• প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম আরও বড় ব্যবধানে এগিয়েছে। ভলিউম ও পোশাকের ইউনিটপ্রতি মূল্য দুই দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। কয়েক বছর ধরেই ক্রমে এ ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি এখন বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে এ পণ্য থেকে।


চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাস, অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, সাত মাসের ব্যবধানে প্রধান বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩২ কোটি ডলার। 


অন্যদিকে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 


অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অবস্থান তৃতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের। গত আলোচ্য সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯২ কোটি ডলার। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আলোচ্য সময়ে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৭৪ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৬২ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩৭ কোটি ডলার। 


বছরের প্রথম সাত মাসে সারাবিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৯ শতাংশের মতো। মোট চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। অটেক্সার তথ্য উপাত্ত বলছে, সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দর ইউনিটপ্রতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের পোশাকের কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চীনা পোশাকের কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। কেবল মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দর বেড়েছে ১৪ ও ৬ শতাংশ। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৪৫ কোটি ডলারের পোশাক। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।




শেখ হাসিনা ও শেখ সেলিম

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪১ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, শেখ সেলিম এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাই শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমই দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।


ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।


দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে নিজের দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।


এ সময় দেশে ফেরার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তার। শেখ হাসিনার দাবি, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।


তার দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, প্রত্যেকেরই জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি দেশে ফেরার নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চান না।


সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


ভিডিওবার্তায় কথা বলছেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাজের ভিসাহীন কর্মীদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানের মধ্যেই হাইকমিশন বলেছে, সরকারি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে হবে। স্থানীয় সময় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনিয়মিত বা বৈধ নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরার এ আহ্বান জানানো হয়।


ভিডিও বার্তায় কথা বলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা ডকুমেন্টবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকারের মাইগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার নাম- মাইগ্র্যান্ট REPATRIATION PROGRAMME 2 তথা BRM 2.0।


এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা ডকুমেন্টহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে।


তিনি বলেন, প্রথমত বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।


এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।


আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না।


আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট, বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।


তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনে রাখবেন, BRM 2.0-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।’


প্রেস সচিব আরও বলেন, ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ এএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি হোস্টেল ভবন ধসে পড়ে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন আরও ১৫ থেকে ২০ জন। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত ছয়তলা ওই ভবনটি ধসে পড়ে। বেসমেন্ট ও ওপরের দিকে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটি মূলত শিক্ষার্থীদের পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নিয়ে আসার পর চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং গুরুতর আহত অপর এক শিক্ষার্থী পরে মারা যান।


চিকিৎসার জন্য আরও তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, আর অন্যজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন যাকে পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আনুমানিক ১৫-২০ জনের সন্ধানে কর্তৃপক্ষের একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার অভিযান রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।


একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসমেন্ট এবং ওপরের দিকে পাঁচটি তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ার সময় বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল।


এনডিআরএফ-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিতদের সন্ধানে ৭০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) দুটি দল এবং একটি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ধ্বংসস্তূপের নিচে অক্সিজেন সিলিন্ডারও নামানো হয়েছিল।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোস্টেলে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কেরালা, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং তারা কাছের কলেজগুলোতে পড়াশোনা করতেন।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে।


পান সারাহ খলিফা

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচার সংশ্লিষ্ট মামলায় মিসরের একটি আদালত দেশটির সুপরিচিত এক নারী টেলিভিশন উপস্থাপকসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। গতকাল শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ওই উপস্থাপকের নাম সারাহ খলিফা, বয়স ৩৯ বছর। তিনি ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।


সরকার-সংশ্লিষ্ট পত্রিকা আল-আহরাম জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা ও বহন করার অভিযোগে কায়রোর একটি আদালত খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।


রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে ফতোয়া (ধর্মীয় মতামত) জানতে চেয়েছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় মিসরের আইনে এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।


টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিকও রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি এমন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক, যা বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আখবার এল-ইয়োম পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি করা এবং বিদেশ থেকে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।


আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। এ ছাড়া, মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।


অন্য একটি মামলায় আদালত সারাহ ও অন্য আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ ছিল।


মিসরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণসহ কয়েক ধরনের অপরাধ এবং মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।


মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিসরে ৫৪১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রকাশিত ভিডিওতে ওমান উপসাগরে ইরানের তেল ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর হামলার দৃশ্য

