• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ পিএম

‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান।


এর আগে এই আইনজীবী ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।


রিট আবেদনে বলা হয়, যদি একটি ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবে না।


বিবাদীদের ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছিলে রিটে।


‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না—এই মর্মে রুল জারির জন্য রিটে আর্জি জানানো হয়েছিল।


রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছিল রিটে।




হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজার ৩২৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে নতুন করে ৬ হাজার ৯৬টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে মোট নিষ্পত্তিকৃত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলার সংখ্যা ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে।


সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫৭ হাজার ২৩২টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সাদ্দাম, ইনান ও ওবায়দুল কাদের

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি কল রেকর্ড দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।


প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে সরাসরি ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়।


কল রেকর্ডের কথোপকথনে সাদ্দামের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন।’


প্রত্যুত্তরে সাদ্দাম বলেন, ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে।’ আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদকের এমন কথায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হন বলে দাবি প্রসিকিউশনের।


গত ৪ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। যুক্তিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ছিল পরিকল্পিত, সুসংগঠিত ও দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’। আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।


তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করার পর ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের এ অভ্যুত্থানে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।


এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।


গত ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।


প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।


কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।


সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৩ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা, পেপার স্প্রে করার মামলায় সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এর আগে, মঙ্গলবার দিকাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত।


মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাত ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্র-সস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারা দিন অবস্থান করে। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করে। আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে। খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগ না দিতে পারেন সে জন্য রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে।



কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয়। বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বার বার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।


এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৩/১৪৭/১৪৮/৩৪১/৩৪২/৩৪৩/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৯৭৪ এর ১৫(১)বি ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।


তিনি বলেন, বিদ্বেষমূলক হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বা প্রকাশ করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতের। কিন্তু যে কোনো বক্তব্য প্রচারে বাধা নেই।


তিনি আরও বলেন, আগামীকাল ৬ থেকে ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি। আসলে কোনো বক্তব্য দেয় নাকি সব ফাঁকা আওয়াজ। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‌‘সব ঝুট হ্যায়’।


যে কথায় ট্র‍্যাইব্যুনালের ইমেজ সংকট হয় কিংবা বিদ্বেষমূলক হয় সেগুলো ছাড়া গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশে আইনগত বাধা থাকে না, বলেন তিনি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


জরিমানার অর্থ আদায়ে প্রয়োজন হলে দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দিয়ে সেই অর্থ ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাহুল, ডায়মন্ড, অনিম, পলাশ, মিনহাজ আবেদীন ও মিনহাজ বাবু।


রায়ে আদালত প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়, দণ্ডপ্রাপ্তরা জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী দুই তরুণী ও তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (কালেক্টর) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।


মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে বের হন। রাতের দিকে কেরানীগঞ্জের একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া শেষে শুভাঢ্যা এলাকায় বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।


এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসা আসামিরা তাদের পথরোধ করে। তারা সঙ্গে থাকা বন্ধুদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে দুই তরুণীকে ‌‘রতনের খামার’ নামে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার ভিডিও ধারণের পাশাপাশি তাদের মোবাইলফোনও নিয়ে যায়।


পরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ।


এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৯ জুন ভুক্তভোগীদের একজনের বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরজিৎ কুমার ঘোষ ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার এ রায় দেন।


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৬ পিএম

রাজধানীর হাজারীবাগের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী মা ও তার সাত মাস বয়সী শিশুকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনায় আপাতত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. সায়েম খান।


তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাত মাস বয়সী শিশুটি আপাতত তার মায়ের সঙ্গেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুনানির সময় কিশোরী মাকে ফেসবুক, টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন মেনে চলতে উভয় পক্ষকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


লিগ্যাল এইড সূত্র জানায়, শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নিয়ে বাবার করা আবেদন বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত লিগ্যাল এইড নয়, বরং পারিবারিক আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই হবে।


