স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।
বর্তমানে টিকাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ আমরা কাভার করে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। এরই মধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ হয়ে গেছে। হামের টিকা কার্যক্রম শুরু করা প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একটাও হামের রোগী নাই।’
হামের সংক্রমণ ও টিকাদান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত ছয়টা বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কোনো ভ্যাক্সিনেশন হয় নাই। আমরা জরুরি ভিত্তিতে তা শুরু করি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি হেল্প না করত, তাহলে দেশের এই মানচিত্র আজকে অন্যরকম হতে পারত। আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরেন, ‘আগামী মাসের পাঁচ তারিখে সারা দেশে ভ্যাকসিন দেয়ার কথা ছিল। আমি সেটা ১৪ দিন এগিয়ে এনেছি। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই, আগামীকাল দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।’
পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। এই ধূমপানের ধোঁয়া সরাসরি ফুসফুসে আঘাত করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা দুর্বল করে। এতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা কিংবা ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, ধূমপান হলো ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া।
কিন্তু আশার কথা হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীর ধীরে ধীরে আবার সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্ষতি সবসময় স্থায়ী হয় না। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার পরিবর্তন শরীরকে নিজস্ব শক্তি ফিরে পেতে সহায়তা করে।
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, কোনো খাবারই বছরের পর বছর ধূমপানের ক্ষতি পুরোপুরি মুছে দিতে পারে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট খাবার প্রদাহ কমিয়ে, ফুসফুসকে পরিশুদ্ধ করে এবং শরীরের প্রাকৃতিক আরোগ্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
সম্প্রতি ভারতীয় পালমোনোলজিস্ট ডা. সোনিয়া গোয়েল এক ভিডিও বার্তায় ধূমপান-পরবর্তী ফুসফুসের যত্নে ৪টি বিশেষ খাবারের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধূমপান ছাড়াই প্রথম ধাপ, কিন্তু এরপর খাদ্যতালিকায় সঠিক খাবার যুক্ত করলে সুস্থ হওয়ার গতি বহুগুণে বেড়ে যায়।
চলুন, জেনে নিই সেই ৪ খাবারের নাম ও তাদের কার্যকারিতা—
ক্রুসিফেরাস সবজি
ব্রোকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজিতে আছে সালফোরাফেন নামক যৌগ। এটি ফুসফুসের ডিটক্স এনজাইম সক্রিয় করে, যা সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে।
বিট ও ডালিম
বিট ও ডালিমে প্রচুর নাইট্রেট থাকে। এটি ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। ধূমপায়ীদের শরীরে যে অক্সিজেন ঘাটতি তৈরি হয়, এই দুটি ফল তা কাটাতে সহায়তা করে।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন। এটি ফুসফুসের প্রদাহ কমায়, পাশাপাশি সিওপিডি ও ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। শুধু ফুসফুস নয়, গ্রিন টি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক সতেজতাতেও কার্যকর।
আপেল ও সাইট্রাস ফল
আপেলের কোয়েরসেটিন ও সাইট্রাস ফলে থাকা ভিটামিন সি ফুসফুসের কোষ মেরামতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব ফল নিয়মিত খেলে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের শ্বাসনালীর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
শেষকথা
ডা. সোনিয়া গোয়েল মনে করিয়ে দেন, ফুসফুস সুস্থ রাখার প্রথম শর্ত হলো ধূমপান ত্যাগ করা। এরপর সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম ফুসফুসকে নতুন শক্তি দেয়। তাই সিগারেট ছেড়ে প্রকৃতির দান এই খাবারগুলোকে প্লেটে রাখুন, শরীরে ধীরে ধীরে ফিরবে নতুন শক্তি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জনবলের ঘাটতি পূরণে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সব পরিচালক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের জনবল ঘাটতি পূরণে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এ নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশেষ অনুরোধের কথা বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নন-মেডিকেল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী পদোন্নতি এবং সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের সব শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন করে শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। আগের সময়ে নেওয়া আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ নিয়ে কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোও সচল করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নন-মেডিকেল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যালয়সহ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩তম গ্রেডের প্রধান সহকারী পদ রয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালের বিধিমালায় এসব পদ ১৪তম গ্রেড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পদোন্নতিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ১৪তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী বা সমমানের পদধারীদের ১৩তম গ্রেডের শূন্য পদে নিজ বেতনে বা চলতি দায়িত্বে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখায় পাঠাতে হবে। হার্ডকপির পাশাপাশি ই-মেইলেও এসব তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুল তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত চেয়েছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বুধবার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, গত আট মাসে একাধিকবার ডব্লিউএইচও এবং সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুসের কাছে বিষয়টি তুলেছেন পুতুল। সর্বশেষ গত মাসে আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে ডব্লিউএইচওর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন পুতুল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের জন্য ওই দায়িত্ব নেন।
ওই বছর অগাস্টের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার মা শেখ হাসিনা। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শেখ হাসিনার পাশাপাশি পুতুলকেও কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় আসামি করা হয়। তার চার মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। সে সময় একজনকে ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে তার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
