ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ এএম

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।


ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, এ হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে গেছে।


তবে হামলায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।


এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ক্যাম্পটির বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস করা হয়েছে।


আইআরজিসি বলেছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।


এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।


জর্ডানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক মুখপাত্র বলেন, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে। এতে কোনো হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।


এ ছাড়া আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনা ব্যারাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সূত্রটি জানায়, মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করেছে।


উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোরও কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম থাকা গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।


এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ হামলা প্রতিহত করেছে। এ ঘটনাকে তারা ইরানের আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানান, যেসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কর্তৃক ড্রোন ভূপাতিত করার ফলে হয়েছে।


ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা এবং রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে।


সেনাবাহিনী জানায়, হামলাটি তাদের ‘অপারেশন থান্ডার’ নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ। তাদের দাবি অনুযায়ী, শেখ ইসা ঘাঁটিটি পারস্য উপসাগরে মার্কিনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোনের যন্ত্রপাতি ও নজরদারি উড়োজাহাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।


এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে বেশ কিছু এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে প্রথমবার দুই দেশের সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের এ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।


ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আল–জাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এ হামলার জবাবে ইরান যদি পাল্টা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর সন্তানের ভবিষ্যতের প্রতি মায়ের অদম্য মমতার কাছে হেরে গেছে দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিকূলতা। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে সাধারণ শাড়ি পরে ও খালি পায়ে ম্যারাথনে দৌড়ে তরুণ প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী এক মা। অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের বিড জেলার আম্বাজোগাই এলাকার বাসিন্দা রমাবাই রণবীর।


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শিক্ষা প্রসারক সংস্থার খোলেশ্বর এডুকেশনাল কমপ্লেক্সের অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে ‘অমৃত দৌড়’ নামে একটি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ চৌক থেকে শুরু হয়ে ভাগ্যনগর চৌকে গিয়ে শেষ হওয়া এই প্রতিযোগিতায় স্থানীয় অসংখ্য তরুণ-তরুণী অংশ নেন।


প্রতিযোগিতার শুরুতেই সাধারণ শাড়ি ও পায়ে সামান্য চপ্পল পরে সবার সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন রমাবাই। তবে বাঁশি বাজার পর দৌড় শুরু করতেই অসমান রাস্তায় বারবার পা থেকে চপ্পল খুলে গিয়ে তার গতি কমে যাচ্ছিল। একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে চপ্পল জোড়া হাতে তুলে নিয়ে পাথর আর রুক্ষ রাস্তায় খালি পায়েই দৌড়াতে থাকেন তিনি। তীক্ষ্ণ পাথর ও শারীরিক ব্যথার তোয়াক্কা না করে সব তরুণ প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সবার আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন এই অদম্য মা।


৪৭ বছর বয়সী রমাবাইয়ের এমন জয় দেখে উপস্থিত দর্শক ও আয়োজকরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। খালি পায়ে জয়ী হয়ে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ৩ হাজার রুপি সরাসরি মেয়ের পড়াশোনার খরচের জন্য তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই কারণেই তার জয় শুধু একটি ম্যারাথন জেতার ঘটনা নয়। মেয়ের শিক্ষার জন্য একজন মায়ের সংকল্প এবং লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই দৌড়।

সর্বশেষ সব খবর

সৌদি আরবে ৭ আগস্ট মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর একসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। (ছবি-রয়টার্স)

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৭ পিএম

সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান- মুসলিম বিশ্বের এই তিন দেশ সম্প্রতি যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, তাতে বাংলাদেশও যোগ দেবে কি না তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। একদিকে সামরিক তাৎপর্য, অন্যদিকে জোটের সম্প্রসারণের চেষ্টা দুটি মিলিয়েই এই চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশেও আগ্রহ আছে। যদিও বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখানো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পায়নি।


যদিও চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ 'ইতিবাচক অবস্থানে' আছে বলে তিনি জানান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া কতটা জরুরি? এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ মক্কা জোটে যোগ দিলে ভূ-রাজনৈতিক নানা ঝুঁকির কথাও বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের লাভ কী এবং এতে কোনো ঝুঁকি আছে কি-না।


এই জোটের গুরুত্ব কী?

