জরায়ুমুখের ক্যানসারে অনেকে রেডিওথেরাপির কথা শুনলে ভয় পান। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে এখন খুব নিরাপদে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহিত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:০০ এএম

বাংলাদেশে নারীদের স্তন ক্যানসারের পর বেশি দেখা যায় জরায়ুমুখের ক্যানসার। প্রতিবছর হাজার হাজার নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 


দুঃখের বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়। অথচ সময়মতো শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসায় জরায়ুমুখের ক্যানসার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদ্ধতির নাম রেডিওথেরাপি বা বিকিরণ চিকিৎসা।


রেডিওথেরাপি কী, কীভাবে কাজ করে


রেডিওথেরাপিতে বিশেষ ধরনের শক্তিশালী এক্স-রে ব্যবহার করে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়। এই রশ্মি ক্যানসার কোষের ভেতরের ডিএনএর গঠন নষ্ট করে দেয়। ফলে ক্যানসার কোষ আর বাড়তে পারে না এবং ধীরে ধীরে মারা যায়।


আধুনিক রেডিওথেরাপি খুবই নিখুঁত চিকিৎসাপদ্ধতি। এতে শুধু ক্যানসারে আক্রান্ত জায়গায় রশ্মি দেওয়া হয় এবং আশপাশের সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যতটা সম্ভব সুরক্ষিত থাকে।


জরায়ুমুখের ক্যানসারে সাধারণত দুই ধরনের রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। প্রথমটি এক্সটার্নাল বিম রেডিওথেরাপি। এতে শরীরের বাইরে থাকা মেশিন থেকে প্রতিদিন অল্প অল্প করে পেলভিস অঞ্চলে রশ্মি দেওয়া হয়। সাধারণত ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ এটা চলে। 


দ্বিতীয়টি ব্র্যাকিথেরাপি বা ভেতর থেকে রেডিওথেরাপি। এতে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে জরায়ুমুখের ভেতরে বা খুব কাছে রেডিয়েশনের উৎস বসানো হয়।


এতে সরাসরি টিউমারে বেশি মাত্রায় রশ্মি দেওয়া যায় এবং আশপাশের অঙ্গ কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরায়ুমুখের ক্যানসারে ব্র্যাকিথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছাড়া চিকিৎসা অসম্পূর্ণ।


কতটা নিরাপদ


অনেকে রেডিওথেরাপির কথা শুনলে ভয় পান। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে এখন খুব নিরাপদে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাময়িক ক্লান্তি, পাতলা পায়খানা, প্রস্রাবে জ্বালা হতে পারে, যা চিকিৎসা শেষ হলে বেশির ভাগ সময়ই সেরে যায়। সঠিক সময়ে পুরো কোর্স শেষ করলে জরায়ুমুখের ক্যানসারে সুস্থ হওয়ার হার অনেক বেশি।



সর্বশেষ সব খবর

লাল মাংস চুলায় কেন সবুজ হলো

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা


খুলনায় গরুর মাংস রান্নার সময় হঠাৎ রঙ লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড়।

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৫ পিএম

খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় গরুর মাংস রান্নার সময় হঠাৎ রঙ লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 


বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার মডার্ন বেকারির কয়েকজন কর্মী পিকনিকের জন্য কেনা মাংস রান্না করতে গিয়ে এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখতে পান। হতবাক ও শঙ্কিত হয়ে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে হাজির হন। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।


এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. এম এস মিনারা খাতুন বলেন, ‘মাংস আগের দিনের হওয়াই সবুজ রঙ ধারণ করেছে- এটি কারণ হিসেবে যথেষ্ট নয়।’


তার মতে, সামাজিক মাধ্যমে ছবি দেখে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিষয়টিকে অবহেলাও করা উচিত নয়। কারণ খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে একমাত্র বৈজ্ঞানিক প্রমাণই নির্ভরযোগ্য। মাংসে অস্বাভাবিক সবুজ রঙ, দুর্গন্ধ বা পিচ্ছিল ভাব দেখা দিলে তা না খেয়ে পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।



বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগেও মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান অধ্যাপক মিনারা খাতুন। তার মতে, এর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ থাকতে পারে- মাংসের রঞ্জক পদার্থ মায়োগ্লোবিনের রাসায়নিক পরিবর্তন, অনুপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, হাইড্রোজেন সালফাইড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে সালফমায়োগ্লোবিন তৈরি হওয়া, কপার বা অন্য ধাতব যৌগের সংস্পর্শ যা তুলনামূলকভাবে বিরল, সিউডোমোনাসের মতো পিগমেন্ট উৎপাদনকারী জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও জবাই-পরবর্তী সংরক্ষণ-পরিবহনে ত্রুটি, এমনকি মাংসের পেশিতন্তুর গঠন ও আলোর প্রতিফলনের কারণেও কখনও কখনও সবুজ, নীল বা রংধনুর মতো আভা দেখা দিতে পারে।


শুধু একদিন ফ্রিজে সংরক্ষণের কারণে মাংস সবুজ হওয়ার কথা নয় বলে জানান অধ্যাপক মিনারা খাতুন। তার ভাষ্যে, শূন্য থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে মাংসের রঙ কিছুটা গাঢ় বা বাদামি হতে পারে, কিন্তু স্পষ্ট সবুজ আভা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। রান্না করা মাংস সবুজ হলেও ঝোলের রঙ লাল থাকার বিষয়টিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বলে উল্লেখ করেন।



তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সবুজ পরিবর্তন যদি মাংসের নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ঝোলের রঙ স্বাভাবিক থাকতে পারে। কারণ ঝোলের রঙ মূলত নির্ধারিত হয় মাংসের রক্তরঞ্জক পদার্থ, মসলা ও রান্নার সময় ঘটা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাই ঝোল লাল থাকা মানেই মাংস নিরাপদ ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বিজ্ঞানসম্মত নয়।


মাংস বিক্রেতার দাবি, একই গরুর মাংস কিনে অন্যরা কোনও সমস্যায় পড়েননি। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মিনারা খাতুন বলেন, ‘একই পশুর বিভিন্ন অংশের সংরক্ষণ পরিবেশ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দূষণের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে, ফলে সব অংশে একই রকম পরিবর্তন নাও ঘটতে পারে। তাই অন্যদের কিছু হয়নি এই যুক্তি খাদ্য নিরাপত্তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে বেকারির কোনও রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার যে জল্পনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তারও এখন পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কেননা খাদ্যশিল্পে ব্যবহৃত বেশির ভাগ রাসায়নিক সাধারণত তাপের সংস্পর্শে এসে মাংসকে সবুজ করে না।’


জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে জবাই থেকে শুরু করে ভোক্তার রান্নাঘর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মিনারা খাতুন। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মত জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, নিরাপদ পানি ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করা, ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং মাংসের উৎস, জবাইয়ের তারিখ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি।



খাদ্যের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে কোনও পরিবর্তন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ এএম


লাল ও সাদা পেঁয়াজ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

বেশিরভাগ রান্নাতেই পেঁয়াজ ব্যবহারের প্রচলন আছে। এটি খাবারে সঙ্গে কাঁচাও খাওয়া যায়। কেউ কেউ রান্নায় লাল পেঁয়াজের ব্যবহার করেন, কেউ বা সাদা। 


যদিও লাল এবং সাদা পেঁয়াজ রঙ ছাড়া দেখতে একই রকম, তবুও, প্রত্যেকটিরই কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। লাল পেঁয়াজ এবং সাদা পেঁয়াজের উপকারিতা জানানো হয়েছে ‘হেলদি বিল্ডার্জেড’এর এক প্রতিবেদনে। 


লাল পেঁয়াজ


বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে


সকলেই জানেন যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কারণ এগুলো অতিরিক্ত ফ্রি র‍্যাডিকেলকে নিষ্ক্রিয় করে- এই ক্ষতিকর অণুগুলো শরীরের সুস্থ কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে এর মানে এই নয় যে, সাদা পেঁয়াজে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ কম। আসলে, সাদা পেঁয়াজের চেয়ে লাল পেঁয়াজে এর পরিমাণ বেশি থাকে।


কোয়ারসেটিন আছে


বিজ্ঞানীরা বলেন, কোয়ারসেটিন এক প্রকার ফ্ল্যাভোনয়েড যা হৃৎপিণ্ড ও রক্তসংবহনতন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী, কারণ এটি খারাপ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ উভয়ই কমাতে সাহায্য করে। আপেল, লাল ক্যাপসিকাম, টমেটো এবং অন্যান্য লাল রঙের খাবার থেকেও শরীরে কোয়ারসেটিন সরবরাহ হয়। সাদা পেঁয়াজেও কোয়ারসেটিন থাকে, তবে তা অল্প পরিমাণে।


ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আরও ভালো সুরক্ষা দেয়


লাল পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে কোয়ারসেটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত অন্যান্য যৌগ থাকার কারণে, এগুলি সাদা পেঁয়াজের চেয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক ভালোভাবে কমাতে পারে। একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, লাল পেঁয়াজ যেসব ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে মুখ, স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালী, পাকস্থলী, কোলোরেক্টাল এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার।


রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে


লাল পেঁয়াজে উপস্থিত খনিজগুলির মধ্যে একটি হলো আয়রন- যা শরীরের লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা ঠিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাদা পেঁয়াজেও আয়রন থাকে, তবে কিছুটা কম পরিমাণে।


সাদা পেঁয়াজ


স্বাদ হালকা হয়


কিছু সাদা জাতের পেঁয়াজে স্বাদে কিছুটা মিষ্টি থাকায় অনেকেই এটি খেতে পছন্দ করে। এই কারণে, নিয়মিতভাবে খাদ্যতালিকায় সাদা পেঁয়াজ অন্তর্ভুক্ত করা অনেক সহজ। লাল পেঁয়াজের চেয়ে এর স্বাদ হালকা হওয়ায়, কাঁচা সাদা পেঁয়াজ খেতে অসুবিধা বোধ হয় না।


শরীর সহজে আরও বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়


রান্না করলে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেহেতু কাঁচা সাদা পেঁয়াজ খেতে কোনো অসুবিধা হয় না, তাই আপনি ফ্রি র‍্যাডিকেল-এর বিরুদ্ধে লড়াই করা সেইসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও বেশি পরিমাণে পাবেন। 


মনে রাখবেন, সাদা পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর সময়,  শুধু এর চারপাশের খুব পাতলা খোসাটিই ছাড়াবেন। সাদা পেঁয়াজের খোসার পাশের প্রথম কয়েকটি স্তর ফেলে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে


সাদা পেঁয়াজে উপস্থিত অন্যতম প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো ভিটামিন সি। এটা সবাই জানে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মৌসুম ঘনিয়ে আসে, তখন খাদ্যতালিকায় আরও বেশি করে সাদা পেঁয়াজ অন্তর্ভুক্ত করুন। 

জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করে


সাদা পেঁয়াজে উপস্থিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো ফোলেট। এক ধরনের বি ভিটামিন হিসেবে ফোলেট গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধে সাহায্য করে,এর ফলে শিশুদের মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। একজন গর্ভবতী নারীর ঘ্রাণশক্তি প্রখর হয়। কিন্তু সাদা পেঁয়াজের হালকা স্বাদ ও গন্ধের কারণে তিনি সহজেই এটি তার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন।

সর্বশেষ সব খবর

অভিনেত্রী জয়া আহসান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

অভিনেত্রী জয়া আহসান শুধু অভিনয় দক্ষতার জন্যই নয়, তার তারুণ্য ধরে রাখা, ফিটনেস আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্যও ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণা। বয়স বাড়লেও তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং সুস্থ শরীর অনেকেরই কৌতূহলের বিষয়। অনেকেই ভাবেন, নিশ্চয়ই তিনি নিয়মিত ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে সময় কাটান। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জয়ার ফিটনেসের বড় রহস্য লুকিয়ে আছে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, চাষাবাদ করা এবং নিজের হাতে ফলানো সবজি খাওয়ার অভ্যাসে।


শুটিংয়ের আগে জিম, সারা বছর প্রকৃতির সঙ্গে

ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া জানিয়েছেন, কোনো সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি জিমে যান এবং পিলাটিস মানে মন-শরীরের ব্যায়াম করেন। এতে শরীর নমনীয় থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরাতে সুবিধা হয়। তবে সারা বছর জিম করেন না তিনি।


তার বিশ্বাস, সুস্থ থাকার একটাই নির্দিষ্ট পথ নেই। প্রত্যেকে নিজের জীবনধারা অনুযায়ী এমন কিছু বেছে নিতে পারেন, যা শরীর ও মন-দুইটাকেই ভালো রাখে। আর জয়ার জন্য সেই পথটি হলো চাষাবাদ।


মাটি কুপিয়েই হয় শরীরচর্চা

নিজের বাড়িতে সুযোগ পেলেই সবজি চাষ করেন জয়া। শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না, বরং মাটি তৈরি করা, কোদাল দিয়ে মাটি কুপানো, গাছের পরিচর্যা করার মতো কাজে নিজে অংশ নেন। এই কাজগুলো তার কাছে শুধু শখ নয়, এক ধরনের প্রাকৃতিক ব্যায়ামও। দীর্ঘ সময় ধরে শরীর নড়াচড়া করার ফলে আলাদা করে জিমে না গেলেও শরীর সক্রিয় থাকে।


নিজের ফলানো সবজিই বেশি পছন্দ

জয়ার রান্নাঘরে প্রায়ই জায়গা করে নেয় নিজের বাগানের সবজি। তার মতে, নিজের হাতে চাষ করা সবজির সুবিধা হলো এতে রাসায়নিক সার বা অতিরিক্ত কীটনাশকের ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। তাই যতটা সম্ভব নিজের উৎপাদিত সবজি খেতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি এই সচেতনতা তার জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


পিৎজা ভালোবাসেন জয়া

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মানেই যে সব প্রিয় খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, তা মনে করেন না জয়া। তিনি স্বীকার করেছেন, পিৎজা তার খুব পছন্দের খাবার। তবে নিয়মিত নয়, মাঝেমধ্যে ইচ্ছা হলে খেয়ে নেন। মজার বিষয় হলো, এ জন্য তিনি নিজেকে দোষীও ভাবেন না। জয়ার ভাষায়, মাঝে মাঝে মনকেও আনন্দ দেওয়া প্রয়োজন। সারাক্ষণ কঠোর নিয়ম মেনে চললে খাবার উপভোগ করার আনন্দটাই নষ্ট হয়ে যায়।


চাষাবাদও হতে পারে দারুণ ব্যায়াম

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত চাষাবাদ বা বাগানের কাজ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাটি কোপানো, কোদাল চালানো, গাছে পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা কিংবা চারা রোপণের মতো কাজে শরীরের প্রায় সব বড় পেশিই একসঙ্গে সক্রিয় থাকে। এসব কাজের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালোরি খরচ হয়, পেশি শক্তিশালী হয় এবং শরীরের নমনীয়তা বাড়ে। একই সঙ্গে হাত, কাঁধ, পিঠ, কোমর ও পায়েরও ভালো ব্যায়াম হয়ে যায়।


সূর্যের আলো থেকেও মিলছে উপকার

খোলা জায়গায় কাজ করার আরেকটি সুবিধা হলো শরীর সূর্যের আলো পাওয়া যায়। এতে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যা হাড়, পেশি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু শরীর নয়, মনও এতে সতেজ থাকে।


মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী

প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতেও কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, গাছপালার পরিচর্যা বা বাগানের কাজ করলে শরীরে সুখানুভূতির হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমতে পারে। ফলে মন ভালো থাকে, উদ্বেগ কমে এবং মানসিক প্রশান্তি বাড়ে।


যাদের চাষের সুযোগ নেই, তারা যা করবেন

সবাই যে বড় জায়গা নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন, এমন নয়। তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সুযোগ থাকলে বাড়ির আঙিনা বা ছাদে ছোট সবজিবাগান করা যেতে পারে। আর যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তাহলে খোলা জায়গায় নিয়মিত হাঁটা, গাছের পরিচর্যা করা বা সক্রিয়ভাবে বাগানের কাজ করাও উপকারী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শরীরকে নিয়মিত নড়াচড়া করানো।


জয়া আহসানের জীবনধারা মনে করিয়ে দেয়, সুস্থ থাকার জন্য সব সময় ব্যয়বহুল জিম বা কঠিন ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, কায়িক পরিশ্রম করা, নিজের উৎপাদিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করাও হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সহজ সূত্র।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২১ এএম
  • আপডেট : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২১ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২১ এএম

আজকাল অনেকেই পাতলা চুল নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। চুল ঘন, কালো করতে কমবেশি সবারই চেষ্টা চালিয়ে যান। এজন্য কেউ কেউ রাসায়নিক পণ্যও ব্যবহার করেন।  কিন্তু অতিরিক্ত রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের চেয়ে প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নিলে প্রাকৃতিকভাবেই গোড়া থেকে মজবুত ও ঘন হয়ে ওঠে চুল। চুল পরা কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে—এমন তিনটি কার্যকর উপায় জানানো হয়েছে ‘আনন্দবাজারে’র এক প্রতিবেদনে। 


পেঁয়াজের রস


চুল ঘন করতে পেঁয়াজের রস অত্যন্ত কার্যকর। পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকায় মাথার ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি । এটি চুলের ফলিকলগুলোকে উদ্দীপিত করতেও ভূমিকা রাখে। 


যেভাবে ব্যবহার করবেন : একটি বড় পেঁয়াজ পিষে রস বের করে নিন। তুলার সাহায্যে এই রস পুরো মাথায় ও চুলে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট পর কোনো মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করলে চুল পড়া অনেকটাই কমে যাবে। 


ক্যাস্টর অয়েল ও নারকেল তেল


ক্যাস্টর অয়েলে থাকা রিসিনোলিক অ্যাসিড এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এর ফলে নতুন চুল গজায়। তবে এই তেল সরাসরি ব্যবহার করা ঠিক নয়। নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।


যেভাবে ব্যবহার করবেন : সমপরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল ও খাঁটি নারকেল তেল একসঙ্গে হালকা গরম করে নিন। রাতে ঘুমোনোর আগে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে নিন।


মেথি ও অ্যালোভেরা


মেথিতে প্রচুর প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড থাকায় চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা রোধ করে। একই সঙ্গে চুল ঘন করতে সাহায্য করে। অন্য দিকে, অ্যালোভেরা চুলের শুষ্কতা দূর করে মাথার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন :এক চামচ মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন বেটে নিন। এর সঙ্গে দুই চামচ টাটকা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। 


মনে রাখবেন,চুলের পুষ্টি বাড়াতে শুধু বাহ্যিক যত্নই যথেষ্ট নয়। শরীর ভেতরে পুষ্টি পাওয়া জরুরি। এজন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন যুক্ত খাবার রাখুন।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ এএম

অনেকেই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বা ওজন কমাতে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন। তবে একটি প্রশ্ন প্রায়ই বিতর্কের সৃষ্টি করে, ‘খালি পেটে ব্যায়াম করা কি আদৌ নিরাপদ?’ 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর সবার জন্য এক নয়। খালি পেটে ব্যায়াম করার নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন, ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং লক্ষ্যের ওপর।


খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীরে যা ঘটে


রাতভর না খেয়ে থাকার ফলে সকালে শরীরের গ্লাইকোজেনের ভান্ডার দিনের অন্য সময়ের তুলনায় কম থাকে। এই অবস্থায় ব্যায়াম করলে শরীর শক্তির জন্য মূলত সঞ্চিত চর্বি এবং শক্তির অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করে। 


যদিও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীরে চর্বি পোড়ানোর হার বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ওজন কমানোর বিষয়টি নির্ভর করে সারা দিনের ক্যালরির ভারসাম্য এবং সঠিক পুষ্টির ওপর।


সুবিধাসমূহ


সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সকালের নাশতা খাওয়ার আগে হালকা থেকে মাঝারি মানের ব্যায়াম বেশ কিছু সুবিধা দিতে পারে:


  • এটি সময়ের সাশ্রয় করে এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়তে সাহায্য করে।
  • ব্যায়ামের সময় চর্বি পোড়ানোর হার বৃদ্ধি পায়।


কিছু ক্ষেত্রে এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে। হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইক্লিং বা ইয়োগার মতো ব্যায়ামগুলো সাধারণত 

খালি পেটে করা নিরাপদ।


সতর্কতা ও ঝুঁকি


সবার জন্য খালি পেটে ব্যায়াম করা আদর্শ নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যেমন:


  • শরীরে শক্তির অভাব এবং দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করা।
  • মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখা।
  • ব্যায়ামের স্বাভাবিক গতি বা তীব্রতা বজায় রাখতে সমস্যা হওয়া।
  • বিশেষ করে যারা উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম, শক্তি বৃদ্ধিকারী প্রশিক্ষণ বা দীর্ঘ পথ দৌড়ান, তাদের জন্য ব্যায়ামের আগে পর্যাপ্ত জ্বালানি বা খাবার গ্রহণ করা জরুরি।


যাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ


কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা থাকলে খালি পেটে ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলা উচিত অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:


  • ডায়াবেটিস রোগী এবং যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কম হওয়ার প্রবণতা আছে।
  • অন্তঃসত্ত্বা নারী।
  • বয়স্ক ব্যক্তি যাদের শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে।
  • অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছেন এমন ব্যক্তি।


শরীরের সংকেত বুঝুন


যদি ব্যায়ামের সময় আপনি নিচের লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তবে বুঝবেন আপনার শরীরে খাবারের প্রয়োজন রয়েছে:


  • গা হাত-পা কাঁপা বা দুর্বলতা।
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি বা বমি বমি ভাব।
  • মাথাব্যথা বা মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া।


এমন পরিস্থিতিতে ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে কলা, ওটস, দই বা একটি স্মুদির মতো সহজে হজমযোগ্য হালকা খাবার খাওয়া যেতে পারে।


পানির গুরুত্ব


আপনি ব্যায়ামের আগে খাবার খান বা না খান, শরীরকে আর্দ্র রাখা অপরিহার্য। দীর্ঘ সময় ঘুমের পর শরীর এমনিতেই কিছুটা পানিশূন্য থাকে। তাই ব্যায়ামের আগে এবং ব্যায়াম চলাকালীন পানি পান করলে শরীরের কর্মক্ষমতা বজায় থাকে এবং গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমে।


শেষকথা


আপনার শরীরের ভাষা বুঝুন এবং নিজের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রুটিন বেছে নিন। তবে যে কোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সর্বদা শ্রেয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪৯ এএম

‘ছেলেটা একেবারে মায়ের মতো’ কিংবা ‘মেয়েটা মায়ের স্বভাব পেয়েছে’—এ ধরনের কথা আমাদের সমাজে প্রায়ই শোনা যায়। এর অনেকটাই অবশ্য পারিবারিক পর্যবেক্ষণ। তবে আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে এ ধারণার বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জিন সন্তানের শরীর, মস্তিষ্ক এবং কিছু স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


চলুন তাহলে জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:


১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ


কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।


২. বুদ্ধিমত্তা


গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিনের ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।


৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য


চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।


৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন


শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।


৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন


অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।


৬. কিছু রোগের ঝুঁকি


মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।


৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)


ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।


৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)


মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।


শেষ কথা


মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সর্বশেষ সব খবর