ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। 


একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।


আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।


এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। 


এর মধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।


আজ বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।


তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।


আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 


আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।


এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট।


বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন।


একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭- এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় রুল দেন। আজ রুল খারিজ করলেন হাইকোর্টের নতুন এ বেঞ্চ। রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর।

সর্বশেষ সব খবর

৪১ ‘স্লিপার’ বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত

সিঙ্গেল থেকে ডাবল-ডেকারে রূপান্তর


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

দেশে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের কোনো রেজিস্ট্রেশন না দেওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গেল-ডেকার বাস কিনে পরবর্তীতে অবৈধভাবে বডি রূপান্তর করে ডাবল-ডেকার স্লিপার হিসেবে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরকম রূপান্তর করা ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।


হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে বিআরটিএ গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিআরটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি সম্প্রতি প্রতিবেদনটি জমা দেয়।


অননুমোদিত স্লিপার এসি বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে ২০২৫ সালে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। এ রিটের শুনানি নিয়ে একই সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে রিটকারী আরেকটি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছিলেন। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত স্লিপার বাস নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করতে বলেছিলেন। বিআরটিএ আদেশ রিসিভ করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। এরপর টেকনিক্যাল কমিটি রিপোর্ট দেন।


বিআরটিএ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে সদস্য হলেন উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ. এস. এম কামরুল হাসান। আর সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মঈনুল ইসলাম।


এ কমিটি বিআরটিএ থেকে অনুমোদিত মোট ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের সংখ্যা নির্ধারণ; অননুমোদিত স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা পর্যালোচনা; এবং অনুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস থাকলে আগামী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে কাজ করে।


এরপর কমিটি ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন; বর্তমান অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা; এবং উন্নত দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি জাতীয় গাইডলাইন/নীতিমালা প্রণয়ন, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা করে।


পর্যালোচনা শেষে কমিটির মতামতে বলা হয়, বিআরটিএ থেকে কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয়নি। তবে বিআরটিএর ডাটাবেজ পর্যালোচনা করে ডাবল-ডেকার (স্লিপার নয়) হিসেবে অদ্যাবধি ৮২৯টি বাসের রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া যায়।


অননুমোদিত স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে মতামতে বলা হয়, বিআরটিএ থেকে সিঙ্গেল-ডেকার বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক বাসের মালিক মোটরযানের বডির ধরন ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে রূপান্তর করে রাস্তায় চলাচলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা হয়।


পাশাপাশি, বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সড়কে চলাচলরত ৩টি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিআরটিএ সময়ে সময়ে সড়কে চলাচলরত অননুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে।


অনুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের নিরাপত্তা নিয়ে মতামতে বলা হয়, বর্তমানে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের কোনো গাইডলাইন/নীতিমালা না থাকায় বিআরটিএ থেকে এরূপ মোটরযানের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় না। অনুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস বিদ্যমান না থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।


সার্বিক পর্যালোচনায় কমিটি বলে, বিআরটিএ থেকে অদ্যাবধি কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। বিআরটিএ থেকে সিঙ্গেল-ডেকার বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করে পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক বাসের মালিক বাসের বডির ধরন ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে রূপান্তর করে। বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকৃত এরূপ বাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


পাশাপাশি, মালিক কর্তৃক যেসব বাসের বডির ধরন ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে রূপান্তর করে বিআরটিএতে ফিটনেস নবায়ন করতে আসে, সেসব ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের ফিটনেস নবায়ন না করে উক্ত মোটরযানসমূহের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সড়কে চলাচলরত এরূপ অননুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের রুট পারমিট প্রদান করা হয় না।


পর্যালোচনায় আরও বলা হয়, বর্তমানে সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ ও সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ মোতাবেক শুধুমাত্র সিঙ্গেল-ডেকার বাসের অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হচ্ছে। তাই বর্তমান অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি; এবং উন্নত দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি জাতীয় গাইডলাইন/নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা মেনে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোই কেবল রাস্তায় চলতে পারবে। অনুমোদনহীন বা আইনবহির্ভূত চলা বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই।


বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। রিটকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খানও শুনানিতে ছিলেন।


যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট মামলা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম খান।


ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ হাই কোর্টে আরেকটি রিট আবেদন করে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান বাস ডাম্পিং, জব্দ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।


রিট আবেদনে মালিক সমিতি বলেছে, ৮৯টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে প্রায় এক হাজার স্লিপার এসি বাস পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের জীবিকা জড়িত।


আবেদনে আরো বলা হয়, বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন বা বিধিমালায় স্লিপার বাসের কাঠামো ও নকশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নেই। বাসগুলোর অনুমোদনের লক্ষ্যে বিআরটিএ একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে এবং বুয়েটের মাধ্যমে বাসগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও এআইএস-১১৯ মানদণ্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।


এই নীতি ও কারিগরি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট থাকা বাসগুলোর চলাচল নিশ্চিত করতে বিআরটিএর গত ১১ অগাস্ট জারি করা একটি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়।


তবে শুনানি শেষে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি হাই কোর্ট।


বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, “স্লিপার বাসের কোনো নিবন্ধনই বিআরটিএ দেয়নি। ফলে আদালত স্লিপার বাস চলাচলের বিষয়ে কোনো অনুমতিও দেননি।”


তিনি বলেন, “স্লিপার বাস সম্পর্কে যেহেতু বিআরটিএ কোনো রেজিস্ট্রেশনও প্রদান করেনি, সেহেতু এগুলো চলাচলের সম্পর্কে কোনো আদেশ বিজ্ঞ আদালত প্রদান করেননি।”


রাফিউল ইসলাম বলেন, “সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। আর রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি চললে ওই আইনের ৮৪ ধারায় শাস্তি ও তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।”


অবৈধ স্লিপার বাস বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে কিছু বাস ডাম্পিং ও জব্দ করা হয়েছেএবং কয়েকটি বাসকে জরিমানা করা হয়েছে।


এদিকে রিটকারী আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান বলেন, তথ্য অধিকার আইনে বিআরটিএর কাছে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে বিআরটিএ জানিয়েছে, স্লিপার বাস চলাচলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।


স্লিপার বাসে ভ্রমণের সময় বিভিন্ন অনিয়ম নজরে আসার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে ভাষ্য আইনজীবী হুজ্জাতুলের।


তিনি বলেন, স্লিপার বাস চলাচল বন্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবেন।

সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫২ পিএম

ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত আগে জারি করা রুল খারিজ করে বুধবার এ রায় দেন বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।


আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। 


তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আগে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ থাকছে না।


রিট সূত্রে জানা যায়, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা পালনের কারণে ছবি না তুলে বিকল্প পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিতে ২০২২ সালে রিটটি করা হয়। রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা রিট আবেদনটি করেন। তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে এ বিষয়ে প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা দেওয়া হয়।


এর আগে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন সুমাইয়া। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম নারী। ধর্মীয় বিধান অনুসরণের কারণে তিনি ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। 


এ কারণে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এবং পরিচয়পত্র না থাকায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় এনআইডি দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেন তিনি।


আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরে হাইকোর্টে রিট করেন সুমাইয়া। রিটের শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় বা বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। বুধবার সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সর্বশেষ সব খবর

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২২ পিএম

তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।


শুনানির একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে।


এ মন্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী পাল্টা প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে চলে যান।


 প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে সংসদে আলোচনা


পরে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ এজলাস ছেড়ে চলে গেছেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘শুনানির একপর্যায়ে আমি প্রধান বিচারপতিকে বলি, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। এ কথা বলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার তর্ক হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুপুরে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।’


 কেন এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি, কী ঘটেছিল

সর্বশেষ সব খবর

বিদিশা সিদ্দিক

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২১ পিএম

প্রতারণার এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিদিশার করা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনের এই আদেশ দেন।


আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফজলুর রহমান খান ও মাসুদ মিয়া।


পরে আইনজীবী মাসুদ মিয়া জানান, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। তাই হাইকোর্টের আদেশের পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই।


প্রতারণা মামলায় গত ২৬ আগস্ট বিদিশাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।


এর আগে এই মামলায় তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।


ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের একজন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।

সর্বশেষ সব খবর