সম্প্রতি হাজারীবাগের এই ১৩ বছর বয়সী কিশোরী ও তার সাত মাসের শিশুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর কিশোরীকে ফুসলিয়ে নিয়ে নোটারির মাধ্যমে বিয়ে করা হয়। পরবর্তীতে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং একপর্যায়ে তার সন্তানকে তার কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়।


পরে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডের সহায়তায় শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। শিশুর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইডের উদ্যোগে এ শুনানির আয়োজন করা হয়। তবে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব নির্ধারণের বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


যেভাবে আলোচনায় আসে ঘটনাটি


ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই)। সেদিন ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের নির্দেশে সাত মাস বয়সী শিশুটিকে তার কিশোরী মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। শুনানির সময় লিগ্যাল এইড অফিসে শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে থাকা ১৩ বছর বয়সী মায়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।


ভাইরাল সেই ১৩ বছরের মা, সামনে এল পুরো ঘটনা 



পরিচয় থেকে সংসার


কিশোরীর পরিবারের দাবি, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় টিকটকের মাধ্যমে শাকিল মিয়া (২২) নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই কিশোরীর। পরে তাকে বিভিন্ন সময় বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।


কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, কোনো বৈধ কাবিন ছাড়া নোটারির মাধ্যমে বিয়ের ভুয়া কাগজ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর শিশুটিকে রেখে কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে চলতি বছরের ২০ মে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করে ওই কিশোরী।


আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় চকবাজার থানাকে শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন আদালত। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে।


গত ২৮ জুলাই ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খান শিশুটিকে আপাতত তার কিশোরী মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। শুনানির সময় কোলে সন্তান নিয়ে বসে থাকা ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী মায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।


বর্তমানে সাত মাস বয়সী শিশুটি লিগ্যাল এইডের নির্দেশে তার ১৩ বছর বয়সী মায়ের কাছে রয়েছে। তবে শিশুর স্থায়ী অভিভাবকত্ব, কথিত বিয়ের বৈধতা এবং কিশোরীর পরিবারের আনা অভিযোগ–এসব বিষয়ে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


কিশোরীর বাবা জুয়েল খান বলেন, ওই ছেলে প্রথমবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। পরে মেয়েকে ফিরিয়ে আনলেও আবারও তাকে নিয়ে যায় সে।


‘আমাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল’


ওই কিশোরী বলেন, ‘আমার বয়স তখন মাত্র ১১ বছর। দুই মাসের পরিচয়ের পর শাকিল আমাকে নানা কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সে বলেছিল, দুই পরিবারের কেউ আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবে না, তাই তার সঙ্গে চলে যেতে। এরপর কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে কাজির মাধ্যমে ঘরোয়াভাবে বিয়ে হয়। পরে আদালতে গিয়ে জানতে পারি, নোটারির মাধ্যমে করা ওই কাগজের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তখনই বুঝতে পারি, আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’


এই কিশোরী বলেন, ‘শাকিল ও তার পরিবারের লোকজন আমার মা-বাবাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমার বাবা গাড়ি চালাতেন। তাকেও রাস্তায় পেলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো।’


কিশোরীর অভিযোগ, ‘শাকিলের বাসায় যাওয়ার পর কোনো ভরণপোষণ দেওয়া হতো না। একটি ছোট ঘরে কয়েকটি পরিবার একসঙ্গে থাকত। সেখানে আমার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি একাধিকবার আমাকে হত্যাচেষ্টাও করা হয়েছে। বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।’


ওই কিশোরী আরও বলে, ‘আমার সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর সন্তান রেখে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আমি আমার সন্তান ফিরে পাই। আদালতে যখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল শিশুটি আমার কি না, তখন আমি বলেছি, হ্যাঁ, এটা আমার। এরপর জানতে চাওয়া হয়েছিল, সন্তানকে ফিরে পেয়ে আমি খুশি কি না। আমি বলেছি, আমি অনেক খুশি।’


