বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ 'টাইটান ট্রিগারফিশ'

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘টাইটান ট্রিগারফিশ’। অত্যন্ত শক্ত ও খসখসে চামড়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে এটি ‘চামড়া মাছ’ বা ‘শুয়োর মাছ’ নামেও পরিচিত। 


আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মুন ট্রেডার্স মৎস্য আড়তে প্রায় ৮০০ গ্রাম ওজনের ব্যতিক্রমী অদ্ভুত এ মাছটি নিয়ে আসা হয়। এসময় স্থানীয়দের ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসুক জনতার ভিড় জমতে দেখা যায়।


জানা গেছে, ‘এফবি মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ও পোয়া মাছের সঙ্গে অদ্ভুত এ মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসা হয়। মাছটি খাবার উপযোগী কি না তা নিশ্চিত না হওয়ায় আড়তে বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।


ট্রলারের মাঝি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এর চামড়া অনেক শক্ত এবং গঠন অন্য সব মাছের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও সুন্দর। আগে কখনো এমন মাছ না দেখায় ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়ল।’


মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম মিজান বলেন, ‘এ ধরনের মাছ আগে কখনো চোখে দেখিনি। মাছটির খবর শুনে দেখতে এসেছি। সত্যিই মাছটি দেখতে বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয়।’


মুন ট্রেডার্স মৎস্য আড়তের ম্যানেজার মো. মিরাজ বলেন, ‘এ ধরনের মাছ এর আগে কখনো আমাদের আড়তে আসেনি। এর গঠন ও চামড়া সাধারণ মাছের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি খাওয়ার উপযোগী কি না তা নিশ্চিত না হওয়ায় আপাতত বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।’


মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল এই টাইটান ট্রিগারফিশের বৈজ্ঞানিক নাম Balistoides viridescens। মাছটির পিঠের ওপর রয়েছে একটি শক্ত কাঁটা বা স্পাইন, যা বিপদের সময় এটি লক করে রাখতে পারে; এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নাম ‘ট্রিগারফিশ’। এছাড়া সামুদ্রিক তলদেশের শক্ত খোলসযুক্ত প্রাণী ভেঙে খাওয়ার জন্য এর রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী চোয়াল ও বড় ধারালো দাঁত।


ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘প্রজননকালে এই প্রজাতিটি নিজস্ব এলাকা ও ডিম রক্ষায় বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে এটি খাওয়া হলেও সিগুয়াটেরা (Ciguatera) বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায় এই মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সচেতনতা ও সতর্কতা প্রয়োজন।’


পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার জানান, ‘টাইটান ট্রিগারফিশ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। বঙ্গোপসাগরে এর উপস্থিতি আমাদের উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি নির্দেশ করে। মাছটির নমুনা, ওজন ও পাওয়ার স্থান সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এর বিস্তৃতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা সম্ভব হবে।’


কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘মহিপুর মৎস্য বন্দরে এ বছর বেশ কয়েকটি ব্যতিক্রমী সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে, টাইটান ট্রিগারফিশ তারই একটি উদাহরণ। এ ধরনের মাছ জালে উঠলে ছবি, ওজন ও ধরা পড়ার সঠিক স্থানসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ সহজ করে।’


উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ার ঘটনায় গবেষকরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের জলসীমায় বিদ্যমান সমৃদ্ধ সমুদ্র-জীববৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।




সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটির আগেই সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। সমুদ্রসৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর নীল জলরাশির টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। 


শুক্রবার বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের পাশাপাশি স্থানীয় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে আসা হুজাইফা আমিনের সঙ্গে। 


তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে এসে বেশ ভালো লাগছে। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছি, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছি।’


সুগন্ধা পয়েন্টসহ সৈকতের নানা পয়েন্টে পর্যটকদের কাউকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কাউকে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেখা যায়। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার পাশাপাশি ছবি তুলে ছুটির মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন তারা। 


তাসফিয়া জান্নাত নামের এক পর্যটক বলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ– এই যে সৌন্দর্য কোথাও পাওয়া যাবে না। সমুদ্রের ঢেউ আর নির্মল বাতাস ক্লান্তি দূর করার জন্য স্বর্গীয় সুখের মতো। সাগরকে ঠিক এভাবেই উপভোগ করি।’


পর্যটক শামীম আহমেদ বলেন, ‘ছুটি কাটাতে সবারই ভালো লাগে, আর সেটা পরিবারের সঙ্গে হলে আনন্দটা হয় আরও বেশি। ব্যস্ত জীবনে সব সময় পরিবারকে নিয়ে এভাবে সময় কাটানোর সুযোগ হয় না। তাই ছুটি পেয়ে কক্সবাজারে চলে এসেছি। আরও দুয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।’ এই সময়ের মধ্যে কক্সবাজারের দর্শনীয় জায়গাগুলোর সৌন্দর্য উপভোগের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। 


পরিবারের সদস্য ও সন্তান নিয়ে সমুদ্রসৈকতে আসা রাখী রহমান বলেন, ‘কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি পেয়ে পরিবার ও সন্তানকে নিয়ে প্রথমবার কক্সবাজারে এসেছি। এখানে এসে অনুভূতিটা অসাধারণ, বিশেষ করে সন্তানকে খুব আনন্দ করতে দেখে ভালো লাগছে। সমুদ্রের প্রতি মানুষের একটা আলাদা টান রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর জন্য সমুদ্রসৈকতের মতো ভালো জায়গা আর হয় না। সাপ্তাহিক ছুটিসহ পূজার ছুটিতে দীর্ঘ সময় অবকাশ যাপনের সুযোগ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।’


গরমের মধ্যে এদিন অসংখ্য পর্যটককে নোনাজলে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে উঠতে দেখা যায়। কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে বালুচরে কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়। ঢেউয়ের গর্জন, মানুষের হাসি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে এই পর্যটনকেন্দ্র। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ায় সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ক্ষুদ্র বিভিন্ন পণ্যের দোকান থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন বিনোদনসেবায় বাড়ছে ব্যস্ততা।


কক্সবাজারের বাসিন্দা ওসমান গনি বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিকেল থেকে সৈকতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক মানুষও সৈকতে ঘুরতে আসছেন। আবহাওয়া ভালো হতে শুরু করায় সৈকতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।


পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক লাইফগার্ড সদস্যরা জানান, সমুদ্রের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। তবু সতর্কতার অংশ হিসেবে ভাটার সময় লাল পতাকা টাঙানো হয়। সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, ‘পর্যটকেরা পানিতে নামার পর যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’


শহরসংলগ্ন পয়েন্ট ছাড়াও মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গতকাল উপচেপড়া ভিড় ছিলো। পুজার দীর্ঘ ৫ দিনের ছুটির আগেই কক্সবাজারে এভাবে পর্যটকের সমাগম কল্পনার বাইরে ছিলো বলে জানান কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার। তিনি এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘আশা করছি আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ৫ দিনের দীর্ঘ পূজার ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে এক লাখের চেয়ে বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সেই হিসাবে পাঁচ দিনে ছয় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হতে পারে।’


তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ আগাম বুকিং হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক হোটেলে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।


জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্পের ভালো ব্যবস্থাপনা সব সময় তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পর্যটকের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়া ঠেকানো ও তাদের যেন হয়রানির শিকার না হতে হয় এ জন্য নিয়মিত নজরদারি করছেন।


পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের উল্টিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং পূজামণ্ডপের কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। 


তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো জায়গা পাথরঘাটায় নাই। থানার ওসির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ প্রশ্নে যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে হয় চাঁদাবাজ থাকবে নয় আপনি থাকবেন।’ 


এ সময় তিনি ওসিকে বলেন, ‘কে থাকবে, আপনি না চাঁদাবাজ।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘আমি থাকবো।’ 


চিফ হুইপ বলেন, পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজ, দখলদারিত্ব,পুলিশ ও কোস্টগার্ডের দালাল এবং অনলাইন জুয়াড়ি থাকবে না। দুই মাসের মধ্যে এগুলো নির্মূল না করতে পারলে ওসিকে পাথরঘাটা থানা ছেড়ে চলে যেতে হবে। 


সাত দিনের সফরে নির্বাচনী এলাকা বরগুনা-২ আসনে এসে বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি, সাংবাদিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন। এছাড়া তিন উপজেলার ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর অর্থ সাহায্য করেন। পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ব্যবসায়ীকে টিন সহায়তা দেন।


নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বৃদ্ধিতে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে সড়ক-সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


চিফ হুইপ বলেন, বরগুনার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে পায়রা, বিষখালী ও বেতাগী সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

আগামী ২৩ ও ২৪ শে অক্টোবর বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে সুর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট গুলোর ৭০-৮০ ভাগ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন কতৃপক্ষ। বীচ কার্নিভাল উৎসবে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোটেল মালিক সমিতি রুম ভাড়ার উপর ৫০ ভাগ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন।বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ পৃথকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন


বীচ কার্নিভাল উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বীচ ম্যারাথন, বীচ ফুটবল সহ নানা আয়োজন থাকবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন তথা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে এ বীচ কার্নিভাল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই জানাগেছে বীচ ম্যানেজমেন্ট  সুত্রে।


ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।


আবাসিক হোটেল মোডেল  মালিক সমিতি থেকে জানানো হয়েছে   বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।


কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাস এর সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার ৭০ ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। দু'য়েক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং হবার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন এরই মধ্যে পূজার ছুটি বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। 


কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানিয়েছেন, বীচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর ৬০-৭০ ভাগ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেল গুলোর এখনো অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরো জানান,  কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিকের উপরে পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন।


কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বীচ কার্নিভাল উৎসবে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগতরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন এজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, এসআরবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন,৫ দিনের সরকারি ছুটি ও বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা নতুনরূপে সাজতেছে। থানা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। 


নতুন কমিটির তালিকা হস্তান্তর করেন শহীদ জিয়া সামাজিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে শহীদ জিয়া সামাজিক সংগঠনের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে রাইগাঁ ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে, আগের দিন বুধবার বিকেলে ভীমপুর ইউনিয়নের সরস্বতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ও ৮ অক্টোবর বিকেলে এনায়েতপুর ইউনিয়নের কালুশহর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহাদেবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার বাবু।


সমাবেশগুলোতে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের নওগাঁ জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক মোস্তাকিম ইসলাম, মহাদেবপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মিঠু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান লোটন, ভীমপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ, এমদাদুল হক, উজ্জল হোসেন, সিরাজুল ইসলামসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে জাকির হোসেন জাহিদকে সভাপতি, জয়নুল আবেদীনকে সাধারণ সম্পাদক ও আল আমিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে শহীদ জিয়া সামাজিক সংগঠনের ভীমপুর ইউনিয়ন শাখার ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি, বায়েজিদ হোসেনকে সভাপতি, সাইদ হাসান রকিকে সাধারণ সম্পাদক ও আরিফ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে রাইগাঁ ইউনিয়ন শাখার ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং ফরহাদ হোসেনকে সভাপতি, শিহাব রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক ও রফিকুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে এনায়েতপুর ইউনিয়ন শাখার ৪৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। প্রধান অতিথি নতুন কমিটি অনুমোদনের কপি প্রতিটি ইউনিয়ন শাখার নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দেন।


প্রধান অতিথি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য এখনকার যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে উদ্দীপ্ত তরুণ সমাজ কোন গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাঁসিয়ে, দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। 




  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১১ পিএম

সিলেটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রকৌশলীর বাসায় গভীর রাতে ঢুকে তাকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে তাকে সিলেটে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। এ অভিযোগে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেন। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম সিলেট মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সম্পাদক ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার।


প্রকৌশলীর অভিযোগ, ১২ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে নগরীর মোঘলটুলা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রকৌশলী শাহীন হোসেন সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, ১২ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। 


তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একজন নিজের নাম জাহাঙ্গীর বলে জানান এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দেন। পরিচয় জানার পর দরজা খুলে দিলে তারা বাসায় ঢুকে শাহীন হোসেনের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন। 


জিডিতে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাসার বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করেন এবং খোঁজাখুজি শুরু করেন। এসময় তাকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এলাকায় থাকতে হলে তাদের টাকা দিতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। 


শাহীন হোসেন বলেন, ঘটনার পর তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। জেলা প্রশাসকের পরামর্শে অনলাইনে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। 


তিনি আরও বলেন, সিলেটে যোগদানের দেড় মাসের মতো হয়েছে তার। এ সময়ের মধ্যে কাউকে ভালোভাবে চিনে ওঠার সুযোগ হয়নি। তবে অফিসের সূত্রে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। তবে রাত তিনটার দিকে প্রকৌশলীর বাসায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম।


তিনি জানান, গভীর রাতে গাড়ি থেকে নেমে প্রকৌশলী তার বাসায় যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে তার পরিচয় না থাকায় তারা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেন। পরে তিনি, তার বন্ধু সুমন, বড় ভাই ইকবাল ও এলাকার কয়েকজন মুরব্বি প্রকৌশলীর বাসায় খোঁজ নিতে যান। 


জাহাঙ্গীর আরও জানান, ঘটনাটি মূলত বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক বিষয় জড়িত ছিল না। ঘটনার পরদিন অফিসে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 


এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান জানান, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন। এ ঘটনায় থানায় জিডিও করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি তার অফিসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে, এমন দাবি তিনি অস্বীকার করেন।


এদিকে এ ঘটনায় করা জিডি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল জাকির। তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে না। ভুক্তভোগী প্রকৌশলীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।


ওসি আরও বলেন, জিডির বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। শাহীন হোসেন তাকে জানিয়েছেন, দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে লিখিত অভিযোগ দেবেন। 


এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, বিএনপির কোনো নেতা এমন কাজ করতে পারেন না। যিনি এ কাজ করেছেন, তিনি অপরাধী। তাকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। 


নাসিম হোসাইন আরও বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবেও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

নোয়াখালী জেলায় সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপনের অগ্রগতি, গুরুত্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা অঞ্চলের বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির। সভায় সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।


সভায় শুরুতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার  এবং বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, চৌমুহনী এর নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব প্রকৌঃ মোঃ শাহাদাত ইসলাম  সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, জাতীয় রুফটপ সোলার সিস্টেম বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।


আলোচনায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ বৃদ্ধি এবং গ্রাহক পর্যায়ে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।


বক্তারা বলেন, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সৌরশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রাহক পর্যায়ে সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।


সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মডেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব CAPEX ও OPEX মডেলের বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরেন।


বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।


প্রধান অতিথি জেলার সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং নেট মিটারিং পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং সরকারের জাতীয় রুফটপ সোলার কৌশলপত্র বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।