• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম


বলিউড তারকাদের ঘিরে হামলা ও হুমকির ঘটনায় আবারও আলোচনায় কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। মুম্বাইয়ে অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় হামলার দায় স্বীকারের পাশাপাশি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে বার্তাটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।



কারাগারে বন্দী থাকা সত্ত্বেও অপরাধজগতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রভাব ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোই। পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যা, সালমান খানের বাসভবনের বাইরে গুলি এবং মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও তার নাম উঠে এসেছে।১৯৯৩ সালে ভারতের পাঞ্জাবে জন্ম লরেন্স বিষ্ণোইয়ের। শৈশব কাটে আবোহার এলাকায়। পরে পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। সেখানে ডিএভি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময়ই গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও সংঘাতের পর ধীরে ধীরে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হামলা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।


গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও অপরাধজগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। তাদের দাবি, কারাগারের বাইরে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে চক্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

বর্তমানে গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোই। তাকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।



লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বিরোধের সূত্র ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে।



বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়। ২০১৮ সালে এ মামলায় সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।



একই বছর সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। পরবর্তী সময়েও অভিনেতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে।



২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালান। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্রের কথা উঠে আসে। এরপর থেকে সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।



২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের পর বড় পরিসরে আলোচনায় আসে বিষ্ণোই চক্রের নাম। বিদেশে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রার ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলোও এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের অভিযুক্ত করে।



এরপর ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে খুন হন মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি। সালমান খানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় সালমানকে সহায়তাকারীদের হুমকি দেওয়া হয়। এতে অভিনেতাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।



২০২৫ সালে কানাডার সারেতে কৌতুকাভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে একাধিকবার গুলি চালানোর ঘটনাও আলোচনায় আসে। একটি হামলার দায় স্বীকার করে ছড়ানো বার্তায় সালমানের সঙ্গে কপিলের সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।



এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের জুহুর বাড়িতে গুলির ঘটনার পরও বিষ্ণোইয়ের সহযোগী পরিচয়ে দায় স্বীকারের বার্তা সামনে আসে। এসব ঘটনার সঙ্গে চক্রটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করা জরুরি।



কারাগারে বন্দী থেকেও অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অভিযোগ লরেন্স বিষ্ণোইকে নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয়। তদন্তকারীদের দাবি, তার সহযোগীরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করেও চক্রের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।



সিএনএনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কারাগার থেকে যোগাযোগ, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে বিষ্ণোই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।



ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যদের মধ্যে তথ্য সীমিত রাখার কৌশল অনুসরণ করা হয়। এতে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে অপরাধের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা এবং মাঠপর্যায়ে হামলাকারীদের মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।



তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির প্রতিটি অপরাধে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি নির্দেশ বা অংশগ্রহণ ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।



তারকাদের লক্ষ্য করে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্লেষকদের নজরে রয়েছে। এ ধরনের বার্তা হামলার শিকার ব্যক্তি ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধী চক্রের পরিচিতি, প্রভাব এবং ভীতিকর ভাবমূর্তি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।



তবে কোনো গোষ্ঠীর নামে বার্তা ছড়িয়ে পড়লেই সেই গোষ্ঠী হামলার সঙ্গে জড়িত এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। বার্তার উৎস, সত্যতা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করা জরুরি।



টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।



তবে বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া বার্তার সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি যোগসূত্র তদন্তে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ এএম

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি প্রায়শই খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে এবার কোনো সিনেমা বা অভিনয় নয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি একটি বিকৃত ও ভুয়া ভিডিওর কারণে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তিনি।


সাইবার অপরাধীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্প্রতি বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় এই অভিনেত্রীকে।কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করে পরীমনির ওই ভুয়া এআই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও ক্ষোভ।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় একটি শো-রুম উদ্বোধনে গিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন পরীমনি। জীবনে একের পর এক বিতর্কের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে হাসিমুখেই তিনি বলেন, ‘আমার কপালে মনে হয় এটাই লেখা, সারাজীবন ঝামেলা হবে আর ঝামেলা নিয়েই যাব। এটা আমি মেনে নিয়েছি। এখন বিষয়গুলো আমার ভালোই লাগে, এনজয় করি।’এর আগে একটি ফেসবুক লাইভে এসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে কথা বলেন পরীমনি। নেটিজেনরা তার এই সাহসিকতার প্রশংসাও করেছেন।


এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই যখন আমার সাহসকে সম্মান জানায়, তখন আরও বেশি সাহস পাই। তখন মনে হয়, আমি সঠিক পথেই আছি।’


এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের ডিজিটাল হয়রানি ইদানীং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরীমনি। সাধারণ নারীদের সুরক্ষায় এ বিষয়ে সবাইকে এক হয়ে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা অনেক বেশি সেনসিটিভ। আমার মতো মানুষের এটা গায়েই লাগানোর কথা না। প্রথম তিন-চার দিন তো আমি বিষয়টি পাত্তাই দিইনি। কিন্তু যখন দেখলাম এটা আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তখন কথা বলতে বাধ্য হয়েছি। এটি যদি কোনো সাধারণ মেয়ের ক্ষেত্রে হতো, তবে হয়তো অনেকে মানসিক চাপে আত্মহত্যাও করে ফেলত—এমন খবর আমরা প্রায়ই দেখি। তাই এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া অত্যন্ত জরুরি।"

সর্বশেষ সব খবর

রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৬ বছর আগের ঘটনায় ফাঁসলেন রাখি সাওয়ান্ত!


রাখি সাওয়ান্ত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত আর বিতর্ক যেন একে-অপরের সমার্থক! বেফাঁস মন্তব্য করে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তিনি।


২০১০ সালের একটি পুরোনো মৃত্যুর মামলায় বলিউডের ড্রামা কুইন খ্যাত রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (NBW) জারি করেছে উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি আদালত। দীর্ঘ ১৬ বছর আগের এক বিতর্কিত ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।


ঝাঁসির প্রেমনগর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ নামের এক যুবক তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিবাদের জেরে রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, ওই শো-এর মঞ্চেই রাখি লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।


অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের পর ভয়ংকর মানসিক অবসাদ ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হন ওই যুবক। মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে সে বছরই তিনি মারা যান লক্ষ্মণ।


ঘটনাটি ২০১০ সালের। সে সময় টেলিভিশনের পর্দায় প্রচারিত হতো রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় ‘রাখি কা ইনসাফ’ নামের একটি অনুষ্ঠান। দাম্পত্য কলহের সমাধান খুঁজতে লক্ষ্মণ আহিরওয়ার নামে এক যুবক স্ত্রীকে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে ‘নপুংসক’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে রাখির বিরুদ্ধে।


লক্ষ্মণের পরিবারের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের ওই পর্বের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত মদ্যপান শুরু করেন লক্ষ্মণ। পরে তার আত্মহত্যার ঘটনায় রাখির মন্তব্যকে দায়ী করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তার মা সাবিত্রী প্রেম।


অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালের অক্টোবরে প্রচারিত ‘রাখি কা ইনসাফ’-এর একটি পর্বে রাখি তার ছেলের উদ্দেশে অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাঁসির আদালতে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।


লক্ষ্মণের মৃত্যুর পর রাখিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেন ওই যুবকের মা। পরে আত্মহত্যার প্ররোচনার পাশাপাশি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার ধারাও যুক্ত করে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও চার্জশিট দাখিলের পর অবশেষে আদালত এই পরোয়ানা জারি করেছেন।


ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবী মৃদুলকান্ত শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব দ্রুত রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে। ১৬ বছর আগের এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে এখন এই অভিনেত্রীর মাথার ওপর গ্রেপ্তারির খাঁড়া ঝুলছে।


পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ায় রাখির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে অভিনেত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বলিউডে অভিনয়ের পাশাপাশি নানা বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন রাখি সাওয়ান্ত। অতীতের সেই মন্তব্যের জেরেই এবার নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়লেন এই অভিনেত্রী।

সর্বশেষ সব খবর

টাইগার শ্রফ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ভাড়াটে হামলাকারী এবং অপরজন তাদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হরিয়ানার সোনিপাতের ১৭ বছর বয়সী ফুল সিং, বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং সোনিপাতের ১৮ বছর বয়সী রেহান। হৃতিক মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ওয়েস্ট এলাকায় বসবাস করেন এবং র‍্যাপিডো চালক হিসেবে কাজ করেন।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্থান অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্কফোর্স (এজিটিএফ) ও কোটা সিটি পুলিশের যৌথ দল তাদের গ্রেপ্তার করে। মুম্বাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলার পর অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গুজরাটে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। পরে পুলিশের নজর এড়াতে ট্রেনে করে পালানোর চেষ্টা করেন তারা।


তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার আগে থেকেই টাইগার শ্রফের চলাফেরার ওপর নজর রাখছিলেন অভিযুক্তরা। অভিনেতার নিয়মিত যাতায়াতের স্থান ও সময় সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল মাঠে যেতেন টাইগার শ্রফ। সেখান থেকে গাড়িতে করে ফেরার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।


রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও অন্য একজন আহত হন।


হামলার পর অভিযুক্তরা এসভি রোড ধরে ভিলে পার্লে ও আন্ধেরির দিকে পালিয়ে যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে আন্ধেরি ওয়েস্ট রেলস্টেশনের কাছে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে ট্রেনে ওঠেন তারা।


এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।


ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় টাইগার শ্রফের বাসায় গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। অভিনেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তিনি।


শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে গ্যাং-সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অপরাধী চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে গ্যাং-সংঘাতের সময় যেভাবে এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, আবারও তেমন পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।


হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শিন্ডে বলেন, এর জবাব দেওয়া হবে পাল্টা জবাবে গুলির জবাব গুলিতে।


 বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি



  গুলিবিদ্ধ চালককে নিজেই হাসপাতালে নিলেন আহত টাইগার

সর্বশেষ সব খবর

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলাকারীদের ধরতে গঠন করা হয়েছে ১৫টি দল। তাঁদের পালানোর কাজে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। তবে হামলার সঙ্গে এই চক্রের যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে ফেরার সময় হামলার মুখে পড়েন টাইগার। পুলিশের সূত্রে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, তাঁর গাড়িতে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। অভিনেতার শরীরে গুলি লাগেনি। তবে তাঁর গাড়িচালক ফেরদৌস ও ঘটনাস্থলে থাকা উমেশ চবন নামের আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুজনই শঙ্কামুক্ত।


চালক গুলিবিদ্ধ, নিজেই স্টিয়ারিং ধরেন টাইগার


ফুটবল খেলে বেরিয়ে গাড়িতে বসেছিলেন টাইগার। আশপাশে ভক্তদের ভিড়। গাড়ি থেকে তাঁদের উদ্দেশে হাতও নাড়ছিলেন অভিনেতা। এর মধ্যেই শুরু হয় গুলি। এনডিটিভির প্রকাশিত ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, গাড়ির কাছে এসে গুলি চালান হামলাকারীরা। গুলিবিদ্ধ হন চালক ফেরদৌস। মুহূর্তেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস আতঙ্কে পরিণত হয়।


এনডিটিভি জানিয়েছে, দুই হামলাকারী গাড়িতে গুলি চালাচ্ছিলেন। তাঁদের তৃতীয় সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ভিডিওতে গুলি চালানোর একপর্যায়ে একজনের অস্ত্র আটকে যেতে দেখা যায় বলেও সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে। এরপর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান।

হামলার পরের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইগার চালকের আসনে গিয়ে বসছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, টাইগার।’ আহত চালককে নিয়ে অভিনেতা নিজেই তাঁর বিএমডব্লিউ চালিয়ে নানাবতী হাসপাতালে যান। গাড়িটি সরে যাওয়ার পর রাস্তায় রক্তের দাগও দেখা যায়।



মোটরসাইকেল ফেলে পালান হামলাকারীরা


দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, হামলার পর আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে যান হামলাকারীরা। সেটি জব্দ করেছে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঘটনার তদন্ত করছে। আহত গাড়িচালক ফেরদৌসের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লেগেছে। হত্যাচেষ্টাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে।


এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নম্বরপ্লেট ও চেসিস নম্বর ধরে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির মালিকানার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের পালানোর পথ শনাক্তের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।


বিষ্ণোই চক্রের নামে দায় স্বীকার


হামলার পর অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের একটি পোস্ট ছড়ায়। লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে দেওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হয়, টাইগারকে আগে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল। তা উপেক্ষা করায় তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়।


টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়ানো একটি অডিও বার্তায় সালমানকে লরেন্স বিষ্ণোই ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতেও বলা হয়েছে। তবে পোস্ট ও অডিও বার্তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।


সালমানের প্রতি বিষ্ণোইয়ের এই বৈরিতার পেছনে রয়েছে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় সালমানের বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বন্য প্রাণী রক্ষায় পরিচিত বিষ্ণোই সম্প্রদায় এই প্রাণীকে পবিত্র মনে করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে আসছেন লরেন্স বিষ্ণোই। ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে অভিনেতাকে হত্যার হুমকিও দেন তিনি।


