জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের উন্নয়ন ও আইশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়ায় কোনো সমন্বয়হীনতা কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এমপি। গত মঙ্গলবার সিলেটে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সমন্বয়হীনতা তো করবেই না, বরং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানটাকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জায়গায় দেখার- যাচাই করার, দলীয় শক্তির বিন্যাসের জন্য নতুন উদ্যম সংযোজন করবে।
গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সিলেট-১ আসনের এমনপি খন্দকার মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব আর সিলেটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের এমপি ও হুইপ জিকে গউছকে। অনেকেই জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ববন্টনকে ভিন্ন নামে উচ্চ আদালত থেকে অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘জেলা মন্ত্রী’ ফিরে আসা হিসেবে ক্যোয়িত করেছেন। এতে সমন্বয়হীনতার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেণ কেউ কেউ। আর এই উদ্যোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাউকোর্টে রিট করেছেন জামায়াত দলীয় ১১ এমপি।
তবে এই উদ্যোগের সমন্বয়হীতার শঙ্কা নেই জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, যে যেখানে কাজ করবেন তারাই দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দল একটা পরিকল্পনা, কৌশল সামনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরের কাজিরবাজারে নিজ বাসায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি পতাকা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে দলের কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানি বেশি, রপ্তানি কম; এটা তো সাধারণ একটা কথা। বাংলাদেশে প্রচুর কাঁচামাল হয় না। সুতরাং শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের বেশিরভাগ কাঁচামালের জন্য বাইরের পৃথিবীর উপর নির্ভর করতে হয়।তিনি বলেন, এখনও দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০-৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। চালে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেকগুলো কৃষি পণ্য যেগুলোর জন্য আগে বাইরের দেশের প্রতি নির্ভরশীল ছিলাম, সেগুলোতে ইতোমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন হয়েছে৷মন্ত্রী বলেন, এটি কোন অভিনব বিষয় না। পৃথিবীর বহু দেশ আমদানি বেশি রপ্তানি কম। কিছু দেশে রপ্তানি বেশি আমদানি কম। আমদানি কমে যাবে, রপ্তানি বেশি হয়ে যাবে তুলনামূলকভাবে, এটি খুব সহজসাধ্য বিষয় নয়। তবে ট্রেড ভলিউম বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিনিয়োগ আনার মাধ্যমে রপ্তানির নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করে সেখানে রপ্তানি প্রসার ঘটানো দরকার। এগুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার, এ কাজের ফলাফল-সুফল ইনশাআল্লাহ দেখবেন- বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে আমাদের সামনে উদযাপনের সময় নাই, সামনে এখন দেশগঠনের চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে সরকারের লক্ষ্য- মানুষের প্রত্যাশা মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন, যে সমস্ত লজিস্টিক সমস্যা আছে জ্বালানি স্বল্পতা সহ বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা দূর করে বিপুলভাবে দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে অর্থনীতির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা।
তিনি বলেন, শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির যে সমস্ত খাত দেশজ উৎপাদনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার প্রতিটিকে জোরদার করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে, মানুষের প্রত্যাশার হক আদায় করার জন্য যা যা করার দরকার, তা করছে সরকার। অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ড্রেজারের বালু ফেলে সড়ক ভরাট ও পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মোট ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর এলাকার রিজাপ পার সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল হালদার উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রিজাপ পার সংলগ্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে পূর্ব ভাণ্ডারিয়ার বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু এনে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফেলেন। এতে সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পৌরসভার ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ঘটনায় বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মো. দেলোয়ার হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং আবদুল জব্বারের ছেলে মো. শাহিনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কাছ থেকে মোট ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেন কোনোভাবেই নির্মাণসামগ্রী ফেলে বন্ধ করা যাবে না। জনস্বার্থ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মো: হামিদুল ইসলাম (২০) ও মো: মিজান (৪০) নামে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাতে মাদকসহ তাদেরকে আটক করে ভুল্লী থানা পুলিশের একটি টিম। এ ঘটনায় মো: অন্তর (৩০) নামে এক যুব পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ওই দিন ভুল্লী থানার এস আই (নিরস্ত্র) সজিব হাসান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভুল্লী থানাধীন বালিয়া ইউপির লক্ষীরহাট গামী আশা এনজিওর সামনে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচানা করেন। এ সময় ভুল্লী থানার কুমারপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে মো: হামিদুল ইসলাম (২০) ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার গোয়াপাড়া মহল্লার মৃত আজিজুলের ছেলে মো: মিজান (৪০) কে ৬পিস ট্যাপেন্টাডোল ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। এ সময় অন্তর নামে এক যুব পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় ভুল্লী থানার এস,আই (নি:) সজিব হাসান বাদী হয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে ভুল্লী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া ৫৩ তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় খেপু পাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে উপজেলা স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে এ পুরস্কার এবং সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মনিরুজ্জামান খান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আনোয়ার হোসেন, খেপুপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার মো.শাহাদাত হোসেন, খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শরীরচর্চা শিক্ষক মো.নিজাম উদ্দিন প্রমুখ। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নুরুল হক এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় কলাপাড়া উপজেলায় সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শরীর চর্চা শিক্ষকগণ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, আনন্দহীন শিক্ষায় কাজ চলে মাত্র, এতে মানসিক কোন বিকাশ হয় না। তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বলেন, লেখাপড়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পাশাপাশি খেলাধুলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তবেই ওই লেখাপড়া সার্থক হবে। তিনি মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে খেলাধুলা কে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করে ।
জীবিত ব্যবসায়ীকে মৃত দেখিয়ে তার মোবাইল সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাতিলের পর একই সিম নিজের নামে নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পরে ওই নম্বরে থাকা নগদ ও বিকাশের হিসাবে এক রাতে প্রায় দুই কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার চট্টগ্রামের ফল ব্যবসায়ী মাঈনুদ্দিন হাসান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মাঈনুদ্দিনের করা মামলার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় সিমের মালিকানা পরিবর্তনকারী হিসেবে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর নওবাড়িয়ার বাসিন্দা রায়হান মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তাঁর সহযোগিতার অভিযোগে রবির ঢাকার শ্যামলী কাস্টমার কেয়ারের ইনচার্জসহ আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাঈনুদ্দিন হাসান চট্টগ্রাম নগরের বিআরটিসি সংলগ্ন ফলমন্ডির মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে খেজুর ও ড্রাই ফ্রুটসের ব্যবসা করছেন। একই সময় ধরে তিনি রবির একটি সিম বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবহার করে আসছিলেন। ওই নম্বরে বিকাশ ও নগদের এজেন্ট হিসাবও চালু ছিল।
গত ২৭ আগস্ট দুপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থায় মাঈনুদ্দিনের মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। এতে বলা হয়, ‘বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উক্ত নম্বরের ডেথ কেস রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ এর পরপরই তাঁর মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি জানতে তিনি দ্রুত চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার রবি সেবা কেন্দ্রে যান। সেখানে তাঁর পরিচয় ও সিমের নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখানোর পর তাঁকে জানানো হয়, সিমটি আর তাঁর নামে নিবন্ধিত নেই।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার শ্যামলী রবি সেবা কেন্দ্র থেকে সিমটির মালিকানা পরিবর্তন করে রায়হান মিয়া নামে একজনের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের পর ওই নম্বরে থাকা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করে এক রাতে নগদে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং বিকাশে ১৬ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া মাঈনুদ্দিনের হিসাবে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তিনি।
মাঈনুদ্দিন হাসান বলেন, ‘দোকানে বসে ব্যবসা করার সময় হঠাৎ এসএমএস পাই, আমি মারা যাওয়ায় আমার সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি তখন জীবিত এবং দোকানে বসেই ব্যবসা করছিলাম। পরে জানতে পারি, ঢাকার একটি সেবা কেন্দ্র থেকে আমার সিম অন্য একজনের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সিমটি উদ্ধারের চেষ্টা করার পর ওই নম্বরে ফোন দিলে রায়হান নামে একজন ফোন ধরেন। জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন। পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাঈনুদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদালত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে রায়হান মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
"করব কাজ গড়বো দেশ তান্ত্রিক বাংলাদেশ"—এই দীপ্ত স্লোগান ও সুদৃঢ় প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে এক বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে ছিল উপচে পড়া আমেজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওহিদুল আলম খন্দকার মানি, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হাজী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু প্রমুখ।
এছাড়াও জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির ক্রিকেট কাউন্সিলর আব্দুস সালাম, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দেশের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়। ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছিল।
আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণ শিল্পীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী খুদে শিল্পীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক (লাল পাঞ্জাবি-কুর্তি ও সবুজ উত্তরীয়) পরিধান করে মঞ্চে আসে। তারা দেশের গান ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পুরো অনুষ্ঠানটির চমৎকার ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর দেশাত্মবোধক গানের সুরে সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে সাহিত্য পরিষদ চত্বর, যা উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ মুগ্ধ করে রাখে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাদক ও সামাজিক অপরাধকে ‘না’ বলার পাশাপাশি উন্নত চরিত্র গঠনের শপথ নেয় তারা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেগমগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও চরিত্র গঠনের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান এবং বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।
পরে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠন, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে থাকা এবং স্মার্টফোনের অপব্যবহার না করার শপথ পাঠ করান।
আয়োজক সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ গত ১৫ বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছে।