘুরির ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় শাবনূরের। উচ্ছ্বসিত শাবনূর বললেন, ‘অসাধারণ সময় কাটছে। অনেক দিন পর দেখা আমাদের। রবি ভাইয়ের সঙ্গে দারুণ মজা হচ্ছে। আমরা ঘুরছি, আমি গাড়ি চালাচ্ছি আর রবি ভাইয়ের কণ্ঠে গান—দারুণ, দারুণ।’
পরে শাবনূরের ফোনে কথা বলেন রবি চৌধুরী। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের নানা কৌতূহলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষজন তো কত কী ভাবে। অথচ আমরা ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই বন্ধু। শাবনূর একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, তাঁর সিনেমা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন। আর বন্ধুত্বের কারণে আমি দেখেছি, কী অসাধারণ একজন মানুষ শাবনূর।’
বন্ধুর প্রশংসা শুনে চুপ থাকেননি শাবনূরও। বললেন, ‘রবি ভাই ভালো মানুষ না হলে তো আমাদের এত বছরের বন্ধুত্ব টিকত না। বন্ধুত্বের এই সম্পর্কটা টিকে থাকুক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।’
শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।
সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান “অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন” যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা। প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
কঙ্গনা রনৌত
এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়ায় আইনি পদক্ষেপ নিলেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সাংসদ কঙ্গনা রনৌত। এসব কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার দাবিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কঙ্গনার অভিযোগ, প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এসব ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে তাকে হেয় করা হচ্ছে এবং তাঁর মানহানি ঘটানো হচ্ছে। পাশাপাশি তার ব্যক্তিসত্তার অধিকারও লঙ্ঘত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
আদালতে কঙ্গনার আইনজীবী অভিনেত্রীকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া যৌন হয়রানির ভিডিও ও পোস্ট, ভুয়া খবর এবং এআই দিয়ে তৈরি বিভিন্ন কনটেন্টের বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব কনটেন্টে কঙ্গনার নামে ভুয়া মন্তব্যও প্রচার করা হচ্ছে বলে আদালতকে জানান তাঁর আইনজীবী।
ব্যক্তিসত্তার অধিকার রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়া কঙ্গনাই প্রথম নন। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি, বিশেষ করে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, তাঁদের ব্যক্তিসত্তা রক্ষা এবং এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি কনটেন্ট সরানোর দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, সালমান খান এবং অভিনেতা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ। আরও অনেকে একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে সাময়িক স্বস্তিও পেয়েছেন তারা।
অভিনয়ে কঙ্গনাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ সিনেমায়। গত জুনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল।
সূত্র: এবিপি ও আনন্দবাজার অনলাইন