সন্তানের প্রতি অভিভাবকের ভালোবাসা হতে হবে নিঃশর্ত।
শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠন হয় তাদের শৈশব থেকেই। এই সময়ে তাদের আচরণ, মনোভাব এবং আচরণগত প্রবণতাগুলি একে অপরকে প্রভাবিত করে এবং তাদের ভবিষ্যত জীবনে একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করে।
তবে কখনও কখনও, শিশুদের মধ্যে এমন কিছু আচরণ লক্ষ্য করা যায় যা ভবিষ্যতে তাদের Narcissistic Personality Disorder (NPD) বা ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’-এর লক্ষণ হতে পারে। এই মানসিক অবস্থা শিশুদের আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তে তাদের অহংকার এবং স্বার্থপরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের সম্পর্ক এবং সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।
যে পাঁচ পরিবেশ শিশুকে নার্সিসিস্টিক করতে পারে তার সম্পর্কে জেনে নেই-
১. অতিরিক্ত প্রশংসায় বেড়ে ওঠা শিশু
আমাদের সমাজে অনেক পরিবারে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা শুরুই হয় তুলনা দিয়ে। যেমন ‘আমার ছেলেটা ক্লাসে ফার্স্ট’, ‘আমার বাচ্চা অনন্য, প্রতিভাবান’। এ কথাগুলো আদরের প্রকাশ মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে একধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রশংসা। এখানে শিশুকে ভালোবাসা হয় না তার চেষ্টা, সততা বা শেখার আগ্রহের জন্য। তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তখনই, যখন সে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে। এই পরিবেশে বড় হওয়া শিশুটি ভাবে, ভুল করা মানেই সে খারাপ।
তাই পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া, খেলায় হেরে যাওয়া বা অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়া তার কাছে শেখার বিষয় নয়; বরং লজ্জা ও অপমানের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। কারণ, ছোটবেলা থেকেই তাকে শেখানো হয়েছে—সে তখনই শুধু মূল্যবান, যখন সে সবার চেয়ে ভালো বা আলাদা হয়। এই পরিবেশ থেকে সাধারণত তৈরি হয়—
• অতিরিক্ত আত্মগৌরব।
• সবকিছুকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখার মানসিকতা।
• অন্যকে ছোট করে দেখার প্রবণতা।
• ভঙ্গুর আত্মসম্মান।
আর এভাবেই ধীরে ধীরে একটি শিশু নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।
২. অবমূল্যায়িত শিশু
এই পরিবেশ আগের পরিবেশের ঠিক উল্টো, কিন্তু ফলাফল প্রায় একই। অনেক পরিবারই শাসন ও অনুপ্রেরণার পার্থক্যটাকে গুলিয়ে ফেলে। তারা সন্তানের সাফল্যকে স্বাভাবিক ধরে নেয়, কিন্তু ব্যর্থতাকে বড় করে দেখে। তাদের আদেশ হলো, ভালো ফল করতেই হবে। আর খারাপ ফল করলে বকাঝকা ও তুলনা করা হয়।
এই পরিবেশে বড় হওয়া শিশুটি ধীরে ধীরে শিখে ফেলে—তার সাফল্যের কোনো মূল্য নেই। তার অনুভূতিগুলো গুরুত্ব পায় না।তাকে কোনো বিষয়ে প্রশংসা করা হয় না।ভালোবাসা পাওয়া যায় শুধু শর্ত পূরণ করলে।ফলে শিশুটির ভেতরে তৈরি হয় একধরনের গভীর শূন্যতা, যা কেউ দেখে না, কিন্তু সে প্রতিদিন বয়ে বেড়ায়। সে বুঝে যায়, যেমন আছে, তেমন থাকলে তাকে গ্রহণ করা হবে না।
তাই বাঁচতে গিয়ে সে গড়ে তোলে এক মিথ্যা সত্তা। এসব সত্তা হলো সব সময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা, সব সময় অন্যদের চোখে শ্রেষ্ঠ দেখানোর চেষ্টা ইত্যাদি।বড় হয়ে এই শিশুরাই অনেক সময় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জোর করে প্রমাণ করতে চায়, ভুল হওয়ার ভয় থেকে চরম পারফেকশনিজমে ভোগে, বাইরের স্বীকৃতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, সামান্য সমালোচনাতেও গভীরভাবে আহত হয়। আর ধীরে ধীরে আবেগের জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। সে ধীরে ধীরে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।
৩. প্যারেন্টিফায়েড শিশু
প্যারেন্টিফায়েড বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা, যেখানে একটি শিশুকে তার বয়সের আগেই বড়দের ভূমিকা নিতে বাধ্য করা হয়। অনেক পরিবারে কিছু শিশু খুব অল্প বয়সেই আর শিশু থাকে না। সংসারের চাপ, দাম্পত্য অশান্তি, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কিংবা আবেগগত সমস্যা—এসবের ভার পড়ে তার কাঁধে। মা-বাবা নিজেদের দুঃখ ভাগ করেন, রাগ-হতাশা উগরে দেন। তখন শিশুটি হয়ে ওঠে তাঁদের আবেগ সামলানোর আশ্রয়।হঠাৎ করেই শিশুটি বড় হয়ে ওঠে। এই শিশুকে মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে হয়, তাঁদের মন বুঝতে হয়, সংসারে মানিয়ে নিতে হয়। ধীরে ধীরে সে শিখে ফেলে, তার নিজের অনুভূতিগুলো বিরক্তিকর ও অপ্রয়োজনীয়।
ভালোবাসা পেতে হলে তাকে কাজে লাগতে হবে, প্রয়োজনীয় হতে হবে। শিশু হওয়ার স্বাভাবিক সুযোগ না পেয়ে সে খুব দ্রুতই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো প্রতিরক্ষাকৌশল রপ্ত করে ফেলে। বাইরে থেকে তাকে শান্ত, দায়িত্বশীল, ‘ভালো সন্তান’ মনে হলেও ভেতরে–ভেতরে জমতে থাকে অপূর্ণ চাহিদা আর চাপা ক্ষোভ।এই পরিবেশে বড় হওয়া মানুষদের মধ্যে প্রায়ই গোপন নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে দমিয়ে রাখা চাহিদা, মানিয়ে চলার আড়ালে জমে থাকা গভীর ক্ষোভ। এদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো পরিত্যক্ত হওয়া। কারণ, তারা শিখেছে যে ভালোবাসা নিঃশর্ত নয়। তা অর্জন করতে হয় সেবা দিয়ে, বোঝা বইয়ে। আর এভাবেই তারা ধীরে ধীরে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।
৪. ‘মিনি-মি’ শিশু
অনেক পরিবারে সন্তানকে দেখা হয় ‘মিনি-মি’ শিশু হিসেবে। অর্থাৎ শিশুটি ধরা হয় মা-বাবার অপূর্ণ স্বপ্নের ধারক হিসেবে। যেসব স্বপ্ন তাঁরা নিজেরা পূরণ করতে পারেননি, সেসবের ভার নিঃশব্দে এসে পড়ে সন্তানের কাঁধে। ভালো ফল, নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, খেলাধুলায় সাফল্য কিংবা সামাজিকভাবে ‘ভালো পরিবার’-এর নিখুঁত ছবি—এসব প্রত্যাশা মিলিয়ে শিশুটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে পরিবারের সম্মান, গর্ব আর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
এই পরিবেশে শিশুর নিজের ইচ্ছা, ঝোঁক বা স্বভাবের খুব একটা জায়গা থাকে না। সে দ্রুত শিখে নেয়, স্বাধীনভাবে কিছু ভাবা বা আলাদা কিছু হতে চাওয়া মানেই সমালোচনার মুখে পড়া। তার পরিচয় নির্ধারিত হয় আরোপিত; আর ভালোবাসা পাওয়া যায় কেবল তখনই, যখন সে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারে। ফলে বড় হতে হতে শিশুটি বিশ্বাস করতে শুরু করে, তার মূল্য নির্ভর করছে সে কতটা ভালোভাবে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করতে পারছে, তার ওপর। প্রশংসা না পেলে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলে, ব্যর্থতা তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।
এই পরিবেশে বড় হওয়া মানুষেরা প্রায়ই ইমেজ ধরে রাখতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করে। কারও সঙ্গে সম্পর্কও গড়ে হিসাব করে। অর্থাৎ কে কী দেবে, কে কীভাবে দেখবে, তার ওপর। এভাবেই তারা ধীরে ধীরে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।
৫. সহায়তাবিহীন নিউরোডাইভারজেন্ট শিশু
সমাজে এখনো ‘ভিন্নভাবে কাজ করা’ বা ‘ভিন্নভাবে শেখা’কে খুব সহজে গ্রহণ করা হয় না। যে শিশু একটু বেশি অস্থির, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, অতিরিক্ত চিন্তাগ্রস্ত, আবেগে সহজে ভেঙে পড়ে বা পড়াশোনায় অন্যদের মতো দ্রুত এগোতে পারে না, তাকে প্রায়ই একটি কথাই শুনতে হয়—‘এত নাটক কোরো না, স্বাভাবিক হও।
’শিশুটি হয়তো এডিএইচডি, এএসডি, উদ্বেগ, আবেগগত অসামঞ্জস্য বা শেখার ভিন্নতা নিয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু পরিবার ও পরিবেশ যদি সেটাকে সমস্যা হিসেবে না দেখে কিংবা ‘সময় হলে ঠিক হয়ে যাবে’ বলে এড়িয়ে যায়, তাহলে শিশুটির জন্য প্রতিদিনের জীবন হয়ে ওঠে এক নীরব সংগ্রাম। স্কুলে সে বোঝে না কেন বারবার ভুল হয়, কেন শিক্ষক বিরক্ত হন, কেন সহপাঠীরা দূরে সরে যায়। বাড়িতে সে দেখে, তার কষ্টগুলো গুরুত্ব পায় না।
ধীরে ধীরে শিশুটি নিজের ভেতরে কিছু প্রশ্ন জমিয়ে রাখে—সবাই যেটা সহজে পারে, সেটা আমার কাছে এত কঠিন কেন? কেউ কেন আমাকে বুঝতে চায় না? আমার কি সত্যিই কোনো সমস্যা আছে?এই দীর্ঘদিনের প্রত্যাখ্যান আর লজ্জা শিশুটিকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। বাঁচতে গিয়ে সে নিজের মতো করে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। কেউ ‘দুর্বল’ বলার আগেই সে নিজের দুর্বলতা অস্বীকার করে। লজ্জা থেকে বাঁচতে অন্যকে দোষ দেয়, অনুভূতিকে নিস্তেজ করে ফেলে।
কেউ কেউ পড়াশোনা, কাজ বা কোনো এক ধরনের প্রতিভায় অতিরিক্ত সাফল্যের পেছনে ছোটে, যেন বারবার প্রমাণ করতে পারে ‘আমিও কম যাই না’।এই প্রমাণের চাপ থেকেই তারা ধীরে ধীরে নিজের মূল্যকে শুধু সাফল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শেখে, আর সেখান থেকেই নার্সিসিস্টিক প্রবণতা তৈরি হতে থাকে।
মশা তাড়ানোর স্প্রে
মশার যন্ত্রণায় প্রায় মানুষই অতিষ্ঠ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহী রোগের শঙ্কায় অধিকাংশ মানুষই সতর্ক থাকেন। এ কারণে বাসা-বাড়ি থেকে মশা দূর করার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রচলিত উপায়গুলোয় ভরসা রাখতে দেখা যায় মানুষজনকে। এর কিছু ওষুধ অবশ্য সত্যিই মশার কামড়ের ঝুঁকি কমায়।
মশার কামড়ের ঝুঁকি কমলেও সেসবের ব্যবহার এবং মানুষের ওপর প্রভাব কিন্তু এক হয় না। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, মশা তাড়ানোর যে কয়েল, ভেপোরাইজার ও স্প্রে, তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যা মশা তাড়ায় বা মেরে ফেলে। তবে তা উপযুক্ত পরিস্থিতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োগ করা হলে সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয় না।
মশার কয়েল
মশা দূর করার জন্য জ্বালানো কয়েল থেকে ধোঁয়া ছড়ায়, যা চোখ, নাক ও গলার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে বদ্ধ বাসা-বাড়ি বা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে এমন অস্বস্তিকর অনুভব হতে পারে।
তবে তা হাঁপানি রোগী, অ্যালার্জি বা ফুসফুস সম্পর্কিত অন্যান্য রোগীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা নিরাপদে ব্যবহারের জন্য ঘরে কিছুটা বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। আর কয়েলটি যেন সরাসরি মাথার পাশে বা কোনো ছোট শিশুর কাছে রাখা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ চিকিৎসকের।
ভেপোরাইজার
ভেপোরাইজার থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর রাসায়নিক ধীরে ধীরে বের হতে থাকে। ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, এসব বাসা-বাড়ির ভেতরে ব্যবহার করা যায়। তবে পণ্যের সঙ্গে থাকা নির্দেশনাবলী অনুসরণ করতে হবে এবং কক্ষটি যেন ভালোভাবে বায়ু চলাচলযুক্ত থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ডাক্তার সতর্ক করে বলেন, ছোট শিশু ও পোষা প্রাণীদের ভেপোরাইজারের কাছে রাখা উচিত নয়।
মশা তাড়ানোর স্প্রে
ডা. চিরাগ ট্যান্ডন উল্লেখ করেছেন, ঘরে মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহার করা হলে তা স্বল্প সময়ের জন্য সহায়ক। তবে এর বাইরে থাকলে ব্যক্তিগত স্প্রে ব্যবহার করা উচিত। তার মতে-স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনা মানা না হলে বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত স্প্রে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হতে পারে।
তবে কোনো ক্ষত বা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকে এমন পণ্য প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
যা মনে রাখা উচিত
ডা. চিরাগ ট্যান্ডনের মতে, মশা তাড়ানোর পণ্যগুলোর মূল সমস্যা হচ্ছে এর প্রয়োগ প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। নির্দেশিত পরিমাণ প্রয়োগ করার পর, অতিরিক্ত ব্যবহার করা হলে কোনো বাড়তি উপকার পাওয়া যায় না। বরং রাসায়নিক সংস্পর্শ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো বিকল্প উপায় না থাকলে বা নির্দেশাবলীতে বিকল্প উল্লেখ না থাকলে, অতিরিক্ত বা অন্যসব পণ্য মেশানো থেকে বিরত থাকুন। কোনো পণ্যের কারণে দীর্ঘ সময় শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বায়ু চলাচলযুক্ত পরিবেশে থাকতে হবে। এরপরও সমস্যার প্রতিকার না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গাউনটির নাম রাখা হয়েছে ‘লেয়ার্স অব লাইফ’
সুন্দরী প্রতিযোগিতার গাউন সাধারণত সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার জন্যই ডিজাইন করা হয়। ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় এবার ১১১টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি পর্বে মিস ওয়ার্ল্ড উগান্ডা ত্রিভিয়া এল মুহোজা যে পোশাক পরেছেন, তা নজর কেড়েছে দর্শকমহলে। ‘ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড’ পর্বের জন্য তৈরি এ পোশাকের নকশার অনুপ্রেরণা মূলত সি সেকশন বা সিজারিয়ান সেকশন। এ গাউনে তুলে ধরা হয়েছে নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার শারীরিক জটিল প্রক্রিয়াটি।
‘লেয়ার্স অব লাইফ’ গাউনটি ডিজাইন করেছেন উগান্ডার ডিজাইনার কিশা আবদুল্লাহ। সি সেকশন–প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শরীরের বিভিন্ন স্তর ও জটিল দিকগুলো তুলে ধরতেই এ ভাবনা। নতুন মা হিসেবে কিশা বিষয়টিকে অন্তর দিয়ে অনুভব করেছিলেন। গাউনের ডিজাইন নিয়ে ভাবতে গিয়ে তাই নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে কিশা আবদুল্লাহ জানান, এ আইডিয়ার সূচনা হয়েছিল একটি সাধারণ কিন্তু ভিন্নধর্মী চিন্তা থেকে। সন্তান জন্মদানের প্রতিটি স্তরকে হাইফ্যাশনে রূপ দেওয়ার ভাবনা কাজ করছিল।
কিশা বলেন, ‘সন্তানের জন্মের সময় মায়ের সি সেকশনের মধ্য দিয়ে যেতে হলে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, সেটি খুবই কঠিন। একটি একটি করে এত স্তর কেটে একটি শিশুর জন্ম দেওয়ার ভাবনাটি কত্যুর গাউনে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। আর তাই গাউনটির নাম রাখা হয় “লেয়ার্স অব লাইফ”।’
মিস উগান্ডার জন্য যখন কিশা ও তাঁর দলকে গাউন ডিজাইনের সুযোগ দেওয়া হয়, কিশা তখন একদম আনকোরা, মৌলিক ও গভীর অনুপ্রেরণাদায়ী কিছু একটা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটিকে সরাসরি না দেখিয়ে, তিনি বিষয়টিকে ফ্যাশনের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
সে ভাবনা থেকেই একাধিক স্তর ও রঙে এই ওমব্রে গাউন (একেক স্তরে একেক রঙের কাপড় দিয়ে বানানো গাউন) বানানো হয়। পোশাকের প্রতিটি উপাদানই দারুণ ভূমিকা রেখেছে পৃথিবীতে একটি নতুন প্রাণ আনার গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে।
ডিজাইনার জানিয়েছেন, সি সেকশনের যে সাতটি স্তর ছবির মাধ্যমে আমরা দেখে থাকি, সেটাকেই গাউনের ওপর দেখাতে চেয়েছি। এমন করে অস্ত্রোপচারের জটিলতাকে ফ্যাশনের মাধ্যমে শিল্পরূপ দেওয়া নিয়ে ফ্যাশনবোদ্ধাদের তুমুল করতালি পাচ্ছেন কিশা।
প্রথমে একটি সাধারণ স্কেচের মাধ্যমে মিস উগান্ডার সঙ্গে ভাবনাটি শেয়ার করেন ডিজাইনার। তাঁর প্রাথমিক অনুমতির পরই কাগজ-কলমের এ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবনাকে পরিধানযোগ্য পোশাকে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়।
পোশাকে রঙের বিন্যাস ঠিক করাটা ছিল সবচেয়ে কঠিন ধাপ। প্রতিটি রঙের অনেক শেড কাপড়ে সহজলভ্য, ফলে পুরো দলকে একদম জুতসই রং বেছে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
যে ভাবনা থেকে গাউনটি বানিয়েছেন, সেটি যে এত মানুষকে ছুঁয়ে গেছে, এতেই কিশার ভালো লাগছে। সৃজনশীল ভাবনা যখন মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে, সেখানেই শিল্পীর সার্থকতা বলে মনে করেন তিনি। কিশা এ-ও মনে করেন, সি সেকশনের মতো একটি জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হলে মায়েদের কষ্ট কিছুটা হলেও অনুভব করার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: পিপলস, হিন্দুস্তান টাইমস ও খালিজ টাইমস
ছবি : সংগৃহীত
ভাত সবসময় ঝরঝরে হয় না। বেশি পানি দেওয়ার কারণে কিংবা বেশি সময় ধরে সেদ্ধ করার কারণে ভাত গলে যায়। রান্না করা ভাত গলে কাদা কাদা হয়ে গেলে তা খাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে চারটি ছোট কৌশল কাজে আসতে পারে।
পাউরুটির ব্যবহার
প্রথমে ভাতের মাড় গেলে নিন। এক ফোঁটাও যেন পানি না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এবার ভাত সমেত হাঁড়ি গ্যাসের উপর চাপান। তার উপর এক টুকরো পাউরুটি রেখে দিন। ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ২ থেকে ৪ মিনিট রাখুন। এরপরে গ্যাস বন্ধ করে আরো ৫ মিনিট রেখে দিন। পাউরুটি অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও পানি শুষে নেবে।
পাত্রে ছড়িয়ে দিন
ভাত বেশি সেদ্ধ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস বন্ধ করে দিন। একটি বড় পাত্রে সব ভাত ছড়িয়ে দিন। এ পর্যায়ে ঘরের ফ্যান চালু করুন। এতে ভাতের মধ্যে জমে থাকা বাষ্প দ্রুত বেরিয়ে যাবে। দেখবেন ভাত আর বেশি নরম নেই।
ওভেনে গরম করে নিন
খোলা হাওয়ায় শুকনো করার পরেও যদি ভাত খুব নরম থাকে, তাহলে মাইক্রোওভেনে গরম করে নিন। প্রথমে ওভেনটা ৩০০° ফারেনহাইটে প্রি-হিট করে নিন। ট্রে-তে ভাত ছড়িয়ে তা ৫-১০ মিনিটের জন্য বেক হতে দিন। তবে প্রতি ২ মিনিট অন্তর চেক করবেন, যেন ভাত একদম শুকিয়ে শক্ত না হয়ে যায়।
ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন
নরম ভাত ঝরঝরে করতে ফ্রিজও ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত সিদ্ধ ভাত পাত্রে ছড়িয়ে ফ্রিজে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে মাঝারি আঁচে গরম করে নিলেই ভাত আবার ঝরঝরে হয়ে যাবে।
পুরুষদের কিছু শখ ও অভ্যাস নারীদের চোখে তাদের আকর্ষণ বাড়াতে পারে—এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ‘ডেট সাইকোলজি’র একটি সমীক্ষায়। ৭৪ ধরনের শখ ও অভ্যাস নিয়ে করা এই জরিপে নারীদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বই পড়ার অভ্যাস সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, কোনো পুরুষকে বই পড়তে দেখলে সেটি তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। এরপর পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিদেশি ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, রান্না এবং কাঠের কাজ।
নারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় আরও কিছু শখের মধ্যে রয়েছে চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, ফটোগ্রাফি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হাইকিং, ব্ল্যাকস্মিথিং ও তিরন্দাজি। এসব শখের বেশির ভাগই সৃজনশীলতা, নতুন দক্ষতা অর্জন, আত্মোন্নয়ন বা শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে, সমীক্ষায় কিছু অভ্যাসকে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীবিদ্বেষী ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকা, পর্নোগ্রাফি দেখা, জুয়া খেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, কসপ্লে, কমিক বই ও ফাঙ্কো পপ ফিগার সংগ্রহ, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং নিয়মিত নাইটক্লাবকেন্দ্রিক জীবনযাপনও তালিকার নিচের দিকে ছিল।
ডেটিং কোচ কোর্টনি রায়ানের মতে, মদ্যপান বা নাইটক্লাবিংকে জীবনের প্রধান বিনোদন হিসেবে দেখা অনেক নারীর কাছে অপরিণত আচরণ বলে মনে হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অন্যকে আকৃষ্ট করার জন্য কৃত্রিমভাবে কোনো শখ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দ ও আগ্রহের প্রতি সত্যিকারের মনোযোগই ব্যক্তিত্বকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। আর কোনো একটি সমীক্ষার ফলাফলকে সার্বজনীন সত্য হিসেবে দেখার আগে এর নমুনা, পদ্ধতি ও গবেষণার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনা করা জরুরি।
প্রতীকী ছবি
সর্দি-কাশি, জ্বর বা গলা ব্যথা হলে অনেকেই দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন। অনেকের ধারণা, কয়েক দিন ধরে উপসর্গ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে। কিন্তু সব ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অপ্রয়োজনে এই ওষুধ খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে।
ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না
অ্যান্টিবায়োটিক মূলত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। সাধারণ সর্দি-কাশি, ফ্লু ও তীব্র ব্রঙ্কাইটিসের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ থাকে ভাইরাস। তাই এসব অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে সুস্থ হওয়ার সময় কমে না। নাক দিয়ে হলুদ বা সবুজ সর্দি বের হলেও সেটি যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। একইভাবে সর্দি-কাশি সেরে যাওয়ার পর কয়েক দিন কাশি থাকলেও সবসময় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতি
প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ ও অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য ওষুধের সঙ্গেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি কিছু ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। বারবার অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে কিছু ব্যাকটেরিয়া ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক আর আগের মতো কাজ নাও করতে পারে। এতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন
সব অ্যান্টিবায়োটিকই ক্ষতিকর, এমন নয়। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিশ্চিত হলে বা চিকিৎসকের কাছে এর যথেষ্ট প্রমাণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। যেমন কিছু ধরনের নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, স্ট্রেপ গলা ব্যথা ও জটিল ত্বকের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কোন অ্যান্টিবায়োটিক, কত মাত্রায় এবং কত দিন খেতে হবে, সেটি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ঠিক করেন।
নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক নয়
আগের কোনো অসুস্থতার জন্য দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়। অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করাও নিরাপদ নয়। সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপসর্গের চিকিৎসাই সাধারণত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে তাই প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ওষুধটি আদৌ প্রয়োজন কি না। প্রয়োজন অনুযায়ী ও সঠিক নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেই এর কার্যকারিতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি
শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির ফ্যাশন মানেই কখনো মায়াবী, কখনো গ্ল্যামারাস, আবার কখনো একেবারে সাহসী স্টাইল স্টেটমেন্ট। বয়স, সময় কিংবা জীবনের নানা বাঁকও তার ফ্যাশন সেন্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং প্রতিটি নতুন লুকেই নিজের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছেন এই টালিউড অভিনেত্রী। সম্প্রতি জন্মদিনেও ইভিন্টের কয়েকটি ছবিতে তার সাজ-পোশাকও ভক্তদের নজর কেড়েছে।
জন্মদিনের পালনের ছবিতে নৌকার ওপর বসে শ্রাবন্তীকে দেখা গেছে হালকা পুদিনা সবুজ বা সি-গ্রিন রঙের শর্ট গাউনে। ওয়ান-শোল্ডার নেকলাইন পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও গ্ল্যামারাস আবেদন।
এক পাশে ফুল-স্লিভ, অন্য পাশে উন্মুক্ত কাঁধের ডিজাইনের এই অসমতা লুকটিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। কোমরের কাছ থেকে নিচের অংশে থাকা স্লিট এবং সূক্ষ্ম স্বচ্ছ জালের ডিটেইলিং পোশাকটিকে দিয়েছে আরও গ্ল্যামারাস মাত্রা।
এই লুকে মেকআপও ছিল পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চোখে হালকা কাজল ও আইলাইনার, গালে মৃদু ব্লাশ এবং মুখে সফট হাইলাইটারের ছোঁয়া তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক রেখে মেকআপে রাখা হয়েছে ন্যাচারাল ফিনিশ। অর্থাৎ গ্ল্যামার থাকলেও কোথাও বাড়াবাড়ি নেই।
চুলে ছিল হালকা ঢেউ। পেছনে বাঁধা চুলের কিছু অংশ ইচ্ছেমতো মুখের পাশে নেমে এসেছে, যা পুরো লুকে দিয়েছে এর ছোঁয়া। গয়নার ক্ষেত্রেও মিনিমালিজম বজায় রেখেছেন তিনি। ছোট ঝোলানো দুল, হাতে ব্রেসলেট ও আংটি- অল্প গয়নাতেই সাজটি সম্পূর্ণ করেছেন অভিনেত্রী।
অন্য এক ছবিতে একেবারেই ভিন্ন মুডে ধরা দিয়েছেন শ্রাবন্তী। পিংক রঙের ছিমছাম অথচ গ্ল্যামারাস টু-পিস কো-অর্ড সেটে। নরম গোলাপি রঙের পোশাকটি তার লুকে এনেছে এক ধরনের কোমল ও নারীত্বপূর্ণ আবহ।
কো-অর্ড সেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর সাদামাটা সিলুয়েটের মধ্যেও থাকা আধুনিকতার ছোঁয়া। শরীরের গড়নকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা এই পোশাকের সঙ্গে খুব বেশি বাড়তি আয়োজনের প্রয়োজনও হয়নি।
লুকে শ্রাবন্তীর স্টাইল হয়ে উঠেছে আরও পরিশীলিত ও বোল্ড। অফ-শোল্ডার ড্র্যাপড র্যাপ টপের সঙ্গে জুড়েছেন হাই-ওয়েস্টেড পেন্সিল মিডি স্কার্ট। শরীরের গড়নকে অনুসরণ করা এই সিলুয়েট তার লুকে এনেছে আধুনিক ফ্যাশনের স্পষ্ট ছাপ।
পায়ে ন্যুড রঙের ওপেন-টো প্ল্যাটফর্ম হিল বেছে নিয়ে লুকটিকে আরও লম্বা ও এলিগ্যান্ট দেখিয়েছেন তিনি। গলায় লেয়ার্ড ডায়মন্ড নেকলেসের সঙ্গে পান্নার পেনডেন্ট ছিল সাজের অন্যতম আকর্ষণ। সঙ্গে মানানসই দুল ও ব্রেসলেট যোগ করেছে সূক্ষ্ম রাজকীয়তা।
শ্রাবন্তীর এই লুকগুলো যেন প্রমাণ করে, ফ্যাশনের আসল সৌন্দর্য বয়সে নয়, বরং নিজের স্টাইলকে কতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বহন করা যায় সেখানেই।