২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলি চালান মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্র পাওয়া যায়। একই বছরের অক্টোবরে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকিকে মুম্বাইয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যারও দায় দাবি করেন বিষ্ণোই চক্রের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি।


টাইগারের গাড়িতে হামলার পর নতুন করে এই চক্রের নাম সামনে এলেও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, পুলিশ দায় স্বীকারের পোস্টটি পরীক্ষা করছে।



পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস সরকারের


হামলার পর টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফের টিম ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, অভিনেতা ভালো আছেন। ছেলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর মা আয়েশা শ্রফও স্বস্তি প্রকাশ করেন।


মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ ফোনে টাইগারের সঙ্গে কথা বলেছেন। হামলাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রোববার রাতে টাইগারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সে সময় অভিনেতার মা আয়েশাও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতের ছবিতে টাইগারের হাতে ব্যান্ডেজ এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে ড্রেসিং দেখা গেছে। শিন্ডে সাংবাদিকদের জানান, গুলি না লাগলেও বারুদ ও ভাঙা কাচের টুকরায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন অভিনেতা। ঘটনায় টাইগার ও তাঁর মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও জানান তিনি।


পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের হুমকিই সরকার সহ্য করবে না।


সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সর্বশেষ সব খবর

টাইগার শ্রফ

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি ফুটবল মাঠ থেকে বিএমডব্লিউ সেডানে করে বের হওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অক্ষত রয়েছেন অভিনেতা, তবে তার গাড়িচালক ফিরদৌস গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশ।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ব্যক্তি এ হামলায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে দুজন টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। হামলার পর তৃতীয় ব্যক্তির প্রস্তুত রাখা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান তারা।


ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা গাড়ির সামনের কাচ ও পাশের জানালা লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। একপর্যায়ে একজন হামলাকারী গাড়ির জানালার কাছে গিয়ে শেষ গুলিটি চালানোর চেষ্টা করেন। তবে অস্ত্র জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি আর গুলি চালাতে পারেননি বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।


হামলার সময় গাড়িচালক ফিরদৌস গুলিবিদ্ধ হন। পরে টাইগার শ্রফ যাত্রীর আসন থেকে চালকের আসনে চলে যান। এ সময় আশপাশের লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়।


এদিকে, এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। হামলার পর ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি নিজেকে গ্যাংটির সদস্য বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, টাইগার শ্রফ তাদের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। তার অভিযোগ, টাইগার তাদের নির্দেশ মানছেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছেন।


উল্লেখ্য, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এর আগেও বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।


২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাবেক মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ও বিষ্ণোই গ্যাং স্বীকার করেছিল।


টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। মহারাষ্ট্র সরকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


‘বাঘি’ চলচ্চিত্র সিরিজ ও ‘ওয়ার’-এর মতো অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরিচিত টাইগার শ্রফ।

সর্বশেষ সব খবর

সালমান খান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর অভিনেতা সালমান খানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে মুম্বাই পুলিশ।



জানা গেছে, মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকায় চলাচলকারী গাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড-ডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।



রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অভিনেতা সরাসরি গুলিবিদ্ধ না হলেও তার গাড়িচালকসহ দুজন আহত হয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে মুম্বাই পুলিশ। সোমবার রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুম্বাই পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজস্থান পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনকারী দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হরিয়ানার দুজন এবং মুম্বাইয়ে বসবাসকারী বিহারের একজন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার আগে টাইগারের চলাফেরার ওপর নজর রাখা হয়ে থাকতে পারে। নিয়মিত ফুটবল খেলতে যাওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে হামলাকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। হামলার পর অভিযুক্তরা কীভাবে পালিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।



এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভয়েস বার্তা ও পোস্ট ঘিরে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বার্তায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সেখানে সালমান খানের সঙ্গে টাইগারের সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।



অনিল পণ্ডিত ও হরমন সন্ধু নামের দুই ব্যক্তির নামও এসব দাবির সঙ্গে সামনে এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বার্তা ও দায় স্বীকারের দাবির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।



টাইগারের ওপর হামলার পর সালমানের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে ২০২৪ সালের এপ্রিলের গুলির ঘটনাও। ওই বছরের ১৪ এপ্রিল ভোরে বান্দ্রায় সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই অভিনেতার নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।



টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, এর উদ্দেশ্য কী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুমকির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র কতটা, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও তদন্তসাপেক্ষ।


সর্বশেষ সব খবর