হাইকোর্ট ভবন। ছবি : সংগৃহীত
বিচার বিভাগের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্পের এবং অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রক্কলিত ব্যয় পৃথকভাবে ১০০ কোটি টাকা হলে তার অনুমোদন দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি। সরকার সময়ে সময়ে, সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আর্থিক সীমা মুদ্রাস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে বা অন্য কোনো উপযুক্ত কারণে বৃদ্ধি করতে পারবে। আর্থিক পরিমাণ এর চেয়ে বেশি হলে তার অনুমোদন নিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর নিকট পাঠাতে হবে। এমন বিধানসহ অধস্তন আদালতের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত করে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর আগে গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অধস্তন আদালতের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
অধ্যাদেশের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রান্ত উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প চূড়ান্ত নিরীক্ষা ও সুপারিশ করার লক্ষ্যে ৮ সদস্যের একটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠিত হবে। এই পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। কমিটি প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে এর কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার মধ্যে থাকলে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করবেন এবং এর ওপরে হলে তা অনুমোদনের জন্য সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর নিকট সরাসরি প্রেরণ করা হবে। প্রকল্প গ্রহণ, প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিবের নেতৃত্বে প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা, ২০২২’ অনুসরণ করবে। প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত প্রকল্প চূড়ান্ত নিরীক্ষা ও সুপারিশের জন্য পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির নিকট প্রেরণ করবে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত স্কিমের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার মধ্যে থাকলে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করবেন এবং এর ঊর্ধ্বে হলে এইরূপ স্কিম অনুমোদনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হবে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সুপারিশক্রমে প্রধান বিচারপতি উক্ত ধারার অধীন গৃহীত বা বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, বিনিয়োগ প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, কারিগরি প্রকল্প, সংশোধিত বিনিয়োগ প্রকল্প, সংশোধিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ও সংশোধিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প এবং প্রকল্পের আন্তঃঅঙ্গ ব্যয় সমন্বয়সহ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বরাদ্দ ব্যবহার সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুমোদন করবেন।
অধ্যাদেশের ১১ ধারায় বাজেট ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রত্যেক অর্থবছরের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যপরিধিভুক্ত আদালত, প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের জন্য অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি এবং সুপ্রিম কোর্টের জন্য অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি উক্ত অর্থ-বৎসর শুরু হওয়ার অন্তত ৩ (তিন) মাস পূর্বে প্রস্তুত করবে। এই বিবৃতিতে সুপ্রীম কোর্ট ও বিচার কর্ম-বিভাগে নিযুক্ত বিচারক, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে প্রদেয় বেতন ও ভাতাদি এবং দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় এবং সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, তৎসংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, কমিশন, ইনস্টিটিউট, একাডেমি প্রভৃতির আবর্তক ও উন্নয়ন ব্যয়, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রধান বিচারপতি উক্ত বিবৃতি সরকারের আর্থিক বিবৃতির সাথে সংযুক্ত করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করবেন। সরকারের বাজেট প্রণয়নের সুবিধার্থে কৌশলগত পর্যায়ের শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমার প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ সরকারের নিকট প্রেরণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ পুনঃউপযোজনের সব ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির থাকবে।
অধ্যাদেশের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ২২, ১০৯ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নামে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির উপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব ওই সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হবেন।
অধ্যাদেশের ৫ ধারায় এই সচিবালয়ের কার্যাবলী সম্পর্ক-এ বলা হয়েছে, দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা প্রদান করার জন্য অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন; অধস্তন আদালতের প্রতিষ্ঠা বা বিলোপ, সংখ্যা, গঠন ও এখতিয়ার নির্ধারণ; অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক, বা ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ ও নিয়োগ; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদ সৃজন, বিলোপ, বিন্যাস, নিয়োগ, কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা, ছুটি, প্রশাসন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়; সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের পদ সৃজন, বিলোপ ও বিন্যাস; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হালনাগাদকরণ; অধস্তন আদালতের পদ সৃজন সংক্রান্ত বিষয়াদিতে সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালায় বর্ণিত কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক ও অন্যান্য সহায়তা; বিচার কর্মে নিয়োজিত সার্ভীস সদস্যদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটি সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্যান্য অনুষঙ্গিক বিষয়। সার্ভিস সদস্যগণের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনা, সুপ্রিমকোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর-এ প্রতিষ্ঠানসমূয়ের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; প্রধান বিচারপতির এবং সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও উক্ত আদালতগুলোর বিচারকদের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান; সার্ভিস সদস্যগণের এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের শিক্ষা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষন ও এতদসংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
জুডিসিয়াল সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে অধ্যাদেশের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হবে। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কার্যাদি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শের জন্য উপস্থাপিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান করলেও, আইন ও বিচার বিভাগ ও এর কার্যপরিধিতে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং অন্য কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের দপ্তরে সার্ভিস সদস্যদের পদায়ন বা বদলি সংক্রান্ত কার্যাদি এতদুদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে, সম্পাদিত হবে।
অধ্যাদেশ জারির উদ্দেশ্য সম্পর্ক-এ বলা হয়েছে, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ। যেহেতু সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে; যেহেতু সংবিধানের ১০৯ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা পালনের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক এবং এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তগুলো সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; যেহেতু আপিল বিভাগের ৭৯/১৯৯৯ নম্বর সিভিল আপিলের রায় বাস্তবায়নের জন্য নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ বাস্তবায়নকল্পে বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে; এবং যেহেতু সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট এটা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে; সেহেতু সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।
উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিতকরণে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তরুণীকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে নিখোঁজ হওয়ার দিন ওই তরুণীকে (১৯) তাহসিফ সাউরির সঙ্গে রাজধানীর একটি এলাকায় দেখা গিয়েছিল।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ–পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তরুণীকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। পরে তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যায়। এরপর তাঁরা আরও কয়েক জায়গায় যান। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনে কথা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য ওই তরুণীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় গত শুক্রবার রাতে হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
হাইকোর্ট
হাইকোর্ট বিভাগের ১২টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ২ হাজার ৩৫৪টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে মোট ৬২ হাজার ৮০২টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৯ হাজার ৭০৯টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবং রিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মাহবুব-উল আলম হানিফ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলার অন্য তিন আসামি—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, গত ৭ অক্টোবর দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
গত বছরের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় করা মামলায় তার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডলকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামুন দীর্ঘদিন ধরে মান্নার পরিবারের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। এটি নিছক দুর্ঘটনা। আদালতে জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
গত ২৬ অক্টোবর মামুন মণ্ডল (২৯) ও গাড়ির টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারীকে (৩৭) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. ইয়াউর রহমান। আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বুধবার শুনানি শেষে মামুনের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী সেলির নামে নিবন্ধিত ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫ নম্বরের একটি প্রাইভেট কার। গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নিতে মালিককে অনুরোধ করেন ভবন কর্তৃপক্ষ।
পরে গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার জন্য ম্যানেজার মামুনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে গত ২৬ অক্টোবর গ্যারেজেই মামুন ও টেকনিশিয়ান সোহেল গাড়িটির মেরামতের কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাচও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ভবনের ম্যানেজার মো. গাজি মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
আবাসিক এলাকায় প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার স্মৃতিবিজড়িত একটি গাড়ি মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগের মামলায় দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন- মান্নার পরিবারের ম্যানেজার মো. মামুন মণ্ডল (২৯) ও গাড়ির টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)। এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লাগে। আসামিদের একজন গাড়ির মালিকের পরিবারের ম্যানেজার, অন্যজন টেকনিশিয়ান। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য কাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামির আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।’
আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান বলেন, চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি তার স্ত্রী শেলী মান্নার তত্ত্বাবধানে ছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজ রয়েছে। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া সেলির (চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী) ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-০৭৭৫ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে ছিল। গাড়িটির নিচে তেলের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়ির কর্তৃপক্ষ গাড়ির মালিককে অনুরোধ করে।
এরপর গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বের করে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের ম্যানেজার মামুনকে নির্দেশ দেন মালিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর মামুন ও সোহেল গাড়িটি মেরামত করতে গ্যারেজে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাদের গ্যারেজের বাইরে গিয়ে কাজ করার কথা বললেও তারা ভেতরেই মেরামতকাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের আরেকটি প্রাইভেটকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গ্যারেজ, বিদ্যুতের তার, সিসিটিভি ক্যামেরা, গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানের কাচও ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় বাড়ির ম্যানেজার মো. গাজী মানিক মিয়া ভাটারা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাত আসামি। ছবি: সংগৃহীত