গতবছর নভেম্বরে প্লট দুর্নীতির অভিযোগে এক মামলায় পুতুলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। তার আগে তাকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারিরও আদেশ দিয়েছিল আদালত।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতুল অভিযোগ করেছেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই’ ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অনুরোধে’ তাকে ছুটিতে পাঠিয়েছে। এমনকি ওই সিদ্ধান্তের কারণও তাকে স্পষ্ট করে জানায়নি।
তিনি ডব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাত ও হয়রানির’ অভিযোগও তুলেছেন। পাশাপাশি, জানতে চেয়েছেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে ছুটিতে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত চলেছে কি না।
সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডব্লিউএইচও পুতুলের কয়েকটি ইমেইলের প্রাপ্তি স্বীকার করলেও তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি।
সংস্থাটির মহাপরিচালক কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে পুতুলকে ছুটিতে পাঠানোর বিষয়টি জানান। ওই ইমেইলে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি, পুতুলের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দুদকের মামলা—এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, তাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আর ডব্লিউএইচও এক ইমেইল বার্তায় পুতুলের ‘ছুটিতে থাকার’ বিষয়টি তুলে ধরে বলেছে, “কর্মীদের অভিযোগ জানানোর জন্য নির্ধারিত মাধ্যম রয়েছে। তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে আমরা নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করি না।”
সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, ডব্লিউএইচও সরাসরি দুদক ও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন পুতুল।
নয়াদিল্লিতে এসইএআরও-এর আঞ্চলিক পরিচালক পদে তার মনোনয়নে ভোট দেওয়া ভারতসহ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের কাছে ‘বিকৃত তথ্য’ উপস্থাপন করে ‘সম্মানহানি’ করা হয়েছে বলেও তার অভিযোগ ।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, ভারত সরকার ‘উপযুক্ত মাধ্যমে’ বিষয়টি ডব্লিউএইচওর কাছে তুললেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
একটি সূত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, “একটি রাজনৈতিক অনুরোধ পাওয়ার পরপরই সায়মা ওয়াজেদকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ডব্লিউএইচওর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি। স্বয়ং তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস যখন নিজ দেশ ইথিওপিয়া থেকে একই ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, তখন সংস্থার প্রতিক্রিয়া এমন ছিল না।”
ওই সূত্রটি আরও বলেছে, “ঢাকায় পুতুলের অনুপস্থিতিতে বিচার করে তাকে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত আঞ্চলিক পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বাইরের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ডব্লিউএইচও এখনও দেয়নি।”
পুতুলের দাবি, তার যোগ্যতা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদানকে ‘পাশ কাটিয়ে, কেবল শেখ হাসিনার মেয়ে হওয়ার কারণেই’ তাকে বাংলাদেশ সরকারের ‘ইশারায়’ নিশানা বানানো হয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, প্রথমে পুতুলকে সবেতনে ছুটিতে পাঠানো হলেও, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কয়েক মাস পর তাকে 'বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে' পাঠানো হয়।
২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচনে ১০ ভোটের মধ্যে ভারতের ভোটসহ আটটি ভোট পেয়েছিলেন পুতুল।
আরেকটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, “সায়মাকে যারা নির্বাচিত করেছিল, সেই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াই একটি তড়িঘড়ি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওই ম্যান্ডেট পরিবর্তন করা হয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা মূলত তাদের নির্বাচিত করা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছেই দায়বদ্ধ।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বর্তমানে আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি শূন্য ঘোষণা করা না হলেও নির্বাচিত পরিচালক সায়মাকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর জন্য ‘ক্রমাগত চাপ’ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আপনার প্রতিদিনের ক্লান্তি কেবল কাজের চাপ নয়, বরং এর পেছনে থাকতে পারে গভীর কোনো কারণ। বিশ্ববিখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক পোর্টাল হেলথলাইন-এর এক প্রতিবেদনে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা অবসাদ অনেক সময় জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাস কিংবা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।
নিচে আপনার অতিরিক্ত ক্লান্তির ১২টি প্রধান কারণ ও প্রতিকার তুলে ধরা হলো:
১. পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের অভাব: ঘুমের সময় শরীর তার প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে। কেবল কয়েক ঘণ্টা ঘুমানো যথেষ্ট নয়, ঘুমের মান ভালো হওয়া জরুরি। ঘুমের অভাব সরাসরি শরীরকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে।
২. পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি: অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্তি যাচ্ছে না। এর কারণ হতে পারে আয়রন, ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন), নিয়াসিন বা ভিটামিন বি১২-এর অভাব। সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
৩. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীর ও মনকে নিস্তেজ করে দেয়। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস থেকে ‘এক্সহশন ডিসঅর্ডার’ বা অবসাদজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
৪. অপ্রকাশিত শারীরিক সমস্যা: যদি কোনো কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্ত লাগে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। থাইরয়েড সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম), ডায়াবেটিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ডিপ্রেশন ক্লান্তির বড় কারণ হতে পারে।