মুসলিম বিশ্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ- সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান। সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারকদের একটি এবং একইসঙ্গে বড় অর্থনৈতিক শক্তি। তুরস্ক নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী। তাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত মানের এবং দেশটির আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, মিসাইল সমৃদ্ধ শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। আর মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রশক্তির দেশ পাকিস্তান।


তিনটি দেশ মিলে যে চুক্তি সই করে তার আনুষ্ঠানিক নাম মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এটা স্বাক্ষরও হয় মুসলিমদের সর্বোচ্চ পবিত্র নগরী মক্কায়। একে এমন একটি জোট হিসেবে দেখা হচ্ছে যেখানে মুসলিম দেশগুলো একত্রিত হচ্ছে। সামরিক জোটের অংশ হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় আর গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কোন দেশ কতটুকু অবদান রাখবে, তা নিয়ে সব দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিতও দিয়েছেন।


ফলে সামরিক তাৎপর্য থাকায় তিনটি দেশের এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোট বৈশ্বিক রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই এটাকে 'মুসলিম নেটো' নামেও ডাকছেন। কারণ, চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ঠিক একইরকম ধারা ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধীতায় মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নেটোতেও রয়েছে। ফলে মক্কা জোটের সামরিক উদ্দেশ্য তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত সাতই অগাস্ট এই চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন?

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমনি ফারহানা মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি। "এতে যোগদান করার বিষয়টি এখানো আসেনি। কারণ এটা নির্ভর করছে যারা এই প্যাক্টের সদস্য, তাদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করেন বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে নেওয়ার জন্য, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করবো।" মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ না পেলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ এতে যোগ দিতে আগ্রহী। "মক্কা প্যাক্ট হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটা ব্যবস্থা এবং এটা আমাদের মুসলিম পরিবারের আভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এটা নিয়ে কারো, অন্যান্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নাই," বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি জানান, যেহেতু এই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়নি ফলে এখানে যোগ দিলে কী লাভ হবে সেগুলোও আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি।


বাংলাদেশের লাভ কী?

মক্কা প্যাক্ট মূলত প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। নামেই প্রতিরক্ষা শব্দটি আছে। চুক্তিতেও আলোচনা হচ্ছে মূলত এই জোটের যৌথ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তুরস্ক ও পাকিস্তান। যৌথ জোটের দেশগুলো সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় থেকে শুরু করে অস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময় পর্যন্ত যেতে পারে। জোটের তিনটি দেশের তিন ধরনের সক্ষমতা আছে। যেটা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।


সৌদি আরবের আছে অঢেল অর্থ, তেল, ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা এবং রাজনৈতিক শক্তি। তুরস্কের আছে অত্যাধুনিক সামরিক শিল্প, ড্রোন প্রযুক্তি, মিসাইল, সেন্সর, নৌশক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা। আছে উন্নত মানের অস্ত্র প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ। পাকিস্তানের আছে দক্ষ সৈন্য, বিশাল পেশাদার সেনাবাহিনী ও অবকাঠামো, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরমাণু অস্ত্র। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের জন্য আমেরিকার বাইরে অস্ত্র সংগ্রহের নতুন দ্বার খুলে যাচ্ছে। তারা তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমদানি করতে পারবে।


অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের দরকার অর্থ। তারা অস্ত্র ও প্রযুক্তি বিক্রি করে সেটা পাবে এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন বিনিয়োগ করতে পারবে। এই দেশগুলো যদি নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করে তাহলে সেটা দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর এখানেই আসছে বাংলাদেশসহ নতুন দেশগুলো যদি মক্কা জোটে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের লাভবান হওয়ার সুযোগ। সেগুলো কী? "এখানে বাংলাদেশের প্রাপ্তির অনেক কিছুই আছে। সেটা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ হতে পারে, ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক সৃষ্টি হতে পারে যেটা আসলে বড় বড় সামরিক জোটে এধরনের তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে,"  বলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ আরও বলেন, আমরা তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন, আরমার্ড ভেহিকেল এরকম অনেক কিছুই আমদানি করি। এই অংশীদারত্বটা আরো বড় হতে পারে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের একটা সুযোগও আসে যে, তুরস্কের মতো একটা দেশের সঙ্গে আমরা জয়েন্ট কোলাবরেশনে গিয়ে কোনোকিছু উন্নত করতে পারি কি-না, বিশেষত মিলিটারি টেকনোলজির ক্ষেত্রে।  এছাড়া এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের নৌপথের কৌশলগত সাপ্লাই চেইনকেও শক্তিশালী করবে।


তিনি বলেন, আপনি যদি ম্যাপ খেয়াল করেন। বঙ্গোপসাগর, তারপর ভারত মহাসগর এবং এরপরে আরব সাগর। সুতরাং আমরা যখন ভারত মহাসগরকে ক্রস করে যাচ্ছি, তখন যদি আমার ওই অঞ্চলে একটা চুক্তি থাকে, তাহলে সেটা আমাদের প্রবেশাধিকারকে অনেক সহজ করে। আমরা ওখান থেকে এলএনজি আনছি, পেট্রোলিয়াম আসে। সুতরাং সেখানকার কোনো একটা সিগনিফিকেন্ট অ্যাক্টরের সঙ্গে যদি সামরিক সম্পর্ক থাকে, সেটা তো আমার বেনিফিটে কাজ করার কথা। এবং একইসঙ্গে এটা আমার ইকোনমিক লাইফ লাইনকেও সাহায্য করবে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিনও মনে করেন, মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্রে নৌ-চলাচল এবং নিরাপত্তা একটা বড় উদ্দেশ্য। তাছাড়া সৌদি আরবে বহুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন। দেশটি বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের একটি প্রধানতম উৎস। সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগীও বটে। ফলে চুক্তিতে থাকলে সেটা বাংলাদেশের শ্রমিক পাঠানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সহায়তারও নতুন দ্বার খুলতে পারে।


বাংলাদেশের ঝুঁকি কী?

বাংলাদেশ যদি চুক্তিতে যোগ দেয়, তাহলে ঝুঁকি অনেকগুলোই আছে। প্রথমটিই হচ্ছে, জোটের একটি নির্দিষ্ট নীতি যেখানে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটা জোটের বাকি দেশগুলোর উপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে বলা হচ্ছে, নেটোর আদলে এমন কোনো জোটে বাংলাদেশ থাকলে সেটা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি। মক্কা জোটে পাকিস্তান থাকায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত শুরু থেকেই এই জোটকে এক ধরনের হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান যেকোনো সংঘাতে মক্কা জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টের ঝুঁকি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে।


মক্কা জোটে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন।তিনি বলেন, আমাদের প্রায়োরিটি অনেকগুলো আছে। সেগেুলো মাথায় রেখে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে, আমি একটি সামরিক জোটে জয়েন করতে চাই কি না। একইসঙ্গে আমাকে চিন্তা করতে হবে যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের জন্য আমার দক্ষিণ এশিয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি একটি সামরিক জোটে যোগ দেওয়া বেশি প্রয়োজন। এখানে অবশ্য বিষয়টা এমন না যে, যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে। এখানে দুটোই একইসঙ্গে সম্ভব। কিন্তু চুক্তিতে ডিফেন্স কথাটা যেহেতু আছে এবং ডিফেন্স প্যাক্টের মতো করে এটা চিন্তা করা হচ্ছে, সুতরাং এই এলাকায় এর প্রভাবটাও বিবেচনা করতে হবে। 


তার মতে, বাংলাদেশ সবসময় সামরিক জোট থেকে দূরে থাকার নীতি অতীতে দেখিয়েছে। বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত কখনই কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়নি। যদি এখন যোগ দিতে চায় তাহলে সেটা হবে প্রথম। সুতরাং কোনো কিছুতে প্রথম হওয়ার আগে জাতীয় পর্যায়ে এটাকে আলোচনা করা দরকার। এছাড়া জোটে পাকিস্তান থাকায় এই জোট নিয়ে ভারতের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।


বাংলাদেশের একজন ভূ-রাজনীতির গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, বাংলাদেশ এই জোটে যখনই যুক্ত হবে, তখন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবে। যেটি একদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবেও দেখছেন তিনি। তিনি বলছিলেন, এটার তাৎক্ষণিক একটি প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। কারণ তখন ভারত ভাব পারে সে অনিরাপদ। তখনই সে ইসরায়েলে শরণাপন্ন হতে পারে। এই ইস্যুতে তখন ভারতকে সহযোগিতায় আগ্রহী হতে পারে ইসরায়েল। দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হতে পারে সামরিক উত্তেজনা। এ উত্তেজনায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ওয়ার এবং প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ বাড়তি ঝুঁকিতে থাকবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিতে ঝুঁকলেও এক ধরনের ঝুঁকি, না ঝুঁকলেও থাকবে আরেক ধরনের ঝুঁকি।


এছাড়া প্রতিরক্ষামূলক এই জোটে বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থে ভূমিকা রাখার সুযোগ কতটা আছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মতো সক্ষমতায় নেই। তাছাড়া বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ কাজে সৌদি আরবে সৈন্য মোতায়েন করতে পারে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। কিন্তু সেখানেও সৌদি আরব মূলত পাকিস্তান নির্ভর। তবে বাংলাদেশ জোটে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ। তিনি বলেন, আমাদের অনেক বড় একটা ফুটপ্রিন্ট জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আছে। সেখান থেকে এই জোটে আমরা মূলত প্রশিক্ষণ এবং কমপ্লায়েন্স রিলেটেড বিষয়গুলো অফার করতে পারি। কিন্তু যখন স্পর্শকাতর ওই বিষয়টা সামনে আসে যে, বাংলাদেশ এমন একটা প্যাক্টে জয়েন করে সৈন্য পাঠাবে কি না। এমনটা হলে বড় ধরনের আঞ্চলিক এবং বাইরের বিশ্বে নানা রকম ইমপ্লিকেশন আছে।


এটা ঠিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একধরনের অসামরিক নীতি রয়েছে। কিন্তু এটাও একটা বাস্তবতা যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পর আঞ্চলিক বিশেষত, বাণিজ্যিক নৌরুটের নিরাপত্তার ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে। যেখানে মার্কিন নির্ভরতা কমে যাওয়ায় নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে। বাংলাদেশ সেই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ না হয়েই তার অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায় করার সুযোগ পেতে থাকবে কি না, সেটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।


মক্কা জোটে থাকলেই কি যুদ্ধের বাধ্যবাধকতা আছে? বিষয়টা মোটেও এরকমও নয়। এখানে দুটি উদাহরণ আছে। প্রথমটি হচ্ছে, একইধরনের একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে। যেটা স্বাক্ষর হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এরপর সৌদি আরব ইরানের হামলার মুখে পড়লেও পাকিস্তানকে সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধ করতে হচ্ছে না। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বাংলাদেশ নিজেও গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের উদ্যোগে একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা। কিন্তু বাব আল-মান্দেবে হুতিদের আক্রমণ হলেও বাংলাদেশকে সেখানে যুদ্ধ করতে হয়নি, সৈন্যও পাঠাতে হয়নি।


মক্কা জোট নিয়ে জানতে চাইলে তুরস্কের সমরবিশারদ ও হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক মুরাত আসলান বলেন, এই প্যাক্ট মূলত আত্মরক্ষামূলক চুক্তি। ফলে এই জোটে থাকলেই যে যুদ্ধ করতে হবে, ব্যাপারটা তেমন নয়। আপনি এটাকে যদি শুধু সামরিকভাবে দেখেন তাহলে ভুল হবে। কারণ, এটা আসলে কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। এই জোটের কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, জোটের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করবে না। এবং তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে। একইসঙ্গে মক্কা প্যাক্টকে নেটোর মতো করে এখনই দেখার সুযোগ নেই বলেও মত দেন তিনি।


তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে এটা একটা নতুন নেটো। কারণ এখানে নেটোর মতো কোনো কমান্ড স্ট্রাকচার নেই, কোনো সেনাবাহিনীও নেই। তাছাড়া এরকম চুক্তি সৌদি-পাকিস্তানের মধ্যেও রয়েছে। সেখানে আমরা দেখি, সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও পাকিস্তানকে কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়নি। তবে হ্যাঁ, চুক্তিতে কী আছে, সেটা আমরা বিস্তারিত জানি না। তিনি মনে করেন, একটা বৃহত্তর জোট হলে এবং সেই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা থাকলে সেটা অন্য কোনো দেশের হামলাকে এমনিতেই নিরুৎসাহিত করবে।

সর্বশেষ সব খবর

নেপাল সেনাবাহিনী বন্যাদুর্গত রসুয়া জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধার করছে।

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

ফোন বাজছে, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া নেই। মিথু খড়কা প্রতি মুহূর্তেই ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকছেন– কখন ওপাশ থেকে স্বামী কমল খড়কার গলা ভেসে আসে! গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেষবার ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এর ঠিক দুই ঘণ্টা পরই হিমবাহধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় নেপালের রসুয়া ও নুওয়াকোটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। 


কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, নিখোঁজ শত শত কর্মীর তালিকায় আটকা পড়েছে কমলের নাম। মিথুর মতো হাজারো স্বজন এখন সুড়ঙ্গের আঁধার চিরে ভেসে আসা অলৌকিক কোনো সংবাদের অপেক্ষায়। সময়ের সঙ্গে আশার প্রদীপ নিভে এলেও তারা আঁকড়ে ধরে আছেন একটাই বিশ্বাস, ‘শরীর না দেখা পর্যন্ত আশা মরে না।’ 


প্রলয়ঙ্করী এই বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে প্রাণহানির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সপ্তম দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত কেবল নেপালেই ১ হাজার ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ প্রায় চার হাজার মানুষ। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫৪৬ জন নিখোঁজের খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। দুই দেশ মিলিয়ে এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬-এ। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা সাড়ে চার হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ৩৯ দেশের ৫৯০ জন বিদেশি রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন নেপালের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর শত শত শ্রমিক ও প্রকৌশলী। 


সুড়ঙ্গের অন্ধকারে উদ্ধার অভিযান 

ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় নির্মাণাধীন ও চালু থাকা বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা শত শত প্রকৌশলী, কারিগরি কর্মী ও শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্তত ৮৯৮ জন কর্মী এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। 


বর্তমানে এই উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সুড়ঙ্গগুলোর ভূগর্ভস্থ পাওয়ার হাউস। রসুয়ার ২১৬ মেগাওয়াট সম্পন্ন উইপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন কাঞ্চনপুরের ২০ বছর বয়সী অনুশ গুরংয়ের বাবা লক্ষ্মণ গুরং। বাবার শেষ অবস্থান নিয়ে একেকজন সহকর্মী একেক কথা বললেও অনুশের বিশ্বাস, বাবা সুড়ঙ্গের ভেতরেই আটকে আছেন। অনুশ বলেন, ‘আমাদের শেষ আশা এখন ওই সুড়ঙ্গের ভেতরেই। যদি সময়মতো সেখানে পৌঁছানো যেত, তবে হয়তো তাঁকে জীবিত পাওয়া যেত।’ প্রকল্পটিতে ২৫৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ ৫৭৬ জনেরও বেশি মানুষ। 


একই অবস্থা ৩৭ মেগাওয়াট উইপার ত্রিশূলী-৩বি এবং ১১১ মেগাওয়াট রসুয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। রসুয়াগাধি প্রকল্পের কোম্পানি সচিব নরনাথ নেউপানে জানান, সেনা সদস্যরা সুড়ঙ্গের সংকীর্ণ পথ ধরে বহুদূর হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করলেও পাওয়ার হাউসের মাত্র ৭ মিটার আগে গিয়ে পথ সম্পূর্ণ বন্ধ পান। ওই অংশে পৌঁছাতে ভারী ড্রিলিং মেশিন ছাড়া উপায় নেই। 


একই সঙ্গে ৬০ মেগাওয়াটের উইপার ত্রিশূলী-৩ এ প্রকল্পের প্রায় ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ভেতর পানির লেভেল আর কাদার স্তূপ ঠেলে এগোতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। সেখানে প্রায় ১২০ মিটার পথ এখনও কাদায় অবরুদ্ধ। স্বজনদের দাবি, পাওয়ার হাউসের ওপরের স্তরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা এবং কন্ট্রোল রুম থাকায় সেখানে মানুষের বেঁচে থাকার সুযোগ রয়েছে। 


আন্তর্জাতিক সাহায্য 

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নেপাল সেনাবাহিনী ও যৌথ উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি ও এক্সক্যাভেটর নিয়ে সুড়ঙ্গগুলোর পথ পরিষ্কারের কাজ চালাচ্ছে। সাহায্য পাঠিয়েছে প্রতিবেশী দেশ চীন ও ভারত। বিশেষ উদ্ধারকারী দল, জীবন শনাক্তকারী আধুনিক যন্ত্র, ড্রোন এবং ওয়াটার পিউরিফায়ার নিয়ে মাঠে নেমেছে চীনা দল। ৯ জন নিখোঁজ নাগরিককে খুঁজতে ৪৪ সদস্যের দল পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়াও। 


নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সামাজিক মাধ্যমে জানান, ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২৭৯ জন জলবিদ্যুৎ কর্মীকে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও আশপাশ এলাকা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও প্রায় ৬৩৯ জন জলবিদ্যুৎ কর্মী সুড়ঙ্গ ও ধ্বংসাবশেষে আটকা পড়ে আছেন। 


তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নেপালকে আজ চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই বিষয়টি শক্তভাবে তুলে ধরার সময় এসেছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ এএম

ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিকে ওই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বুধবার ভোরে কুহেস্তাক শহরের একটি আবাসিক ভবনে হামলাটি চালানো হয়। ইরানের প্রেস টিভিও অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।


সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে জানান, হামলায় আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫০ জন নারী ও শিশু। তাদের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।


ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্যও প্রকাশ করেছে। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরপরই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অনেকে আহত হন।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সম্পদ, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগকেন্দ্রে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।


মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের হামলার চেষ্টার জবাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ড্যান ড্রিসকল।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। তাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ড্রোন গাই’ বলা হতো। ৪১ বছর বয়সী ড্রিসকল ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আর্মি সেক্রেটারি। বিবিসির মার্কিন সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে তার বিরোধ চলছিল।


হোয়াইট হাউস সিবিএসকে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রিসকল ট্রাম্পের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এবং সামরিক অভিযানে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।


এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সম্প্রতি পদত্যাগ করা উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের তালিকায় ড্রিসকল সর্বশেষ নাম। এর আগে গত এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানও হঠাৎ পদত্যাগ করেন।


এ ছাড়া সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনও পদ ছেড়েছেন।


পেন্টাগনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এক ডজনেরও বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন, যার মধ্যে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।


ড্রিসকল ও হেগসেথের মধ্যে পর্দার আড়ালের বিরোধের কারণ পরিষ্কার নয়। তবে সিবিএস উল্লেখ করেছে, ড্রিসকল সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, যাকে হেগসেথ পদত্যাগ করতে বলেছিলেন বলে জানা গেছে।


আর্মি সেক্রেটারি মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ বেসামরিক পদ। নিয়মিত সেনাবাহিনী ছাড়াও ন্যাশনাল গার্ড এবং রিজার্ভ ফোর্সের সৈন্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে এই পদের ওপর।


ড্রিসকল ২০০৭ সালে কর্মকর্তা হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে ইরাকে একটি ক্যাভালরি প্লাটুনের নেতৃত্ব দেন।


আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে ড্রোন ও আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের কারণে তিনি ট্রাম্পের ‘ড্রোন গাই’ হিসেবে পরিচিতি পান।


গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


ড্রিসকল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের পরিচয় হয়েছিল ইয়েল ল স্কুলে।


আর্মি সেক্রেটারি থাকাকালীন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং একইসঙ্গে তিনি ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

সর্বশেষ সব খবর

নেপালে বন্যায় মৃত্যু ৯০৩

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে; এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে সোমবার এ খবর জানিয়েছে কাঠমান্ডু পোস্ট।


দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) সকাল ৯টায় প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৯০৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।


চিতওয়ান জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর পূর্ব নবলপুরে ২০৭টি এবং পশ্চিম নবলপুরে ১৫১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া নুয়াকোটে ৯৫, গোর্খায় ৬২, ধাদিংয়ে ৫৫, তানাহুনে ৩৭ এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।


গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটির ধস নদীতে পড়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানি ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুতগতিতে নদী উপত্যকা দিয়ে নেমে এসে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভাসিয়ে নেয়।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানির তীব্র স্রোতে মানুষ ভেসে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরেও মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে।


নিখোঁজের সংখ্যাও বেড়েছে। নুওয়াকোটে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং রাসুয়ায় ৮৬৫ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন, ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।


নিখোঁজদের মধ্যে ৮৩ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তাদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫, নেপাল পুলিশের ২৫ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ সদস্য রয়েছেন।


সরকার জানিয়েছে, বন্যায় ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছয়টি বিশেষায়িত সার্জারি চিকিৎসক দল কাজ করছে।


উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ২০ হাজার ৮১৯ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


তবে বন্যায় নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে শনাক্ত না হওয়া মরদেহ রাখা হয়েছে।


নিখোঁজ ও শনাক্ত না হওয়া মরদেহের তথ্য নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজ এবং নেপাল পুলিশের দুর্যোগবিষয়ক পোর্টালে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর