দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সাথে সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী সিলেটের নির্মানাধীন ওঅনুমোদিত সরকারি হাসপাতালগুলোও শিগগিরই চালুর আশ্বাস দেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই হাসপাতালগুলোসহ দেশের প্রত্যেকটা হাসপাতালে দালাল মুক্ত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এটা দুর্ভাগ্যজনক সত্য যে একটা শ্রেণী আমাদের রোগীদেরকে ভুল কথা বলে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এই দালালকে ধরার জন্য আমাদের র্যাব, ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে। বহু হাসপাতালে হানা দিয়েছে, তাদেরকে গ্রেফতার আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ‘জেলাগুলোতে ডিসি ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে সমানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে এবং ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে। যেখানে অবৈধ ডাক্তার দিয়ে ভূয়া সার্টিফিকেটধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশন করা হয়, সব আমরা সিলগালা করছি। আমি নিজে থেকে লিস্ট নিয়ে করছি। একটু সময় তো আমাদের দিবেন, ছয়টা মাস।’
দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন ডাক্তার বা নার্স নিয়োজিত রয়েছেন। এই সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত বিরামহীনভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।’
ডাক্তারদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি প্রায় ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, তাঁর পরিদর্শনের পর রোগীরাও জানিয়েছেন যে ডাক্তারদের ব্যবহার আগের চেয়ে ভালো হয়েছে এবং হাসপাতালের খাবারের মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৭ বছরে ডিসেম্বর ২০-এর পর মিজেলসের (হাম) কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে হামের সংক্রমণ দেখা দেয় বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তবে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন এনে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
টিকা দেওয়ার পরও কিছু শিশুর হাম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হামের টিকা সাধারণত ৬ মাসের নিচের শিশুদের দেওয়া যায় না]। গত ২০ এপ্রিল যখন টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল, তখন যে শিশুরা ৫ মাসের নিচে ছিল তারা টিকা পায়নি। পরবর্তীতে তারা ৬ মাস পার করে টিকার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত ক্যাম্পেইন না থাকায় টিকা ছাড়া থেকে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক মা সচেতনতার অভাবে বা খবর না পাওয়ায়, কাজের ব্যস্ততায় কিংবা সন্তান স্কুলে থাকায় যথাসময়ে টিকা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারেননি।’'এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ ট্যাবলেট ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টার্গেটের বিপরীতে ১ কোটি ৮৯ লক্ষ শিশুকে কাভার করা হলেও নতুন শিশু যুক্ত হওয়ায় একটি ভ্যাকুয়াম বা গ্যাপ তৈরি হয়। যে কারণে বর্তমানে টিকা না পাওয়া শিশুদের হাম হচ্ছে,’ মন্ত্রী বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আবার এই হামকে দমন করার জন্য প্রথম একটা দেশ হিসেবে তিন মাসের ভিতরে রিপিট করতে যাচ্ছি। এই মাসের শেষ থেকে আবার আমরা ক্যাম্পেইন করে যাব।’
সিলেটের হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোনো ভুলভ্রান্তি বা সমস্যা থেকে থাকে, তবে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে। আশা করি এইখানে যদি কোন প্রবলেম থেকে থাকে, সাত দিনের মধ্যে এটা শেষ করবেন। ড্রেনেজ সিস্টেমের কথা বলেছি, আমাদের পূত কাজ শুরু করবে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হবে।’
এর আগে সকালে ওসমানী হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ডাক্তার ও নার্সদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আনসার ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। চিকিৎসক ও রোগী পরস্পর প্রতিপক্ষ নন উল্লেখ করে উভয়ের সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি। সিলেটে একটি পৃথক শিশু হাসপাতাল করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ কাজে র্যাব, ডিজিএফআই ও এসবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দল মাঠে নেমেছে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সেবার মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে আমি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল ঘুরে অধিকাংশ স্থানে চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পেয়েছি। অবৈধ ক্লিনিক, অনুমোদনহীন লেবার রুম ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তথ্য ঘাটতি ও বয়সের কারণে কিছু শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাদের কভার করতে 'মপ-আপ' ক্যাম্পেইন চলছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বড় পরিসরে টিকাদান শুরু হবে। সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালের ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।
নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এটি চালুর উপযোগী হবে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই জনবল নিয়োগ শুরু হবে।
পরিদর্শনের সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প ঘিরে কাজ চলছে। এগুলো হলো- ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ৪৫০ শয্যার অসম্পূর্ণ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত প্রস্তুত করা। এসব প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের শুরুতেই দুই মন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা সার্কিট হাউসে বরাদ্দকৃত কক্ষে প্রচুর উইপোকার উপদ্রব দেখতে পেয়ে রাত্রিযাপন না করেই কক্ষ ছেড়ে চলে গেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
কক্ষ পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করায় শুক্রবার রাতে তিনি সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোটের দেশব্যাপী আয়োজিত লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পৌঁছান কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তার রাত্রিযাপনের জন্য সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা হয়েছিল। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি ওই কক্ষে বিশ্রাম নিতে গেলে পুরো কক্ষজুড়ে প্রচুর উইপোকার ছড়াছড়ি দেখতে পান।
এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি তাৎক্ষণিক সার্কিট হাউসের দায়িত্বরত কর্মচারীকে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন এবং একই সঙ্গে একটি কম্বল চান। তবে অভিযোগ উঠেছে, কর্মচারীরা কক্ষ পরিবর্তনের কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি।
পরবর্তীতে তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) আরিফুর রহমান বিষয়টি কুমিল্লার নেজারত ডেপুটি কালেক্টরকে (এনডিসি) অবহিত করেন। কিন্তু এরপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো সমাধান না পেয়ে একপর্যায়ে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন না করেই সেখান থেকে চলে যান বিরোধীদলীয় উপনেতা।
এ ঘটনায় কুমিল্লা সার্কিট হাউসের রক্ষণাবেক্ষণ ও অতিথি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অতিথির কক্ষে এমন পরিস্থিতির পরও কেন তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা করা হলো না—এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ উল্লেখ করে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুমিল্লা সার্কিট হাউসের মতো জায়গায় এমন চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’
তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের আলোচিত ও বিতর্কিত শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি একটি মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল হক।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে শাহিনুর বেগমকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ হাজির করা হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে বিচারক মো.আশিক-উজ-জামান আগামী রবিবার জামিনের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
শাহিনুর বেগমের গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীর অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় শাহিনুর বেগমসহ তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় শাহিনুর বেগমের সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বিরুদ্ধে শাহিনুর বেগমের করা মামলায় মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে শাহিনুর বেগম ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালালে তারা আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর চিকিৎসা শেষে অভিযুক্ত শাহিনুর বেগমের বোন সাবনাজ বেগম বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০২/২৬।
এবিষয়ে বাদিনীর আইনজীবী এডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, বাদিনী সাবনাজ বেগম কোতোয়ালি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে আসামি শাহিনুর বেগমকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে থানা পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত আগামী রবিবার জামিনের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।
ঝালকাঠির নলছিটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে (৪ সেপ্টেম্বর) রোজ শুক্রবার বিকাল ৪ টায় নলছিটি পৌর মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নলছিটি - ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টা, প্রধান ভক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, আরো জেলা এবং উপজেলার নেতৃবৃন্দু উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব মোঃ আনিচুর রহমান খান হেলাল।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তবে নেতাকর্মীরা বলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায় সমর্থকরা অংশ নেন।
টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
মিষ্টি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ফেস্টিভ্যালের কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, টাঙ্গাইলের পণ্য মানুষের মাঝে তুলে ধরা এবং এগুলো নিয়ে মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে সারাদেশের মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে গোপালপুরের একটি অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও চমচম নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি আনারসের কথাও বলেছিলেন। টাঙ্গাইলের এই চমচমকে কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব।’
চমচম শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে একদিকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়বে, অন্যদিকে এ শিল্পে মানুষের আগ্রহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে প্রান্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ির বিদেশে প্রচুর কদর রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে তাঁতিদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে যারা শাড়ি তৈরি করেন, তাদের স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। যে তাঁতিরা এই কাজ করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে একটি তাঁতি সমাবেশ করব। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এর আগে বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’- এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রতীকী ছবি
বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী রায়হান পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে এবার চট্টগ্রামের আলোচিত এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। চাঁদার টাকা না পেলে ওই ব্যবসায়ীর ছেলে, মেয়ে ও নাতির লাশ সড়কে পড়ে থাকবে এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ৩১ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর এলাকার ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরীকে একটি বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মাহফুজা রুনা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজ শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপে আমার স্বামীকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে ছেলে ও মেয়েকে মেরে ফেলবে। পুরো পরিবারের ক্ষতি করবে।
তিনি জিডিতে আরও বলেছেন, ‘টাকা না দিলে মোজাফফরনগরে তোমার সঙ্গে আমার লোক থাকবে। কোথায় যাচ্ছ, কী করছ, সব দেখবে আমাদের লোকজন। তোমার ছেলেকে নিয়ে আসব, মেরে ফেলব। আমি রায়হান, যা বলি তা করি। কালকের মধ্যে মেরে ফেলব। তোকে কে বাঁচায় আমি দেখব। কোনো সুপারিশে কাজ হবে না। তোমরা সব ভাই পুত-নাতির লাশ নিয়ে কূল পাবে না। মেয়ে যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে...হবে অনে।’
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘একের পর এক ফোন দিয়ে হুমকি দেয়। হুমকি পাওয়ার পর থেকে আমরা ভয়ে আছি। হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি এখন কোন রাজনীতি করি না, ব্যবসা করি।’
বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বলেন, চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জিডি করা হয়েছে। পুলিশ জিাডর তদন্ত শুরু করেছে। কারা হুমকি দিয়েছে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ১১ আগস্ট নগরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের ফটকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলি করার আগে দুপুর ১২টার দিকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা পরিশোধের জন্য এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভবন মালিকের ছেলের কাছে অডিও বার্তা পাঠান সন্ত্রাসীরা। এরপর রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তারও আগে ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে একই চক্রের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, হুমকির শিকার ব্যবসায়ী মাকসুদের বিরুদ্ধে মোজাফফরনগর এলাকায় সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া, জমিজমা নিয়ে বিরোধে জড়ানোসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।