৫. ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস: শরীরের শক্তি বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড বা চিনিযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করিয়ে আপনাকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে।
৬. অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ: কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে চাঙা ভাব দিলেও এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উল্টো ফল দেয়। বেশি ক্যাফেইন ঘুমের সাইকেল নষ্ট করে দেয়, যা পরের দিন আপনাকে আরও বেশি ক্লান্ত করে তোলে।
৭. পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন: শরীরের প্রতিটি জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য পানি অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং অবসাদ দেখা দেয়।
৮. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা: শরীরের বাড়তি ওজন হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে ফেলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৯. মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাব: যারা নিয়মিত অ্যালকোহল বা মাদকাসক্ত, তাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং অবসাদ বাসা বাঁধে।
১০. শিফট ডিউটি ও অনিয়মিত রুটিন: কাজের প্রয়োজনে যাদের নিয়মিত শিফট পরিবর্তন করতে হয়, তাদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ ব্যাহত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তির অন্যতম কারণ।
১১. অলস জীবনযাপন: সারাদিন বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম না করা শরীরকে আরও দুর্বল করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
১২. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: রক্তচাপের ওষুধ, স্টেরয়েড বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টের মতো কিছু ওষুধের প্রভাবেও শরীর সবসময় ক্লান্ত থাকতে পারে।
পরিত্রাণের উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লান্তি দূর করতে প্রথমে আপনার ঘুমের পরিবেশ উন্নত করুন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। তবে যদি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও ক্লান্তি না কমে, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, আপনার শরীর আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না; তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা করবেন না।
মাইক্রোপ্লাস্টিক
প্লাস্টিক প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল নয়। এটি পরিবেশে শত শত, এমনকি হাজার হাজার বছর টিকে থাকতে পারে। এই প্লাস্টিক ধীরে ধীরে ভেঙে আরও ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়, যাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মাটি, নদী ও সমুদ্রে জমা হতে থাকে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে। এর অর্থ- আমরা যে মাছ, মুরগি, কৃষিপণ্য ও সামুদ্রিক খাবার খাই, তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশে থাকতে পারে।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
প্লাস্টিক যখন ভেঙে অতি ক্ষুদ্র ন্যানো আকারের কণায় পরিণত হয়, তখন সেগুলো খাবার, পানি, এমনকি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।
নারীদের ক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিওসিস ও পিএমওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যা বাড়ায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর গুণমান ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক সময়ের আগে বয়ঃসন্ধি বা বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি ঘটাতে পারে। শিশুর বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে ফুসফুস, স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ও লিভার ক্যানসারের মতো রোগের যোগসূত্র রয়েছে। এ ছাড়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার ও পিত্তনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক।
মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে ব্যাহত করতে পারে। এই কণাগুলো অন্ত্রের আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা খাদ্য সংবেদনশীলতা থেকে শুরু করে অটোইমিউন রোগ ও মাানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
করণীয়
শিশুদের জন্য
কী খাওয়া যেতে পারে
নীল, বেগুনি, লাল ফল ও সবজিতে অ্যান্থোসায়ানিন থাকে। এটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।
তাই খাদ্যতালিকায় ডালিম, ড্রাগন, বিট, গাজর, স্ট্রবেরি, চেরি, ব্লুবেরি, লাল পেঁয়াজ ইত্যাদি রাখতে হবে।
বর্তমান সময়ে হাড়, জোড়া ও মেরুদণ্ডজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এসব জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনী।
দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানবিক আচরণের কারণে রোগীদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তিনি এমবিবিএস ও ডি-অর্থো (বিএসএমএমইউ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটি, এশিয়া প্যাসিফিক অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন, এশিয়া প্যাসিফিক স্পাইন সোসাইটি ও ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক সোসাইটির লাইফ মেম্বার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি নিয়মিত আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখছেন।
গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত বহু রোগীর ক্ষেত্রে, যেখানে অঙ্গচ্ছেদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনী সফলভাবে বিকল্প চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তুলেছেন।
ঝিনাইদার বাইক দুর্ঘটনায় আহত তপু রায়ের পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হলেও তাঁর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
সম্প্রতি নোয়াখালীর এক যুবক ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাঁকে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনির নিবিড় চিকিৎসায় টানা ৯৭ দিন পর ওই রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন।
বর্তমানে তিনি শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক, ট্রমা ও স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি নতুন চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনাও দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।