বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ‘স্পাইডার-ম্যান’–এর নতুন সিনেমা
মার্ভেল-ভক্তদের তুমুল উম্মাদনার মধ্য দিয়ে আবারও পর্দায় আসছে ‘স্পাইডার-ম্যান’। ৩১ জুলাই আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে চলেছে সিরিজের নতুন সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।
আরও চমকপ্রদ খবর হলো, আন্তর্জাতিক মুক্তির আগেই সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের দর্শকেরা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে মুক্তির আগের দিন, ৩০ জুলাই বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। মাল্টিপ্লেক্সটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম এবং ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিরিজের চতুর্থ সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত এ সিনেমায় যথারীতি স্পাইডার-ম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড। আর তাঁর নায়িকা জেনডায়াও থাকছেন আগের মতোই। জেনডায়া, জ্যাকব ব্যাটালন এবং হাল্ক চরিত্রে মার্ক রাফেলোর চেনা প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি এ সিনেমায় বেশ কয়েকটি নতুন মুখের সংযোজন ঘটছে।
পিটারের স্মৃতি মন থেকে মুছে যাওয়ার পর এমজে তার জীবনে নতুন করে এগিয়ে গেছে। অভিনেতা ইমান এসফান্দি এ ছবিতে এমজের নতুন বয়ফ্রেন্ডের চরিত্রে অভিনয় করছেন। ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ অভিনেত্রী সেডি সিঙ্ক এ ছবিতে একটি অত্যন্ত রহস্যময় চরিত্রে হাজির হচ্ছেন।
মার্ভেল–ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হলো, জনপ্রিয় নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘ডেয়ারডেভিল’-এর পর জন বার্নথাল আবারও তাঁর আইকনিক ‘ফ্র্যাঙ্ক ক্যাসেল’ বা ‘দ্য পানিশার’ চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরছেন। ছবিটি পিটারের মানসিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্বের লড়াইকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর পিটার পার্কারের নতুন অধ্যায় কীভাবে শুরু হবে, এটা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে সবাই।
‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর চার বছর পরের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে এবারের সিনেমা। ‘নো ওয়ে হোম’-এর শেষে ড. স্টিফেন স্ট্রেঞ্জের জাদুর পর বিশ্ব পিটার পার্কারের অস্তিত্ব ভুলে গেছে।
পার্কার ‘স্পাইডার-ম্যান’ নায়ক হিসেবে বেনামে নিউইয়র্ক শহরকে রক্ষা করে এবং একটি শক্তিশালী নতুন হুমকির তদন্ত করে, যখন তার অতিমানবীয় শক্তিগুলো একটি আশ্চর্যজনক এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। পিটার পার্কার এখন সম্পূর্ণ একা। কেউ জানে না সে কে, তাই সে পূর্ণ সময়ের স্পাইডার-ম্যান হিসেবে নিউইয়র্ককে রক্ষা করছে। কিন্তু একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও নতুন এক রহস্যময় শত্রুর আবির্ভাব তাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে।
আগের সিনেমাগুলোর তুলনায় এবার পিটারকে আরও দায়িত্বশীল, স্বাধীন এবং মানসিকভাবে পরিণত অবস্থায় দেখা যাবে। যাঁরা চরিত্রের বিকাশ দেখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি আকর্ষণীয় হতে পারে। শুধু গল্প বা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অভিনব সিনেমাটি।
এটি বিশ্বের প্রথম সিনেমা, যা সম্পূর্ণভাবে ‘শট ফর স্ক্রিন-এক্স’ উদ্যোগের আওতায় নির্মিত হয়েছে। স্ক্রিন-এক্স হলো একধরনের উন্নত সিনেমা প্রদর্শন প্রযুক্তি। সাধারণ সিনেমা হলে দর্শক শুধু সামনের পর্দায় সিনেমা দেখেন। কিন্তু স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তিতে মূল পর্দার পাশাপাশি হলের দুই পাশের দেয়ালেও দৃশ্য সম্প্রসারিত হয়। ফলে দর্শকেরা ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করতে পারবেন, যা সিনেমার অভিজ্ঞতাকে আরও প্রাণবন্ত করবে।
মুক্তির তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই ভক্তদের আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ট্রেলার প্রকাশের পর তো রীতিমতো ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ট্রেলারটি ৭১ কোটি ৮৬ লাখ ভিউ পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। অগ্রিম টিকিট বুকিংও চলছে ব্যাপকভাবে। এতে বোঝা যায়, সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ কতটা প্রবল।
তানিয়া বৃষ্টি
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুখবর দিলেন তারকা অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। প্রায় নয় মাস বিরতির পর আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। ইকসান রনির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘অংশীদার’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কাজে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, ‘ইকসান রনির পরিচালনায় ‘বাবাও মানুষ’ নামে একটি নাটকে আগে অভিনয় করেছিলাম। নাটকটি দর্শকের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিল। নতুন নাটকটি সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন নারীর নিরন্তর সংগ্রামের গল্প। আমাদের সমাজে এখনও এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যেখানে শুধু কন্যাসন্তান থাকার কারণে নানা সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়।’
তানিয়া বৃষ্টির কথায়, ‘এই নাটকে এমন বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সমস্যার একটি ইতিবাচক সমাধানের দিকও দেখানো হয়েছে। আমার বিশ্বাস, গল্পটি দর্শকের ভালো লাগবে এবং সমাজের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা পৌঁছে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া, কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার নিজের পেশাগত কাজে ফিরতে পেরেছি। নিজের চিরচেনা ভুবনে ফিরতে পেরে ভালোই লাগছে। আল্লাহ যেন আমাকে সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন, সবার কাছে সেই দোয়া চাই।’
দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তানিয়া আরও বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা এমন ছিল যে, হয়তো আর অভিনয়ে ফিরতে পারতাম না। তবে এখন আগের তুলনায় আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি। আপনারা হয়তো অনেকেই মনে করেন, আমার নাটকে কাজ করা উচিত নয়। সেটি আপনাদের পরামর্শ। কিন্তু এমন অনেক মানুষও আছেন, যারা সব সময় চাইতেন আমি আবার অভিনয়ে ফিরি। তারা আমাকে ভালোবাসেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময়ে সব সময় আমার পাশে ছিলেন। আমাকে সম্মান দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে কাজে ফেরার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পাশাপাশি অভিনয়কেও ভীষণভাবে মিস করতাম।’
‘অংশীদার’ নাটকে তানিয়া বৃষ্টির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী ডলি জহুর, ফজলুর রহমান বাবুসহ আরও অনেকে। নাটকটির সংলাপ রচনা করেছেন ফারুক আহমেদ রানা ও নন্দী জুয়েল।
বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই চলছেন তানিয়া বৃষ্টি। অবসর সময়ের বড় একটি অংশ কাটে তাঁর ছয়টি পোষা বিড়ালের সঙ্গে। কোথাও বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও অনেক সময় পোষা বিড়ালগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। তাদের সঙ্গেই সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই অভিনেত্রী।
নাটকটি সম্পর্কে পরিচালক ইকসান রনি বলেন, ‘অংশীদার আমাদের সমাজের পরিচিত একটি বাস্তবতার গল্প। এখানে নারীর ন্যায্য অধিকার, আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। অসুস্থতা কাটিয়ে তানিয়া বৃষ্টি আবার কাজে ফিরেছেন, বিষয়টি আমার কাছে আনন্দের। তিনি বেশ আগ্রহ ও আনন্দ নিয়েই নাটকটিতে অভিনয় করেছেন।’
নাটকটি শিগগিরই একটি টেলিভিশন চ্যানেল এবং ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তানিয়া বৃষ্টির মস্তিষ্কে ব্রেইন টিউমার শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর চিকিৎসা। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় নয় মাস চিকিৎসা ও বিশ্রামে থাকার পর অবশেষে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন এই অভিনেত্রী।
সারা আলি খান কেদারনাথ মন্দিরে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান। তার এ কর্মকাণ্ডকে ইসলামি শরিয়তবিরোধী দাবি করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন ইসলামি ধর্মীয় নেতা মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভি। একই সঙ্গে সারাকে তওবা করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গত ২৫ অক্টোবর কেদারনাথ মন্দিরে যান সারা আলি খান। সেখানে অন্য ভক্তদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পূজো দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। মন্দির দর্শনের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে সারার মন্দিরে পুজো দেওয়ার বিরোধিতা করেন মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন। তার দাবি, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মুসলিমদের অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে পূজা-অর্চনা বা ধর্মীয় আচার পালন করার অনুমতি নেই। নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় মৌলানা জানান, কয়েকজন মুসলিম যুবক সারা আলি খানের কেদারনাথ মন্দিরে পূজো দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সারার মন্দিরে গিয়ে পূজো দেওয়া এবং সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে মৌলানা বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে এ কাজ অনুচিত। এ জন্য অভিনেত্রীকে তওবা করে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে আল্লাহর কাছে তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও দাবি করেন ওই ধর্মীয় নেতা।
কেদারনাথ মন্দিরে সারা আলি খানের যাতায়াত এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার সেখানে গিয়েছেন তিনি। মন্দিরটির সঙ্গে নিজের গভীর আবেগের কথাও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
২০১৭ সালে ‘কেদারনাথ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় বেশ কিছুদিন ওই এলাকায় ছিলেন সারা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কেদারনাথ তাকে ব্ল্যাক কফি পান, পাহাড়ে ট্রেকিং এবং পাহাড়ি খাবারের প্রতি ভালোবাসার মতো নানা অভ্যাস ও আগ্রহের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
২০১৮ সালে মুক্তি পায় অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘কেদারনাথ’ সিনেমা। এতে সারা আলি খানের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত।
নাসিরুদ্দিন শাহ। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং দলটির আইটি সেলের তীব্র সমালোচনা করে সরব হয়েছেন খ্যাতিমান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে অভিহিত করেছেন। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট (SRFTI) এবং সম্প্রতি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নিপীড়নের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন। কাউকেই ছাড় না দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশের তরুণ সমাজের পাশেই রয়েছেন তিনি। ভিডিওর শুরুতেই তাকে নিজের টি-শার্টে ‘দিমাগি নকশাল’ লেখা একটি ব্যাচ লাগাতে দেখা যায়।
ফেসবুক পোস্টে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, গর্বের সঙ্গে তিনি নিজেকে দিমাগি নকশাল মনে করেন। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তাদের মতো মানুষদের ওপর আর কী কী তকমা সেঁটে দিয়েছে তা তিনি জানেন না। অ্যান্টি ন্যাশনাল কিংবা টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের মতো তকমা তো রয়েছেই। তার মতে, দেশে যদি সত্যি কোনো টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে থাকে, তবে তা হলো এই অবৈধ শাসনব্যবস্থা।
সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে অভিনেতা বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মনোবল ভেঙে দেওয়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা এবং গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ফেলার জন্য শাসক ও তার আশপাশের বেইমান দল আর কত দূর যাবে? জেএনইউ থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট এবং এখন জামিয়া মিলিয়ায় ছাত্রদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার কোনো কিছুই ভোলা হবে না। সব কিছু মনে রাখা হবে। বিজেপির আইটি সেলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সাধ্যমতো পুরো শক্তি প্রয়োগ করে যা খুশি তারা করতে পারে।
তবে এর মাধ্যমে না তো দেশের তরুণদের মনোবল ভাঙা সম্ভব হবে, না শিক্ষাব্যবস্থা নষ্ট করা যাবে এবং না কড়া গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ফেলা যাবে। দেশের এই তরুণ প্রজন্মকে তিনি স্যালুট জানান এবং তাদের জন্য নিজের সমস্ত প্রার্থনা থাকার কথা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের সমালোচনায় মুখ খুলেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আরও অনেকের সঙ্গে একত্র হয়েছিলেন এই অভিনেতা।
স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন। ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ সিরিজে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড এবং ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্র সিরিজে প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলঝেইমার রোগ ও লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় ভোগার পর তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সময় স্ত্রী সানি ও পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন। পরিবার ও বন্ধুদের সান্নিধ্যে, সংগীত, প্রার্থনা, কান্না ও হাসির মধ্য দিয়ে জীবনের শেষ সময় কাটান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তার শান্ত ও প্রশান্ত মুখচ্ছবি পরিবারের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের অভিনয়জীবন ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে কাজ করে তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ সিরিজে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।
পরে ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্র সিরিজে প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় ধরে চরিত্রটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে মার্ভেলের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হন তিনি। ২০১০ সালে নাট্যশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ব্রিটিশ রাজপরিবার ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও বিনোদনজগতের অনুরাগীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
রাসেল মিয়া
কখনো সিনেমার প্রচারে রিকশা চালিয়ে, কখনো ঠেলাগাড়ি ঠেলে আবার কখনো নানা ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডে আলোচনায় এসেছেন অভিনেতা রাসেল মিয়া। নিজের সিনেমার প্রচার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের নানা সিদ্ধান্ত- সব মিলিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনায় ছিলেন তিনি। এবার হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র ও নাটকের জগৎ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিলেন এই অভিনেতা। জানালেন, আল্লাহর কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহর রহমতে আবার ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমন ঘোষণা দেন রাসেল মিয়া।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আমার আল্লাহর কাছে গিয়েছিলাম। আল্লাহ দয়া করে আমাকে রেখে দিয়েছেন।
আলহামদুলিল্লাহ!’এরপরই অভিনয়জীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। রাসেল মিয়া লেখেন, ‘আজ থেকে আমার চলচ্চিত্র ও নাটকের কর্মস্থলের সকল কাজ থেকে আমি পুরোপুরি বিদায় নিলাম। তবে আমার সকল প্রিয় সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে সবসময় আল্লাহর জন্য যোগাযোগ থাকবে। ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ দয়া করে আপনি আমাকে মাফ করে দিন।’
তবে কী ঘটেছিল তার জীবনে? কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, কিংবা আল্লাহর কাছে যাওয়ার কথা বলে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন—সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানাননি এই অভিনেতা।
যেভাবে আলোচনায় এসেছিলেন রাসেল মিয়া
একসময় ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া রাসেল মিয়া পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে যুক্ত হন। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘ভাইয়ারে’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পরিসরে আলোচনায় আসেন তিনি। সিনেমাটির নির্মাণের পাশাপাশি অভিনয়ও করেন রাসেল।
তবে সিনেমার গল্পের চেয়ে প্রচারণার ধরনই বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। কখনো রিকশা চালিয়ে, কখনো ঠেলাগাড়ি ঠেলে সিনেমাটির প্রচার করেন তিনি। এমনকি সিনেমাটিকে ‘পাপমুক্ত’ বলে প্রচার এবং ‘অজু নিয়ে দেখা যাবে’—এমন বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন।
সিনেমাটির প্রচারণার সময় একটি প্রেক্ষাগৃহের সামনে তার কান্নার দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় একদিকে যেমন তিনি আলোচনায় আসেন, অন্যদিকে নানা বিতর্কেরও জন্ম হয়।এরপর বিভিন্ন সময়ে নতুন সিনেমা ও ব্যতিক্রমী প্রচারণা নিয়ে সামনে এসেছেন রাসেল মিয়া। ২০২৫ সালে রকিবুল আলম রকিব পরিচালিত ‘গোয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। ছবিটির প্রচারণায় এফডিসির সামনে অসহায় মানুষদের নিজের হাতে রান্না করে খাবার পরিবেশন করেও আলোচনায় আসেন। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেন জলি, মিশা সওদাগর, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ অনেকে।
ব্যক্তিজীবন নিয়েও ছিল আলোচনা
শুধু অভিনয় কিংবা সিনেমার প্রচারণা নয়, ব্যক্তিজীবন নিয়েও বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন রাসেল মিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ বর্ষা চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তবে সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে রাসেল জানিয়েছিলেন, জীবনে আর বিয়ে করবেন না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একা থাকার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে ‘আরমান-মুক্তি’ প্যানেল থেকে দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার খবরেও আলোচনায় আসেন এই অভিনেতা।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শোভাযাত্রা। ছবি: সংগৃহীত
‘সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির, দিন নেই তর্ক ও যুক্তির’ স্লোগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনের সড়কে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে থাকছে পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
উদীচীর পতাকার রূপকার শিল্পী আনোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ সময় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সংগীত বিভাগের শিল্পীরা জাতীয় সংগীত, সংগঠন সংগীত ও একটি গণসংগীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগের বাচিক শিল্পীরা ‘শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা’ শিরোনামে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন। রিপন আচার্য শিশিরের গ্রন্থনা ও শিখা সেন গুপ্তার নির্দেশনায় পরিবেশিত এ পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেগুনবাগিচা থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। পরে বিকেল ৫টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষ উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ১০০ বছর আগে বাঙালি মুসলিম সমাজে প্রগতিশীল চিন্তাধারার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির গবেষক ও লেখক মামুন সিদ্দিকি। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।
দুই দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুরু হবে উদীচীর নবীন-প্রবীণ কর্মীদের পুনর্মিলনী। বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হবে গীতি-আলেখ্য ‘উদীচী, প্রগতির পদাতিক’। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া উদীচীর শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি দেশবরেণ্য শিল্পীদের একক ও সমবেত গান, আবৃত্তি এবং নৃত্য পরিবেশনা থাকবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে গান পরিবেশন করবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তরুণ জনপ্রিয় শিল্পী আরাত্রিকা সিনহাও। পারিবারিক সফরে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তিনি।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত উদীচী দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন, গণমানুষের অধিকার এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চায় ভূমিকা রেখে আসছে। সংগঠনটির ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনেও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ঐতিহাসিক আন্দোলন ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।