ওই কিশোরী বলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তান আমার কাছেই থাকুক। আর আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার হোক। যারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং নির্যাতন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’


নির্যাতন, হুমকি ও বিচার চাওয়ার কথা বললেন কিশোরীর বাবা


কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। শাকিলের সঙ্গে ফোনে পরিচয়ের বিষয়টি জানার পর আমি তাদের বলেছিলাম আমার মেয়ে নাবালিকা। কোনোভাবেই বিয়ে দেব না। সে অন্তত এসএসসি পরীক্ষা শেষ করুক, এরপর বসে কথা বলা যাবে। তারা তখন বিষয়টি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কিছুদিন পর আমার অজান্তে মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়।’


তিনি বলেন, মেয়েকে না পেয়ে থানায় জিডি করি। কয়েক দিন পর মেয়েকে ফিরে পেলেও আবার শুটিং স্পট দেখানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে নোটারির মাধ্যমে কথিত বিয়ে করানো হয়। এসব বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।


তার ভাষ্য, মেয়ের গর্ভধারণের বিষয়টি আমরা পরে জানতে পারি। এরপর চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর আমার মেয়ের কাছ থেকে শিশুটিকেও আলাদা করে দেওয়া হয়। মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে, ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয়নি।


তিনি বলেন, আমার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা তার জীবন নষ্ট করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। একই সঙ্গে আমার নাতির ভবিষ্যৎ ও ভরণপোষণের বিষয়েও আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।


স্বামী শাকিলের দাবি


ওই কিশোরীর স্বামী শাকিল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিয়ের সময় মেয়েটির বয়স ২০ বছর উল্লেখ ছিল এবং তিনি স্বেচ্ছায় এসেছিলেন। তিন মাস আগে সে (তার স্ত্রী) বাবার অসুস্থতার কথা বলে সন্তান তার কাছেই রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় সন্তানের কোনো খোঁজ নেয়নি।


শাকিল মিয়া জানান, মেয়েটির বাবা যে জন্মসনদ তাকে দেখিয়েছিলেন সেখানে বয়স ২০ বছর উল্লেখ ছিল। কিন্তু মামলা হওয়ার পর আদালতে গিয়ে তিনি আরেকটি কাগজে মেয়েটির বয়স ১৩ বছর দেখতে পান।


ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শাকিল বলেন, ‘ওই কিশোরী তখন জানিয়েছিল তার বাবা তার জোর করে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছে। তখন অনুরোধ করেছিল যদি তাকে নিয়ে না যাই তাহলে সে আত্মহত্যা করবে।


অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালতে মামলা


শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব চেয়ে ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করেন শাকিল মিয়া। অন্যদিকে কিশোরীর পরিবার বলছে, শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করতেই এ মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি মায়ের জিম্মায় থাকলেও চূড়ান্তভাবে কার হেফাজতে থাকবে, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষ।


ধর্ষণের অভিযোগে নতুন আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি


কিশোরীর পরিবার পুরো ঘটনাকে ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি– নাবালিকা এই মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা হয়েছে।


কিশোরীর আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র জানিয়েছেন, নাবালিকার সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বিচারযোগ্য। তিনি অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।


বিয়ের বয়স নিয়ে কী বলছে আইন

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। নির্ধারিত বয়সের আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আইনসম্মত নয়। আইন অনুযায়ী, উভয় পক্ষের স্বাধীন ও স্বেচ্ছায় সম্মতি ছাড়া কোনো বিয়ে বৈধ হতে পারে না। জোরপূর্বক আদায় করা সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন বিয়েও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।


ঢাকা মহানগর আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এর কম বয়সে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।


তিনি বলেন, শুধু বয়সের শর্ত পূরণ হলেই বিয়ে বৈধ হয় না; উভয় পক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাধীন সম্মতিও আইনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। জোরপূর্বক, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন কোনো বিয়ে আইনি সুরক্ষা পায় না। যদি কোনো নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে, অপহরণ করে বা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, দণ্ডবিধি বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।


তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীর সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


নোটারির মাধ্যমে বিয়ে কি বৈধ?


আইনজীবীদের মতে, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা কোনো অ্যাফিডেভিট মুসলিম বিয়ের বৈধ বিকল্প নয়। মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত কাজি বা নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে কাবিন সম্পন্ন হলেই কেবল সেই বিয়ে আইনগত স্বীকৃতি পায়।


কোর্টের আইনজীবীদের ভাষ্য, নোটারির মাধ্যমে করা তথাকথিত বিয়ের ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রীর কোনো আইনি অধিকার–যেমন দেনমোহর, খোরপোশ বা উত্তরাধিকার দাবি করা যায় না। বয়স গোপন করে এ ধরনের অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের চেষ্টা করলে সেটিও দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।


বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব  বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা কোনো অ্যাফিডেভিট বা ঘোষণাপত্র মুসলিম বিবাহের আইনগত বিকল্প নয়। মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজির মাধ্যমে কাবিন নিবন্ধন সম্পন্ন হলেই কেবল সেই বিয়ে আইনগত স্বীকৃতি পায়।


তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বয়স গোপন করে বা ভুল তথ্য দিয়ে নোটারির মাধ্যমে তথাকথিত বিয়ের দলিল তৈরি করা হয়। কিন্তু এ ধরনের দলিল কোনোভাবেই বৈধ বিয়ের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না এবং এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। ফলে দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার বা বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধে এমন অ্যাফিডেভিটের ভিত্তিতে দাবি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।


তিনি আরও বলেন, যদি কোনো নাবালিকার বয়স গোপন করে নোটারির মাধ্যমে বিয়ের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বিয়ে অবশ্যই আইনসম্মত প্রক্রিয়ায়, নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে এবং প্রকৃত বয়স ও পরিচয় যাচাই করে সম্পন্ন করা উচিত।


১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে আইনের অবস্থান


২০২৬ সালে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে তার সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে।


আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে এবং আপসের সুযোগও অত্যন্ত সীমিত।


বিষয়টি সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, ২০২৬ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আনা সংশোধনের ফলে ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর ক্ষেত্রে আইনের সুরক্ষা আরও জোরদার হয়েছে।


তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে তার সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীর সম্মতির প্রশ্নটি আইনি দায় নির্ধারণে প্রাধান্য পায় না; মূল বিষয় হলো ভুক্তভোগীর বয়স এবং ঘটনার প্রমাণ।


এখন কী হবে


বর্তমানে সাত মাস বয়সী শিশুটি লিগ্যাল এইডের নির্দেশে তার ১৩ বছর বয়সী মায়ের কাছে রয়েছে। তবে শিশুর স্থায়ী অভিভাবকত্ব, কথিত বিয়ের বৈধতা এবং কিশোরীর পরিবারের আনা অভিযোগ–এসব বিষয়ে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুবের মতে, বর্তমানে শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হলেও এটি চূড়ান্ত অভিভাবকত্বের সিদ্ধান্ত নয়।


তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে দেওয়া এমন ব্যবস্থা সাধারণত তাৎক্ষণিক সুরক্ষা ও শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে শিশুর অভিভাবকত্ব, কথিত বিয়ের বৈধতা, নাবালিকার বয়স এবং সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ–এসব বিষয় পৃথক আইনি কাঠামোর আওতায় বিচার হবে। যদি আদালতে প্রমাণিত হয় যে কিশোরী নাবালিকা ছিল এবং বয়স গোপন করে বা বেআইনি উপায়ে বিয়ের চেষ্টা করা হয়েছে, তাহলে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পারিবারিক আদালত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্থায়ী হেফাজত বা অভিভাবকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।


তিনি আরও বলেন, একটি মামলার ফলাফল অন্য মামলার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না। তাই ফৌজদারি অভিযোগ, বিয়ের বৈধতা এবং শিশুর হেফাজত–প্রতিটি বিষয় আদালত আলাদাভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন।