• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১:০৯ পিএম

খাবার বা খেলনা শিশুকে ভাগ করে নিতে শেখান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম

কেবল বই পড়ে শিশু সবকিছু শেখে না বা পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে না। তার ভালো আচরণ, ভদ্রতা, সহানুভূতি ও সামাজিক দক্ষতাই তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। 


ছোটবেলা থেকেই কিছু মৌলিক সামাজিক নিয়ম শেখানো হলে শিশু আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও বন্ধুত্বপরায়ণ হয়ে ওঠে। পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। আর মা–বাবাই তার প্রথম শিক্ষক। তাই দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই তাকে সামাজিক মূল্যবোধ শেখানো সবচেয়ে কার্যকর। শিশুকে যেসব সামাজিকতা শেখাতে পারেন, এবার জেনে নেওয়া যাক সেসব বিষয়ে।



১. সালাম বা শুভেচ্ছা জানানো: বড়দের দেখলে সালাম, নমস্কার (যার যার ধর্মীয় রীতি অনুসারে) বা হ্যালো বলা ভদ্রতার পরিচয়। এটা শিশুকে শেখাতে পারেন।


২. ‘ধন্যবাদ’ ও ‘দুঃখিত’ বলা শেখান: ছোট ছোট ধন্যবাদের অনেক ক্ষমতা। কৃতজ্ঞতা ও ভুল স্বীকার করার অভ্যাস শিশুর চরিত্রকে সুন্দর, আকর্ষণীয় করে। শিশু যে মুহূর্তে বুঝতে পারে যে তার ভুল হয়েছে, তখনই সরি বলা শেখান।


৩. বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ, উভয়কে সাহায্য: শিশুদের বয়সে বড়দের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও সম্মান দেখানো শেখান। ছোটদের স্নেহ করা, ভালোবাসা শেখান। বড়-ছোট নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য করা শেখান।


৪. অন্যের কথার মাঝখানে কথা না বলা: অন্য কেউ কথা বলার সময় শিশুকে ধৈর্য ধরে তাকে কথাটা শেষ করতে দেওয়া শেখান। তারপর শিশুকে নিজের কথাটা সুন্দরভাবে বলতে বলুন।


৫. শেয়ার করার অভ্যাস: কথায় বলে, ‘শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং’। খেলনা, খাবার বা জিনিসপত্র বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শেখান।


৬. মানুষকে পোশাক বা পেশা দিয়ে বিচার না করা: মানুষকে কখনোই পোশাক, ধর্ম, জাতি বা অন্য যেকোনো কিছু দিয়ে ‘জাজ’ না করার শিক্ষা দিন। প্রতিটি পেশাজীবী ও ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে যেন আপনার শিশু সমান চোখে দেখতে পারে, মূল্যায়ন করে শিশুকে সেই শিক্ষা দিন।


৭. মিথ্যা না বলা, প্রতিজ্ঞা রাখা: সত্য কথা বলার গুরুত্ব ছোটবেলা থেকেই বোঝান। শিশুর কাছে কোনো প্রতিজ্ঞা করলেও সেটা রাখতে হবে। একান্তই যদি প্রতিজ্ঞা রাখা সম্ভব না হয়, কেনো হচ্ছে না তা আগেই জানিয়ে দিন।


৮. অনুমতি নেওয়ার অভ্যাস: অন্যের জিনিস ব্যবহার করার আগে অনুমতি চাওয়া শেখান। এমনকি সেটা পরিবারের জন্য কারও হলেও।


৯. অন্যের ঘরে প্রবেশ করার আগে: নিজের বাদে অন্য যেকোনো ঘরে প্রবেশ করার আগে নক করা ও অনুমতি নেওয়া শেখান।


১০. লাইনে দাঁড়ানো: স্কুল, দোকান বা যেকোনো জায়গায় শৃঙ্খলা মেনে চলার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। লাইনে দাঁড় করানো শেখার ছোটবেলা থেকে।


১১. কাউকে মজা করেও ছোট করা নয়: শিশুকে ‘ফান’ করার নামে কাউকে ছোট করে কথা বলা, মারামারি, ঠাট্টা বা অপমানজনক আচরণ থেকে বিরত থাকতে শেখান।


১২. অন্যের কষ্ট বোঝা: অন্যের কষ্ট বুঝতে ও সাহায্য করতে উৎসাহ দিন।


১৩. নিজের কাজ নিজে করা: ব্যাগ গোছানো, খেলনা গোছানো, দিনের ছোট ছোট কাজ—এসব শিশুর ভেতর দায়িত্ববোধ তৈরি করে।


১৪. ডাইনিং ম্যানার: খাবারের সময় শালীনভাবে বসা, পা না নাচানো, অতিরিক্ত কথা না বলা, সুন্দরভাবে খাবার খাওয়া ইত্যাদি শেখান।


১৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা: রেগে গিয়ে চিৎকার বা খারাপ আচরণ না করে শান্ত থাকার অনুশীলন করান।


১৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: নিজের শরীর, পোশাক ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোটবেলা থেকেই ফলের খোসা বা চিপস চকলেটের প্যাকেট নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা শেখান।


১৭. পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা: শিশুকে যখনই সুযোগ হবে, পরিবেশ সচেতন করে তোলার চেষ্টা করবেন। প্লাস্টিকের ঝুঁকি, বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি—এসব সম্পর্কে একটু একটু করে ধারণা দিন। গাছ লাগাতে ও গাছের যত্ন নিতে উৎসাহিত করুন।


১৮. অপচয় না করা: শিশুকে অভাব আর আভিজাত্যের ভারসাম্য রেখে বড় করুন। ছোটবেলা থেকেই তাকে অপচয় না করার শিক্ষা দিন।


১৯. পেছনে কথা না বলার শিক্ষা দিন: শিশুকে কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা বলা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দিন। কারও সঙ্গে আপনার শিশুর যদি বোঝাপড়ার সমস্যা হয় তাহলে বিষয়টি তার সঙ্গে সময়, সুযোগ বুঝে সুন্দরভাবে খোলামেলা আলাপের ভেতর দিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করুন।


২০. যেটুকু ধার নিয়েছে, তার বেশি ফেরত দেওয়া: দরকারের সময় আপনি যদি পাশের বাসা থেকে ২০টি কাঁচা মরিচ নেন, ফেরত দেওয়ার সময় ৩০টি দিন। শিশুকেও তা সচেতনভাবে শেখান।


২১. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা: কোনো ব্যক্তি যদি কোনো একটা কথা বলে সেটা গোপন রাখতে বলে, তা যেকোনো মূল্যে গোপন রাখার শিক্ষা দিন শিশুকে। এমনকি কোনোভাবে কারও ব্যক্তিগত কোনো বিষয় জেনে গেলেও তার গোপনীয়তা রক্ষা করা শেখান।


২২. ‘কমপ্লিমেন্ট’ দেওয়া: শিশুকে ছোট ছোট বিষয় খেয়াল করা, কমপ্লিমেন্ট দেওয়া ও ইতিবাচকতার চর্চা করা শেখান।


২৩. চোখে চোখ রেখে কথা বলা: পরিষ্কার আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগের জন্য ‘আই কনটাক্ট’ খুবই জরুরি।


২৪. কাউকে কোনো কিছুর জন্য চাপ না দেওয়া: শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সম্মতি বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার জন্য চাপ না দিতে, জোরাজুরি না করতে শেখান।


২৫. ‘না’ বলতে শেখান: শিশুকে সুন্দরভাবে, যোউক্তিকভাবে না বলতে শেখান।


মনে রাখবেন


এসব বিষয় আপনি কখনোই শিশুকে কেবল বলে বা বুঝিয়ে শেখাতে পারবেন না। আপনি নিজে এসবের অনুশীলন করলে শিশুও সেসব ‘কপি’ করবে, আয়ত্ত করবে। তাই অভিভাবক হিসেবে সবার আগে আপনাকে ওপরের বিষয়গুলো চর্চা করতে হবে।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ পিএম

চারপাশে কত মানুষ, তারপরও অনেক সময় নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়।  কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। আবার মনের কথা বলার মতো কাউকে খুঁজেও পাওয়া যায় না। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন কিংবা জীবনের নানা পরিবর্তনের কারণেই আজকাল অনেকেরই এমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। আবার সবসময় যে আপনার পাশে কেউ থাকবেই এমনটাও আশা করা ঠিক নয়। এর চেয়ে ভালো নিজের একাকীত্বকেই নিজের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তোলা। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের একাকীত্বকে  ‘মি টাইম’-এ পরিণত করুন। এজন্য যা করতে পারেন-


নিয়মিত নিজের সঙ্গে কথা বলুন


নিজের সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কথা বলার চেষ্টা করুন। সব সময় গভীর আলোচনা করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাধারণ কথাবার্তা বলুন। নিজেই নিজের বন্ধু হন। 


পছন্দের কাজকে সিরিয়াসলি নিন


বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, এক্সারসাইজ, যে কাজেই আনন্দ পান, তা বেশি বেশি করার চেষ্টা করুন। কাজের সময়টুকু বাদ দিয়ে এটাকে গুরুত্ব দিন। যেমন- কেউ যদি ছবি আঁকেন, চেষ্টা করুন নতুন ধরনের, আরও নতুন ধরনের ছবি আঁকার। এরকম যেই কাজ করতে ভালো লাগে সেদিকে মনোযোগ দিন। 


শরীরচর্চা করুন


নিয়ম করে হাঁটতে বেরোন বা হালকা ব্যায়াম করুন। নিয়মিত শরীরচর্চা মন ভাল রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজে উৎসাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।


নতুন কিছু শিখুন


রান্না করতে ভালো লাগলে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। নতুন কোনও ভাষা বা কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করতে পারেন। 


ঘরের বাইরে বের হন


সুযোগ পেলেই ঘর থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি কোথাও হেঁটে আসুন। বাইক বা গাড়ি থাকলে কিছু সময়ে জন্য একটু রাইডে বেরিয়ে যেতে পারেন। 


সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমান


অন্যের সাজানো জীবনের ছবি দেখে নিজের জীবনকে ছোট ভাববেন না। সবার জীবনেই ভালো-মন্দ আছে। অনলাইনে মানুষ শুধু নিজের সেরাটাই দেখায়। ছবি-ভিডিওতে কারও জীবন সুন্দর লাগলেও বাস্তবে তা সবসময় হয় না। 


ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখুন


প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ঘুমের অনিয়ম হলে মনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নিন।


ছোট ছোট লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন


নিজের পেশা হোক বা শখ, সেখানে নিজের জন্য লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন। নিজের দক্ষতা বাড়ান। সবসময় তার থেকে যে টাকা আয় করতে হবে, বিষয়টা তা নয়। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে। সেই চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করলে মস্তিষ্ক ঠিক থাকে। 


অন্যের পাশে দাঁড়ান


কাউকে সাহায্য করলে বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যোগ দিলে দেখবেন মন ভালো লাগবে। অসহায়, দুর্বল প্রাণীদের সাহায্য করুন। 


প্রয়োজন হলে সাহায্য চান


দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব বোধ হলে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, অথচ দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সুখবর আসছে না? এর পেছনে নারীর পাশাপাশি পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যাও দায়ী হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের প্রজননগত কোনো না কোনো কারণ জড়িত থাকে। কিন্তু পুরুষের বন্ধ্যত্বের সমস্যা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।


সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে তবেই বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।




আসুন লক্ষণগুলো জেনে নিন-


যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

যৌন ইচ্ছা বা আগ্রহ হঠাৎ কমে গেলে তা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পেতে পারে। তবে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।


এছাড়া যৌন উত্তেজনার সময় লিঙ্গ উত্থিত হতে অসুবিধা হওয়া বা উত্থান ধরে রাখতে না পারা আরেকটি সতর্কসংকেত। এটি সরাসরি বন্ধ্যত্বের প্রমাণ নয়। তবে হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস কিংবা রক্তনালির সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।


বীর্যপাতের সমস্যা

বীর্যপাত হতে দেরি হওয়া, একেবারেই বীর্যপাত না হওয়া কিংবা বীর্য মূত্রথলির দিকে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা সন্তান ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বীর্যপাতের সময় বীর্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কম মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।


অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব

অণ্ডকোষে ব্যথা, ফোলাভাব, ভারী লাগা কিংবা আকারে পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভেরিকোসিল বা অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।


শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন-পেশির শক্তি কমে যাওয়া, ক্লান্তি, যৌন ইচ্ছা হ্রাস এবং স্তনের টিস্যু বেড়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।


মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া

মুখে দাড়ি-গোঁফ বা শরীরের লোমের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সঙ্গে কখনো কখনো হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক থাকে। তবে বংশগত বৈশিষ্ট্যসহ অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু লোম কমে যাওয়াকে বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।



পুরুষের বন্ধ্যত্বের সম্ভাব্য কারণগুলো-


১. হরমোনজনিত ব্যাধি


বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বন্ধ্যত্বের একটি বড় কারণ হলো হরমোনজনিত সমস্যা। হাইপোগোনাডিজম, অর্থাৎ টেস্টোস্টেরন এবং টেস্টিস দ্বারা প্রজনন সম্পর্কিত অন্যান্য হরমোনের অপর্যাপ্ত উৎপাদন বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। সেইসঙ্গে মস্তিষ্কের গোড়ায় অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থির ব্যাধিও হরমোন উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে, শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে।


২. শারীরিক এবং কাঠামোগত ব্যাধি


ভ্যারিকোসেল এমন একটি অবস্থা যেখানে অণ্ডকোষের মধ্যে শিরার বৃদ্ধি এবং বেলুনিং অণ্ডকোষের তাপমাত্রাকে পরিবর্তন করতে পারে। এটি শুক্রাণু উৎপাদনকে ব্যাহত করে। যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনে বীর্য লিঙ্গ দিয়ে বের হওয়ার পরিবর্তে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে, যা পুরুষদের বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। এছাড়াও যথাক্রমে এপিডিডাইমাইটিস, অরকাইটিস এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের মতো সংক্রমণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। শুক্রাণু পরিবহন ব্যবস্থায় ত্রুটি যেমন শুক্রাণু পরিবহনের বিভিন্ন অংশে বাধাও বন্ধ্যত্বের আরেকটি কারণ হতে পারে।


৩. লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর


অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসের কারণে পুরুষের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান বা তামাক সেবন শুক্রাণুর গতিশীলতা, গুণমান এবং পরিমাণকে কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। স্থূল বা অতিরিক্ত ওজন সরাসরি শুক্রাণুর পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে এবং হরমোনের মাত্রাও পরিবর্তন করতে পারে যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়মিত খাবার খাওয়া এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা স্থূলতা এবং বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।


৪. পরিবেশগত কারণ


কীটনাশক, ভেষজনাশক, ভারী ধাতু, জৈব দ্রাবক, রঙ এবং দূষণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে বেশি থাকলে তাও সাময়িকভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস করতে পারে।


৫. জেনেটিক ফ্যাক্টর


জেনেটিক্স বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম একটি জেনেটিক অবস্থা যেখানে একটি পুরুষ শিশু অতিরিক্ত এক্স ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, এটি পুরুষের প্রজনন অঙ্গে ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে টেস্টিকুলার ফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন প্রভাবিত হয়। অন্যান্য জেনেটিক ব্যাধি যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস, কলম্যান সিন্ড্রোম শুক্রাণু নালীতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।



যেভাবে নির্ণয় করা হয় পুরুষের বন্ধ্যত্ব


সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চিকিৎসকেরা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে কয়েকটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।


বীর্য পরীক্ষা


শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা, আকৃতি এবং বীর্যের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। এটি পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


রক্ত পরীক্ষা


টেস্টোস্টেরনসহ প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়।


আলট্রাসনোগ্রাফি


অণ্ডকোষের গঠন, ভেরিকোসিল বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা করা হতে পারে।


জিনগত পরীক্ষা


শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম বা একেবারেই না থাকলে কিংবা নির্দিষ্ট জিনগত সমস্যা সন্দেহ হলে চিকিৎসক এই পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।


কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?


নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও এক বছর সন্তান না এলে দম্পতির দুজনেরই প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পরই মূল্যায়ন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।


এছাড়া অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা, যৌনক্ষমতায় সমস্যা কিংবা আগে অণ্ডকোষে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে থাকলেও প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।


এসব লক্ষণ থাকলেই যে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব হয়েছে, তা নয়। আবার কোনো লক্ষণ না থাকলেও প্রজননগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া


শিশুদের কি বড়দের মতো চা-কফি পান করা উচিত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ পিএম

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা বা কফি-অনেক পরিবারের কাছে এটাই দিনের শুরু। বড়রা যখন চায়ের কাপে চুমুক দেন, তখন শিশুদেরও কৌতূহল জাগে। কেউ স্বাদ নিতে চায়, কেউ আবার বড়দের মতো কাপ হাতে নিয়ে বসতে পছন্দ করে। কিন্তু এই পরিচিত অভ্যাস শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ভাবেন কি?


চা-কফি বড়দের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এসব পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন ঘুম, মনোযোগ ও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ছোটদের হাতে চায়ের কাপ তুলে দেওয়ার আগে বয়স, পরিমাণ এবং পান করার সময়-সবকিছু বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।


চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন কী করে?

ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক উপাদান, যা চা ও কফির পাশাপাশি কোলা, চকলেট এবং কিছু এনার্জি ড্রিংকেও পাওয়া যায়। এটি সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমিয়ে সতর্ক থাকতে সাহায্য করতে পারে। তবে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ক্যাফেইন অপরিহার্য কোনো পুষ্টি উপাদান নয়।


কিন্তু এটা কোনো খাবারের উপাদান নয়। ক্যালসিয়াম বা আয়রনের মতো শরীররে প্রয়োজন নেই। শিশুদের শরীরের ওজন কম হওয়ায় একই পরিমাণ ক্যাফেইন তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে অস্থিরতা, হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


বয়স অনুযায়ী কতটা ক্যাফেইন?

শিশু-কিশোরদের জন্য ক্যাফেইন গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চার থেকে ছয় বছর বয়সীদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিগ্রাম, সাত থেকে নয় বছর বয়সীদের জন্য ৬২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম এবং ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ৮৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে এই সংখ্যাগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদে পান করার লক্ষ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস শিশুদের ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। তাই বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি দেওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো।


এক কাপেই কতটা ক্যাফেইন থাকে?

চা বা কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্ভর করে পানীয়ের ধরন, পরিমাণ এবং তৈরির পদ্ধতির ওপর। এক কাপ চায়ে কয়েক দশ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। অন্যদিকে এক কাপ কফিতে এর পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। বড় মগের কফি বা ঘন করে তৈরি পানীয়তে ক্যাফেইনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।


এনার্জি ড্রিংকের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো কোনো ক্যানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। কোলা, চকলেট এবং ক্যাফেইনযুক্ত কিছু ওষুধ থেকেও শরীরে এই উপাদান প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু চা বা কফির হিসাব রাখলেই সব সময় চলে না।


ঘুমের ওপর পড়ে বড় প্রভাব

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে, এর প্রভাব অনেকের ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। বিকেল বা সন্ধ্যায় চা-কফি পান করলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে কিংবা ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।


ঘুম কম হলে পরদিন পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা, খেলাধুলা করা এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরীক্ষার আগে জেগে থাকার জন্য কফি পান করাও ভালো কৌশল নয়। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতি ও শেখার প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


চা-কফি সরাসরি উচ্চতা কমিয়ে দেয়-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। তবে ক্যাফেইনের কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত হলে তা শিশুর সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।


বিকল্প হিসেবে কী দেওয়া যায়?

ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি না দিয়ে পানি ও বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত দুধ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। কিশোরদের ক্ষেত্রেও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না করাই শ্রেয়। বিশেষ করে এনার্জি ড্রিংক শিশু-কিশোরদের দেওয়া উচিত নয়।


ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না, তবে সব পণ্যের উপাদান এক নয়। তাই লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ভেষজ পানীয় নিয়মিত দেওয়ার আগে বয়স ও উপযোগিতা বিবেচনা করা উচিত।


শিশুদের সামনে বড়দের চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস দেখে তারা যেন সেটিকে বড় হওয়ার অপরিহার্য অংশ মনে না করে। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, নিয়মিত খেলাধুলা এবং পর্যাপ্ত পানি-সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য এগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি। সকালের চায়ের সুবাস থাকুক ঘরে, তবে ছোটদের কাপে তা তুলে দেওয়ার আগে ভাবুন তাদের বয়স ও স্বাস্থ্যের কথা।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইম ম্যাগাজিন


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-


অ্যালার্জির সমস্যা


কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 


সাইনাসের সমস্যা 


যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 


ল্যাকটোজের প্রভাব 


দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। 


হাঁপানি বা অ্যাজমা 


যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-


মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 


মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে। 


মাশরুম


মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়। 


মিষ্টি আলু


মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।


ডিম


ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী। 


স্যামন মাছ


স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। 


ফ্ল্যাক্স সিড 


ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। 


কাঠবাদাম 


কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন। 


বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-


হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে


কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।


হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী


কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।


শরীরে শক্তি জোগায় 


কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। 


প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়


সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-


ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।


কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।


কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।