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫০ এএম

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আঞ্চলিক জলসীমায় দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।


তারা জানিয়েছে, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইরানের একাধিক হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হননি।


এর প্রতিক্রিয়ায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি ডাউনি এবং জাস্কের কাছে এম/টি স্টার্ক ১ নামের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ দুটিকে ‘স্থায়ীভাবে অচল’ করে দিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।


সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী গালফ অব ওমানের কাছে খালি থাকা এম/টি কায়লো, যা নোক্সেন নামেও পরিচিত, সেটিকেও ধ্বংস করেছে। জাহাজটির ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়ার পর এটি করা হয়। ট্যাংকারটিকে অচল করে দেয়ার জন্য একাধিক স্থানে আঘাত করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে।


সেন্টকমের বিবৃতির সঙ্গে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজগুলোতে একের পর এক প্রজেক্টাইল আঘাত হানছে, এরপর বড় বড় আগুনের গোলা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।


মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই তিনটি জাহাজ একটি বহু বিলিয়ন ডলারের নেটওয়ার্কের অংশ, যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের জন্য রাজস্ব আয় করতে ব্যবহৃত হয়।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ শিগগির হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 


ইরানের নাতাঞ্জে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছের এই পাহাড়ের গভীরে তৈরি করা হয়েছে শক্তিশালী সুরক্ষিত স্থাপনা। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে এ নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানে। এর আগে গত জুলাইয়েও তিনি স্থাপনাটি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। তখন তিনি ইরানকে প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছিলেন।


ট্রাম্পের নতুন হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র; দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে।


পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কোথায়


ইরানে ‘কুহ-ই কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত। নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থেকে এর দূরত্ব মাত্র প্রায় দুই কিলোমিটার।


মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়টির ভেতরে মাটির কয়েক শ মিটার নিচে অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। মূল কক্ষগুলো অন্তত ১০০ মিটার গভীরে বলে ধারণা করা হয়। ফলে শক্তিশালী বাংকার বিধ্বংসী বোমা দিয়েও স্থাপনাটিতে হামলা চালানো কঠিন হতে পারে।


স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণকারী ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি জানিয়েছে, স্থাপনাটি এখনো নির্মাণাধীন এবং চালু হয়নি। তবে পশ্চিমা কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের ঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে বিকল্প হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানোর জন্য এই স্থাপনা তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।


স্থাপনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ


পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো, এটি এখনো প্রায় অক্ষত। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালেও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন তখন হামলার লক্ষ্য হয়নি। চলমান সংঘাতেও স্থাপনাটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


এদিকে ইরানের সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনকেন্দ্র ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোর বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম পুনর্গঠনের জন্য পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেখানে সেন্ট্রিফিউজের যন্ত্রাংশ তৈরি, সংযোজন কিংবা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জুলাইয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল যে গত বছরের শেষ দিকে হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ এই স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই তথ্য নিশ্চিত করেনি।


ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কতটা ক্ষতি হয়েছে


২০২৫ সালের হামলায় ইরানের নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে চালু থাকা প্রায় ১৮ হাজার সেন্ট্রিফিউজের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়েছে বলে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনকেন্দ্র এবং ইরানের একমাত্র ইয়েলোকেক উৎপাদনকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ২০২৬ সালের মার্চে নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার প্রবেশপথের ভবনগুলোতে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে স্থাপনার ভেতরে অতিরিক্ত ক্ষতির প্রমাণ তারা পায়নি।


ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির জুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার টানেলের প্রবেশপথ এখনো বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো কার্যক্রম চলছে- এমন প্রমাণ নেই।


ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রশ্ন


২০২৫ সালের জুনের হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করা হয়েছে। 


তবে কয়েক দিন পর ফাঁস হওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছয় মাসেরও কম সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।


বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য সাধারণত ৯০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন।


তবে হামলার পর থেকে কোনো পরিদর্শক ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে ইরানের মজুত ইউরেনিয়ামের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।


পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা


ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু হামলার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা কমে যাওয়ায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে আগের তুলনায় কম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।


আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির মতে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে তাত্ত্বিকভাবে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলে তা ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে এই মজুত বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।


এ কারণেই অক্ষত ও গভীর ভূগর্ভে নির্মিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকির ফলে স্থাপনাটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সামনে এসেছে।


সূত্র: আল-জাজিরা