তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের আলোচিত সিনেমা ‘জন নায়গণ’ মুক্তির আগেই বড় ধাক্কা খেল।
ছবিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ও একটি গানের অংশ হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ফুটেজে প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি অংশ দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এতে রয়েছে ছবির টাইটেল ক্রেডিটস, বিজয়ের পরিচিতিমূলক দৃশ্য ও একটি গানের কিছু অংশ।
এ ছাড়া একটি কারাগারের দৃশ্যও দেখা গেছে, যেখানে বন্দীর পোশাকে কোদাল হাতে বিজয়কে দেখা যায়। পরে তাঁর স্বাক্ষরধর্মী স্টাইলে একটি অ্যাকশন দৃশ্যও ফুটে ওঠে।
ফাঁস হওয়া এই ক্লিপগুলো খুব দ্রুতই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঠিক কোথা থেকে এই ফুটেজ ফাঁস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
‘জন নায়গণ’ ছবিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিকে বিজয়ের শেষ সিনেমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। অভিনয় থেকে সরে গিয়ে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে এটিই তার বিদায়ী চলচ্চিত্র বলে প্রচার চলছে। ফলে ছবিটি ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশাও ছিল তুঙ্গে।
এর মধ্যেই এমন ফাঁসের ঘটনায় হতাশ ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পুরো ছবিটি ফাঁস না হয়ে যায় এবং নির্মাতাদের ক্ষতি কমানো যায়।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যখন নির্বাচনী আবহ, বিশেষ করে তামিলনাড়ুর রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, তখন এই ছবিকে ঘিরে আগ্রহ আরও বেশি। কারণ, এই ছবির পরই রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজয়।
ফলে সিনেমা আর রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে ‘জন নায়গন’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফাঁস হওয়া ফুটেজ শুধু একটি ছবির জন্যই নয়, পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যই বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘জন নায়গন’ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ ও জটিল। প্রথমে ছবিটি সেন্সর বোর্ডের এক্সামিনিং কমিটি সার্টিফিকেশনের জন্য ছাড়পত্র দেয়। এরপরও সিবিএফসি ছবিটিকে রিভাইজিং কমিটির কাছে পাঠায়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেভিএন প্রোডাকশনস আদালতের দ্বারস্থ হয়।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের একক বিচারপতি প্রথমে নির্মাতাদের পক্ষে রায় দিয়ে ছবিটিকে ইউএ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেন্সর বোর্ড ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ডিভিশন বেঞ্চ একক বিচারপতির রায় বাতিল করে দেন। আদালত জানান, সেন্সর বোর্ডকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি পাল্টা হলফনামা দেওয়ার জন্য।
এরপর নির্মাতারা সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু সেখানে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলা হয়, বিষয়টি আবার মাদ্রাজ হাইকোর্টেই নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয় এবং ছবির মুক্তি আরও পিছিয়ে যায়।
‘জন নায়গন’ ছবিটি মূলত গত ৯ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পরিমনি
দেশের জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় নতুন মাইলফলক গড়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে এ তালিকায় শীর্ষে থাকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে এখন সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অনুসারীর মালিক তিনি।
বর্তমানে পরীমনির ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি। অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের অনুসারী ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে বাংলাদেশের তারকাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকে এখন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।
যদিও অভিনয়জীবনের পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরে।
প্রায় ১২ বছরের ক্যারিয়ারে পরীমনির অভিনীত দুই ডজনের মতো সিনেমা মুক্তি পেলেও সেগুলোর কোনোটিই বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্যের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে ব্যক্তিজীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার কারণে তিনি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, পরীমনির জনপ্রিয়তার বড় একটি কারণ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি। ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত, ভ্রমণ, সন্তানের বেড়ে ওঠা, ফটোশুট, নতুন কাজের খবর কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা—সবই অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।
ফলে ভক্তদের সঙ্গে তাঁর এক ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
এরই প্রতিফলন দেখা গেছে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে। গত রবিবার কন্যাসন্তানের খুনসুটির একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘সাজুনি বুড়ি দেখেন’। সঙ্গে ছিল ভালোবাসার একটি ইমোজি। মাত্র ২২ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটিতে ৭৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় ২ হাজার মন্তব্য এবং প্রায় ১৫ লাখ ভিউ হয়।
এর আগের দিন রোদ পোহানোর একটি সাধারণ ছবি পোস্ট করে ‘সানসাইশন’ লিখলেও সেটিতে ৪৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া আসে।
ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় শীর্ষে ওঠার বিষয়ে পরীমনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলো আমি সবার সঙ্গে খোলা মনে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। আমার জীবনে কোনো ধরনের লুকোচুরি নেই। বাস্তবে আমি যা, ফেসবুকেও তার রিফ্লেকশন সব সময় থাকে। হয়তো সে কারণেই মানুষ আমাকে এতটা আপন মনে করেন। তাঁদের সবার এই ভালোবাসার মূল্য আমি সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই। যাঁরা এত দিন ধরে আমার পাশে আছেন, তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সবার ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে চাই।’
ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় পরীমনি ও সাকিব আল হাসানের মধ্যে শীর্ষস্থান নিয়ে পালাবদল অবশ্য নতুন নয়। প্রায় তিন বছর আগে প্রথমবার তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় সমান হয়ে আসে। পরে ২০২৩ সালের আগস্টে আবারও এগিয়ে যান সাকিব। কয়েক মাসের ব্যবধানে দুজনই ১ কোটি ৬০ লাখ অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবধান বাড়িয়ে এবার শীর্ষস্থান এককভাবে দখল করেছেন পরীমনি।
মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
এ প্রজন্মের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গেল কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তার।
এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে। বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলে তাকে একটি হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে ন্যায়বিচারের আশায় থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামের অন্য এক নারী মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই সময় ইমন পরিস্থিতি শান্ত না করে উল্টো স্নিগ্ধাকে ওই পরিচয় মেনে নেওয়ার জন্য ইশারা করেন। অভিনেত্রী দাবি করেন, জেবা তাকিয়া চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। তিনি স্নিগ্ধাকে তাকিয়া ভেবে মারধর করেছেন।
স্নিগ্ধা বলেন, ‘তিনি রশি দিয়ে আমার দুই পা বাঁধল। এবং সেই রশি সম্পর্কে আমাকে বলে, এই রশি দিয়ে হাসিনা-রাজাকারদেরকে ফাঁসি দিয়েছে! তারেক রহমান আইসা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। হাসিনা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। সালাউদ্দিন আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে! তোর মতো মেয়ে মরলে আমার কিছু যায় না। আমি প্রতিদিন মাটি চাপা দিয়ে রাখি।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি ওই রুমের মধ্যে একা। তার যত লোকজন আছে সবাইকে বের করে দিয়েছে। আমার হাত বাঁধছে, আমার পা বাঁধছে, আমার ফোনটা ছুঁড়ে মারছে, মেরে আমার গলা চিপে ধরছে!’
অভিনেত্রী জানান, মারধরের সময় চেয়ারম্যানকে তিনি বলেন, আপনার নিজের সন্তান আছে, আল্লাহ রহম করেন। তখন অভিযুক্ত অভিনেত্রীর চুল টেনে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি মারেন, যার ফলে তার শরীর ফুলে গেছে।
শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা-মা আমাকে জীবনে টোকা দেয় নাই! আমার বাবা-মা জীবনে আমাকে একটু টোকা দেয় নাই। সে আমার চুল টেনে ধরে লাথি মেরেছে। এগুলা ফুলে ফুলে আছে।
অভিনেত্রীর দাবি, ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে তিনি খিলক্ষেত থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নেন।
স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। গত ঈদে সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’।
অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
এ প্রজন্মের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গত কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তার।
এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে ডেকে নিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। এই অভিযোগ এনে মামলাও করেছেন স্নিগ্ধা।
সেই মামলায় এরইমধ্যে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। সেখানে তিনি জানান, তাকে বারবার হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এই ঘটনায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাকার কত ক্ষমতা? একটা মেয়েকে ডেকে নিয়ে এভাবে নির্যাতন করার পরও তাকে গ্রেফতার করা হলো না। বরং একজন প্রতিমন্ত্রীর আন্ডারে তার জামিন হয়ে গেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই। তিনি একজন বড় মনের মানুষ। তার ঘরেও আমার মতো একজন মেয়ে আছেন। আমার বিশ্বাস তিনি এই ঘটনাটা দেখবেন। আমি যেন ন্যায়বিচার পাই সেটা নিশ্চিত করবেন।’
বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবেন জানিয়ে স্নিগ্ধা আরও বলেন, ‘আমাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যেখানে আমার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা জরুরি সেখানে উল্টো অপরাধী অগ্রিম জামিন পেয়ে যায়। কোন দেশে আছি আমরা? যদি আমার কিছু হয় বা অপমৃত্যু হয় তবে ওরা সবাই দায়ী থাকবে।’
চুক্তি সইয়ের নামে হাসপাতালে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ, অভিনেত্রীর মামলা
মাহিরা খান
সামাজিক মাধ্যমে তাদের পারস্পরিক প্রশংসা কিংবা সহমর্মিতার ছবি দেখে ভক্তদের মনে হতেই পারে পাকিস্তানি বিনোদন জগতের শীর্ষ তারকাদের বুঝি প্রগাঢ় বন্ধুত্ব! তবে সেই ধারণায় এবার নিজেই জল ঢেলে দিলেন বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান। তিনি জানান, শিল্পীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও পর্দার পেছনের বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ভিন্ন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এক ইভেন্টে আয়োজিত গাজায় মানবতাবাদী ত্রাণ তহবিলের এক চ্যারিটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন মাহিরা। ব্রিটিশ-পাকিস্তানি ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময়ের একপর্যায়ে তাকে প্রশ্ন করা হয় পরবর্তী প্রজেক্টে সাজাল আলি, হানিয়া আমির ও ইকরা আজিজের মধ্যে কার সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি?
প্রশ্নটি শুনেই জবাব দেওয়ার আগে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেন মাহিরা। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আছি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের কারো সাথেই আমার বন্ধুত্ব নেই।’
অভিনেত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, যার যার ব্যস্ত সূচির কারণে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ বা আড্ডা দেওয়ার সুযোগ একেবারেই হয়ে ওঠে না। তবে সহকর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের রেষারেষি বা তিক্ততার কথা নাকচ করে দেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক শত্রুতার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে মাহিরা জোর দিয়ে বলেন, তাদের মাঝে কোনো বৈরিতা নেই।
এমনকি সহশিল্পী সাজাল আলির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে মাহিরা মন্তব্য করেন, যদি ভবিষ্যতে কোনো সিনেমায় তারা দুজন একসাথে অভিনয় করার সুযোগ পান, তবে তা পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হতে পারে।
লন্ডনের সেই অনুষ্ঠানে দেওয়া মাহিরার এমন স্পষ্ট ও খোলামেলা মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনুরাগীরা তার এই সততার প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশেষ করে সাজালের সঙ্গে পর্দায় তাকে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
উল্লেখ্য, কাজের জায়গায় মাহিরা খানকে সবশেষ দেখা গেছে ‘লাভ গুরু’, ‘নিলোফার’ ও ‘আগ লাগে বস্তি মে’ প্রজেক্টে। এছাড়া ‘রাজিয়া’, ‘হাম কাহান কে সাচে থে’, ‘এক হ্যায় নিগার’, ‘সাদকে তুমহারে’, ‘বিন রায়’ এবং ‘কায়েদ-ই-আজম জিন্দাবাদ’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় প্রজেক্টে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। খুব শিগগিরই তাকে ওয়াহাজ আলির বিপরীতে নতুন ড্রামা সিরিজ ‘মিত্টি দে বাওয়ে’-তে দেখা যাবে।
পিয়া জান্নাতুল। ছবিঃ সংগৃহীত
নিরাপত্তা চেয়ে করা আইনজীবী ও আলোচিত মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ওরফে পিয়া জান্নাতুলের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে জিডির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, পিয়া জান্নাতুলের জিডির বিষয়ে বনানী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত ৮ জুলাই পিয়া জান্নাতুল বনানী থানায় জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অতীত বা বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নন তিনি। তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই।
সম্প্রতি একজন নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সম্পূর্ণ মানবিক ও আইনসম্মত অবস্থান গ্রহণ করার পর গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আপত্তিকর বার্তা পাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকিমূলক ফোনকল আসছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন পিয়া।
শুধু তাই নয়, প্রায় তিন মাস ধরে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণ করছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কবোধ করছেন।
তার আশঙ্কা, যে কোনো সময় তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ পুলিশি সুরক্ষা কামনা করেন পিয়া জান্নাতুল।
বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রোববার (২৬ জুলাই) রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, বিজ্ঞাপনের চুক্তি স্বাক্ষরের প্রলোভন দেখিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে হাসপাতালে ডাকা হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
অভিনেত্রীর দাবি, ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে তিনি খিলক্ষেত থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নেন।
স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। গত ঈদে সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’।